বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"মহুয়া"-Part 2

"গ্রাম্য লোককথা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Reza Mahmud (০ পয়েন্ট)

X (পূর্ব কথা:বেদের দল তাদের খেলা দেখানোর নানা উপকরণ নিয়ে বামনকান্দা গ্রামে উপস্থিত হলো।) __২__ এই গ্রামে বাস করে নদ্যার চাঁদ- পূর্নিমার চাঁদের মতো তার রূপ। মায়ের অনুমতি নিয়ে সে 'বাইর বাড়ি'র মহলে বাইদ্যার খেলার আয়োজন করে। বেদে কন্যার রূপের কথা আগেই শুনে ছিলো নদ্যার চাঁদ- স্বচক্ষে তা দেখে এবং খেলা কসরতে মুগ্ধ হয়ে মহুয়াকে সে হাজার টাকার শালসহ নানা বকশিস প্রদান করে। তাদের উলুয়াকান্দায় বাসযোগ্য ও চাষযোগ্য জমি প্রদান করে। বেদের দলের দিন কাটছিল সুখেই। পরস্পরেরর প্রতি মুগ্ধ নদ্যার চাঁদ ও মহুয়ার এক সন্ধ্যাবেলা জলের ঘাটে দেখা হয় এবং ব্যাকুল হৃদয়ের কথা জানাজানি হয়। 'জল ভর সুন্দরী কইন্যা জলে দিছ মন। কাইল যে কইছিলাম কথা আছে নি স্বরণ।। ' 'শুন শুন ভিনদেশি কুমার বলি তোমার ঠাঁই। কাইল বা কি কইছলা কথা আমার মনে নাই।। ' 'তুমি ত ভিনদেশি পুরুষ আমি ভিন্ন নারী। তোমার সঙ্গে কইতে কথা আমি লজ্জায় মরি।। ' কেবা তোমার মাতা কইন্যা কেবা তোমার পিতা। এই দেশে আসিবার আগে পূর্বে ছিলি কোথা।। নাহি আমার মাতাপিতা গর্ভ সুদর ভাই। সুতের হেওলা অইয়া ভাইসা বেড়াই।। দিন যায়। দিবস রজনী আনমনা মহুয়ার মনের খবর জানতে পারে পালঙ্কসই - পরামর্শ দেয় ভুলে যাবার। মহুয়া বলে: চন্দ্রসূর্য সাক্ষী সই সাক্ষী হইও তুমি। নদ্যার ঠাকুর হইল আমার প্রাণের সোয়ামী।। বাইদ্যার সঙ্গে আমি যে সই যথায় তথায় যাই। আমার মন বানধ্যা রাখে এমন স্থান নাই।। বন্ধুরে লইয়া আমি অইবাম দেশান্তরি। বিশ খাইয়া মরবাম কিম্বা গলায় দিয়াম দড়ি।। এদিকে চিরকেলে ভ্রমন- পিয়াসি বেদের দলের এই গৃহী জীবন বাইদ্যা সর্দার হুমরার ভাল লাগে না। মাইনকার সাথে সে ভিনদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ করে। সময় থেমে থাকে না। ফাল্গুন যায় যায়। নির্ঘুম নদের চাঁদ মধ্যরাতে বাশিঁ তুলে নেয় হাতে। সে বাশিঁর আহ্বানে ছুটে আসে প্রান প্রতিমা মহুয়া। মহুয়া জানায়- শুন শুন নদ্যার ঠাকুর বলি যে তোমারে। এই না গেরাম ছাড়্যা যাইবাম আজি নিশাকালে।। তোমার সঙ্গে আমার সঙ্গেরে বন্ধু এইনা শেষ দেখা। কেমন কইরা থাকবাম আমি হইয়া অদেখা।। আর না শুনবাম রে বন্ধু তোমার গুনের বাশিঁ। আর না জাগিয়া বন্ধু পুয়াইবাম নিশি।। মনে যদি লয়রে বন্ধু রাখ্যো আমার কথা। দেখা করতে যাইও বন্ধু খাওরে আমার মাথা।। যাইবার কালে একটি কথা বল্যা যাই তোমারে। উত্তর দেশে যাইও তুমি কয়েক দিন পরে।। সেইদিন অন্ধকার রাতে বেদের দল উত্তর দেশে পালিয়ে যায়। সকাল বেলা এলাকার সবাই দেখে বাড়িঘর সবই আছে কিন্তু বেদের দল নেই। খবর পৌঁছে যায় নদের চাঁদের কাছে। আহার নিদ্রা ত্যাগ করে সে পাগল হয়ে ওঠে মহুয়ার সন্ধানে। গভীর বেদনা সত্ত্বেও একদিন ঘুমন্ত মায়ের পায়ে প্রণাম করে বেরিয়ে পড়ে নদের চাঁদ। ঘুরতে থাকে মাসের পর মাস যে পথে গেছে বেদের দল। সবাইকে জিঙ্গ্গাসা করে তার মহুয়াকে দেখেছে কি-না। (Next Part :Coming Soon)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now