বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটা অন্যরকম জন্মদিন পালন

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান শুভজিৎ বসাক(guest) (০ পয়েন্ট)

X শহরে শিলাবৃষ্টি নেমেছে।একটা শিলা এসে পড়ল রাইপার পায়ের কাছে।তার চোখে জল।এই দিনটা তার কাছে তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।হাতে ছোট কেকের টুকরোটা ধরে রয়েছে সে। আজ রাইপার জন্মদিন।সকাল থেকে আর পাঁচটা দিনের মতই শুরু করেছিল সে।আজ সে কুড়িতে পা দিল।আগেও তার জন্মদিন এসেছে কিন্তু কেউই তার জন্মদিন সেভাবে মানায়নি।সেও এখন আর ভালবাসে না তার জন্মদিন পালন করা।ঐ মা পায়েস করে,সাথে করে কিছু খাবার রান্না তাতেই তার জন্মদিন কেটে যায়।আজও সমাজে মেয়েদের জন্মদিন পালনটা যেন নাক সিঁটকানো ভাব হয়েই রয়ে গিয়েছে অথচ একটা মেয়ে যখন অপরিচিত কোনও ব্যক্তিকে বিয়ে করে তখন সেটা ধুমধাম করে পালিত হয়।রাইপা বড় হচ্ছে।কুড়ি মানে অনেকটাই পরিণতি ভাব এসে গিয়েছে তার মধ্যে।সে বোঝে এসব এখন।তাই জন্মদিন আসে যায়,তার মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা আর জাগেনা। কলেজে এল সে।আজকাল ফেসবুকের মাধ্যমে কারোও জন্মদিন বা তার সম্পর্কে জানাটা খুব একটা কষ্টকর নয়।ফলে যখন সে এল কলেজে তখন সে শুভেচ্ছার সাগরে ভেসে গেল।সে ঊষ্ণ অভ্যর্থনা দিয়ে সেইসব গ্রহণ করল।ক্লাস শেষ হলে টিফিনের সময়ে ব্যাপারটা ঘটল। তার প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে শ্রোতা,অবিনাশ,শ্রেয়া,কল্কি এরা অন্যতম।শ্রোতা তার খুব ভাল বন্ধু।শ্রোতা তাকে নিয়ে এল কলেজের পিছনে ইলেক্ট্রিক রুমটার কাছে খোলা জায়গাটায়।এর আগে ক্লাসে সে দেখেছিল সবাই কি যেন বলাবলি করছে,আবার সেটা মানানসই হচ্ছে না দেখে আফশোস করছে-কিন্তু কি হচ্ছে সেটা এখন বুঝতে পারল সে। কলেজ ক্যাম্পাসটা এমন জায়গায় এখানে বড় জন্মদিনের কেক পাওয়াও যায় না।ফলে পাশের ছোট স্টেশনারী দোকান থেকে কিনে আনা হয়েছিল ছোট কাপ একটি কাপ কেক।সেটা রাখার জায়গা ছিল না তাই শ্রোতা তাকে নিয়ে এসে নিজের পকেট থেকে কেকটা বের করে নিজেরই হাতের ওপরে রাখল।সমস্যা হল এবার কেক কাটা নিয়ে।ছুরি তো নেই! শ্রোতা চাইল বাকিদের দিকে।অবিনাশ খানিক ভেবে হাতের দিকে নির্দেশ করালো।শ্রোতা তখন হাতের ওপরে কেকটা রেখে রাইপাকে বলল আঙ্গুল দিয়েই নরম কেকটাকে কাটতে।রাইপা সব কান্ড দেখে মনে মনে হাসল এবং বলল, "কি দরকার ছিল এসব করার?" শ্রোতা: (শাসনের সুরে) তোকে গিন্নীপনা ফলাতে হবে না বুঝলি? আমরা বন্ধুরা পরে গ্র্যান্ড সেলিব্রেশন করব কিন্তু আজকেটা তো আর ফিরে আসবে না।তাই আপাতত আমরা এভাবেই না হয় সেলিব্রেট করি। এরপরে রাইপার কাঁধে হাত রেখে শ্রোতা আর বলতে লাগল, "আর কেউ না জানুক আমি তো জানি তোর জন্মদিনে কথাগুলো।একটা জন্মদিন না হয় তোর বাকি জীবনের একটু সুখ দিক।কিছু কিছু বিষয় জীবনের রুটিনের বাইরে হলে বেশ হয়।দেখবি সেইগুলোই মনে থাকে।দেখ যেমন আজকের এই কেক,ছুরির বদলে আঙ্গুল,টেবিলের বদলে হাতের তালু,ঝকঝকে জায়গার বদলে এমন নিরিবিলি জায়গা এগুলো আর যাই হোক একদমই আলাদা করে জন্মদিন পালন।ভবিষ্যতে কে কোথায় চলে যাব জানি না,তবে এই স্মৃতিটুকু জন্মদিনের উপহার হিসাবে তুলে রাখিস"। সবটা শুনে রাইপা জড়িয়ে ধরল শ্রোতাকে।শ্রোতা বলে উঠল, "খুশী থাকিস রাই।তোর গজ দাঁতের হাসিটা এমন মন কাড়ে না যদি ছেলে হতাম তোকেই প্রোপোজ করতাম দেখতিস"।রাইপা ছোট্ট একটা চাপড় তার পিঠে দিয়ে বলল, "বড় ফাজিল হয়েছিস তুই বুঝলি তো!" এই বলে দুই বন্ধু আলিঙ্গন করে রইল। এরপরে শ্রোতার হাতের ওপরে রেখে নিজের আঙ্গুল দিয়ে কেকটা কাটল রাইপা।সবাই অভিবাদন জানাল।আনা হয়েছিল নরম পানীয় অর্থাৎ কোল্ড ড্রিঙ্কস।চিপস,ছোট কেকের টুকরো,আর ঐ পানীয় দিয়ে সাধ্যমত বন্ধুর জন্মদিনকে খুশীতে ভরিয়ে তুলল বন্ধুরা।এক হাতে কেকের টুকরো আর অন্য হাতে পানীয় নিয়ে রাইপা তাকিয়ে রইল আকাশের দিকে।আকাশে মেঘ করেছে বেশ।খুব জোরে হাওয়ার সাথে নামল শিলা বৃষ্টি।শহরে মরশুমের প্রথম বৃষ্টি।এ যেন কাউকে ভাল রাখবার অভ্যর্থনা জানিয়ে ঠান্ডা আবহাওয়া দিয়ে প্রবল বৃষ্টি।রাইপার চশমায় দু'ফোঁটা পড়ল বৃষ্টি আর পায়ের কাছে এসে পড়ল শিলার টুকরো।মনে লাল কার্পেটটা বিছিয়ে দিয়ে রাইপা যেন ভাল থাকার ঠিকানাকে আহ্বান করল তার মনে।চোখ ভরে উঠল জলে। জানলার ধারেই বসে রাইপা।ক্লাস শুরু হয়নি তখনও।তাকাল সে আকাশের দিকে।বৃষ্টি ধরে গিয়েছে তখন।রামধনুর সাতরঙ সাম্রাজ্য বিস্তার করেছে যেন আকাশের এই প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত অবধি।সকাল থেকে যেভাবে স্মরণীয় রাখতে উপহার পাচ্ছে সে জন্মদিনে সত্যিই তা ভোলার নয় এবং পয়সা দিয়ে কেনা উপহারের চেয়ে লক্ষগুণে দামী।আজ মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়ার ভাল থাকার উপলব্দ্ধিটা মনে মনে পাচ্ছে সে।আজ সে মেয়ে হয়ে জন্ম নিয়ে ভাল থাকার স্রোতে ভাসছে।রামধনুও তাকে আজ ঊষ্ণ অভ্যর্থনায় ভরিয়ে তুলেছে।ঠান্ডা হাওয়া একরাশ ভাল থাকার স্পর্শে ভুলিয়ে গেল তাকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now