বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রজাপতিদের অন্য বিপদ । সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে । শুঁয়োপোকা থেকে এতবেশি প্রজাপতি হচ্ছে যে আর থাকবার জায়গা নেই ।
মাথা দুলিয়ে প্যাঁচা ঠাকুর্দা বলল, ‘কাককে তাড়িয়েই সর্বনাশ হল ।‘ ওপরের আকাশ থেকে নেমে এসে শকুন আর বাজপাখিও বকাবকি করল ।
পাখিদের ডাক্তার, লম্বাগলার সারসপাখি বলল, ‘এখুনি কাকেদের ফিরিয়ে আনতে হবে । নইলে খুব বিপদ ।‘
পাখিরা খবর পেয়েছে, মানুষজনও নাকি হন্যে হয়ে কাককে খুঁজে বেড়াচ্ছে ।
দুধরাজ পাখি, খুব শান্তশিষ্ট, কাককে তাড়াবার দিনও সঙ্গে আসে নি । এখন পাখিদের সভায় এসে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিল, কাক ছিল বলে কি কি সুবিধে হত সেই সব কথা ।
কি কি সুবিধে হত শুনে তো সবাই অবাক ।
এক একটা কাকের পরিবার মিলে নাকি চল্লিশহাজার শূককীট, শুঁয়োপোকা খেয়ে নেয় । কত যে পোকামাকড় খেয়ে নেয়, তার হিসেব নেই । সেই পোকামাকড়দের বেশিরভাগই ক্ষেতের ফসলের, গাছের ফলের ক্ষতি করে। তাই কৃষকরা আর বাগানের মালীরা কাককে খুব ভালোবাসে ।
সেইসাঙ্গে কাক খায় ইঁদুর। জ্যান্ত ইঁদুর, মরা ইঁদুর। কাক চলে গিয়ে ইঁদুরে ইঁদুরে দেশ ভরে যাচ্ছে । পোকামাকড়ে, বিষাক্ত কীটপতঙ্গে দেশ ভরে যাচ্ছে
। জন্তুজানোয়ারদের আর পাখিদের তো বটেই, মানুষের ঘরে ঘরেও অসুখ বেড়ে গেছে । আবর্জনা বেড়ে গেছে । কাক নাকি একা একাই খুঁটে খুঁটে খেয়ে অনেক আবর্জনা পরিষ্কার করে পরিবেশ সুন্দর রাখে ।
আবার পাখিদের সভা বসল। বুদ্ধিমান পাখিরা কাকের গুণ ব্যাখ্যা করল । বিদেশ থেকেও জ্ঞানী পাখিদের ডেকে আনা হল।
গম্ভীর ম্যাকাওপাখি এসেছে আফ্রিকা থেকে । সেই ম্যাকাও সুন্দর বক্তৃতা করে বুঝিয়ে বলল, কিভাবে কাক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখে ।
‘পরিবেশ’, ‘ভারসাম্য’ .. এসব ভারি ভারি কথা পাখিরা তেমন বুঝল না অবশ্য । কিন্তু ম্যাকাওকে দেখে পাখিদের রঙ নিয়ে, রূপ নিয়ে আর অহঙ্কার করার কথা মনেও রইল না । যেমন বড়, তেমনি রঙ । সবুজ, নীল, লাল, হলুদ । এমন সুন্দর পাখি, সেও কিনা কাকের প্রশংসা করছে !
পাখিদের খুব লজ্জা করতে লাগল । সবাই বেশ বুঝতে পারছে, কাককে তাড়ানোটা ভালো কাজ হয় নি ।
ছোট্ট মৌটুসিপাখি ভ্যাঁ করে কেঁদেই ফেলল, ‘শিগগির কাকদাদাকে নিয়ে এসো । আর কিই বা এমন খারাপ দেখতে? কি সুন্দর কালো কুচকুচে ।‘
চন্দনা বুলবুলি বাবুই সবাই বলল, ‘গলার আওয়াজটাও খুব একটা খারাপ নয় ।‘
পাহাড় থেকে আসা নীল ময়না বলল, পাহাড়ে নাকি হলদে ঠোঁট লাল পায়ের সুন্দর কাকও আছে । সেই শুনে টিয়াপাখি বলল, ‘আমাদের কালো কাকই সুন্দর । রোজ ডাস্টবিনে বসে, তবু ওর গায়ে নোংরা লেগে থাকে না ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now