বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

কাকের গল্প 1

"ছোটদের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাসরুল্লাহ (০ পয়েন্ট)

X এ বছরে খুব গরম পড়েছে। ভোর না হতেই রোদের তাত বাড়তে থাকে, আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামলেও গরম কমে না। মাঝে মাঝে বিকেলের দিকে একটু বাতাস দেয়। কিন্তু চারদিকে বড় বড় উঁচু উঁচু বাড়ি, আকাশ দেখা যায় না এমন উঁচু বাড়িও আছে। ঘরে ঘরে যে বেশ বাতাস খেলে বেড়াবে সে উপায় নেই। এবছর তেমন করে কালবৈশাখীর ঝড়ও হয়নি। ঝড় হলে ঘরদোর নোংরা হয় ঠিকই, তবে গরম তো কমে। এই গরমে পাখিদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি। যত বড় বড় বাড়ি, রাস্তা তৈরি হচ্ছে, ততই ওদের থাকার জায়গা কমে যাচ্ছে। বড় বড় গাছের পাতার আড়ালে সারাদিন বসে থাকবে, সে উপায় নেই। গাছগুলোই কেটে ফেলা হচ্ছে যে। ভালো করে আকাশে উড়তেও পারে না আজকাল। কতরকম তার ঝুলছে চারদিকে। ইলেকট্রিকের তার, টেলিফোনের তার, কেবলটিভির তার। যত জলাজায়গাগুলো মাটি ফেলে বুজিয়ে দিয়ে বাড়ি তৈরি হচ্ছে। একটু জল খুঁজতেও যে কি কষ্ট! অনেক পাখিরা তাই জঙ্গলে চলে গেছে। তাদের আর শহরে দেখা যায় না। কিন্তু বেশ কিছু পাখি আছে, তারা শহরে থাকতেই ভালোবাসে। মানুষের সঙ্গে থাকতে ভালোবাসে। এই পাখিরা শহরে মানিয়ে নিয়েছে। গাছ নেই, তাই বাড়ির কার্নিশে বারান্দায় ছাদে বসে থাকে। কখনো বা কোনো তারে বসে দোল খায়। আর কোথাও একটু জলা জায়গা পেলে তো কথাই নেই। সকাল দুপুর বিকেল, সেখানে পাখির মেলা। ভোর হবার আগে থেকেই তাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। সূর্য ওঠারও আগে .. যেই অন্ধকার কম হয়ে আকাশটা আলো আলো হয় .. নীল আকাশ দেখা যায় .. অমনি পাখিরা বেরিয়ে পড়ে। কিচির মিচির কাকলি। আকাশ বাতাস জুড়ে পাখিদের গান শোনা যায়। কোকিল, পাপিয়া, দোয়েল, টুনটুনি, বেনেবউ, টিয়া, চড়াই, শালিখ, পায়রা, বুলবুলি সব্বাই বেরিয়ে পড়ে। ভোর হতে না হতেই মোরগ গলার শিরা ফুলিয়ে ডেকে ওঠে, ‘কোঁকর কো’ .. শিশিরভেজা ঘাসে, জলের ধারে ধারে ঘুঘুপাখিরা গলা ফুলিয়ে ডাকে, ’কেষ্টঠাকুর-র-র- ওঠ ওঠ’ .. গম্ভীরগলায় কাক ডাকে, ‘ক্কঃ ক্কঃ’ .. তখনও রাস্তায় গাড়ি চলা শুরু হয় না। ফাঁকা রাস্তায় পায়রাদের সঙ্গে সঙ্গে কাক খুঁটে খুঁটে খাবার জোগাড় করে। লম্বা একটা ল্যাজঝোলা পাখি ঘাসের মাটি থেকে ঠুকরে ঠুকরে কি সব খায়, আর সকাল থেকেই শালিখদের সঙ্গে গলা দুলিয়ে ঝগড়া করে। পাশের আমগাছটায় একজোড়া বুলবুলি পাখি থাকে, তারা এ সময় শিস দেয়। বোধহয় ঝগড়া থামানোর জন্যেই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ কাকের গল্প 6
→ কাকের গল্প 5
→ কাকের গল্প 4
→ কাকের গল্প 3
→ কাকের গল্প 2
→ কাকের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now