বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুল থেকে ফিরেই রূম্পার প্রথম কাজ ধুপ করে তার ব্যাগটা ছুঁড়ে ফেলে দেয়া। তারপর জুতাটা খুলে ফেলে কোনরকম ভাবে মোজাটা তাতে গুঁজে ধপাস করে তিন গোয়েন্দা বই নিয়ে বিছানায় ঝাঁপ দেয়া। এটা রূম্পার প্রতিদিনের রুটিন। হাত- মুখ ধোয়া না, খাওয়া না- তার আগেই বইয়ের ভেতর মুখ গোঁজা তার প্রথম কাজ।
- রূম্পা... রূম্পা... আরে এই রূম্পা...
- হু!
মায়ের চীৎকারে রূম্পা কোনমতে জবাব দেয়।
- এই মেয়ে, হাত- মুখ ধুয়ে নে... খাবার দিচ্ছি...
- হু!
- হু ... হু... না বলে আগে যা বলছি তাই কর... নাহলে মার খাবি কিন্তু... গল্পের বই পড়া আজই বন্ধ করে দেব...
এহেন হুমকিতে তো আর বসে থাকা যায় না। তড়াক করে উঠে সে বাথরুমে ছোটে। ফ্রেশ হয়ে খেতে বসে। তাড়াতাড়ি খেতে হবে। ওদিকে রবিনের কি হল কিচ্ছু বোঝা যাচ্ছে না! আচ্ছা! ভিলেনটা ড. টম নাতো! নানারকম চিন্তা মাথায় ঘুরছে। নাহ! তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করতে হবে। আম্মুটা যে কি! যদি একটু বুঝত! রূম্পা আনমনে মাথা নাড়ে...
*
রূম্পাকে কেউ যদি জিজ্ঞেসা করে তার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কি? লাফিয়ে উঠে সে জবাব দেয়- বই। রাত- দিন তার কাটে মজার মজার বই পরে। এত সাবধানে সে বই এর পাতা উল্টায় যেন সাত রাজার ধন সে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে।
কোন বন্ধু তার বই এর কোন অংশ সামান্য এদিক ওদিক করে ফেললে আক্ষরিক অর্থে সে তাদের চিবিয়ে খেয়ে ফেলে। বন্ধুরা মাঝে মাঝে হাসি ঠাট্টা করে আবার ভয়ও পায়। কিন্তু রুম্পার ভালবাসাকে হেলাফেলা করে না...
- এই রূম্পা... ওর বন্ধু পলা ওকে ডাকে... খুশিতে পলার মুখ ঝলমল করছে... জানিস, কাল ভাইয়া আমার জন্য চারটা বই কিনে এনেছে...
- কী! খুশিতে রূম্পা চিৎকার দেয়... পলার কাছে বই আসা মানে ও নিজেও পড়তে পারবে... আবার মনে মনে কিছুটা আফসোসও করে, ইশ! আমার যদি একটা বড় ভাই থাকত... তাহলে আর টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে বই কিনতে হতো না...
আম্মুর কাছে যা চায় সবই পায়... শুধু বই – ই পায় না... তাহলে নাকি পড়ালেখা মাথায় উঠবে! রূম্পা ঠোঁট কামড়ে ভাবতে থাকে...
- কি ভাবতেছিস এত? শোন, আমি এখন শারলক হোমস পড়তেছি... পড়া শেষ হলে তোকে দেব...
- আচ্ছা! বলে সে মাথা নাড়ে... কিন্তু তর সয় না...মনে হচ্ছে পলা বই এর কথা না বললেই ভাল হত। এখন তো অপেক্ষা করতেই ওর জান বের হয়ে যাবে! তুই কিন্তু দ্রুত পরে শেষ করবি! নাইলে গাট্টা খাবি...
- ঠিক আছে, বাবা! মুচকি হেসে পলা বলে ওঠে...
*
স্কুলে রূম্পাদের দলটা একটু মিচকে শয়তান বলেই সবাই জানে। লেখাপড়ায় সবাই ভাল। স্কুল ডিসিপ্লিনেও ঠিকঠাক। এক এক জনের চেহারা দেখলে মনে হয় ভাজা মাছ উল্টে খেতে জানে না। কিন্তু বাঁদরামি যা যা করে ওই চেহারার আড়ালেই করে!
হাই স্কুলের টপ ক্লাসের স্টুডেন্ট হওয়ার পর বাঁদরামিটা গাছের মাথায় গিয়ে ওঠে। ক্লাসে সমাজ স্যারের পড়া শুনতে ভাল লাগছে না, তো টুপ করে ব্যাগ থেকে লুকিয়ে মাসুদ রানা বের করে বই এর তলায় রেখে পড়তে শুরু করে।
টিচাররা মাঝে মাঝে চেকিং এ আসলে এক সারি থেকে বইগুলো আরেকসারিতে চালান করে দেয়। তারপর আবার নিজেরাই নিজেদের বুদ্ধিতে হেসে কুটিপাটি হয়।
- হু... ম্যাডাম যদি ধরে ফেলত না! খবর ছিল! তৃষা বলে ওঠে
- এই মেয়ের খালি উল্টাপাল্টা কথা... মিরা রাগে গজগজ করে... ভাল কথা বলতে পারিস না! যদি কোনদিন ধরা খাই তো তোরে ধরেই ভর্তা বানাব...
- কেন! আমি কি করছি! তৃষা তেতে ওঠে...
- আহা! ঝগড়া রাখ তো... রূম্পা বলে। নতুন প্রিন্সিপাল স্কুল লাইব্রেরি থেকে বই ইস্যু করার সিস্টেম করে দিছে... এখন তো আরও মজা...
সবার চোখ আগ্রহে জ্বলজ্বল করে..
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now