বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাল ১৯৮৮। চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরে শাখা খুলেছে বিশ্ববিখ্যাত খাবারের দোকান কেএফসি। প্রতিষ্ঠানটিতে কাজের জন্য আবেদন করলেন ২৪ জন স্থানীয় লোক। যথারীতি বাছাই প্রক্রিয়া শেষে চাকরি হল ২৩ জনের। বাদ পড়ল শুধু একজন। সদ্য স্নাতক পাশ করা ২৪ বছর বয়সী যুবক নিজেকে ‘অভাগা’ ছাড়া আর কিই বা ভাবতে পারতেন। তিনি ভেবেও ছিলেন। ভাববেন না কেন বলুন? একে একে ৩০টি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য পরীক্ষা দিয়েও বেড়ালের ভাগ্যে শিকে ছেড়েনি। শেষে চাকরি পেলেন একটি স্থানীয় কলেজে ইংরেজি পড়ানোর। এই লোকের আর দৌড় কতদূর হতে পারে? হয়তো নিজেই কখনো তার দৌঁড়টা কতদূর হবে ভাবেননি ওই চীনা যুবকও। তার দৌড়টা স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে আরো বহুদূর উঠে গেছে। ইন্টারনেট নিয়ে তার ছোট্ট একটা ভাবনা বদলে দিয়েছে একুশ শতকের ব্যবসা-বাণিজ্যের গতিধারাই। ই-কমার্সের জনক বলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন সারাবিশ্বে। বেটেখাটো এই লোকটির নাম জ্যাক মা। আলোড়ন জাগানো অনলাইনে কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান আলিবাবাডটকম এর প্রতিষ্ঠাতাও স্বত্বাধিকারী।
যে ইন্টারনেটে ব্যবসার এক নতুন জগৎ তিনি উন্মোচন করেছেন জীবনের প্রথম ৩১ বছর তিনি ইন্টারনেটের নামই শোনেননি। অথচ তার হাতেই খুলে গেল ইন্টারনেটের ব্যবহারের একটি নতুন দিগন্ত। তবে আলিবাবার ছু মন্তর ছু এর ম্যাজিক কাজ করার আগে তার জীবনেও ছিল অনেক অনেক ব্যর্থতার খতিয়ান। অসংখ্যবার হোঁচট খেয়েছে তার ছোটো-ছোটো স্বপ্নগুলো। তবে তিনি রবার্ট ব্রুসের দূর্গ দেওয়ালের সেই মাকড়শাদের মতই চেষ্টা করেছেন বারবার। পড়েছেন আবার উঠেছেন। আবার পড়েছেন আবার উঠেছেন। পৃথিবীবিখ্যাত এই ইন্টারনেট উদ্যোক্তা (এন্টারপ্রেনিউর) জ্যাকমা’র জন্ম ১৯৬৪ সালে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝৌ শহরে। বাবা মা ছিলেন চীনের ঐতিহ্যবাহী গায়ক-বাদক। এই পেশায় ছিলনা তেমন স্বচ্ছলতা। দারিদ্রভরা শৈশবে তাই ভালো কোনো স্কুলে পড়াশোনা করা ছিল স্বপ্নের ব্যাপার। না অত ছোট বয়সে স্বপ্ন এসে হাতের মুঠোয় ধরা দেয়নি। জ্যাকমা নিজেই একটা নতুন পন্থা বের করে নিলেন নিজের ইংরেজি শিক্ষার জন্য। জ্যাকমা শহরের সবচেয়ে বড় হোটেল এলাকাগুলোতে ঢুঁ মারতে থাকলেন, উদ্দেশ্য বিদেশিদের সাথে ইংলিশে কথা বলার সুযোগ খোঁজা। ১২ বছর বয়েস থেকে ৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে মা এই কাজ করেছেন যাতে শুধু তার ভাষাগত উন্নতিই হয়নি বাকি পৃথিবীর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল সম্পর্কে ধারনাও দিয়েছে।
যেহেতু বাবার টাকা-পয়সা নেই তাই জ্যাক জানতেন লেখাপড়ায় ভাল করা ছাড়া তার আর কোন গতি নেই। কিন্তু কলেজে ঢোকার সুযোগ পেতে তাকে একটা এন্ট্রান্স পরীক্ষা দিতে হত। কিন্তু সেটি পাশ করাও তার জন্য ছিল দূরুহ ব্যাপার। প্রথমবার জ্যাক ম্যাথসে ১২০ এর মধ্যে ১ পেয়েছিলেন, দ্বিতীয়-তৃতীয়বারও ফেল আর ফেল। অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদার Hangzhou Teacher’s Institute ভর্তি হওয়া ছাড়া আর কোন সুযোগ থাকলোনা তার সামনে। পাশ করেন ১৯৮৮সালে।
পাশ করে বের হয়েও আরেক ব্যর্থতার গল্প, কোথাও চাকরি পান না। অনেক চেষ্টা চরিত্র করে শেষ পর্যন্ত স্থানয়ি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি পড়ানোর কাজ পান তিনি। সেখানে শিক্ষকতা করার সময়ই প্রথম বন্ধুদের কাছে ইন্টারনেটের কথা শোনে জ্যাক মা। এর পর আমেরিকা ঘুরতে গিয়ে প্রথম ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার হাতে নেন। সেটাও ১৯৯৫ সালের কথা। তখন তার বয়স প্রায় ৩২ বছর। জীবনে প্রথম একটা ইন্টারনেট যুক্ত কম্পিউটার পেয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে সার্চ ইঞ্জিণ Yahoo তে তিনি সার্চ করেন “beer” এবং “China” কিন্তু পেলেন না কিছুই। এখান থেকেই জ্যাক’মা এর মাথায় বিজনেস আইডিয়া চলে আসলো যা শুধু চীনকে নয় সারা পৃথিবীর ব্যবসার মডেলই পালটে দিয়েছে। আমেরিকা সফরে পাওয়া এই আইডিয়া মাথায় নিয়ে চুপচাপ বসে থাকলেন না জ্যাক মা, সঞ্চয়ের কয়েক হাজার ডলার নিয়েই নেমে পড়লেন চাইনিজ কোম্পানিগুলোর অনলাইন লিষ্ট বানাতে, সরকারের নজরে পড়লেন খুব সহজেই এবং তাকে দায়িত্ব দেয়া হলো সরকারের অনলাইন প্রেজেন্স বাড়ানোর। কয়েক বছর করেই মা এই সরকারি চাকুরী ছেড়ে দেন কারন তিনি জানতেন তিনি যা শুরু করেছেন তা আরো অনেক অনেক বড়।
১৯৯৯ সালে তিনি কয়েকজন বন্ধুকে বাসায় দাওয়াত দিলেন আর তার চাইনিজ ইকমার্সের আইডিয়া উপস্থাপন করলেন। বন্ধুরা সবাই তার প্রস্তাবে রাজি হয়। সকলের মিলিত অবদানে উঠল ৬০০০০ ডলার, আর সে রাতেই জন্ম নিল বিশ্ববিখ্যাত কোম্পানি আলিবাবা ডট কম। আরব্য রজনীর আলিবাবার মতই এই চায়নীজ আলিবাবার জন্যও সৌভাগ্যের দুয়ার সত্যিই খুলে গেল। কদাকার চেহারা আর সাধারন মাথার যে লোককে তার ৩২ বসন্ত পর্যন্ত কেউই গোনায় ধরেনি কোনদিন তিনিই হয়ে গেলেন ই-কমার্সের জনক। ছড়িয়ে গেল কোম্পানীটির নাম ও কাজের পরিধি। আর হাতে এল কোটি কোটি ডলার।
জ্যাক মা’র অনুপ্রেরণার নাম বিশ্ববিখ্যাত হলিউড সিনেমা ফরেস্ট গাম্প এর ফরেস্ট গাম্প চরিত্রটি। খুব সাধারন কিন্তু খোলা মনের, মেধাবী নয় কিন্তু যখন যা করেন মন-প্রান উজাড় করে দিয়ে করেন, তার ইতিবাচক এবং সৎ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে । তিনি Forest Gump-এর মত হতে চান।
বর্তমানে বিশাল ধনী এই লোকটির স্ত্রী তার সম্পর্কে বলেন, Alibaba’র গল্প সবার জন্যেএক অনুপ্রেরণার নাম। শুরুটা অনেক সাধারন ছিল। শুধুমাত্র একটা ওয়েবসাইট যেখানে এক্সপোর্টাররা তাদের প্রডাক্ট পোষ্ট করতে পারবে বিদেশি বায়ারদের জন্যে। তারপরেই জ্যাক শুরু করেন 1688.com , ডোমেস্টিক প্রডাক্ট কেনা-বেচার সাইট। ২০০৩ এ এসে শুরু করেন Taobao যেটাছিল eBay-র ডিরেক্ট কম্পিটিটর। এরপর আসে পেমেন্ট প্রসেসিং সিস্টেম, একটা ব্যাংক, ক্লাউড কম্পিউটিং, মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম এবং আরো অনেকগুলো বিজনেস! আর তাই Alibaba-র ভ্যালু এখন ১৮০ বিলিয়ন ডলারের উপরে!!
কিন্তু জ্যাক মা Alibaba কে বলেন হাজার একটা ভুলের ফসল। তাঁর মতে এত দ্রুত এক্সপানশন একটা বড় ভুল ছিল, যা অনেক রিস্কি ছিল। এবং শুধুমাত্র একটা কারনেই সারভাইভ করা গেছে, আর সে কারন হলো সব সময় ইতিবাচক থাকা।
নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তার খুব সাধারন একটা পরামর্শ,
“সবসময় পজিটিভ থাকো আর সাহস না হারিয়ে সামনে এগিয়ে দেখো, কি অপেক্ষা করছে তোমার জন্য।”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now