বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আধিভৌতিক রহস্য উপন্যাসিকা
"মৃত্যুর গন্ধ"
আবুল ফাতাহ মুন্না
--------------------
(শেষ পর্ব)
চার
সেদিন বিকেলে
ড.ইকবাল হামিদের চেম্বারে মুখোমুখি বসে আছে তারেক আর ড.ইকবাল।
চেয়ারটা সামনে টেনে নিয়ে তারেক বলল,'ড.ইকবাল,আমি আপনার রহস্যের একটা হাইপোথিসিস দাড় করিয়েছি।জানিনা আপনার কতটুকু মনপুত হবে।তবে একটা কথা,আমাদের এই চারপাশে অনেক অদ্ভুত ঘটনা কিন্তু প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে।বিজ্ঞান হেরে যাবার ভয়ে সেগুলো স্বীকার করেনা। বিজ্ঞানের চাইতেও পুরনো হল, অলৌকিকতা।
যাইহোক আমি আপনাকে আমার হাইপোথিসিসটা শোনাচ্ছি,বিশ্বাস অবিশাস ছেড়ে দিলাম আপনার হাতে।'থামল তারেক।
'আপনার সমাধানের উপর আমার আস্থা আছে বলেই আপনার সাহায্য চেয়েছি আমি।'বললেন ড.ইকবাল।
'ওকে।আপনার সমাধান আমরা খুঁজব পিঁপড়াদের থেকে।'
'পিঁপড়া?'
'হ্যাঁ,'পিঁপড়া।যখন কোন পিঁপড়া মারা যায়,তখন অন্যান্য পিঁপড়ারা দ্রুত কলোনি থেকে মৃতদেহটা সরিয়ে নেয়।এতে পিঁপড়া কলোনিতে রোগ সংক্রমনের ঝুকি কমে যায়।কিন্তু প্রশ্ন হল,পিঁপড়ারা কিভাবে টের পায় কলোনির লাখ লাখ পিঁপড়াদের মধ্য থেকে কোন পিঁপড়া মারা গেছে?
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বলে,মৃত পিঁপড়া এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত ছাড়ে,যা কলোনির জ্যান্ত পিঁপড়ারা টের পায়।
কিন্তু সম্প্রতি আর্জেন্টাইন পিঁপড়া নিয়ে গবেষনা করা এক দল পতঙ্গ বিজ্ঞানী জানিয়েছেন,পিঁপড়াদের মৃত সঙ্গীকে খুজে পাওয়ার কৌশল ভিন্ন। গবেষকরা বলেন,সব
পিঁপড়া,জ্যান্তই হোক আর মৃতই হোক,ক্রমাগত রাসায়নিক সংকেত দেয়।কিন্তু জ্যান্ত পিঁপড়াগুলি একটি বিশেষ রাসায়নিক বা "লাইফ কেমিক্যাল" নিঃসরন করে। যখন কোন পিঁপড়া মরে যায়,তখন তার দেহ থেকে এ রাসায়নিক প্রভাব কমে যায়।এ থেকেই সঙ্গী পিঁপড়ারা মৃত্যু টের পায় ।
ড.ইকবাল, এমনটা কী হতে পারেনা মানুষের দেহও মৃত্যুর সময় কোনো রাসায়নিক সংকেত দেয়?কিংবা "লাইফ কেমিক্যাল" নিঃসরণ বন্ধ করে দেয়?'
মাথা ঝাকালেন ড.ইকবাল।সম্ভব।
'আমরা যদি বিজ্ঞান ছেড়ে এবার আরেকটু আধ্যাত্মিকতার দিকে যাই তাহলে জানতে পারি মানুষের আত্মা একটা "বস্তু"।
আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কুরআনে আছে,"হে নবী, আপনি বলুন,রুহ বা আত্মা হল আপনার রবের পক্ষ থেকে আদেশ।"
এখানে লক্ষ্যনীয়,মানুষের দেহ থেকে আত্মাকে একটি পৃথক বস্তু ধরা হয়েছে।অর্থাৎ আত্মা এবং শরীর দুটো সম্পুর্ন আলাদা অস্তিত্ব।বিজ্ঞানও তা স্বীকার করে।
উনিশ শতকের প্রথম দিকের কথা। ম্যাসাচুসেটসের এক নার্সিংহোমের ডাক্তার ডানকান ম্যাকডুগাল এক রহস্যময় পরীক্ষা চালান।পরবর্তীতে সেই পরীক্ষার ফলাফল কয়েকটা মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়।বিশেষ করে "জার্নাল অব দ্য আমেরিকান সোসাইটি ফর সাইকিকল রিসার্চ"-এ সেটা প্রকাশিত হবার পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।'
'কী সেই পরীক্ষা?'
'তিনি বিশেষ একধরনের বেড তৈরি করেন যা আসলে একটা নিক্তি।কয়েক গ্রাম ওজনের তারতম্যও ধরতে পারে।এরপর মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের সেই বিছানায় শোয়ানো হত।
এরপর দেখা যেত মৃত্যুর সাথে সাথেই তার ওজন কিছুটা কমে যাচ্ছে।ওজনটা কিসের?
মৃত্যুর সাথে সাথে মানুষের শরীর থেকে শুধুমাত্র একটা জিনিষই কমে গেছে।তার আত্মা!
হ্যাঁ,এই ওজনটা মানুষের আত্মার।মেপে দেখা গেছে আত্মার ওজন মোটামুটি বিশ গ্রাম।
আত্মার যেহেতু একটা স্বকীয় অস্তিত্ব আছে সুতরাং এটাও হতে পারে, মানুষের দেহ থেকে আত্মা বেরিয়ে যাবার আগে একটা বিশেষ গন্ধ ছড়ায়।
মোট কথা,উপরের দুটো ঘটনার যোগফল হল মৃত্যুর গন্ধ পাওয়া যাওয়া সম্ভব।উপরের দুটো সম্ভবনাই প্রজোয্য।
এখন প্রশ্ন,গন্ধটা কি এপর্যন্ত শুধু আপনিই পেয়েছেন নাকি আরো কেউ পেয়েছে?
উত্তর,আরো একজন পেয়েছে।
আপনাকে একটা কাহিনী বলি।অস্কারের কাহিনী।অস্কারের কাহিনীর শুরু একটি কুড়িয়ে পাওয়া জন্তু-জানোয়ারদের জন্য সৃষ্ট ‘পশু আশ্রমে'৷ সেখান থেকে নিয়ে এসে তাকে রাখা হয় রোড আইল্যান্ডের প্রভিডেন্সে স্টিয়ার হাউস নার্সিং এ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে৷ এই নার্সিংহোম এবং পুনর্বাসন
কেন্দ্রটিতে ডিমেনশিয়া, অর্থাৎ
বার্ধক্যজনিত মতিভ্রমের পেশেন্টদের রাখা হয়, বিশেষ করে যাদের অবস্থা অতি খারাপের দিকে গেছে৷এই ধরণের রোগীদের জন্য
কোনো বেড়াল, কি কুকুর, অথবা অন্য
ধরণের পোষা জীবকে থেরাপি হিসেবে
ব্যবহার করা হয়।অস্কার সেই ধরণের চিকিৎসার বেড়াল।
অস্কার যখন মাস ছয়েকের, তখন ড. ডেভিড
ডোসা নামে এবং নার্সরা খেয়াল করেন
যে, অস্কার নিজের খেয়ালে যে সব
পেশেন্টদের বিছানায় গিয়ে গোল
হয়ে ঘুমোয়, তাদের সবাই কিছুক্ষনের মধ্যেই মারা যান!'
চমকে উঠলেন ড.ইকবাল।
'হ্যাঁ,আপনার মত অস্কারও যে কোনোভাবে বুঝতে পারে, কার অন্তিম মূহুর্ত ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে।
আর অস্কারের মৃত্যুর গন্ধ পাবার সত্যতা বা কার্যকারিতা নিয়ে ড. ডোসা এবং নার্সদের এতটুকুও সন্দেহ নেই৷ কেননা অস্কার এযাবৎ
পঞ্চাশজন রোগীর ক্ষেত্রে প্রমাণ করে দিয়েছে যে, সে মৃত্যুরগন্ধ পায়। আই রিপিট,পঞ্চাশজন।কাকতালীয় ঘটনা এতবার ঘটেনা।'
'কিংবা এতবার ঘটলে সেটাকে আর কাকতালীয় বলা যায়না,'তারেকের কথার পিঠে কথা জুড়ল ড.ইকবাল।
'এগজ্যাক্টলি।ডক্টর ডোসা অস্কারের কাহিনী প্রথম বিশ্ববাসীকে জানান, ২০০৭ সালে, নিউ
ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিনে৷
অস্কারের ভূতুড়ে খ্যাতির সূচনা সেখানেই৷ এবং সেই কারণেই হয়তো ডক্টর ডোসাকে এবার একটা আস্ত বই লিখতে হয়েছে,
‘‘মেকিং রাউন্ডস উইথ অস্কার: দ্য
একস্ট্রা অর্ডিনারি গিফট অফ এ্যান
অর্ডিনারি ক্যাট''।
সেই বইতে ডক্টর ডোসা একটি কাহিনী শুনিয়েছেন:নার্সদের কেউ একজন নাকি একবার নিশ্চিত ছিল যে, কোনো এক
পেশেন্টের শেষ সময় উপস্থিত হয়েছে৷
কিন্তু অস্কার সেই মরণাপন্নের
বিছানায় বসতে রাজি হয়নি, বরং ঐ রুমেরই একটু দূরে অন্য এক পেশেন্টের বিছানায় গিয়ে উঠেছে৷এবং অবধারিতভাবে সেই পেশেন্টই আগে মারা যান।
ডক্টর ডোসা বলছেন,অস্কার হয়তো এমন কোনো ফেরোমোন বা গন্ধের
আভাস পায়, যা মানুষের কাছে এখনও
অজ্ঞাত৷ যেমন কুকুররা ক্যানসার
শুঁকে বার করতে পারে,অথবা মাছেরা আসন্ন ভূমিকম্প আঁচ করতে পারে৷'
'হ্যাঁ,মানলাম,মৃত্যুর গন্ধ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মি.তারেক,আমি তো কুকুর বিড়াল না।আমি কেন এই গন্ধ পাব?'
'এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হলে আরেকটা ঘটনা বলতে হয়।আমার নিজের চোখে দেখা ঘটনা।ছোটবেলায় আমরা একটা মফস্বল শহরে থাকতাম।আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে এক অন্ধ ভিক্ষুক যেত মাঝে মধ্যে।অদ্ভুত এক ক্ষমতা ছিল তার।সম্পুর্ন অন্ধ হওয়া সত্বেও নিখুঁত সময় বলতে পারত সে।
মানুষের সাইকিক পাওয়ার বা অতীন্দ্রেয় ক্ষমতা থাকা সম্ভব কিনা,এটা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ মতভেদ রয়েছে।কিন্তু একটা ব্যাপার সর্বজন বিদিত যে প্রতিবন্ধীদের কিছু বিশেষ ক্ষমতা থাকে।আল্লাহ মানুষকে কোনো একটা শারিরীক ক্ষমতা না দিলে তার পরিবর্তে অন্য কোনো ইন্দ্রিয়গত ক্ষমতা দিয়ে দেন।এ কারনেই দেখা যায় একজন স্বাভাবিক মানুষ এক রুম থেকে অন্য রুমে যেতে যেতে বারকয়েক হোঁচট খেয়ে বসলেও একজন অন্ধ ভিক্ষুক অনায়াসে ঢাকার ব্যাস্ত রাস্তায় চলন্ত বাসে উঠে ভিক্ষা করছে।'
'কিন্তু আমি তো প্রতিবন্ধীও নই।সম্পুর্ন স্বাভাবিক একজন মানুষ।'
'আসলেই কী তাই?'
'মানে?' কিছুটা যেন বিরক্ত ড.ইকবাল।
'আচ্ছা ড.ইকবাল,আপনি বিয়ে করেননি কেন?'
'আমি কেন বিয়ে করিনি সেটা জেনে আপনি কী করবেন?'
'আপনি বিয়ে করেননি কারন আপনি শারিরীকভাবে অক্ষম।এটাই আপনার প্রতিবন্ধকতা।আর এই ক্ষতির পূরণ হিসেবে আপনি পেয়েছেন এক অত্যাশ্চর্য ক্ষমতা।'
ড.ইকবাল কথাটা শুনেই একদম চুপ মেরে গেলেন।তারেকও কথা না বলে চরম সত্যটা হজম করতে দিচ্ছে ড.ইকবালকে।
কিছুক্ষন পর যখন কথা বললেন তখন নিজেকে বেশ খানিকটা ফিরে পেয়েছেন তিনি।'আপনাকে অনেক ধন্যবাদ মি.তারেক।আমি আমার অক্ষমতা অনেক আগেই মেনে নিয়েছি।শুধু এই অদ্ভুত সমস্যাটা আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছিল না।আপনি শেষ পর্যন্ত সমাধানটা দিয়ে আমার অনেক উপকার করলেন। 'কেমন যেন তড়িঘড়ি করে বলে উঠলেন তিনি।
'এখনো শেষ হয়নি ড.ইকবাল।'
'কী শেষ হয়নি?'
'রহস্যের।'একটু থামল তারেক।'পরাপর চারটা মানুষের ক্ষেত্রে যখন আপনার ক্ষমতার প্রয়োগ দেখতে পেলেন তখন আপনার বদ্ধমূল ধারনা হয়ে গেল সব মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের ক্ষেত্রেই আপনি গন্ধটা পাবেন।কিন্তু আসলে ব্যাপারটা এমন নয়।মানুষভেদে যেমন বর্ন,গন্ধের পরিবর্তন হয় তেমনি মৃত্যুর গন্ধও হয়ত সবার ক্ষেত্রে এক নয়।এজন্যই ওই চারজন ছাড়াও আপনার এখানে আরো কয়েকজন মারা গেছেন যাদের ক্ষেত্রে আপনি গন্ধটা পাননি।'
'তো?'ভ্রু কুঁচকালেন ড.ইকবাল।
'সবার ক্ষেত্রে গন্ধ পাবার এই ভ্রান্ত ধারনা আপনাকে পরিণত করেছে একজন সিজোফ্রেনিয়াকে।
এরপর থেকে আপনি ভুলভাল গন্ধ পাওয়া শুরু করলেন।জহুরুল সাহেবের ক্ষেত্রে গন্ধ পাওয়াটা আপনার অসুস্থ মনের কারসাজি।আপনি তার ব্যাপারে কোনো গন্ধ পাননি।'
'কী বলছেন? গন্ধ না পেলে কিভাবে বলতে পারলাম তিনি মারা যাবে?'
'পারলেন, কারন তাকে আপনি নিজেই খুন করছেন!'
এবার সাংঘাতিক চমকে উঠলেন ড.ইকবাল।'হোয়াট!' গর্জে উঠলেন তিনি।
'চিৎকার করবেন না ড.ইকবাল।আমি প্রমান ছাড়া বলিনি।'
'কী প্রমান আছে আপনার কাছে?'
'জোরালো প্রমান আছে।তবে এই প্রমান কোনো কোর্টে খাটবেনা এই যা দুঃখ।
জহুরুল সাহেবের ক্ষেত্রে আপনি কোনো গন্ধ পাননি।এটা আপনার ভ্রান্ত ধারণা। এর আগের প্রতিটা ভিকটিম বারো ঘন্টার মধ্যে মারা গেলেও জহুরুল সাহেব বারো ঘন্টার বেশি বেঁচে ছিলেন।
গতকাল আপনি আমাকে সকাল দশটার দিকে ফোন করেছিলেন। যদি ধরেও নেই আপনি গতকাল সকাল দশটার সময় গন্ধ পেয়েছেন তাহলে হিসেব অনুযায়ী রাত দশটার আগেই তার মারা যাবার কথা অথচ রাত দশটার পরও এক নার্স তাকে জীবিত দেখেছে, সে কথা আপনিই আমাকে বলেছেন।
বারো ঘন্টা পেরিয়ে যাবার পরও যখন তিনি বেঁচে রইলেন তখন আপনার সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত অবচেতন মন আপনাকে নির্দেশ দিল,আপনার এই অদ্ভুত ক্ষমতা বজায় রাখতে হলে জহুরুল সাহেবকে খুন করতে হবে।
আপনি নির্দেশ অনুযায়ী রাত একটার সময় জহুরুল সাহেবের রুমে ঢুকে তাকে হত্যা করলেন।এমনিতেই তার হার্ট দুর্বল ছিল।মুখে কিছুক্ষন বালিশ চাপা দিয়ে রাখলে হার্ট এটাক হয়ে মৃত্যু ঘটার সম্ভবনা সেন্ট পার্সেন্ট।'
'পাগলের মত কথা বলছেন আপনি।এর আগে কেউ বারো ঘন্টা বেঁচে থাকেনি বলে ইনিও থাকবেন না এমন তো কোনো কথা নেই।ইনি বেশিক্ষন বেঁচে ছিলেন দেখেই আপনি ধরে বসলেন তাকে আমি হত্যা করেছি।বাহ!'
তারেক নীরবে ব্যাঙ্গটা হজম করে বলল,'এছাড়াও আরো দুটো প্রমান আছে আমার কাছে।প্রথমত,মৃত্যুর পর জহুরুল সাহেবের মুখে আমি নিদারুণ যন্ত্রনার ছাপ দেখেছিলাম।দুঃখের বিষয় এটাও কোর্টে টিকবেনা।
দ্বিতীয়ত, জহুরুল সাহেবের ডেডবডিটার ময়না তদন্ত হলেই ব্যাপারটা অকাট্যভাবে প্রমান করা যেত।যদিও তা আর এখন সম্ভব না।একজন হার্টের রোগী হাসপাতালে থাকা অবস্থায় হার্ট এটাক করে মারা গেলে তার মৃত্যুর স্বাভাবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশই থাকেনা।এই সুযোগটাই নিয়েছেন আপনি অথবা আপনার অবচেতন মন।'
'এখন নিশ্চয়ই বলবেন আগের গুলোও হত্যা ছিল?'
'সেটাই হয়ত বলতাম কিন্তু আজ ওই চারজনের ফাইল পড়ে এবং ড.আনিসের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি তাদের কারো মৃত্যুর সময় আপনি উপস্থিত ছিলেননা।তখনই আমি বুঝতে পারি আগের ঘটনাগুলো আপনার ক্ষমতারই বহিঃপ্রকাশ। আর এই হাইপোথিসিসটা আমি আগেই দাড় করিয়েছিলাম। '
তারেকের কথা শেষ হতেই হার স্বীকার করে নিলেন ড.ইকবাল।ডুকরে কেঁদে উঠলেন।এতদিনের মানসিক চাপ আর সামলাতে পারছেন না।
তারেক সময় দিল তাকে হালকা হবার।
বেশ কিছুক্ষন পর কান্নার দমক কমতে তারেক বলউঠল,'এমনিতেই আমার কাছে খুনের প্রমান নেই।আর থাকলেও হয়ত আমি পুলিশকে বলতাম না কিছু। আপনি মানসিকভাবে অসুস্থ।তবে স্বীকার করতেই হবে অত্যন্ত সাহসী একজন মানুষ আপনি।নিজের শারিরীক অক্ষমতাকে মেনে নেবার সাহস সবার থাকেনা।আপনার আছে।আশা করি এই সাহসকে সম্বল করে আপনি মানসিক চিকিৎসা নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাবেন।আর যে ক্ষমতা আপনি পেয়েছেন তার অপব্যাবহার করবেন না।'
তিক্ত একটা হাসি দিলেন ড.ইকবাল।'সান্তনা দেবার জন্য ধন্যবাদ। তবে এখন আর কিছুতেই কিছু এসে যায়না।'
তারেক কথাটার অর্থ বুঝতে পারলনা।তবে কোনো প্রশ্নও করল না।একজন বিপর্যস্ত মানুষকে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দিয়ে বেরিয়ে এল বাইরে।ফিরতে হবে ওকে।
পরিশিষ্টঃ
পরদিন
পত্রিকা হাতে নিয়েই চমকে গেল তারেক।একটা শিরোনামে চোখ-
"গাজীপুরে চিকিৎসকের আত্মহত্যা "
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল তারেক ফয়সাল।ইকবাল হামিদের শেষ কথাটার অর্থ বুঝতে পারছে এখন।হয়ত সেই মুহুর্তে নিজের মৃত্যুর গন্ধ পেয়েছিলেন তিনি।
(সমাপ্ত)
------------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now