বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুর গন্ধ-৬

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আধিভৌতিক রহস্য উপন্যাসিকা "মৃত্যুর গন্ধ" আবুল ফাতাহ মুন্না ------------------ (৬ পর্ব) তারেকের উপস্থিতি টের পেয়েই নড়ে উঠল মূর্তিটা। তারেকের সবগুলো স্নায়ু টান টান হয়ে গেছে।তারেক গল্প উপন্যাসের গোয়েন্দাদের মত অলরাউন্ডার না।ওর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র নেই।মার্শাল আর্ট তো দুরে থাক,হাতাহাতি করতে হলেও ওর চাইতে সবল কাউকে এড়িয়ে চলবে! তবে সামনে দাড়ানো লোকটার মধ্যে আক্রমনাত্মক কিছু লক্ষ্য করা গেলনা।তারেক যতদুর বুঝতে পারছে রহস্যময় ছায়ামুর্তিও ওকে দেখে ঘাবড়ে গেছে। হঠাৎ তারেক চোখের কোন দিয়ে জোনাকির মত একটা লাল আলোর বিন্দু দেখতে পেল।সুইচবোর্ডের আলো ওটা।ওর হাতের নাগালেই আছে।এর মধ্যে লাইটের সুইচ কোনটা কে জানে।অত শত ভাববার সময় নেই। দেরী না করে সবগুলো সুইচ একসাথে নীচের দিকে নামিয়ে দিল ও। উজ্জল আলোয় সঙ্গে সঙ্গেই ভরে গেল রুমটা। 'আপনি?'বিষ্মিত তারেক সামনে দাঁড়ানো লোকটাকে প্রশ্ন করল। 'জহুরুল সাহেব মারা গেছেন।'এতটুকুই শুধু বলতে পারলেন ড.ইকবাল। চার সকালের আলো এসে সেদিন দ্বিতীয়বারের মত ঘুম ভাঙাল তারেক ফয়সালের।রোদের একটা রেখা ঠিক ওর মুখে এসে পড়েছে।ঘুম কম হওয়াতে মাথায় চিনচিনে একটা ব্যাথা।ঘুম পুরোপুরি টুটে গেছে কিন্তু আলস্য জড়িয়ে ধরেছে ওকে।এখনই বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করছেনা। মাথা তুলে পর্দাটা টেনে দিয়ে আবার বালিশে মাথা রাখল।শুয়ে শুয়ে গতরাতের ঘটনা মনে করল। রাতে জহুরুল সাহেবের বিছানার পাশে ড.ইকবালকে দেখে প্রথমে খানিকটা ভড়কে গিয়েছিল তারেক।পরে ড.ইকবাল ব্যাখ্যা দিলেন,গতরাতে বাসায় গিয়ে তারও তারেকের মত মনে হয়,জহুরুল সাহেব বেঁচে আছেন তো? কয়েকবার ইতস্তত করে শেষ পর্যন্ত চলেই আসেন তিনি।গেটের চাবি তার কাছে ছিল।নিজেই গেট খুলে সোজা জহুরুল সাহেবের রুমে চলে যান।তারেকের রুমের সামনে দিয়েই যেতে হয়েছিল তাকে শব্দটা তারেক তখনই পায়। জহুরুল সাহেবের রুমে পৌঁছে ড.ইকবাল আবিষ্কার করেন জহুরুল সাহেব মারা গেছেন।কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন ড.ইকবাল।কী করবেন বুঝে উঠতে পারেননা। ঠিক এমন সময় রুমে লক্ষ্য করেন আরেকজন আগন্তুকের উপস্থিতি।তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাইট জ্বেলে দেয় আগন্তুক। উজ্জ্বল আলোয় তারেককে দেখে হাপ ছেড়ে বাঁচেন ড.ইকবাল। এরপর কর্তব্যরত ডাক্তারকে ডেকে লাশ নার্সিংহোমের মর্গে পাঠানো হয়।এখনো ওখানেই আছে।স্বজনরা এসে নিয়ে যাবার কথা আজ। লাশ নিয়ে যাবার আগেই কিছু কাজ করতে হবে ওকে।আলসেমি না করে ঝটকা দিয়ে উঠে পড়ল তারেক।এটাচ বাথরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে বাইরে চলে এল।ড.ইকবালের চেম্বার খোলা।ওখানেই প্রথমে ঢু মারল তারেক। 'এক্সকিউজ মি।'দরজায় দাঁড়িয়ে বলল তারেক। ড.ইকবাল।রিভলভিং চেয়ারে চোখ বুজে হেলান দিয়ে ছিলেন।তারেকের গলা শুনে চোখ খুলে বললেন,'আসুন।' তারেক ওখানে দাড়িয়েই বলল,'জহুরুল সাহেবের আত্মীয়রা নিয়ে যাবার আগেই আমি আরেকবার লাশটা দেখতে চাই।আপনি উপস্থিত থাকলে ভাল হয়।কিছু ব্যাপার জানবার ছিল।' 'শিওর,'বলে চেয়ার ছাড়লেন ড.ইকবাল। চোখ মুখ তার আরো গর্তে ঢুকেছে একরাতে। মর্গটা।নীচতলার একেবারে কোনায়।পিচ্চি একটা রুম।বেশিরভাগ সময়ই খালি পড়ে থাকে রুমটা। রুমের সামনে দাড়িয়ে তালা খুললেন ড.ইকবাল।এরপর আগে ঢুকে ভেতরের একশ পাওয়ারের লাইটটা জ্বেলে দিলেন।ছোট রুমে বেশ আলো ছড়ালো বাতিটা।সে আলোতে লোহার খাটে শোয়া জহুরুল সাহেবের মৃতদেহ দেখা গেল ভালমতই। কাল দেখা হাসিখুশি বৃদ্ধের মৃতদেহ একটু ধাক্কা মত দিল তারেককে।একটা মানুষ কত দ্রুতই না "লাশে" পরিণত হয়! মৃত জহুরুল সাহেবের মুখে মৃদু যন্ত্রনার একটা ছাপ দেখা গেল।প্রায় সব মানুষকেই মৃত্যুর যন্ত্রনাময় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।তবে যন্ত্রনার ছাপ সবার মুখে পড়েনা। 'উনার মৃত্যুটা কিভাবে হয়েছে?' 'দেখে যতটা বুঝতে পারছি ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।' 'কাল তো উনাকে বেশ সুস্থই দেখলাম।' 'হার্ট অ্যাটাক তো আর বলে আসেনা।এজন্যই এর নাম অ্যাটাক।'বলতে বলতে হেসে ফেললেন ড.ইকবাল। সে হাসি স্পর্শ করল না তারেককে। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ডেডবডির দিকে।কিছু একটা মিলছেনা যেন ঠিক। 'আচ্ছা উনার মৃত্যুটা কখন হয়েছিল বলতে পারবেন?'মৃতদেহ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে জিজ্ঞেস করল তারেক। প্রশ্নটা শুনে লাশের একটা হাত তুলে নিলেন ড.ইকবাল।কিছুক্ষন নাড়াচাড়া করে বললেন,'কাল রাতে আসলে ব্যাপারটা মাথায় আসেনি। এখন সঠিক সময়টা বলা মুশকিল।নার্স উনাকে শেষ জীবিত দেখেছে রাত সাড়ে দশটায়। রিগর মর্টিসও বেশ কিছুক্ষন আগে শুরু হয়েছে।রিগর মর্টিস ব্যাপারটা জানেন নিশ্চয়ই।' তারেক মাথা দোলালো।ও জানে,মৃত্যুর সাধারনত দুই থেকে ছয় ঘন্টা পরে মানুষের শরীরের সমস্ত পেশী ও হাড় শক্ত লোহার মতন হয়ে যায়।তখন মৃতদেহের হাতের বা পায়ের মধ্যে যা কিছু আটকা পড়ে তাকে আর ছাড়ানোই যায় না।এমনকি লোহার রড ঢুকিয়ে চাড় দিয়েও সেই হাতের আঙুল তখন আর সোজা করা যায় না।এই অবস্থাকে রিগর মর্টিস সেট ইন বলা হয়।কয়েক ঘন্টা থাকে মৃতদেহ এই অবস্থায়।এরপর সেট আউট করে রিগর মর্টিস। তখন মৃতদেহ এলিয়ে পড়ে।পচনও শুরু হয়ে যায় তারপরেই। 'লাশ এখনো সেট ইন অবস্থায় আছে।রাত এগারোটা থেকে একটার মধ্যে যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে তার।ময়নাতদন্ত করলে নিশ্চিত হওয়া যেত।কিন্তু উনার স্বাভাবিক মৃত্যু হওয়ায় সেটা সম্ভব নয়।' 'তারমানে দাড়ালো,রাত এগারোটা থেকে নিয়ে আপনার রুমে ঢোকার পর পর্যন্ত কোনো একটা সময় জহুরুল সাহেব মারা গেছেন,তাইনা?' 'মানে? 'চমকে উঠলেন ড.ইকবাল।'কী বলতে চাইছেন।' 'কিছুনা।'গভীর মনোযোগে ড.ইকবালের প্রতিক্রিয়া দেখে নিয়েছে তারেক।'আচ্ছা,এর আগে যে চারজন মারা গেছেন তাদের ফাইলগুলো নিশ্চয়ই আপনাদের সংগ্রহে আছে?' 'হ্যাঁ। ' 'ওগুলো কী একবার দেখতে পারি আমি?' 'ওখানে তো কিছুই নেই গুরুত্বপূর্ণ।'কিছু জানার থাকলে আমার কাছে বলতে পারেন।' 'আমি যেটা জানতে চাইছি সেটা আশা করি পাওয়া যাবে ফাইলগুলোতে।' 'আচ্ছা, পাঠিয়ে দেব।'যেন নিতান্ত অনিচ্ছায়ই রাজি হলেন তিনি। 'আরেকটা ব্যাপার।এই নার্সিংহোমের ইনচার্জ কী আপনিই?' 'না,আনিসুর রহমান নামে একজন।' 'আচ্ছা,প্রবলেম না হলে তাকেও একটু পাঠিয়ে দেবেন প্লিজ।' 'আচ্ছাহ,'একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে উচ্চারন করলেন ড.ইকবাল। একটু পর তারেক ওর রুমে সামনে চারটা ফাইল নিয়ে বসে আছে।এতক্ষন ড.আনিসের সাথে কথা বলছিল।মাত্রই বিদায় নিয়ে চলে গেল তরুন ডাক্তার। ড.আনিস আসার আগেই ফাইলগুলো পড়ে ফেলেছে তারেক।বেশ কিছু মেডিকেল টার্ম ইউস করাতে অনেকটাই দূর্বোধ্য ঠেকেছে ফাইলটা।তবে ও যা খুজছিল সেটা পেয়ে গেছে।এইমাত্র ড.আনিসের সাথে কথা বলে তথ্যটা যাচাইও করে নিয়েছে। গতকাল রাতে জহুরুল সাহেবের লাশ দেখার পর শুয়ে শুয়ে কেসটা নিয়ে অনেক ভেবেছে তারেক।তখনই এই রহস্যের প্রায় সবগুলো সুতোই জোড়া দিয়ে ফেলেছিল।শুধু একটা তথ্য জানা বাকি ছিল।সেটাও জেনে ফেলেছে এইমাত্র। এখন পুরো রহস্যের সমাধান দিতে তৈরি তারেক ফয়সাল। (শেষ পর্ব আগামীকাল) -------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now