বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

তোমার আমার লাল নীল সংসার

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X তোমার আমার লাল নীল সংসার ---------- বিকেল চড়ুই -চা দেব? -দাও। -রং চা কিন্তু। -আচ্ছা। শাহেদ পেপার পড়ছে। পেপার পড়তে বসলে ওর আর কিছু খেয়াল থাকেনা। -মনে হচ্ছে এবার ট্রাম্প জিতবে! বেটার সেন্স অফ হিউমার ভাল। আমি কিছু বললাম না। হাসিমুখে চায়ের কাপটা বাড়িয়ে দিলাম। লিকার চায়ের বদলে দুধ চা। শাহেদ পেপার পড়ায় মগ্ন। এতই মগ্ন সে খেয়াল করেনি। -একটু এদিকে তাকাবে? -উ। -তাকাও না! -কী?? -কালকে ছুটি নাও। -ছুটি? ইম্পসিবল। নতুন চাকরী। এত বেশি ছুটি নেয়া যাবে না। -ঠিক আছে। আমি উঠে পড়লাম। ভাত চড়িয়ে দিতে হবে। নতুন বাসাটায় ভ্যাপসা একটা গন্ধ। সারাদিন একা একা বাসায় থাকি। অদ্ভুত নির্জনতা র মধ্যে সময় কাটতে চায়না। ভাত রাঁধতে গিয়ে আমার কান্না এলো। বাবা মা কে ফেলে কোথায় কোন মফস্বল শহরের এক কোনে চলে এসেছি। শাহেদের তো বোঝা উচিত। একটা মানুষ মাঝে মাঝেই এত উদাসীন হয়ে যায় কেন সব বিষয়ে? -শিলা... আমার ধ্যান ভাঙল। ভাত পুড়ে পোড়া গন্ধ ছুটে গেছে। গাল মুছতে গিয়ে টের পেলাম শাহেদ পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। -ভাত পুড়ে গেছে! -আমি আবার চাল বসাচ্ছি। অপেক্ষা করো। -বাদ দাও। চলো বাহিরে কোথাও খেতে যাই। -না। এ মাসে খরচ বেশি পড়ে গেছে এমনওতেই। দশ মিনিট সময় দাও। - মন খারাপ কোরো না। -আমি মন খারাপ করিনি। -আমার মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ। তুমি মন খারাপ করে চোখের পানি ফেলে ফেলে ভাত রাঁধছো দৃশ্যটা ভাল লাগছে না। ভাত খেতে বসলে মনে হবে তোমার চোখের পানি খাচ্ছি। -আমার মন খারাপ হয়নি। - তাহলে কথা দাও তুমি গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে ভাত রাঁধবা। -ঠিক আছে। -জানতে চাইলানা কোন গানটা গাইতে হবে? -কোন গানটা? - জেমস এর আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার। আমি হেসে ফেললাম। -আমি জেমস এর গান গাইলে বাড়িওয়ালা দুদিনেই বাসা থেকে ভাগিয়ে দেবে। -তাহলে তুমি ভাত রাঁধো। আমি গান গাই। -খবরদার। এই কাজ ভুলেও করতে যেয়োনা। -কেন! -ডাকাত পড়েছে ভেবে সবাই লাঠিসোটা নিয়ে হাজির হয়ে যাবে! শাহেদ গম্ভীর মুখে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারপর হঠাৎ করে চালের বিশাল পাতিলটা টেনে বের করল। এক পট চাল ঢালল নতুন ডেকচিতে। তারপর হাউজে উবু হয়ে বসে কল ছেড়ে দিয়ে চাল ধুতে শুরু করল। - ক্যামেলিয়া হাতে এই সন্ধ্যায় ভালোবেসে যতখুশি বলতে পারো এই ফুল আমার! ফুল শুধু ছড়াবে সৌরভ লজ্জায় বলবে না কিছুই ফুল শুধু ছড়াবে সৌরভ লজ্জায় বলবে না কিছুই ফুল থাকবে নীরব আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব আমি তোমার.. আমি বেশ অনেকক্ষন হাসি চেপে রেখেছিলাম। আচমকা হাসতে শুরু করলাম। শাহেদ মহাউৎসাহে চাল ধুচ্ছে। আমার মনে পড়ে গেল আমি কেন এই মানুষটার প্রেমে পড়েছিলাম। মানুষটা মন ভাল করে দেওয়ার অস্বাভাবিক ক্ষমতা নিয়ে আমার জীবনে এসে হাজির হয়েছে। প্রথমদিন যখন বোকা বোকা চিঠিটা নিয়ে আমার সামনে হাজির হলো,চিঠি খুলে দেখি কোন সম্বোধনছাড়াই লেখা, জীবনটা ওমরসানীর বাংলা সিনেমা হলে নিশ্চয়ই কলেজের প্রথমদিন তোমার সাথে আমার ধাক্কা লাগত। চোখাচোখি হত। ভীষণরকম ঝগড়া হত। অহংকারী তুমি গুন্ডার কবলে পড়তে,বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার শুনে আমি উড়ে এসে তোমাকে উদ্ধার করতাম। তারপর একটা গান হত। তুমি আমি সখা সখী নিয়ে নদীর পাড়ে নাচতাম। তারপর সব শুনে তোমার বাবা মা আমাদের প্রেম মেনে নিত না। আমরা বাসা থেকে পালাতাম। সিনেমার শেষে অনেক মারামারি হত। তোমার ভিলেন বাবা মা একসময় সবকিছু মেনে নিত, আমিও দাগী আসামীর মত জেল খেটে একদিন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেতাম। জীবনটা বাংলা সিনেমা নয়। তাই এসব কিছুই হবেনা। এ জন্মের আফসোস! তোমার সাথে আমার বুঝি প্রেম হলো না!!! কী অদ্ভুত হাস্যকর চিঠি। চিঠি পড়েই প্রেমে পড়ে যাব তেমন মেয়ে আমি মোটেও ছিলামনা। তবে সেদিন হি হি করে হেসে ফেলেছিলাম। সখা সখী নিয়ে দাড়ি গোফের জঙ্গল তালঢ্যাংগা এক অচেনা যুবকের সাথে নদীর পাড়ে নাচা নাচি করছি কল্পনা করে হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়েছিলাম। শাহেদ মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল। সেই মুগ্ধ দৃষ্টিই বেলাশেষে আমার যত সর্বনাশের কারন হলো!! . শাহেদ চাল ধুয়ে ভাতের ডেকচিটা চুলায় বসিয়ে দিয়েছে। আচমকা রান্নাঘরের জানলা খুলে দিল। এক তলা ঘর। জানলারা পাশে সন্ধ্যামালতীর ঝোঁপ। এই বাড়ির পিছনটায় জঙ্গল মতন আছে। সন্ধ্যের ম্লান আলো সবকিছুতে কেমন যেন ঘোরের মত ছবি আঁকছে। আমার হাত ধরে টেনে জানলার পাশে নিয়ে এলো শাহেদ। গলা জড়িয়ে ধরে বলল,সন্ধ্যামালতী হাতে এই সন্ধ্যায় ভালবেসে যতখুশি বলতে পারো এই ফুল আমার!! ফুল শুধু ছড়াবে সৌরভ, লজ্জায় বলবে না কিছুই.. ফুল শুধু ছড়াবে সৌরভ লজ্জায় বলবে না কিছুই ফুল থাকবে নীরব! আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব আমি তোমার! ... -পাগল! আশেপাশের মানুষ কী বলবে!! শাহেদ গান থামালনা। জেমস শেষ করে অঞ্জন দত্ত তে চলে এলো, আর বৃষ্টির ছাটে যাবে না দেখা দুজনের চোখের জল... ঝম ঝম... ঝিঁ ঝিঁ ডাকছে। একটুপর ডিম ভাজা হবে। ছোট মাছের চচ্চড়ি আছে। দুজন সমবয়সী মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যৎসামান্য উপকরন হলেই চলে। আর এই ভাঙাচোরা জং ধরা ভ্যাপসা গন্ধের বাসাটায় বেঁচে থাকার অজস্র উপকরন ছড়িয়ে আছে। এই যেমন এই মুহূর্তটা,জানলা জুড়ে বাসন্তী হাওয়া। আঁধ ফোঁটা চাঁদ। সন্ধ্যামালতী ফুলে নিশ্চুপ জলজোৎস্না। ভাতের পাতিলে ফেনা ওঠা পুরান চালের ভাত। ...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৬৩ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now