বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প: অভাগীর স্বর্গ
লেখক: শরৎ বাবু
টিউশনিতে গিয়েছি। স্টুডেন্ট বললো স্যার কঠিন ভাষায় একটা গল্প লেখা। স্যার ক্লাসে পড়িয়েছে কিন্তু কিছুই বুঝি নাই। আজ অংক না করিয়ে গল্পটা বুঝিয়ে দিবেন?
বুঝতেই পারছেন। মেঘ না চাইতেই জল। টিউশনিতে গিয়েও গল্প পড়ার সুযোগ কে জিবনে পায় ক'বার। আমি তো বাংলা বই হাতে নিয়ে অবাক। শরৎ বাবুর লেখা। কপালটা কি হটাৎ ফাটলো নাকি?
যাই হোক মনে যে আনন্দ ছিলো গল্পটা পড়া শুরু করতেই উড়ে গেল। ঠাকুর মা র মৃত্যু দিয়ে শুরু গল্পটার। ছেলে বউ আর মেয়েদের মৃতকে সাজানোর বর্ননায় লেখক বলেছেন পঞ্চাশোর্ধ মহিলাকে যেন বিয়ে দেয়া হচ্ছে।
অভাগী স্বপ্ন দেখে তার ছেলে তাকে এমন সাজে সাজিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করবে। সে যেন দেখতে পায় ঠাকরুন রথে চড়ে স্বর্গে যাচ্ছেন।
কাঙালি তার মাকে খুব ভালোবাসে আর বিশ্বাসো করে। মা যখন বলে রথ সে দেখেছে।
কাঙালি বলে "তুই ক্ষেপেছিস মা। ও তো ধোয়া।"
সমাজের নির্মমতার ভয়াবহতায় গলা ধরে আসলো বারবার। কয়েকবার স্টুডেন্ট কে দিয়ে পানি এনে পান করলাম। কিন্তু গল্পটার ভেতর এতোটা ঢুকে পড়লাম যে আসন্ন মৃত্যুর সময়ের বর্ননা এবং কথামালার ভিরে আমার চোখের জল বিসর্জন দিতেও কার্পন্য করিনি।
কাঙালি তার মা কে স্বর্গ পাঠানোর জন্য জমিদারের চামচার কাছ থেকে নিজের মায়ের রোপন করা গাছটা ৫ টাকা দিয়ে কিনতে পারেনা।
কবিরাজ, জমিদারের পেয়াদা, জমিদারের নিয়োজিত চামচা, আর সবচেয়ে বড় কথা ঠাকুর বাড়ির লোকজনের আচরণ দেখে কাউকে মানুষ বলেই মনে হয়না।
মানুষ কতোটা নির্দয় হতে পারে!
নিষ্ঠুর হতে পারে!
নির্মম হতে পারে!
গল্পটিতে কথার যাদুকর সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছে।
সমাজের এমন চিত্র আমাদের কল্পনাকেও হার মানাবে।
সবাইকে অনুরোধ যদি না পড়ে থাকেন। নবম-দশম শ্রেনির বাংলা বই থেকে গল্পটা পড়ে নিন।
দেখি আপনি চোখের জল না ঝড়িয়ে থাকতে পারেন কিনা!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now