বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

নিশির পাগলামী অথবা একটি ভালবাসার গল্প

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X -বাবু আমি এখন একটু রাখি ? আমার এখন কথা বলতে ভাল লাগছে না । -না তা লাগবে কেন ? এখন আমিতো পুরনো হয়ে গেছি । এখন তো আর আমার সাথে কথা বলতে ভাল লাগবে না । আমি নিশির কথা শুনে কিছুক্ষন থ হয়ে গেলাম । এই মেয়েটার মাথা কি খারাপ নাকি ? কিসের ভিতর কি কথা বলছে । আমি বুঝি না এতো বড় একটা মেয়ের মাঝে মাঝে কি হয় ! আরে মাঝে মাঝে বলছি কেন এই মেয়ে তো সব সময়ই এমন করে ! মাঝে মাঝে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যাই কিন্তু তখনই নিশির নিশ্পাপ চেহারাটা আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে । তখন কিছুতেই নিশির উপর রাগ করে থাকা যায় না । ওর সব পাগলামো সব ছেলেমানুষী সহ্য হয়ে যায় । একবার ঠিক এমনই হয়েছিল । আমাকে ওর পাগলামোর কারনে খুব লজ্জায় পড়তে হল । রিক্সায় করে ওর সাথে যাচ্ছিলাম । পথের মধ্যে আমার এক বান্ধবীর সাথে দেখা । ক্লাসমেইট । রিক্সা থামিয়ে ওর সাথে কথা বললাম কিছুক্ষন । কেন বললাম ! তার একই কথা ! নিশি কেমন পাগলের মত আচরন করতে লাগলো । বলল -তুমি কেন কথা বললে ঐ মেয়ের সাথে ? আমাকে ইগনোর করে কেন কথা বললে ? -আরে ওর সাথে কথা বললাম তো কি হয়েছে ? আর তোমাকে ইগনোর করলাম কোথায় ? -তাহলে তুমি কেন কথা বললে ? -আরে আশ্চর্য ! কথা বলেছিতো কি হয়েছে ? -কি হয়েছে ? কি হয়েছে ? নিশি এতো জোরে চিৎকার করে উঠলো যে আসেপাশের মোটামুটি সবাই ই তাকিয়ে দেখলো আমরা কি করছি । আমার অস্বস্তির সীমা থাকলো না । কিন্তু নিশির সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই । ওর চিৎকার করেই চলেছে । আমি ওকে কয়েক বার শান্ত করার আমি রিক্সা থেকে নেমে হাটা দিলাম । মনে মনে বললাম এই অসুস্থ মেয়ের পাশে আর একটুও নয় । এই মেয়ের সাথে আর কোন সম্পর্ক নয় । রাতে নিশি কয়েকবার ফোন দিলেও আমি ধরলাম না । মোবাইল বন্ধ করে শুয়ে থাকলাম । ওর উপর খুব রাগ লাগছিল । খুব বেশি রাগ । সম্পর্কের মধ্যে মান অভিমান থাকবেই । মানুষের উপর মানুষ রাগ করতেই পারে কিন্তু সেই রাগ করার তো একটা লজিক থাকা চাই । কিন্তু নিশি বেলায় এই লজিক ফলো করে না । কি সব লজিক বিহীন কারন নিয়ে চিৎকার চেচামিচি শুরু করে । মেজাজটা ঠিক রাখা কষ্টকর হয়ে যায় । রাতে ফোন বন্ধ করে শুয়েছিলাম সকালবেলা নিশি এসে হাজির । চোখ মুখের অবস্থা দেখে মনে হল সারারাত একটুও ঘুমাই নি । কান্নাকাটিও করেছে নিশ্চই । আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে হু হু করে কেঁদে দিল । আসলে যত রাগই হোক না কেন এমন করে কেউ যদি কান্না কাটি করে নিজেকে কি ধরে রাখা যায় । কাঁদতে কাঁদতেই আমাকে জড়িয়ে ধরলো । কান্নার বেগ যেন আরো বাড়ল । এই মেয়ের উপর কিভাবে রাগ করে থাকি ! প্রতিবারই ও অহেতুক ভাবে এমনটা করবে আমার মেজাজ খারাপ হবে আবার ওকে ক্ষমাও করে দিবো । আমি নিশিকে বলল -আচ্ছা তুমি এমন কথা কেন বলছো ? -বলব না ? তাহলে তুমি কেন ফোন রেখে দিতে চাইছো ? আমাকে আর ভাল লাগে না তাই তো আমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করে না । কালকেও তুমি এমনটা করেছ । -আরে বাবা আমি বললাম না যে আমি আজ সারা দিন সেমিনারে আছি । কাল ছিলাম । সকাল থেকে রাত পর্যন্ত । এখন তুমি বল সারা দিন খাটা খাটনি করে কি রাত জেগে কথা বলতে ইচ্ছা করে !! -আমি জানি না । আমি কিছু জানি না । আমার সাথে কথা বলে হবে । আজ সারাদিন তুমি একটুও কথাও বল নি । -আরে আমি তো বিজি ছিলাম । কিভাবে বলবো ? -আমি জানি না । আমি কিছু শুনতে চাই না । কিছু শুনতে চাই না । আমি ফোনের লাইন কেটে দিলাম । এই মেয়ের সাথে কথা বলে লাভ নাই । একবার যা বলতে তা থেকে কিছুতেই নামানো যাবে না । আর আমার পক্ষে এখন কথা বলা সম্ভব না কিছুতেই । আমি ফোন বন্ধ করে ঘুম দিলাম । ফোন খোলা থাকলে নিশি ফোন করতেই থাকবে ! ঘুমিয়েই পড়েছিলাম । ঘুম ভাঙ্গলো খুব সকালে । সকাল না বলে বলে ভোর বলাই ভাল । কারন এখনও খুব একটা আলো ফোটে নি । আমি আড়মোড়া ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে মোবাইল হাতে নিলাম । এখনও বন্ধ । আরে রাতে না বন্ধ করে ঘুমিয়ে পরেছিলাম । নিশি কি ঘুমিয়েছে ? মেয়েটা এমন পাগলামো করে । নিশ্চই ঘুমাইনি । আমি ফোন অন করটেই মেসেজের বৃষ্টি শুরু হল যেন । নিশর মেসেজ । সব গুলোতে কেবল একটা লাইন লেখা আমি তোমাকে অনেক মিস করছি !! আমি তোমাকে অনেক মিস করছি !! আমি তোমাকে অনেক মিস করছি !! এই মেয়েটা আসলেই পাগল । একদম পাগল । আসলে কাল রাতে এতো ক্লান্ত ছিলাম কিছুতেই কথা বলার অবস্থায় ছিলাম । মেয়েটা নিশ্চই মন খারাপ করেছে । কান্না কাটিয়ও নিশ্চই করেছে । কি করবো ? এখন ফোন দিবো !! আমি জানি একটু সরি বললেই ও মন ভাল হয়ে যাবে কিন্তু আরো বেশি কিছু কি করা যায় না? যায় !! আমি চট করে তৈরি হয়ে নিলাম । এতো সকালে কেউ বের হয় নি । সকালটা একদম নির্জন । কোথা থেকে যেন পাখির ডাক ভেসে আসছে !! নিশি কি ঘুমিয়েছে ? কে জানে ? দুবার ফোন বাজতেই নিশি ফোন রিসিভ করল । কিন্তু কোন কথা বলল না । এর মানে হল ও রাগ করেছে । আমি বললাম -রাগ করেছ? -হুম ! -খুব বেশি ? -হুম ! -কথা বলবা না? -হুম ! আমি হেসে ফেললাম । -কথা বলবা ? নিশি কোন কথা বলল না । আমি আবার বললাম -তুমি মাঝে মাঝে এমন ছেলেমানুষি কর । আামর দিকটাও তোমার তো দেখা উচিৎ ! -আর তুমি আমার দিকটা দেখবা না ? -আরে বাবা !! থাক বাদ দাও । দেখ বাইরে কি সুন্দর সকাল । -দেখবো না । -আরে ! আমি না দোষ করেছি । সকালতো আর কোন দোষ করেনি । নিশি কোন কথা বলল না । -আচ্ছা তোমার মন ভাল করে দিব? দিবো ? -কিভাবে ? -আচ্ছা শুনো , তুমি এখন তোমার জানলা দিয়ে যদি বাইরে তাকাও তাহলে তোমার মন ভাল হয়ে যাবে । আমি গেরান্টি দিচ্ছি । -আচ্ছা ? -তাকিয়ে দেখ ! ঠিক তখনই নিশিকে জানলায় দেখা গেল । আমি হাত নাড়লাম । -মন ভাল হয়েছে ? নিশি কোন কথা না বলে জানলা থেকে সরে গেল দ্রুত । কি হল ? রাগ কি বেশি করেছে ? এমন তো হবার কথা না ? ঠিক তার কিছু সময় পরই নিশিকে হলের গেটে দেখা গেল । গেট থেকে বের হয়ে একদম এদিকেই এগিয়ে আসছে । এগিয়ে আসছে বলতে এদিকে দৌড়ে আসছে । আসতে আসতে একদম কাছে যখন চলে এল আমার মনে হল ও থামবে না । সিনেমায় যেমন নায়িকারা দৌড়ে এসে নায়কের বুকে ঝাপিয়ে পড়ে নিশিরও তেমন কিছু করার প্লান । ঠিক তাই ই করলো !! ভাগ্য ভাল যে সকাল বেলা । মানুষ জন কেউ নাই ।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now