বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৩য় পর্ব
একমাত্র প্রিন্সিপালই জানেন যে লিজা মানসিক রোগি। কামরুল সাহেব নিষেধ করায় তিনি কথাটি গোপন রেখেছেন। এমনকি কোন স্যারকেও জানাননি।
লিজা এখানে তিন দিন ক্লাস করেছে তাকে দেখেও কেউ আঁচ করতে পারেনি।
আজ বিশ্যবিদ্যালয়ে লিজার চতুর্থ ক্লাস। কিন্তু এসেই শুনে যে আজ ক্লাস হবে না কারণ তাদের বিশবিদ্যালয় এবং অন্য আরেকটি বিশ্যবিদ্যালয়ের খেলা আছে। তাই সবাই খেলা দেখতে যাবে। কিন্তু লিজার খেলাধুলার প্রতি তেমন কোন আগ্রহ নেই। তাই সে ভাবলো কিছুক্ষণ ক্লাসে বসে থেকে বাসায় চলে যাবে।
কিছুক্ষণের মধ্যে খেলা শুরু হবে। কিন্তু লিজাদের বিশ্যবিদ্যালয়ের সবাই চিন্তিত। কারণ একজন প্লেয়ার এখনো আসেনি। অন্য কেউ হলে সমস্যা ছিল না। কোন একজনকে নামিয়ে দিলেই হতো। কিন্তু রাহুল আসেনি যাকে ছাড়া খেলা কল্পনাই করা যায় না। কারণ সে না থাকলে দলের হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সবাই রাহুলের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু রাহুল আর আসেনি। তাই রাহুলকে না পেয়ে বাধ্য হয়ে তকে ছাড়া খেলা শুরু করে দিল।
রাহুল ৩য় বর্ষে পড়ে তার মানে লিজার সাথেই।
ছেলেটা খুবই হ্যান্ডসাম। বিশ্যবিদ্যালয়ের অনেক মেয়েই তার উপর ফিদা। খেলাধুলায় সে যেমন ভালো পড়া লেখাতেও তেমনি ভালো। এক কথায় রাহুল অলরাউন্ডার।
লিজা একান্ত মনে বসে বসে ভাবছিল আজ সারাদিন সে কি করবে!!
কিন্তু কেউ একজন এক্সকিউজমি বলে তার চিন্তায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে দিল।
প্রথমে লিজার রাগ উঠে গেল। কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলল
:-জ্বী বলুন! (লিজা)
:- এখানে বসতে পারি??? (রাহুল)
:- (বিরক্ত হয়ে)বিশ্যবিদ্যালয়ের চেয়ার,টেবিল তো আমার কাছে জিজ্ঞাসা করার কি আছে??? যদি জিজ্ঞাসা করতেই হয় স্যার-ম্যামদের কাছে করুন।
:-না মানে.... আপনার পাশে তো তাই ভাবলাম আপনার কাছে অনুমতি নেয়া উচিৎ! যদি আপনি কিছু মনে করেন আপনার পাশে বসলে তাই আরকি!!
বলতে বলতে রাহুল বসে গেল।
নির্দিষ্ট সময়ে স্যার আসলো। এসে দেখে ক্লাসে মাত্র ২জন। তিনি ২জন নিয়েই ক্লাস শুরু করলেন।
লিজা ভেবেছিল আজকে স্যারও আসবে না। কিন্তু না। স্যার এসে ক্লাসও শুরু করে দিলেন।
লিজা পড়া-লেখার ব্যপারে খুবই সিরিয়াস।
লিজা লেখার জন্য খাতা বের করলো কিন্তু সে কলম পাচ্ছে না। বুঝতে পারলো সে ব্যাগ চেঞ্জ করে আর এই ব্যাগে কলম নেয়নি। তাই ভাবলো পাশের ছেলের থেকে একটা কলম চেয়ে নিবে। কিন্তু প্রথমে যে ব্যাবহার করেছে!! এখন আবার কিভাবে কলম চায়। এরকম ভাবতে ভাবতে লিজা রাহুলকে ডেকেই ফেলল
:-এক্সকিউজ মি!! (লিজা)
অবাক হয়ে) ইয়েস। (রাহুল)
রাহুল ভাবতেই পারেনি যে এই মেয়ে তাকে ডাক দিবে। যে কি না ছেলে তো দূরের কথা মেয়েদের সাথেও ভালোমতো কথা বলে না।
:-সেই সময়ের ব্যাবহারটার জন্য আই এম সরি!! (লিজা)
:-ইট'স ওকেই!! (রাহুল)
:-একটা কলম হবে????
রসিকতার স্বরে) ওও আচ্ছা তাহলে এই কাহিনি!!!! আগে জানলে তো আমার সাথে প্রথমে এরকম ব্যাবহার করতেন না!! অহ কেন যে আগে জানলেন না!!
:-হুম।
দুজনেই মৃদু করে হেসে দিল।
একদিকে স্যার ইচ্ছে মতো লেকচার দিয়ে যাচ্ছে আর অন্য দিকে তারা গল্পে মেতে আছে।
যেই লিজা স্যার লেকচারের সময় একটু নড়াচড়াও করে না সেই লিজার আজ কোন খবরই নেই।
লিজা বিশ্যবিদ্যালয়ে কারো সাথে কথা না বললেও রাহুলের সাথে একটু-আকটু কথা বলে। মাঝে মাঝে পড়া না বুঝলেও একে অপরকে বুঝিয়ে দেয়।
বিশ্যবিদ্যলয়ে লিজার পাচ মাসের উপরে হয়ে গেছে। কিন্তু কেউ ধরতেই পারলো না। সে মানসিক রোগি। নাকি কামরুল সাহেবই মিথ্যা বলেছেন!! না না তিনি মিথ্যা বলবেন কেন?? এছাড়াও তো তিনি মেডিকেল রিপোর্টও দেখিয়েছেন।
ধুর আমি এসব কি ভাবছি!!
প্রিন্সিপাল এই ব্যাপারটা মাথা থেকে দূর করতে চাইলেও দূর হচ্ছিল না।
তার মনে হচ্ছে লিজা মানসিক রোগি নয়। কামরুল সাহেব মিথ্যা বলেছেন। কারণ পাচ-ছয় মাস তো কোন মানসিক রোগি এতোটা স্বাভাবিক থাকতে পারে না...............
চলবে.........(to be continue)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now