বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লাল গাইটা সাথে নিয়ে আমি মাঠের দিকে রওনা দেই। ভাবতে থাকি আম্মার কথা, বিয়াল্লিশ বছর আগে শ্রাবণ মাসের এক রাত্তিরে আব্বা ঘর ছাড়ে। কথা ছিল দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরবে। আব্বা ফিরেনি, আম্মা তবু আশা ছাড়েনি, প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের এক তারিখ আম্মা সেজেগুজে আব্বার প্রিয় খাবার রান্না করতে বসেন। অপেক্ষা করে থাকেন ছাতা মাথায় আড়াই হাত লম্বা ইলিশ মাছ নিয়ে সেই চিরপরিচিত প্রিয় মানুষটা কাচুমাচু মুখ নিয়ে তার সামনে এসে দাঁড়াবে বলবে, “কমে পাইয়া গেলাম, তাই লোভ সামলাইতে পারলাম না!” আম্মার অপেক্ষা আর শেষ হয় না।
রাস্তার পাশের দেবদারু গাছটার নিচে দাঁড়িয়ে লোকটা জামালের চোখের আড়াল হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তারপর বাড়ির দিকে নজর ফেরায়। সুরমা মাখা কালো কুতকুতে চোখে বাড়ির দিকে তাকিয়ে থেকে লোকটা শব্দ করে মাটিতে পানের পিক ফেলে, পাঞ্জাবির পকেট থেকে রুমালটা বের করে মুখটা মুছে নেয় একবার। বেড়ার ফাঁক দিয়ে জামালের মা’কে দেখা যায়, এদিক পেছন ফিরে উঠোন ঝাড় দিচ্ছে।
জিভে চলে আসা লোলটা সুড়ুৎ করে টেনে গিলে নেয় লোকটা। ‘মাগীর শইলে তো ভালই রং লাগসে দেহি’, নীরব হাসিতে লোকটার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ঠোঁট বেয়ে এক ফোঁটা পানের রস গড়িয়ে পড়ে। হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে সেটা মুছে নিয়ে লোকটা বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।
খুট করে একটা শব্দ শুনে জামালের মা পেছন ফিরে তাকায়। লোকটা জিভ দিয়ে তার ঠোঁট দু’টো ভিজিয়ে নেয়। লকলক করে কোনও শব্দ হয় কি?
আমি শিষ দিতে দিতে ঘরের দিকে যাচ্ছি। মাঠে গিয়ে খেয়াল হলো, পানির মালশাটা সাথে নেই। অতএব, পিছটান।
উঠোনে পা রেখেই আমার মনে হল, কি যেন একটা ঠিক নেই। ওই তো চূলোয় ভাত চড়ানো, পাশে অর্ধেক মাছ কুটে রাখা, ভাতটা নামিয়েই মাছের তরকারিটা বসিয়ে দেওয়া হবে। উঠোনে ধুলোর সাগরে ঝাড়ুটা লুটোপুটি খাচ্ছে। আমি সতর্ক হয়ে উঠি। হঠাৎ আমার মেরুদণ্ড দিয়ে ভয়ের একটা স্রোত শিরশির করে নিচে নেমে যায়। ঝাড়ুটার অদূরেই সবুজ একটা কি যেন জ্বলজ্বল করছে।
ওটা যে লেডি কার্টারের মুকুট সেটা বুঝতে আমার কাছে যাওয়া লাগলো না। কিন্তু এটা মাটিতে কি করছে? আমি বাড়ির দিকে দৌড়ে গেলাম, দরজা থেকে পাঁচ হাত দূরে আম্মার লাল টুকটুকে শাড়িটা পরে আছে। আমার বুকের ভেতর হাতুড়ি পেটাতে লাগলো, মাথার শিরাটা দপদপ করে উঠানামা করতে লাগলো। দরজার ওপাশ থেকে চাপা একটা গেঙানির শব্দ ভেসে আসে।
প্রচণ্ড রাগ, ভয় আর ভয়ংকর আশঙ্কার আতঙ্কে আমি দিগ্বিদিক জ্ঞান হারালাম। কোনওকিছু না ভেবেই দৌঁড়ে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকলাম। আমার তীব্র দৃষ্টি সুরমা মাখা কালো কুতকুতে দু’টো চোখে গিয়ে স্থির হল।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now