বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রশয়

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X দুঁদে ব্যারিস্টার অরুণলাল বাবুকে ঘোল খাইয়ে ছাড়ে ওই একটুকরো ছেলে হরপল সিংহ ওরফে কাক্কু …. অরুণলাল বাবু যে সে লোক নন l একবার নাকি সাহেব জজ এর মুখের উপর বলে দিয়েছিলেন -‘I am not afraid of your red-eyed brow beating’. ‘আমি তোমার রক্তবর্ণ চোখ রাঙানিকে ভয় করিনা’ –এমন যার প্রতাপ তিনি কিনা একটা বাচ্চা ছেলের সাথে পেরে ওঠেন না l শুধু গিন্নি বোঝেন অনেক সময় কেন কাক্কুর এই দুষ্টুমি অমন চোখে দেখেন তাঁর স্বামী l কাক্কুরা অরুণ বাবুদের বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকে আজ কয়েক বছর হলো … কিন্তু যবে থেকে এসেছে ছেলেটার দুরন্তপনার শেষ নেই l অরুণ বাবুর চিলের ছাদে উঠে ঘুড়ি উড়ানো, মান্জা দেওয়া এসব উত্পাত তো লেগেই আছে l তার উপরে আছে, অন্য ভাড়াটে, মিনির মায়ের বেড়ালদের উপর অত্যাচার l মিনির মা রোজ রোজ অরুণ বাবুর স্ত্রীর কাছে এসে নালিশ করে যান, আজ বেড়ালের ন্যাজে বেলুন বেঁধে দিয়েছে, কাল বেড়ালদের দুধে কাদা জল ফেলে গেছে ঘরে ঢুকে কখন … হরপল সিংহের মা কেও কম কথা শুনতে হয়না এর জন্য .. মোটাসোটা পাঞ্জাবি গিন্নি, আধা বাংলা আধা হিন্দিতে বলেন … ‘ক্শামা কর দো বেহন, কুছু বলে দেবেন কাক্কুকে, লেকিন হুমক মর্দ ক বতানা মত ….’ মরদ তো আর যে সে লোক নন… এক্কেবারে কাছা-কান্গী -কিরপন ধারী শিখ .. ইআ বড় বড় চোখ … ইয়া বড় দাড়ি, লাঠির বাড়ি ছেলে পেটান প্রায়শই .. অরুণ বাবু তখন ঘরে বসে খিক খিক হাসেন আর বলেন – ‘বেশ হয়েছে, বেটাচ্ছেলে, কেমন জব্দ’ …. কিন্তু আবার যে কে সেই l সেই হরপল এখন বছর আঠারোর যুবক, টানটান চেহারার ছেলে… লাজুক, তবে চোখদুটি তে এখনো দুষ্টুমি ভর করে l আজকাল প্রায় পাড়ায় পুলিশের গাড়ি টহল দেয় l উঠিয়ে নিয়ে যায় কম বয়সের ছেলে ছোকরাদের … তারপর থানায় গিয়ে নাজেহাল, প্রশ্ন মারধর, অত্যাচার, গুম খুন – খুব বাজে সময় ! এই তো সেদিন কেষ্ট আর পাপ্পু কে উঠিয়ে নিয়ে গেল ওই দিকের রাস্তা থেকেই .. হঠাত, অথচ কিছুই করেনি ওরা…. ওদের উপর নাকি পুলিশী সন্দেহ আছে …. কি হলো ওদের তারপর কেউ জানে না … হাজতে না অন্য কোথাউ … এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে কে … সবাই নিজেদের ছেলে সামলাতে ব্যস্ত l এমন সময়ের একটা রাতে হরপল এর বাড়ির কড়া নাড়া দিল পুলিশ … অরুণ বাবু রাত সাড়ে নটায় শুয়ে পড়েন অন্যদিন .. আজ জেগেই ছিলেন … পেছনের শিড়ি দিয়ে তিনতলায় ছেলেকে সাথে নিয়েই উঠে এসেছেন ক্রিপাল সিংহ … ‘বুরহ বাবা, আমার ছেলেকে বাঁচান ওরা মেরেই ফেলবে ‘ অরুণ বাবুর কি হলো … গিন্নিকে বললেন ‘চিলেকোঠার ঘরে, ওকে রেখে শেকল তুলে দিও’ … নিজে গেলেন নিচে, পুলিশের সামনা করতে … বললেন ‘ইয়ার্কি মারবার জায়গা পাওনি, আমার বাড়িতে এসেছ ছেলে তুলতে … জানো আমি কে’… ‘আগে বাবু… জানি’ … পুলিশের দারোগা বাবু বললেন… ‘তবে কিনা আমাদের খবর আছে’… ‘খবর অমনি থাকলেই হলো…. সে ছেলে আর সাত দিন আগে পাঞ্জাবে গাছে, তার দাদুর অসুখ’ l অগত্যা বেশি কথা না বাড়িয়ে চলে গেলেন রায় বাবু দারোগা l নিচেটা সার্চ করে অবশ্যই পান নি হরপল কে l পরদিন, অরুণ বাবুর পায়ে ধরে এই প্রথম মাফ চাইলে হরপল…. অদ্যাবধি তার যত্ত কুকীর্তির জন্য l অরুণ বাবুর চোখ লাল … ‘ওরে তোকে দেখি আর আমার সমুটার কথা মনে পড়ে যে’… অতবড় একখান মহীরুহ হঠাত যেন ঝড়ে ভেঙ্গে পড়ে l ভাঙ্গা গলায় ক্রিপাল সিংহ কে বলে দেন, ছেলেকে কিছুদিন পাঞ্জাবে তার দাদু থাক্মার কাছে পাঠিয়ে দিতে l


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now