বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুল বাস থেকে নামতেই চমক l কিশোর দা এসে গেছে! আজ ওদের ক্লাস ইলেভেন এর হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা শেষ l এক গাদা মিলস এন্ড বুন, সুনীল গাঙ্গুলী, আরো কি কি সব ব্যাগ বোঝাই l ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে বসে পড়বে বইগুলো নিয়ে কোথায় … তা নয় কিশোরদার আগমন l বুকটা কেঁপে ওঠে রিখিয়ার l নেচে ওঠে বললেই ঠিক হয় l ভালবাসা! প্রেম! ঠিক বোঝে না রিখিয়া l শুধু বোঝে, কিশোরদার সাথে ওর এই মনের টানটা বহু যুগের l আর কিছুই নয় l
কিশোরদার এক চেহারা l সাহেবী কেতায় কাটা চুল l কালো শেল ফ্রেমের চশমা আর সাদা Polo shirt, ধবধবে l বারান্দায় দাঁড়ানো l ও ঠিক জানে রিখিয়ার স্কুল বাস কখন নামিয়ে দিয়ে যাবে রিখিয়াকে l আর ঠিক সেই সময় বারান্দায় ‘দর্শন’ l রিখিয়া মজা পায় l ওর থেকে অন্তত বছর বারোর বড় উনি l জানে, কারণ কিশোরদারা পিসিমাদের কেমন যেন আত্মীয় হন l তবু কিশোর কে এত ভালো লাগে কেন রিখিয়ার? দিনের পর দিন, শুধু দেখা আর অদেখা l আর, যদি কিচ্ছুটি থাকত এই সম্পক্কে, তবু বোঝা যেত l না একটা টেলিফোন, না একটা কথা, চিঠি তো দূরস্থান l না বাবা, রিখিয়াদের সময়ে সে ভারী লজ্জার কথা ছিল l তখন তো আর মোবাইল, ইমেল, ফেসবুকের যুগ নয় যে বললেই কান টানা যায় l সে সব সময়ে গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি ছিল, চমক ছিল, মন মানত না l কিন্তু মুখ ফুটে কেউ কাউকে কিছু কইতোও না l শুধু সহকার আর মল্লিকা লতার যেমন, তেমনি একে অন্যকে দেখে মুগ্ধতা, ভালো লাগা, বড়জোর দৃষ্টি বিনিময় l
এই তো রিখিয়া সেজেগুজে ছাদে l ‘ওরে এত সন্ধ্যেতে ছাদে গেলি কেন রে মেয়ে, পেত্নী তে ধরবে যে, তাও আবার চুল এলিয়ে ‘ এই রে দিম্মি বুড়ির গলা – উফ এই কাবাব মে হাড্ডি কে নিয়ে আর পারা গেল না বাপু l ওই তো ও ঠিক ছাদেই l জানে আমি আসব … আহ! সাথে করে ঠাকমা কে এনেছে দেখো l এই দিদিমা, ঠাকমা গুলোকে নিয়ে আর পারা গেল না l না না হাত নাড়বে না কিচ্ছুটি বলবেও না l এই তো দুটো বাড়ি পরেই ওদের বাড়ি l শুধু একটু চোখের দেখা l তাও সরাসরি নয় l এই তো তুমি হাঁটছ l আমিও l বাহ রে, আমি কি তোমাকে দেখছি নাকি! তুমি আজ জাহাজ থেকে এলে তো আমার কি l আহা এত দিন যেন হেদিয়ে মরলুম l না না সে আমি নই l রীতিমত ভালো মেয়ে আমি l ছেলেদের দেখে গড়িয়ে পড়ি না এমন l
এর মধ্যে লোড শেডিং ……..’ ওরে মেয়ে কোথায় রে … কি জানি এই ভর সন্ধ্যে বেলা ছাদে উঠলো কেন রে, আমি বাপু এই সব সোমত্ত মেয়েদের আর দেখতে পারব না, মা বাবা আসুক আমি বলে দেব’; চিত্কার করে বাড়ি মাথায় l জ্বালাতন l সিড়িতে পা রাখে রিখিয়া l ভালো হয়েছে, নিচে নেমে যাই l বুঝুক l ভেবে মরুক কোথায় গেল রিখিয়া … আজ যদি আর দেখা দিয়েছি l
কিছুক্ষণ বাদেই আলো জ্বলে উঠলো আর দিম্মিকে এক রাশ বকে বই নিয়ে আবার জানলার পাশে l অমনি সেও বারান্দায় l আচ্ছা, লোকটার কি আর কাজ নেই গো l আজই তো এলি বাপু, যা না বন্ধুদের সাথে দেখা করে আয় l তা না রিখিয়ার জন্য ঠায় বারান্দায় l রিখিয়া তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না l এই তো ও এখানেই থাকবে বসে যতদিন যতটুকু সময় পাবে l স্কুল যাওয়া আসা বাদে l ভাগ্যিস, দাদু চোখে কম দেখেন খুব আর দিম্মি কিছুই বোঝেন না l খিক খিক, নিজের মনেই হাসে রিখি l ওমা কোথায় গেল সে l চোখ তুলে আর দেখতে পায় না l তারপর সেই রাত নটায় আবার হাজিরা l অমনি ঝনাত l জানলা বন্ধ করে রিখিয়া l ভেবেছ কি – কামাই ? আমার রাগ নেই বুঝি l থাক দাঁড়িয়ে l ৯ টা দশে আবার ঠিক জানলা খুলে যায় l আবার সেই সাদা টি শার্ট. কালো চশমা আর ঠাকমা l যুগল মুরতি! তাকিয়ে আছে ওদের বাড়ির দিকে l ঠাকমার কি হাসি l লোকটা ঠাকমা কে সব confide করে … আশ্চর্য্য বটে!
এমনি করে দিন যায়, দেখতে দেখতে ছয় মাস শেষ হয় l এবারে যাবার পালা l কি করে বোঝে রিখিয়া, কাল থেকে বিরহের শুরু l অনেক রাত অবধি এমনিতে ওরা বসে থাকে l রিখি জানলায় আর কিশোর দা ওদের বারান্দায় l শুধুই l হয়ত বা তাকিয়েই থাকে দুজনে দুজনের দিকে l ওই ওদের প্রেম, ওই ওদের দেখা, কথা বলা, ওদের শান্তি l কিন্তু যেদিন খুব বড় করে চাঁদ ওঠে আর অনুদের একতলা বাড়ির ছাদে সব যোচ্ছনাটা ছড়িয়ে যায়, আর চাঁদের আলো ওর চশমার কাঁচে পড়ে চকচক করে ওঠে, আর সেই রাতে ওদের বাড়ির কামিনী গাছটা ফুলে ফুলে ভরে থাকে, গন্ধ ছড়ায় বাতাসে, তক্ষক ডাকে – টক খক টক খক – সেই রাতে ওদের ঘুম আসে না, কিশোর ঘরে যায় না, ছুটি হয় না রিখিয়ারও l ঠায় বসে থাকে দুই মানুষ, দুই দিকে l দাদু দিম্মি ঘুমিয়ে কাদা, কিশোরদার ঠাকুরমাও আর না পেরে শুতে গেছেন অনেককাল, তখন রিখি বুঝতে পারে, আর কাল এই ভাবে তাকে দেখা যাবে না l তার জাহাজ ভেসে যাবে অনেক অনেক দুরে l আর কোথায় কোন অন্ধকার সমুদ্রে কিশোরদা ভেসে চলবে সেই জাহাজের সাথে সাথে l ভোর রাতে ঘুমিয়ে পড়ে রিখিয়া l স্বপ্ন দেখে l সাদা সুট পরা কিশোরদা জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছেন l হঠাত জাহাজ টা ডুবে গেল l অমনি ঘুম ভেঙে যায় আর তাড়াতাড়ি করে উঠে বসে বিছানায় l ততক্ষণে জাহাজ ছেড়ে গেছে কলকাতা বন্দর l
এইভাবেই যাওয়া আর আসা, মিলন আর বিরহ এই নিয়ে কেটে গেছে আরো বেশ কেকটা বছর l এই প্রেম অব্যক্ত রয়ে গেছে দুজনার l
এই তো সেদিন ছেলের হাত ধরে রাস্তায় হাঁটছিল রিখিয়া l হঠাত দুরে লোকটিকে দেখে থমকে দাঁড়ায় – কাঁচা পাকা চুল, সেই একই চেহারা!
আর এই প্রথম, জীবনে এই প্রথম, সে বলে ওঠে – কিশোর দা না!
হাঁ
আমি রিখিয়া, চিনতে পার?
পারি বৈকি, এই তোমার ছেলে, বাহ বেশ ছেলে …
কেমন আছ তুমি?
রিখিয়া বলতে পারত সে ভালো নেই l ভাল নেই একদমই …
কিন্তু বলে বেশ আছি l
তুমি বিয়ে করেছ কিশোর দা? কোথায় থাকো আজকাল?
নাহ ওটা আর হলো না, এখন থাকি পন্ডিচেরি আশ্রমএ, জাহাজ ছেড়ে দিয়েছি বেশ অনেক দিন l
ওর যা অবস্থা বিয়ের, রিখিয়া বলতে পারত, আমাকেও নিয়ে চল সেখানে, ছেলেকেও l
কিন্তু না l
প্রথম আজ কথা যার সাথে, তাকে কি এত কিছু বলা যায়!
কিশোরদা তার জীবনে শুধু প্রেম হয়েই বেঁচে থাক না
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now