বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ভৈরবী ২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X শিশির ভেজা ঘাসে পা ফেললেন ভৈরবী শ্যামা l বনের পথে পথে ভোরবেলায় ঘুরে বেড়ান শ্যামা ঠাকরুন l ফুল কুড়োনো, দুর্বা ঘাস বেছে নেওয়া এ সব তিনি করেন আচার্জির পুজোর জন্য l ভারী ভালো লাগে তাঁর এই ভোরের বেলা গুলো l ভৈরবী গান গান আর পথ চলেন – ‘ঘাসে ঘাসে পা ফেলেছি, বনের পথে যেতে, ফুলের গন্ধে চমক লেগে উঠেছে মন মেতে’ l আবার গান – ‘এই আকাশে আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ … এ সব গান তাঁর মায়ের মুখে শোনা রবিঠাকুরের গান l বড় প্রিয় ওই মানুষটি l একটি বৃহত বটগাছের মত l শ্যামা যেন একটি বালিকা l দৌড়ে বেড়ান প্রজাপতির পেছনে, ঝপ করে কোনো ঝুলন্ত গাছের ঝুরি ধরে ফেলেন, দোল খেয়ে নেন একটু, আবার পথ চলেন l কত খুশি কত আনন্দ ছড়ানো এই পৃথিবীতে l শুধু মুঠি ভরে কুড়িয়ে নাও l হা ভগবান, তবু কেন হানাহানি, মারামারি এত সারা পৃথিবীতে l শ্মশানে যারা আসে এটা ওটা বলে আচার্জির কাছে, শ্যামা আড়াল থেকে শোনেন আর দীর্ঘশ্বাস ফেলেন l নারীর উপর বলাত্কার, শিশু হত্যা, নর হত্যা, খুন, রাহাজানি, ফেরেববাজিতে পৃথিবী নাকি ছেয়ে গেছে l সবার জন্য এই সব একলা থাকার সময়গুলোতে প্রার্থনা করেন মনে মনে l প্রার্থনার অনেক সুফল l প্রার্থনা মানে ধ্যান, যোগ, সেই মুহুর্তে অনেক দুরের মানুষের সাথে যোগ স্থাপন হয় প্রার্থনার মাধ্যমে l তার ভালয় চারিয়ে যায় সমস্ত মন প্রাণ আর এই সব ভালো ভাবনার সুফল বর্তায় মানুষ জনের উপর l কিন্তু তিনি যে চারিভিতে দেখেন আনন্দ আর আনন্দ ! আচার্জি বলেছেন – ‘যত্র যত্র নেত্র পড়ে, তত্র তত্র কৃষ্ণ স্ফুরে l’ বেশ লাগে শ্যামার l কৃষ্ণ কে দেখেন বিরাট তমাল গাছটা র তলায়, সাথে রাধারানী, হ্লাদিনী শক্তি, যিনি জড়িয়ে আছেন শ্রী কৃষ্ণের তনুদেহ আর এক অনাস্বাদিত তন্ময়তায় ভেসে যান শ্যামা ভৈরবী l ফুল তোলার কাজ হয়ে গেলে আচার্জির ডেরার দিকে পা বাড়ান ভৈরবী l দূর থেকে ভেসে আসে বৈদিক স্তোত্র আচার্জির উদাত্ত কন্ঠে – ওম মধুবতা ঋতায়তে মধুক্ষরন্তি সিন্ধব: মাদ্ধির্ণ: সন্তোষধী: ওম মধুনক্তা মুতাষসা, মধুমত পার্থিবং রজ: মধু দৌরস্তু : ন পিতা ওম মাধুমান্য বনস্পতি মধুমং অস্ত সুর্যা: মাধ্বির্গাব: ভবন্তু: ন ওম মধু : ওম মধু : ওম মধু : গত রাত তাঁর প্রথম পঞ্চমুন্ডির আসনে বসে সাধনার রাত ছিল l গভীর রাত্রে, বারোটার পড়ে শবদেহের উপর তন্ত্র সাধনা শুরু হবে l আচার্জি এলেন, সব বুঝিয়ে দিলেন শ্যামাকে l শ্যামা বসলেন এই প্রথম নর শবদেহে l অদ্ভূত অবস্থা, এবং পরিস্থিতি কিন্তু শ্যামা বসেই রইলেন l অনেকক্ষণ কেটে যাবার পর শবের জাগরণ শুরু হলো l শ্যামা টের পেলেন অনেককিছুই l গুরুদেবের আদেশ, অবিচল থাকতে হবে l খুব গভীর মনোযোগের প্রয়োজন l একটু এদিক ওদিকে হলেই বাহ্যিক শক্তিরা শরীরএর উপর দখল নিতে চাইবে l তখন যা কিছুই হতে পারে l এই অবস্থায় শরীর ছেড়ে বেরিয়ে যায় আত্মা… আর সেই রুপোলি সুক্ষ্মতর সুতলি ধরে দেহে ফিরতে না পারলেই মৃত্যু l কিছুটা তাই হলো l দেহ ছেড়ে বেরোলেন শ্যামা ভৈরবী l বেরোতে হলো তাকে l কারণ…. ওই শ্যামের বাঁশি তাঁকে ডাক দিল যে l শ্যামা ঠায়রেন ভেসে চললেন সুক্ষ্ম দেহে যেখানে কৃষ্ণ স্বয়ং তার গোপিনীদের সাথে লীলায় বেহুঁশ l ঘুরে ঘুরে সমস্ত বন মহলে নাচতে লাগলেন শ্যামা ঠাকরুন l হাত তুলে তুলে এক তুরীয় আনন্দে l তাঁর সারা সুক্ষ্ম দেহে খেলে যাচ্ছে চাঁদের মায়া l যেমন শ্রী কৃষ্ণের আর রাধাসহ অষ্ট সখীদের l কি মধুর সেই বংশী ধ্বনি, কুহুতান এর থেকেও মিষ্ট তাঁদের কলকাকলি আর এক পরম রমনীয় সুবাসে ছেয়ে গেছে দশ দিক l শ্যামার অতি সুক্ষ্ম দেহ হাসে, নাচে কথা কয় আর এক অপূর্ব স্বর্গমযতায় উদ্বেল হয়ে যায় তার প্রান l চারিদিকে ধ্বনিত যেন সেই অফুরন্ত মধুময়্য়তার বাণী … অধরম মধুরম, বদনম মধুরম , নয়নম মধুরম , হাসিতম মধুরম , হৃদয়ম মধুরম , গমনম মধুরম , মধুরাধিপাথের অখিলম মধুরম … রাতের পর রাত এভাবেই কাটে, ধ্যানে, যোগ নিদ্রায়, দেহর থেকে বেরিয়ে, ভর হওয়া অবস্থায় l ভৈরবীর চুলে জট পড়ছে l গাত্র মার্জন হয় চিতার ছাই দিয়ে l আচার্জি বলেছেন ওই সব থেকে শুদ্ধ আস্তরণ l ওটি গায়ে মাখলে রোগ ভোগ সব দুরে যায় l এ সব অভ্যাস হয়ে গেছে শ্যামার l নিদ্রা নেই, ক্ষুধা নেই, শুধু এক নির্বিকল্প যাত্রা আলোর দিকে, পুর্ণময়তার দিকে l আচার্জি বলেন – ওম অসতো মা সদগময়, তমসো মা জ্যোতির্গময় ! ঘোর অন্ধ তমিস্রায় যখন তারারা ফুটে ওঠে বিন্দু বিন্দু হয়ে আর চারিদিক আলোয় আলোকময় হয়ে ওঠে, তখন শোনা যায় তারাদের সঙ্গীত l অনেক দূর থেকে ভেসে আসে সেই অপূর্ব্ব মূর্ছনা আর একে একে প্রকট হয়ে ওঠে রেবতী, কৃত্তিকা, অশ্বিনী, রোহিনী, মৃগশিরা, পুষ্যা, পূর্ব ফাল্গুনী, উত্তর ফাল্গুনী, স্বাতী, বিশাখা, শ্রবিষ্ঠা, ধনিষ্টা সব তারকাকুল … তাদের কেউ কেউ হয়ত লুপ্তপ্রায় বহু কোটি বছর আগে, তবু আলো ভেসে আসে তাদের শ্যামার চারিদিকে আর সেই আলোয় আলোকিত শ্যামার জীবাত্মা মুক্ত চেতনায় এক হয়ে যেতে চায় পরমাত্মার সাথে ! আর ঠিক তখনি টুপ করে তাঁর সেই সুক্ষ্ম প্রাণবিন্দু দেহেতে ফিরে আসে l শবদেহে আসীনা শ্যামা, পঞ্চমুন্ডির আসনে l ধীরে ধীরে পুবে আলো দেখা যায় আর তাঁর কপালের লাল সিন্দুর বিন্দুর মতই গোল সুয্যি লাফিয়ে আকাশে উঠে পড়ে l


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ভৈরবী ৮
→ ভৈরবী ৭
→ ভৈরবী ৬
→ ভৈরবী ৪
→ ভৈরবী ৩
→ ভৈরবী ১
→ ভৈরবী ৫

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now