বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পাশের ফ্লাটে এক পিচ্চি আছে। পিচ্চির বয়স মাত্র আড়াই বছর। সারাদিন মামা ডেকে পাগল করে দেয়। অনেক আগে থেকেই পিচ্চি বাচ্চাদের কোলে নিতে কেমন যেন ভয় লাগত। যদি কোল থেকে নিচে পড়ে যায়.. তুলতুলে বাচ্চা তো তাই।
একমাত্র আপুর ছেলেকেও পিচ্চি থাকতে তেমন কোলে নিতাম না। কখন আবার হিশু করে দেয়.. কিন্তু ভাগ্যের এমনই লীলা খেলা.. যেখানে যেতাম সেখানে কোন পিচ্চি থাকলে আমার কোলে আসার জন্য পাগল হয়ে যেত..
এবার আসি পাশের ফ্লাটের পিচ্চির প্রসঙ্গে। নাম উচ্ছাস। দেখতে যেমন কিউট তেমনি সেই লেভেলের পাজি।
বিভিন্ন ব্যাস্ততার জন্য দিনে তেমন বাসায় থাকা হয় না। কিন্তু যখনি রুমে এসে রেস্ট নেই তখনই পিচ্চিটা আমার কোল এসে বসে থাকে এবং হিশু করে আমার জামা-কাপড় নষ্ট করে দেয়। একদম ছোট বলে ধমক টা পর্যন্ত দিতে পারি না।
তখন মনে মনে কান্দি আর বলি.. কিচ্ছু করার নাই বস! সবই প্রকৃতির দান..
একদিন বিকেলে রুমে শুয়ে ঘুমাচ্ছিলাম.. হঠাত্ নাকে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করি, পরে চিত্কার দিয়ে ঘুম থেকে ওঠি। দেখি পাজিটা আমার নাকে কামড় বসিয়ে বুকের ওপর ভেজা প্যান্ট নিয়ে বসে আছে। ওকে বুক থেকে নামিয়ে নাকের অবস্হা দেখতে গ্লাসের সামনে যাব ঠিক তখনই মোবাইলের দিকে চোখ যায়।
হাতে মোবাইল নিয়ে দেখি সুইচ অন হয় না। হিশু করে আহ্লাদের মোবাইল খানা শেষ করছে.. রাগে দুঃখে ওর দিকে রক্ত চোখ নিয়া তাকাইয়া দিলাম ধমক। এক ধমকে চুপ!
খুব ভয় পেয়েছে বুঝা যাচ্ছে। আমি ওর দিকে বড় বড় চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছি। কিছুক্ষন নীরবতা। একটু পর পিচ্চিটা আমাকে জড়িয়ে ধরে আমার গালে আলতো করে একটা চুমু খেল এবং বলল.. ছোত মামা হাছো। হাছো ছোত মামা..
আর কী রাগ করে থাকা যায়! ওকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে দিলাম উচ্চ স্বরে হেসে। আড় চোখে ওর দিকে তাকিয়ে দেখি ও আনন্দে আত্মহারা। চোখ বন্ধ করে ছোট ছোট দাত বের করে হাসতেছে। আমিও সেই খুশিতে চোখ বন্ধ করে হাসতে থাকলাম..
চোখ খুলতেই দেখি আমি অর্ধেক ভিজে আছি। আহা! সে ক্রমাগত হিশু করেই যাচ্ছে। তখন মনে মনে একটা জিনিস আবিস্কার করলাম..
"ছোট বাবুদের মে বি আনন্দ অশ্রু নিচ দিক দিয়েই পড়ে "
লিখাঃ Hossain Muhammad Palash
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now