বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুঃখিত! এই মুহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না”- শুরুটা সম্ভবত এখান থেকে হয় পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজে নারীদের যথেচ্ছা ব্যবহার। এরপর টিভির অ্যাড থেকে নিয়ে শুরু করে মডেলিং, মোবাইলের ওয়াল পেপার পর্যন্ত সবখানে নারী দেহের এক আশ্চর্য সুন্দর ব্যবহার লক্ষ্যণীয়। মুভিতে যখন নায়ক মাথার চুল পর্যন্ত টুপি দ্বারা আবৃত করে রাখে, তখনও তার বিপরীতেই অভিনয়কারী মেয়েটাকে বক্ষদেশ আবৃত করে রাখার মতও যথেষ্ট পরিমাণে কাপড় দেয়া হয় না।
সেদিন এক ফার্মেসীতে গেলাম (গল্প করতে)। কথায় কথায় ব্যবসা কেমন চলছে জিজ্ঞেস করাতে যা বললো যে, পাশের দোকানে এক মহিলাকে নিয়ে আসায় মানুষ আর তার দোকানে যায় না, সবাই মহিলা মুখী হয়ে গেছে।
যাত্রা, সার্কাস এসবের অন্তরালে যে অশ্লীলতা চলছে, তারও প্রধান উপজীব্য নারী। টিভি চ্যানেলে সংবাদ পঠনে সুন্দরী নারী বেছে নেয়া হয়। কিংবা বিভিন্ন বেসরকারী অফিসে বসের পিএ কিংবা অফিস সহকারি পোস্টে নারীর দৈহিক সৌন্দর্যই যোগ্যতার পরিচায়ক হয়।
কর্মজীবি মহিলারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখেছি পশ্চিমা সাহিত্য মনা হতে, মানে ছোট কাপড় বেশি ফেভার করতে। আমাদের মায়েরা যারা স্কুলে চাকরি করেন, তাদের কথা বাদ দিলে ৯৫ ভাগ কর্মজীবি মহিলারাই নিজের পর্দার ব্যাপারে সচেতন নন। এর কারণ হতে পারে ৩টি। প্রথমত, যাদের পোশাক সেন্স কম, তাদের বাছাই করে নেয়া হয়, দ্বিতীয়তঃ পর্দানশীন মহিলারা কর্মবিমুখ, তৃতীয়তঃ কর্মে ঢোকার পর তারা তাদের ড্রেস ট্রেডিশন চেঞ্জ করতে বাধ্য হোন হয়ত বসকে একটু বেশি খুশি করতে কিংবা নব্য জয়েন করা পাশের ডেস্কের আধুনিকা মহিলার দ্রুত প্রমোশনে অনুপ্রাণিত হয়ে।
নারীদেরকে আজ পুরুষ সমাজে পণ্য হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সুন্দর নারীদেহ পুরুষের পাশবিক মনোবৃত্তি জাগিয়ে তুলে তাকে পৈশাচিক আনন্দ দেয় বলে। বাড়িতে সর্বদা কর্তাব্যক্তির মন যুগিয়ে চলাটা যেমন সেই পরিবারে থাকতে গেলে অত্যাবশ্যক, তেমনি এই সমাজে পুরুষরাও নারীদেরকে তাদের গোলাম হয়ে থাকাটা যেন বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে।
যদি কেউ বলেন যে, নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক। তাহলে আমি বলবো যে,
এই সমাজে পতিতালয়, বেশ্যালয় আছে পুরুষদের মনোরঞ্জনের জন্য। কিন্তু একটাও “পতিত-আলয়” দেখান দেখি যেখানে পুরুষরা অপেক্ষমান থাকে যে কখন একটা মেয়ে আসবে আর তাকে নিয়ে যাবে ভোগ করতে?
আরও একটা উদাহরণ দিচ্ছি, ধর্ষণ। ধর্ষণে কিন্তু একটা ছেলের যা হয়, একটা মেয়েরও ঠিক তাই হয়। কিন্তু ছেলেটা ধর্ষণ করে আর মেয়েটা হয় ধর্ষিত। মেয়েটার ইজ্জত ছেলেটা দেখছে, কিন্তু মেয়েটার চোখ কি বন্ধ থাকে??? কিন্তু তারপরও ইজ্জত-সম্ভ্রম নষ্ট হয় শুধু মেয়েটারই। মেয়ের বাপেরই মাথা হেট হয়ে যায়। আর সমাজে ছেলেটা বুক ফুলিয়ে বরং গর্ব সহকারে তার মহৎ কর্মের গুণকীর্তন করে বেড়ায়।
আর পুরুষের এই নারীভোগ যাতে করে নির্বিঘ্নে চলতে আর চালাতে কোন সমস্যা না হয়, তাই আবার নারীদেরকে এই পণ্য বানানোর নাম দেয়া হয়েছে, "নারী ক্ষমতায়ন"। নারীদেরকে বলা হচ্ছে, যত বেশি তুমি পর্দা ছেড়ে বাইরে আসতে পারবে, ততই তোমার শক্তি বাড়বে, ততই তুমি স্বাবলম্বী হবে পুরুষদের কথা অমান্য করে। কিন্তু অন্তরালে যে থাকে, “যত বেশি তুমি পুরুষের মনোরঞ্জন করতে পারবে, ততই তুমি ক্ষমতাবান হবে”- সেটা সাইলেন্টই থেকে যায় আজীবন।
আরও সবথেকে বেশি খারাপ যেটা লাগে যে, পুরুষটি বাইরে যেমন পয়সা উপার্জনের জন্য যথেষ্ট কষ্ট করে, মহিলাটিও কিন্তু বাড়িতে কোন অংশে কম পরিশ্রম করে না, বরং অনেকাংশে বেশি। কিন্তু পুরুষ লোকটি সর্বদাই বাড়িওয়ালীর সে কাজকে ছোট করে দেখতেই অভ্যস্ত যদিও ভাত খাওয়ার জন্য চালটাকে বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসা যেমন আবশ্যক, চাল রান্না করাটাও তার থেকে কিছুমাত্র কম নয়। তবু তা অবহেলিত। কারণ, তা নারীর কাজ যে...
কবে যে নারীরা এই দাসত্ব থেকে মুক্তি পাবে...!!! নারীদের সেই মুক্তির অপেক্ষায়... ...
[] Sayeed Istiaque []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now