বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফেরিওয়ালা বাহরাম-শেষ অংশ

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X পাঠক! আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে গেল আসরে আমরা ফেরিওয়ালার ছেলে বাহরামকে দেওয়া সাপের রাজার আংটির গল্প শুনিয়েছিলাম। যাদুকরি ঐ আংটি দিয়ে বাহরাম কী করেছিল সেই গল্প শোনাবার সময় ছিল না। এ পর্বে গল্পের বাকী অংশ উপস্থাপন করা হলো: বলেছিলাম, সাপের রাজা হযরত সোলায়মানের আংটিটা বাহরামকে উপহার দিয়েছিলো। বাহরাম আংটিটা নিয়ে রাজাকে ধন্যবাদ জানালো। আর শাহজাদা বাহরামকে শহর পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে বলেছিলোঃ এই আংটিটা ডান হাতের মাঝের আঙুলে পরিয়ে বাম হাতটা যখনই আংটির পাথরের ওপর রাখবে, আংটির গোলাম তোমার সামনে হাজির হয়ে যাবে। তুমি তখন যা চাইবে তাই সে তোমার জন্যে নিয়ে আসবে। এই বলে শাহজাদা গূহায় ফিরে গেল। বাহরাম ভীষণ ক্ষুধার্ত ছিল। সে সোলায়মানি আংটিটার মূল্যবান পাথরের ওপর হাত বুলালো।অমনি আংটির গোলাম এসে হাজির হয়ে গেল। বাহরাম তাকে বললোঃ ‘আমার খুব ক্ষিদে পেয়েছে, আমার জন্যে কিছু পোলাও মিষ্টি আনো।’ নিমিষেই সেসব খাবার এসে গেল এবং বাহরাম মজা করে খেলো। খেয়ে দেয়ে বাসায় ফিরে মাকে সব ঘটনা খুলে বললো। মাকে সে আরো বললোঃ মাটির এই পুরোণো ছোট্ট ঘরটা ভেঙ্গে একটা প্রাসাদ বানালে কেমন হয়। মা বললোঃ না, আমার ঘরটা রেখে পাশে তুই তোর জন্যে প্রাসাদ বানা। মায়ের অনুমতি পেয়ে বাহরাম অমনি দিলো আংটির পাথরে ঘঁষা। আংটির গোলাম এসে হাজির হয়ে গেল। বাহরাম বললোঃ একটা চমৎকার প্রাসাদ বানাবে। প্রাসাদে চাকর বাকর, সাজসজ্জার সব যেন সুন্দর হয়। চোখের পলকেই সেসব হয়ে গেল। তারপর থেকে বাহরাম রাজকীয় জীবন যাপন করতে লাগলো। তবে একটাই কম ছিল, সেটা হল সুন্দরী একটা বৌ। তারও ব্যবস্থা হলো। কীভাবে হলো জানেন? বাহরাম একদিন উন্নত এক ঘোড়ায় চড়ে রাজপ্রাসাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। হঠাৎ তার নজরে পড়লো রাজকুমারীকে। রাজকুমারী প্রাসাদের ব্যালকুনিতে দাঁড়িয়ে ছিল। তাকে দেখেই বাহরামের ভালো লেগে গেল। দ্রুত বাসায় ফিরে গিয়ে মাকে বললো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যেতে। মা রাজপ্রাসাদে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিতেই উজিরের পরামর্শে কঠিন শর্ত দিয়ে বসলো। বললোঃ আমার মেয়েকে বিয়ে করতে হলে সাতটি উটের পিঠ বোঝাই করা রূপা, মেয়ের মাথার মুকুটের জন্যে সাতটি ডায়মন্ড, সাতটি জার ভর্তি খাঁটি স্বর্ণ, মুক্তা দিয়ে বোণা সাতটি গালিচা নিয়ে আসতে হবে। মা রাজার শর্ত বাহরামকে বললো। বাহরাম আংটির গোলামকে দিয়ে সহজেই সেসব শর্ত পূরণ করে সাতদিন সাতরাত ধরে উৎসব করে রাজকন্যাকে বিয়ে করে নিজ প্রাসাদে নিয়ে এলো। কিন্তু পাহাড়ের পেছনেই ছিল তাতারিদের এলাকা। তাতারি শাহজাদা কয়েক বছর আগে থেকেই রাজকন্যাকে ভীষণ ভালবাসতো। তাই এক ফেরিওয়ালার ছেলে রাজকন্যাকে বিয়ে করে নিয়ে যাওয়ায় ভীষণ কষ্ট পেলো। সে এক ধূর্ত বুড়িকে পাঠালো ফেরিওয়ালার ছেলের ধনী হবার রহস্য আবিষ্কার করার জন্যে। বুড়ি বাহরামের স্ত্রীর কাছে গিয়ে বললো সে অসহায় এক নিঃসঙ্গ মানুষ। বুড়ির কথা শুনে বাহরামের স্ত্রীর মন গলে গেল। সে বুড়িকে বললোঃ তুমি যতোদিন খুশি এখানে থাকতে পারো, অসুবিধা নেই। এভাবেই বুড়ি থেকে গেল আর সুযোগ খুঁজতে লাগলো রহস্য উদঘাটনের। বুড়ি একদিন বাহরামের স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলোঃ তুমি কি জানো তোমার স্বামী এতো সম্পদের মালিক হলো কীভাবে? সে বললোঃ না তো। বুড়ি বললোঃ কেন জানো না, তুমি তো তার স্ত্রী, তোমার অবশ্যই জানা উচিত। বাহরামের স্ত্রী ভাবলোঃ সত্যিই তো। সে কারণেই সে বাহরামকে একদিন জিজ্ঞেস করলো। বাহরামও সত্যি ঘটনা বৌকে সুন্দরভাবে খুলে বললো, এমনকি আংটিটা কোথায় রাখে, তাও দেখিয়ে দিলো। পরদিন বুড়ি কৌশলে সব জেনে নিলো এবং তার ক’দিন পরই বুড়ি আংটিটা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে তাতারি শাহজাদার হাতে সঁপে দিলো। তাতারি শাহজাদা আংটির পাথরে ঘঁষা দিতেই গোলাম এসে হাজির। শাহজাদা গোলামকে বললো-আমি চাই রাজকন্যা হবে আমার স্ত্রী আর ফেরিওয়ালার ছেলের সম্পদ হবে ফেরিওয়ালার মতোই, তার বেশি না। শাহজাদার হুকুম সাথে সাথেই তামিল হয়ে গেল। বাহরামের প্রাসাদ হাওয়া হয়ে গেল। তার স্ত্রীকে দেখা গেল তাতারি শাহজাদার পাশে। বাহরাম এ সময় মরুভূমিতে তার চাকর বাকরসহ ঘোড়া দৌড়াচ্ছিল। হঠাৎ করেই তার সবকিছু উবে গেল। কোনো কিছুই থাকলো না কেবল তার গায়ে জরাজীর্ণ একটা পোশাক ছাড়া। বাহরাম প্রাসাদের দিকে ফিরে গিয়ে দেখলো-প্রাসাদ বলতে কোনো কিছুর অস্তিত্বই নাই। সবকিছু আগের মতো হয়ে গেল। সেই পুরোণো ছোট্ট মাটির ঘর, সেই গরিবি অবস্থা। বাহরাম বুঝতে পারলো-তার আংটিটি চুরি হয়ে গেছে। সেজন্যে তার মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল। মা বললো-উড়ে আসা জিনিস এভাবেই হাওয়ায় মিলে যায়। আমার কাছে কিছু টাকা আছে। এগুলো নিয়ে বাজারে যা। তোর বাবা যে কাজ করতো, সে কাজে আবার লেগে যা। রেশম গুটি কিনে আন। বাহরাম ভারাক্রান্ত মনে বাজারে গেল ঠিকই, কিন্তু কোনো রেশম গুটির দোকানই খুঁজে পেলো না। রাত হয়ে এলে অগত্যা মন খারাপ করে সে শহরের পাশেই একটি বিশ্রামাগারের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে পড়লো। সেখানে কোত্থেকে যেন বেড়াল, কুকুর আর সাপ এসে জড়ো হলো। এদের সবাইকে একদিন বাহরাম বাঁচিয়েছিল। তারা সবাই এখন জানতে চাইলো মন খারাপের কারণ কী? বাহরাম সব ঘটনা খুলে বললো। সাথে সাথে কুকুর এবং বেড়াল গেল পশু পাখিদের কাছে। গিয়ে জানতে চাইলো বাহরামের শত্রুর ব্যাপারে। একটা পাখি বললোঃ তাতারি শাহজাদার এক বুড়ি চাকরানী ঐ আংটিটা চুরি করে নিয়ে গেছে। পরদিনই বেড়াল এবং কুকুর তাতার শহরের দিকে রওনা হলো। বিড়াল বললোঃ কী করবো এখন? কুকুর বললোঃ তুই প্রাসাদের ভেতরে যাবি। রাজকন্যাকে খুঁজে বের করে জিজ্ঞেস করবি আংটিটা কোথায় আছে। এটুকু জেনেই ফিরে আসবি,যা। রাজকন্যা যখন বুঝতে পারলো বেড়ালটা তার স্বামীর পক্ষ থেকে এসেছে, দেরি না করে তাকে বললোঃ শাহজাদা সবসময় আংটিটা তার হাতে রাখে আর ঘুমানোর সময় মুখে পুরে রাখে। বেড়াল এটুকু জেনেই ফিরে গেল কুকুরের কাছে। তাকে সব বললো। কুকুর একটা ফন্দি আঁটলো। পরবর্তী রাতে শাহজাদা যখন ঘুমিয়ে পড়লো, বেড়াল রান্নাঘরে গিয়ে একটা ইঁদুরকে ধরে বললোঃ বাঁচতে চাইলে যা বলি তাই করবি। যা, তোর লেজটাকে মরিচের গুঁড়ার পাত্রে ঢুকিয়ে ভালো করে মরিচ মাখিয়ে নে। ইঁদুর তাই করলো। এবার বেড়াল শাহজাদার রুমে গেল, ইঁদুরও। বেড়ালের আদেশ অনুযায়ী ইঁদুর শাহজাদার বুকে উঠে লেজটা শাহাজাদার নাকে ঢুকিয়ে দিলো। শাহজাদা তখন ভীষণ জোরে হাঁচি দিলো, অমনি তার মুখ থেকে আংটিটা বেরিয়ে এসে পড়লো ফ্লোরে। বেড়াল আংটিটা মুখে নিয়ে সাথে সাথে জানালা দিয়ে বাইরে অপেক্ষমান কুকুরের কাছে দিয়ে দিলো। কুকুর আংটিটা নিয়ে দ্রুত দৌড়ে গেল জঙ্গলের দিকে। পরে বেড়াল এবং কুকুর আংটিটা নিয়ে বাহরামের হাতে তুলে দিলো। বাহরাম দেরি না করে আংটির পাথরের ওপর হাত বুলালো। অমনি আংটির গোলাম এসে হাজির হয়ে গেল। এভাবে বাহরাম ফিরে পেল তার স্ত্রীকে, ফিরে পেলো তার হারানো প্রাসাদ আর সকল সম্পদ। সবকিছু ফিরে পাবার পর বাহরাম হযরত সোলায়মানের আংটিটা যাতে আর কোনো খারাপ লোকের হাতে না পড়ে, সেজন্যে ছুঁড়ে ফেলে দিলো সমুদ্রের গভীর অতলে। কে জানে, সমুদ্রের তলদেশে এতো যে সম্পদ সেগুলো ঐ আংটির কারণে কি না। পাঠক! আপনাদের কী ধারণা।#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now