বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

চার বন্ধুর গল্প (২য় পর্ব)

"রূপকথা " বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X কৃষকপুত্র প্রমাণ করেছে তার একদিনের শ্রমের মূল্য এক দিরহাম। সে কিছু লাকড়ি সংগ্রহ করে সেগুলো বাজারে এক দেরহামে বিক্রি করে বন্ধুদের জন্য খাবারের আয়োজন করেছিল। শহরের দরোজায় লিখে রেখেছিল এক দিনের শ্রমের মূল্য এক দেরহাম। সুদর্শন যুবক প্রমাণ করেছে তার সৌন্দর্যের দৈনিক মূল্য ৫০ দিরহাম। কাজের সন্ধানে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে অবশেষে গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে। এক ধনী মহিলা তাকে দেখে তার মনটা কেঁদে ওঠে এবং তার চাকরকে দিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে যায়। খাওয়া দাওয়া করিয়ে ফেরার সময় তার হাতে ৫০ দেরহাম দিয়ে দেয়। সেও সৌন্দর্যের একদিনের মূল্য ৫০ দেরহাম লিখে রেখেছিল শহরের দরোজায়। তৃতীয় দিনের শুরু। আজ ব্যবসায়ী পুত্রের পালা। তাকে আজ শহরে যেতে হবে। বন্ধুরা তাকে বললো: আজ আমরা তোমার বুদ্ধিমত্তা এবং মেধার অতিথি। তুমি তো বলেছিলে জ্ঞান, প্রজ্ঞা এবং মেধার সমান কিছুই নেই। এখন তোমার কথা প্রমাণ করার সময় এসেছে। তোমার বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের জন্য ভালো-মন্দ খাবারের আয়োজন করতে হবে। বণিকপুত্র বললো কোনো জবাব না দিয়ে সোজা রওনা হলো শহরের দিকে। সমুদ্রের তীর ধরে যেভাবে মানুষ হেঁটে বেড়ায়, সেভাবে হাঁটছিল সে। যে দায়িত্ব তার ঘাড়ে চাপলো কীভাবে তা আঞ্জাম দেওয়া যায় তা নিয়ে ভাবছিলো সে। ভাবতে ভাবতে তার নজরে পড়লো দূরে একটা নৌকা সমুদ্রের তীরে নোঙর করা। একটু এগিয়ে গিয়ে দেখলো সুন্দর সুন্দর এবং দামি সব পণ্যে নৌকা ভর্তি। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখলো শহরের কয়েকজন ব্যবসায়ী একত্রিত হয়ে কী যেন ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। কাছে গিয়ে শুনতে পেলো তারা চাচ্ছে নৌকার মালামাল সস্তায় কিনতে। তারা সমঝোতায় পৌঁছেছে যে সবাই পণ্যের মূল্য কম বলবে যাতে পণ্যের মালিক বাধ্য হয়ে তাদের কম দামেই মালগুলো দিয়ে দেয়। সিদ্ধান্তের পর তারা একসাথে গেল বিক্রেতার কাছে। মালের দাম বললো কম। বিক্রেতা অত কমদামে বিক্রি করতো রাজি হলো না। তারা একত্রে বললো: ‘আমরা এই দামই দেবো। যদি বিক্রি করো, দাও, নৈলে আমরা যাচ্ছি। তবে ঘণ্টাখানেক পর আবারও আসবো। ততক্ষণে নিশ্চয়ই বিক্রির সিদ্ধান্ত নেবে’। এই বলে ব্যবসায়ীরা চলে গেল। ব্যবসায়ীরা চলে যাবার পর পণ্যের মালিকের কাছে এলো বণিকপুত্র বুদ্ধিমান যুবক। সে তো সব ঘটনা দেখেছিল। তাই সে ব্যবসায়ীকে বললো: ওরা যে দাম বলেছে, আমি তারচেয়ে বেশি অর্থাৎ এক লাখ দেরহাম দেবো তোমাকে। তবে শর্ত হলো আমি বিকেলে তোমার টাকাটা দেবো। পণ্যের মালিক রাজি হয়ে গেল। মালগুলো তাকে দিয়ে দিল। ঘণ্টাখানেক পর ষড়যন্ত্রকারী ব্যবসায়ীরা ফিরে এলো এ আশায় যে মালিক বাধ্য হবে তাদের কাছে সস্তায় বিক্রি করতে। কিন্তু এসে তো তারা হতবাক। মালিক বললো যে সব মাল বিক্রি হয়ে গেছে। এ কথা শুনে তারা হন্যে হয়ে ক্রেতাকে খুঁজতে শুরু করলো। যুবক তখন নিজের পরিচয় দিলো এবং বললো: মালগুলো দুই লাখ দেরহামে বিক্রি করবো। যদি তোমরা কিনতে না চাও তাহলে অন্য শহরে নিয়ে বিক্রি করবো। ব্যবসায়ীরা যখন দেখলো মালগুলো হাতছাড়া হয়ে যাবে, বাধ্য হয়ে তারা দুই লাখ টাকায় কিনলো। যুবককে টাকাও বুঝিয়ে দিলো। যুবক পণ্যের মালিককে এক লাখ দেরহাম বুঝিয়ে দিয়ে লাভের এক লাখ দেরহাম নিয়ে বন্ধুদের জন্য খাবার দাবার কিনে দ্রুত বাসায় ফিরে গেল। শহরের দরোজায় লিখলো: ‘বুদ্ধিমত্তা ও মেধার এক দিনের মূল্য এক লাখ দেরহাম’। সবাই তার খুব প্রশংসা করলো এবং সেই দিনটি তারা বেশ আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে কাটালো। চতুর্থ দিনের সূর্য সবার চোখে পড়লো। ঘুম ভেঙে গেল চার বন্ধুর। এবার রাজপুত্রের পালা। তাকে আজ বাইরে গিয়ে বন্ধুদের জন্য খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্ধুরা তাকে বললো: তুমি তো বলেছিলে তকদির বা ভাগ্যই হলো সবকিছুর উপরে। তো আজ তুমি শহরে যাও এবং নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করো। শাহজাদা বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে শহরের দিকে রওনা হলো। নিয়তির কি লীলা! ঠিক সেদিন সকালেই ওই শহরের বাদশাহ মারা গেল। জনগণ এবং সেনারা বাদশাহর লাশ দাফন করার জন্য নির্দিষ্ট কবরস্থানে নিয়ে যাচ্ছিলো। রাজপুত্র উদ্দেশ্যহীনভাবে ওই কাতারে শামিল হয়ে গেল। সবাই কান্নাকাটি করছিল আর সে অপলকভাবে তাদের দিকে তাকাচ্ছিল কেননা বাদশাহর মৃত্যুতে তার কান্না করার কোনো মানে ছিল না। সে বরং ভাবছিল কীভাবে বন্ধুদের জন্য খাবারের আয়োজন করা যায়। সেনাপ্রধান যখন দেখলো রাজপুত্রের মাঝে কান্নাকাটি করা কিংবা কোনোরকম ভেঙে পড়ার চিহ্নমাত্র নেই তখন সে বিরক্তই হলো এবং রাজপুত্রকে অনুসরণ করতে লাগলো। তার কাছে গিয়ে বললো: ‘এই যুবক! কে তুমি? কেন তুমি এই শোকের দিনে কান্না করছো না কিংবা আমাদের বাদশাকে সম্মান দেখাচ্ছো না। তুমি নিশ্চয়ই কোনো গোয়েন্দা’। এই বলে ক’জন সেনাকে আদেশ দিলো যুবককে ধরে হাত বেঁধে কারাগারে নিয়ে আটকে রাখতে। তাই করা হলো। পরদিন শহরের গণ্যমান্যজনেরা সমবেত হলেন নতুন বাদশা নির্বাচন করার জন্য। শাহের তো কোনো পুত্রসন্তান ছিল না যে বাদশার স্থলাভিষিক্ত হবে। সেজন্যই এই সমাবেশ। কিন্তু যার নামই প্রস্তাব করা হলো তার ব্যাপারে কোনো না কোনো অভিযোগ উঠলো। এভাবে একটা শোরগোল সৃষ্টি হলো। বাদশা নির্বাচন হলো না। উল্টো বরং প্রাসাদ জুড়ে ব্যাপক হৈ চৈ দেখা গেল। যেই সেনাপ্রধান গেল রাতে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল সে রুমে ঢুকলো। মুরব্বিদের অনুমতি নিয়ে সে বললো: এই বিষয়টা যত শান্তভাবে এবং গোপনে আঞ্জাম দেওয়া যাবে ততই নিরাপদ। কেননা গতরাতেই আমি শাহের দাফন অনুষ্ঠান থেকে এক গুপ্তচরকে আটক করেছি। এখন সে প্রাসাদের কারাগারে আছে। তোমরা যেভাবে চীৎকার চেঁচামেচি করছো তার কানে তো সব চলে যাবে! মুরব্বিদের একজন আশ্চর্য হয়ে বললো: গোয়েন্দা? তাড়াতাড়ি তাকে নিয়ে আসো এখানে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now