বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ইমরান আর নিহাদের

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X জাহিদের সাথে আমার পারিবারিক ভাবেই বিয়ে হয়েছিল। খুব কনজারভেটিব ফ্যামিলির মেয়ে আমি। জাহিদই আমার জীবনে প্রথম পুরুষ বন্ধু, ভালবাসা বা স্বামী যাই বলি না কেন। বিয়ের পর আমি খুব সুখি ছিলাম। ওদের পরিবারের মানুষ গুলো এত ভালো, কখনো বাবার বাড়ির কথা feel পর্যন্ত করিনি। সময়ের সাথে সাথে জাহিদের ব্যস্ততা বাড়তে থাকে। সেই ভোরে বেড়িয়ে যায়, গভীর রাতে বাড়ি ফিরে। খুব নিঃসঙ্গ একা লাগতো নিজেকে। ৪ বছর হয়েছে আমাদের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আমাদের কোন বাচ্চা নেই। কারো কোন সমস্যা নেই। ডাক্তার বলেছে অপেক্ষা করতে.. না অনেক ভেবে দেখেছি জাহিদের সাথে আর এক সাথে থাকা সম্ভব না। প্রতিনিয়ত নিজেকে ঠকবাজ মনে হচ্ছে। জাহিদ কে তো আমি ভালবাসি না। জাহিদকে যে ভালবাসতাম না তা কিন্তু নয়। কিন্তু এখন বাসি না। মনে হয় এখন আমার সব ভালবাসা শুধুমাত্র ইমরানের জন্য। ইমরান আমার নিঃসঙ্গ জীবনে এক পলতা সুখ হয়ে এসেছিল। unknown number এর একটা কল থেকে ইমরানের সাথে আমার পরিচয়। প্রথম প্রথম পাত্তা দিতাম না। কিন্তু একটা সময় পাত্তা দেওয়া শুরু করলাম। ওর সাথে কথা বলে better feel করতাম। আমি একটা মোহের ভিতর পড়ে গেলাম। feel করলাম আমার সব ভালোবাসা ইমরান কেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। ভালবাসি আমি ইমরানকে। আমি বিবাহিত ইমরানকে সেটা বলেছিলাম। ইমরান একদিন সাহস করে আমাকে তার ভালবাসার কথা জানালো। আমার ভিতরে সেদিন অন্যরকম একটা অনুভূতি কাজ করলো। কিন্তু আমি ইমরানকে বললাম দেখ এটা সম্ভব না... তারপর ৩ দিন ইমরানের মোবাইল off পেলাম। এই তিনটা দিন আমার কাছে হাজার বছরের মত লেগেছে। মানষিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েছিলাম, ভাবছিলাম ইমরান বোধ হয় আর আমার সাথে যোগাযোগ করবে না। কিন্তু ওকে যে আমি ভালবেসে ফেলেছি। ৪র্থ দিন যখন ইমরানের মোবাইল যখন খোলা পেলাম। call করে আমি কাঁদতে লাগলাম। তারপর ইমরানের সাথে দেখা করতে লাগলাম, মোবাইলে কথা আরো বেড়ে যেতে লাগলো। সিন্ধান্ত নিচ্ছিলাম জাহিদকে ছেড়ে দেবার জন্য। ওকে ঠকিয়ে কি লাভ। আমার দিক থেকে ইমরানের জন্য অনেক ভালবাসাই কাজ করছিল। কিন্তু ইমরান দিনকে দিন আমার শরিরটা পাওয়ার জন্য উগ্র হয়ে উঠছিলো। বুঝতে পারছিলাম না, ইমরান কি আমাকে সত্যিই ভালবাসে, নাকি শুধু শরিরটা চায়। তাই একদিন বললাম... -ইমরানকে তোমাকে খুব কাছে পেতে ইচ্ছে করে.. - তাই, তাহলে এসে পড় না.. - কিভাবে আসবো.. বললেই তো আসা যায় না। জাহিদকে তো ছাড়তে হবে, তারপর তোমাকে বিয়ে করে এ না আসতে হবে.. - সেটা তো অনেক সময়ের ব্যাপার.. - কত সময়.. সমস্যা নেই, আমি অপেক্ষা করবো... - সেটা আরো ৩-৪ বছর... - এতদিন, সমস্যা নেই আমি অপেক্ষা করবো.. - কিন্তু আমি যে এতদিন তোমাকে কাছে না পেয়ে থাকতে পারবো না... - তাহলে চল আমরা বিয়ে করে ফেলি... - বিয়ে এখন, কিভাবে সম্ভব.. বিয়ে ছাড়া কি আমরা কাছে আসতে পারিনা... - মানে.. - না মানে, আমরা এখন কাছে আসলাম, পরে না হয়, সময় সুযোগ মত বিয়ে করে নিলাম... - এটা সম্ভব না, আমি রাখছি ইমরান.. - কি ব্যাপার রাগ করলে.. আমি তো এমনিই মজা করলাম.. - না রাগ করিনি, এখন রাখছি.. ইমরানের কথা গুলো আমি হালকা ভাবে নেইনি। আমার মনে হচ্ছিল ও আমাকে নয়, আমার শরিরটাকে চাচ্ছে.. তাই আমি একটা প্লান করলাম। কিছুদিন পর - হ্যালো .. - নিহা একটা খরব আছে.. - কি খবর বল আনিকা.. - শালাকে তুই যা ভেবেছিস, শালা সেই রকমি.. - তাই নাকি.. - হুম.. - কতদূর কি হলো..তোর সাথে প্রেম-ট্রেম হইছে.. - আবার জিগায়.. এখন দেখা করতে চায়.. - তুই আজ বিকেলে ওকে, অমুক যায়গার, তমুক প্লেসে আসতে বল... - ঠিক আছে... ইমরান খুব সেজেগুজে আনিকার সাথে দেখা করতে এসেছে। আনিকা খুব রঙ্গে ঢংঙ্গে কথা বলতেছে। এমন সময় নিহা এসে সামনে দাড়িয়েছে। ইমরান নিহাকে দেখে হকচকিয়ে গেছে। ইমরান কিছু বলে উঠার আগেই নিহা ইমরানকে একটা চড় বসিয়ে দিল। কি হল সেটা বুঝে উঠার আগেই আনিকা মেরে উঠলো আরেকটা চড়... নিহা ও আনিকা চলে যাচ্ছে আর ইমরান সেই দিকে তাকিয়ে আছে.... আজ নিহা আর জাহিদের ৫ম বিবাহ বার্ষিকী। এই একটাদিন জাহিদ যত কাজই থাকুক ৭ টার ভিতর বাড়িতে ফিরে আসে.. - কি ব্যাপার নিহা অন্ধকারে বসে আছো কেন? লাইট অন করে দেখলো নিহা কাঁদছে.. কাঁদছো কেন.. আমার কোন ভুল হয়েছে.. - নিহা জাহিদের বুকে মাথা রেখে কান্না করতে লাগলো... - কি ব্যাপার কি হয়েছে, বল আমাকে..বল - নিহা শুধুই কাঁদছে... আর মনে মনে এই মানুষটাকে আমি আবেগের বর্ষিবর্তি হয়ে ছেড়ে যেতে চেয়েছিলাম.. - আচ্ছা ঠিক আছে কান্না থামাও প্লিজ.. আজ আমার জীবনের সেরা একটা দিন.. আজকের দিনে আমি তোমাকে আমার জীবনে পেয়েছিলাম.. - জাহিদ আমি তোমার সাথে বিরাট একটা অন্যায় করে ফেলেছি.. - নিহার মুখ থেকে কথা কেড়েঁ নিয়ে জাহিদ বলল, তুমি কি অন্যায় করেছো সেটা আমি শুনতেও চাই না, জানতেও চাই না.. - তুমি আমার কথাটা শোন জাহিদ.. - না নিহা, তুমি সেটার জন্য অনুতপ্ত.. সেটাই তোমার সেই অন্যায়ের জন্য যথেষ্ট.. ভালবাসি তোমাকে, অনেক ভালবাসি... - আমিও বলেই অঝড়ে কান্না করতে লাগলো নিহা.. - জাহিদ নিহাকে শক্ত করে বুকে জড়িয়ে ধরলো... (এই সমাজে এমন হাজারো ইমরান আর নিহাদের বসবাস। এই লিখাটা শুধু মাত্র নিহাদের জন্য একটি সতর্ক বার্তার প্রয়াস মাত্র) লিখাঃ কনফিউজড ফিলিং


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৪ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now