বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আজ মিতুর বিয়ে। বিয়ে উপলক্ষ করে বাড়ির চারিদিকে কি ধুমধাম,, সবার কি ব্যস্ততা!! মিতুদের বাড়ি বিয়ে উপলক্ষে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। চারিদিকে আলোর খেলা, আনন্দের খেলা।
মিতুর জন্য যে পাত্র ঠিক করা হয়েছে সে ইঞ্জিনিয়ার, বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার। কিন্তু মিতুর এই পাত্রকে পছন্দ না। দেখলেই কেন জানি থাপড়াতে ইচ্ছা করে লোকটাকে। তারপর ও বিয়ের কিছুদিন আগে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই লোকটার সাথে প্রায় তার দেখা করতে হত, মোবাইলে কথা বলতে হত। সে বিয়েতে রাজী ছিল না তবু বাসার সবার জোরাজুরিতে বিশেষ করে বাবার কথাতে সে বিয়েতে নামমাত্র রাজী হয়েছে।
পাত্র পক্ষ আর ঘন্টাখানেক পরেই চলে আসবে। মিতু ঠিক করেছে সে বিয়ে বাড়ি থেকে পালাবে। সব কিছুই রেডি করা, এখন সময় বুঝে চম্পট মারতে পারলেই হয়।
নাহ! মিতুর পালানোর পিছনে কোন বয়ফ্রেন্ড এর হাত নেই। সে এমনিতেই পালাবে। আর এই প্লানটা তার অনেক দিন আগের থেকেই ঠিক করা।
মিতু সবে মাত্র ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছে। নামকরা পাবলিক ভার্সিটি। পাত্র পক্ষ বিয়ের পর মেয়েকে পড়াবে কথা দিয়েছে। তাই মিতুর বাবা ইঞ্জিনিয়ার পাত্র পেয়ে বিয়েটা তাড়াতাড়িই দিতে চাচ্ছিলেন।
কিন্তু মিতুর কিছু স্বপ্ন ছিল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল । মিতুর মনে হচ্ছিল হঠাৎ করেই তার স্বপ্ন, উচ্চাকাঙ্ক্ষা গুলোকে কেউ যেন জীবন্ত মাটি চাপা দিতে চাচ্ছিল। এই কয়েকটা দিন এই বাড়িতে এত আনন্দ, এত হাসি, এত গান, এত আলোর মাঝেও মিতুর যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল।
নাহ! হাতে বেশী সময় নেই মিতুর। তাকে এখনি পালাতে হবে, পালাতেই হবে। আর সেটা যেভাবেই হোক।
রাত ১০টা। মিতু এখন কমলাপুর রেলস্টেশনে। সে বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়েছে। বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় adventure আর কি হতে পারে!!
কক্সবাজার এর সমুদ্রের পানিতে একা পা ভিজিয়ে জোস্না দেখবে সে, কানে হেডফোনে সফট মিউজিক বাজবে, গায়ে লাগবে সমুদ্রের কূলে বহমান শীতল বাতাস!!!
নাহ! ভাবলেই কেমন যেন ফুরফুরে ভাব চলে আসে মনে। বাবার কথা চিন্তা করে একটু খারাপ ও লাগছে অবশ্য। মা মরা মেয়ে সে। ছোটকাল থেকে বাবাই তাকে মানুষ করেছে। মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি কখনো। মেয়ের ভবিষ্যৎ এর কথা চিন্তা করে আর বিয়েও করেননি।
বাবার মুখের কথা চিন্তা করে খারাপ লাগছে। মুখ দিয়ে আপনা আপনি বের হয়ে আসল " বাবা" i m sorry"। তবু তাকে পালাতেই হবে। নিজের স্বপ্ন গুলো সে বিসর্জন দিতে পারবে না। কিছুতেই পারবে না।
রাত ১১ টায় চিটাগাং এর ট্রেন। সবে রাত দশটা বাজে। মিতু ওই ট্রেনেরই অপেক্ষা করছে। এই রাতেও ট্রেনস্টেশনে ভালই জনসমাগম। মিতুর একটু ভয় ভয় ও করছিল। এই প্রথম সে একা একা কোথাও যাচ্ছে। ভার্সিটি থেকে গ্রামে গেলেও বাবা এসে তাকে নিয়ে যেত অথবা ফ্রেন্ডরা মিলে তাকে বাসে উঠিয়ে দিত। আর সেই মিতু আজ বিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে একা একা সমদ্রের পাশে জোস্না বিলাস করতে যাচ্ছে!!! নিয়তি আসলেই রহস্যময়।
ঘড়ির দিকে তাকাল মিতু। ১০.৩০টা বাজে। আরো আধা ঘন্টা ট্রেন আসতে। এতক্ষনে পাত্র পক্ষের চলে এসে পাত্রী পালানোয় বিয়ে ভেংগে দিয়ে চলে যাওয়ার কথা। নাহ! বাবাকে আজ তার জন্য অনেক অপমান সহ্য করতে হবে। মনটা আবারো খারাপ হয়ে গেল মিতুর। ধুর!!
হেডফোন বের করে মিতু তার একটা প্রিয় গান শুনতে লাগল মন ভাল করার জন্য। হেডফোনে গান বাজছে " ওই দুরের আকাশ আজ রঙীন হল, বদলে যাওয়ার নিয়মে, তাই বদলে গেছে সব ইচ্ছে গুলো, সংগী করে তোমাকে "।
আকাশে আজ খুব সুন্দর জোস্নার উঠেছে, চাঁদটা দেখতে আজ অপূর্ব লাগছে দেখতে, মিতু দেখছে আর গান শুনছে। নাহ! আসলেই "life is beautiful"..
...........................
এদিকে মিতুকে ঘরে না পাওয়ায় মুহুর্তের মাঝেই যেন বিয়ে বাড়ি যেন মরা বাড়ি হয়ে গেল। সাউন্ড বক্সে এতক্ষন হানি সিং এর "লুংগি ড্যান্স" গান বাজছিল। ছোট, বড়, বাচ্চা সব নাচছিল গানের তালে তালে। মিতুর পালানোর কথা শোনা মাত্র গান বন্ধ হয়ে গেল, সেই সাথে নাচানাচি ও।
মিতুর বাবা শরীফ সাহেবের মাথায় পানি ঢালা হচ্ছে। তিনি বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে তার মেয়ে বিয়ে থেকে পালিয়ে গেছে। এদিকে পাত্র পক্ষ থেকে ফোন আসছে তারা নাকি আধা ঘন্টার মাঝেই আসতেছে।
কি জবাব দেবেন তিনি তাদের কাছে?? এতদিন ধরে তিল তিল করে গড়া সব সম্মান আজ তার ধুলিসাৎ হয়ে যাবে? মা মরা মেয়েটা তার সাথে এমন করতে পারল?
মিতুর ট্রেন চলে আসছে। ট্রেনে উঠার আগে মিতু শেষবারের মত রেলস্টেশন এর প্লাটফর্মটা দেখে নিল। তার স্বাধীন জীবনের শুরু হওয়ার এই প্লাটফর্ম টাই যে প্রথম সাক্ষী। বিদায় প্লাটফর্ম!!!
ট্রেনে উঠার আগ মুহুর্তে বাবার কথা আবারো মনে পড়ল মিতুর। বাবার কান্না জড়িত মুখটা মনে পড়ল আবারো। "বাবা " আমাকে তুমি মাফ করে দিও, আমি তোমাকে খুব ভালবাসি বাবা, খুব ভালবাসি, বিদায় বাবা। ফিসফিস কান্না জড়িত কন্ঠে কথা গুলো বলল মিতু।
ট্রেনে উঠে পড়ল মিতু।
...........................
রাত বারটা বাজে। মিতু তার বাড়ির সামনে। নাহ! সে যায়নি, আসলে যেতে পারেনি। বাবার মুখটা কল্পনা করতে গেলেই কেন জানি সমুদ্র দেখা, জোস্না দেখা,সমুদ্রের শীতল বাতাসে শিহরিত হওয়া সব কিছুই কেন জানি তুচ্ছ লাগে। এই প্রথমবার সে বুঝতে পারে বাবাকে সে খুব ভালবাসে, আরো বুঝতে পারে যে আসলে জোস্না বিলাস করার জন্য নয়, বাবাকে ছেড়ে যাওয়ার ভয়টাই তাকে বিয়ে বাড়ি থেকে পালাতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
বাড়ি টা কেমন জানি থমথমে হয়ে গেছে। তার চলে যাওয়াতে সবাই মনে হয় হতবাক, স্তব্ধ হয়ে গেছে।
হঠাৎ করেই বাড়ির ভিতর থেকে উচ্চস্বরে কান্নার শব্দ আসলো। মিতু দৌড় দিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকলো। দেখলো সবাই কাঁদছে তার বাবাকে ঘিরে। তার বাবা বিছানায় শুয়ে আছে, প্রতিদিন রাতে যেভাবে ঘুমায়, ঠিক ওইভাবে।
কিন্তু ওই দেহে প্রাণের স্পন্দন থাকলেও আজ কেন জানি এই দেহে কোন প্রাণের স্পন্দন নেই।
মিতু বাবাকে জড়িয়ে কাঁদছে। পাগলের মত কাঁদছে আর বলছে " বাবা আমি ফিরে এসেছি বাবা, আমার সাথে তুমি একটু কথা বল বাবা, একটু কথা বল!! আমি তোমাকে ছেড়ে আর কোথাও যাবো না বাবা, কোথাও যাবো না!!! তবু তুমি আমার সাথে একটু কথা বল বাবা!!
মিতুর প্রাণপ্রিয়, কথা বলতে ভালবাসত, রসিকপ্রিয়
বাবাটা কেন জানি আজ কথা বলছে, আর বলবেও না।
[] khallid mithun []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now