বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হঠাৎ ঘুমের মধ্যে কে যেন আমার মুখের
ওপর
পানি ঢেলে দিল।চোখ মেলে দেখি
আমার
ছোট বোন রিমি।
আমি:এটা কি হল?
রিমি:পানি ঢাললাম
আমি:সে ত দেখতেই পাচ্ছি।
রিমি:তর ঘুম ভাঙ্গানোর দায়িত্ব মা
আমার উপর
দিয়েছেন।
আমি:তাই বলে পানি ঢালবি?
রিমি:তোকে অনেক ডাকলাম কিন্তু তুই
উঠলি না।তাই
বাধ্য হয়ে এই অপশন বেঁচে নিলাম।যা
যা তারাতাড়ি
ফ্রেশ হয়ে আয়।মা টেবিলে বসে
আছেন।
আমি:ঠিক আছে তুই যা,আমি আসছি।
[আমি শুভ অনার্স শেষ করে একটা
প্রাইভেট
চাকুরী করছি।আমি যখন ইন্টার পরীক্ষা
দেই তখন
আমার বাবা মারা যান]
ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে গেলাম।
মা আমাদের
নাস্তা দিলেন আর আমাকে বললেন,
মা:কিরে শুভ কি ঠিক করলি?
আমি:কি ঠিক করব মা?
মা:বিয়ে টিয়ে কি করবি,না করবি
না?
আমি:এত তাড়াতাড়ি না
মা:আমার এখন বয়স হয়েছে।একা হাতে
এতবড় সংসার
কি চালাতে পারি?
তাই বলছি একটা বিয়ে কর।
আমি:মা আমি এখন বিয়ে করব না।
রিমি:আচ্ছা দাদা তর কি কোনো পছন্দ
আছে?
থাকলে বলতে পারিস।
আমি:চুপ কর খেতে বসছিস খা।
মা:রিমি তো ঠিকই বলেছে।তোর
কোনো
পছন্দ থাকলে বলতে পারিস।
আমি:আমার কোনো পছন্দ নেই মা।
রিমি:তাহলে তর বিয়ে করতে
অসুবিধা কোথায়?
মা:ঠিক তো,তাহলে তর বিয়ে করতে
অসুবিধা
কোথায়?
এবার যদি তুই বিয়ে না করিস তাহলে
বুঝব তুই আমাকে
ভালবাসিস না।আমাকে কষ্ট দেওয়ার
জন্য তুই বিয়ে
করছিস না।
আমি:এসব কি বলছ মা?
মা:আমি ঠিকই বলছি।
আমি কিছুক্ষন চিন্তা করে বললাম,ঠিক
আছে
তুমি যা ভাল মনে কর,তাই কর।
মা:সত্যি বলছিস শুভ?
আমি:হুমম
রিমি:কি মজা কি মজা এবার একটা
বৌদি
পাব।
আমি:তুই চুপ কর।খেতে বসে বৌদি পাব
বৌদি
পাব করছে।চুপচাপ খা।
এই বলে আমি অফিসে চলে গেলাম।
অফিস শেষে বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে
একটি
বই পড়তে বসলাম।
হঠাৎ ছোট বোন রিমি ঘরে এসে একটা
খাম
দিয়ে বলল,
রিমি:মা একটি ফটো দিয়েছেন
দেখার জন্য।
দেখ তর পছন্দ হয় কিনা?
এই বলেই রিমি চলে গেল।
আমি খামটা আমার ড্রয়ারের মধ্যে
রেখে
দিলাম।রাতে যখন ঘুমাতে যাব তখন
খামের
কথা মনে পড়ল।খামটা হাতে নিয়ে
বিছানায়
গিয়ে শুলাম।শুয়ে শুয়ে ছবিটা বের
করে
দেখতে লাগলাম।আমার চোখ টা ছবির
মধ্যে
আঁটকে গেল।এত সুন্দর মেয়ে আমি আর
দেখিনি।কি সুন্দর চেহারা।যেন একটা
মায়া
মায়া ভাব।ছবি দেখেই ভালবেসে
ফেললাম।
মনে মনে বললাম বিয়ে করলে এই
মেয়েকেই
করব।সকালে নাস্তার টেবিলে মা
বললেন,
মা:কিরে মেয়ে পছন্দ হয়েছে?
আমি:হুমম পছন্দ হয়েছে।
মা খুঁশি হয়ে বললেন ও আমার বান্ধবীর
মেয়ে,নাম মিথিলা।আমি বিয়ের সব
ব্যবস্থা
করছি।
রিমি:কিরে দাদা? বৌদি ত পেয়ে
গেলাম।
সেদিন রিমিকে আর কিছু বলিনি।
↓
দুদিন পর মা বললেন,
মা:শুভ আগামী মাসে তর বিয়ে ঠিক
করেছি।
আমি:তুমি যা ভাল বুঝ।
অবশেষে বিয়েটা হয়ে গেল।
বউকে নিয়ে আসার সময় সেকি কান্না
করছিল,মনে হচ্ছিল সে যেন আর ও
বাড়িতে
যেতে পারবে না।
বউকে নিয়ে বাসায় আসলাম।
আমাদের ফুলশয্যার খাটটা খুব সুন্দর করে
সাজানো হয়েছিল।
রাতে ঘরে ঢুকলাম।দেখি ও বিছানায়
বসে
আছে এবং কান্না করছে।আমি কাছে
যেতেই
ও চিৎকার করে বলল,
মিথিলা:একদম আমার কাছে আসবেন
না।
আমি:কেন,আমরা তো স্বামী-স্ত্রী?
মিথিলা:একদম স্বামীর অধিকার
ফলাতে
আসবেন না আমার কাছে।আমি
আপনাকে
কোন দিনও স্বামী বলে মানতে পারব
না।
আমি:কেন?
মিথিলা:আমারবড় বোনের বিয়ে
হয়েছিল
পারিবারিক ভাবে কিন্তু ওর স্বামী
ওকে খুব
অত্যাচার করত।এমনকি মারধোরও করত।এত
কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমার বোন
আত্মহত্যা করেছে।তাই আমি কোনো
ছেলেকে পছন্দ করি না এবং বিশ্বাস
করি
না।
আমি:সবাইতো এক নয়।
মিথিলা:তবুও আমি কোনো ছেলেকে
বিশ্বাস
করি না।আর আপনি যে বিয়েটা
করেছেন,একবারও জানতে চেয়েছেন
আমার
মতামত আছে কিনা?
আমি:নিশ্চই তোমার মতামত ছিল বলেই
তোমার মা-বাবা আমার সাথে
তোমার বিয়ে
দিয়েছেন।
মিথিলা:এই বিয়েতে আমি রাজি
ছিলাম না।
আমি:তাহলে তুমি বিয়ে করলে কেন?
মিথিলা:মা-বাবার কথা রাখতে।
বলেই কান্না শুরু করল।আমি কি করব
বুঝতে
পারছিলাম না।একটু পর ওকে বললাম,
আমি:এখন কি করবে?
মিথিলা:আপনি আপনার মত আর আমি
আমার
মত থাকব।আর কখনো আমার ওপর স্বামীর
অধিকার দেখাতে আসবেন না।
আমি:ঠিক আছে।অনেক রাত হয়েছে চল
শুয়ে
পড়ি।
মিথিলা:Impossible!!! আমি আপনার
সাথে এক
খাটে ঘুমাতে পারব না।
আমি:ঠিক আছে তুমি খাটে ঘুমাও
আমি
সোফায় ঘুমাচ্ছি।
আমি সোফায় শুয়ে শুয়ে ভাবছি যাকে
ছবিতে
দেখেই ভালবেসে ফেললাম,সে
বাস্তবে আজ
আমাকে দেখতেই পারছে না।
শালার লাইফ,বিয়ের আগে যা ছিল
বিয়ের
পর তাই রয়ে গেল।পুরো বিবাহিত
ব্যাচেলর।
সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি
বিছানায়
মিথিলা নেই।আমি চিন্তা করতে
লাগলাম
কোথায় গেলো?না বাপের বাড়ি
চলে গেল?
হঠাৎ দেখি মিথিলা স্নান সেরে
বাথরুম
থেকে বের হল।ওর চুলগুলো ভেজা
থাকায়
ওকে দেখতে যে কি সুন্দর আর মিষ্টি
লাগছিল তা বলে বোঝাতে পারব না।
আমি
আবার ওর প্রেমে পড়ে গেলাম।
আমি:তোমাকে খুব মিষ্টি লাগছে
মিথিলা:দেখুন এসব মন ভুলানো কথা
আমাকে
বলবেন না।আমার মন এত সস্তা নয় যে
কারো
মন ভুলানো কথায় ভুলে যাবে।
আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হতে চলে
গেলাম।
↓
ফ্রেশ হয়ে নাস্তার টেবিলে গিয়ে
অবাক
হয়ে গেলাম।মা ও রিমি বসে আছে আর
মিথিলা সবাইকে নাস্তা দিচ্ছে।
মিথিলা:বসুন আপনার নাস্তা দিচ্ছি।
মিথিলার কথায় বাস্তবে ফিরলাম
আমি:হুমম বসছি
মা:কিরে কিরে তুই কি কোথাও বের
হবি?
আমি:হ্যাঁ মা।আমি অফিসে যাব।
মা:তুই না ছুটি নিয়েছিস?
আমি:হুমম নিয়েছিলাম।কিন্তু এখন ত
কাজ
নেই তাই অফিসে যাচ্ছি।
রিমি:কিরে দাদা হানিমুনে কোথায়
যাবি
ঠিক করেছিস?
আমি:তুই চুপচাপ খা।বেশি কথা বলিস
না।
নাস্তা সেরে ঘরে গিয়ে রেডি হচ্ছি
অফিসের জন্য।কিন্তু ঘড়িটা পাচ্ছি
না।
আমি:মিথিলা.......মিথিলা?
মিথিলা ঘরে ঢুকে রাগ্বত স্বরে বলল,
মিথিলা:কি সমস্যা আপনার?এভাবে
ডাকছেন
কেন?
আমি:আমার ঘড়িটা দেখেছো?
মিথিলা:আপনার ঘড়ি আমি দেখতে
যাব
কেন?
আমি:না মানে না......
মিথিলা:কি না মানে না মানে
করছেন?
দেখুন আমি আবার বলছি,আমার ওপর
স্বামীর
অধিকার ফলাতে আসবেন না।আপনি
যদি মনে
করেন অন্য সব স্ত্রী দের মত আমি আপনার
ঘড়ি বের করে দেব,টাই বেঁধে দেব
তাহলে
ভুল ভাববেন।
আমি আপনাকে সহ্যই করতেই পারিনা।
বলে ও আমার সামনে থেকে চলে
গেল।
খুব কষ্ট হচ্ছিল আমার।মনে হল আমার
জীবনটাই শেষ হয়ে গেল।যাকে এত
ভালবাসি
তার মুখ থেকে এই কথা গুলো শুনতে হবে
ভাবতে পারিনি।
তারপর রেডি হয়ে অফিসে চলে
গেলাম।
অফিসে বসে বসে ভাবছি এই কি ছিল
আমার
কপালে?
আমি এমন একজন মানুষ চেয়েছিলাম যে
অফিসে আসার সময় আমার সবকিছু
ঘুচিয়ে
দেবে আর বলবে দুপুরে ঠিক মত খেয়ে
নিও।
তারপরও দুপুরে ফোন দিয়ে
বলবে,খেয়েছো?
অফিস থেকে বাসায় ফেরার পর
বলবে,সারাদিন অনেক দখল গেছে তুমি
ফ্রেশ
হয়ে নাও,আমি তোমার জন্য চা করে
আনছি।
এই বলে শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘাম মুছে
দেবে।
হঠাৎরিমির ডাকে বাস্তবে ফিরলাম
রিমি:এই দাদা কি ভাবছিস এত?
আমি:না কিছু না।তুই এখানে?
রিমি:আমি আর বৌদি শপিং করতে
এসেছি।
তাই ভাবলাম তর সাথে দেখা করে
যাই।
আমি:তা তর বৌদি কোথায়?
রিমি:এই ত নিচে আছে।
চলিরে দাদা,তাড়াতাড়ি বাসায়
যাস
আমি:ঠিক আছে।
এই বলে রিমি চলে গেল।
অফিস শেষে বাসায় ফিরে রুমে
গিয়ে দেখি
মিথিলা বসে বসে একটা বই পড়ছে।
আমি ফ্রেশ হয়ে এসে বিছানায় বসলাম
এবং
মিথিলাকে বললাম,
আমি:আজ নাকি শপিং এ গিয়েছ?
মিথিলা:জানেন যখন তখন আর জিগ্গেস
করছেন কেন?
আমি:এমনি।তা কি কি কিনলে?
মিথিলা:মায়ের জন্য একটা
শাড়ি,রিমির
জন্য একটা জামা আর আমার জন্য একটা
শাড়ি।
আমি:আর কিছু কিনলে না?
মিথিলা:আর কি কিনব?
আমি:কিছুনা
রাতে খাবার খাচ্ছি আর মনে মনে
ভাবছি
কাল তো ছুটির দিন।মিথিলাকে
নিয়ে
বেড়াতে গেলে কেমন হয়।কিন্তু ও কি
যাবে?
খাওয়ার পর রুমে গিয়ে দেখি
মিথিলা
সাজগোজ করছে।
আমি মিথিলাকে বললাম,
আমি:মিথিলা কালকে তোমাকে
নিয়ে এক
জায়গায় বেড়াতে যাব।
মিথিলা:কেন?
আমি:এমনি।কাল আমার ছুটির দিন ত
তাই।
মিথিলা:সরি,আমি আপনার সাথে
কোথাও
বেড়াতে যাব না।কে হন আপনি আমার?
যে
আমি আপনার সাথে বেড়াতে যাব।
আমি:কেন আমি তোমার স্বামী
মিথিলা:আপনাকে কতবার বলব যে
আমার
উপর স্বামীর অধিকার দেখাতে
আসবেন না।
আমি:সরি,আসলে আমার মনে নেই।
মিথিলা:পরের বার মনে রাখবেন।
আমি:হুমম
এই বলে আমি শোফায় শুয়ে পড়লাম আর
নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে
দুফোটা জল
গড়িয়ে পড়ল।
↓
৬ মাস পড়------
অফিসের এক কাজে আমাকে এক
জায়গায়
যেতে হয় এবং বস আমার সাথে
অর্পিতা
নামে এক মেয়েকে পাঠান যাতে
আমার
কাজে সহায়তা হয়।
আমি আর অর্পিতা এক রিকশায় করে ওই
জায়গায় যাই এবং কাজ সেরে
বাড়িতে যাই।
রুমে ঢুকতেই মিথিলা বলল,
মিথিলা:বা! বেশ ভালই চলছে।
আমি:কি ভাল চলছে?
মিথিলা:আমার মন না পেয়ে এখন অন্য
মেয়েকে ধরা হয়েছে।
আমি:মানে?
মিথিলা:আর না বুঝার ভান করবেন না।
রিকশায় মেয়ে মানুষ নিয়ে ঘুরেন আর
এখন
জানেন না।
[আমাকে আর অর্পিতাকে একসাথে
রিকশায়
দেখেছিল মিথিলা]
আমি:অফিসের কাজে আমরা
গিয়েছিলাম।
মিথিলা:আর মিথ্যা বলবেন না।
ছেলেদেরকে
আমার ভাল করেই চেনা আছে।
আমি:বিশ্বাস করো মিথিলা ও আমার
অফিসের কলিগ।
মিথিলা:বিশ্বাস!!! আমি
ছেলেদেরকে
বিশ্বাস করি না।
এই বলে সেদিন মিথিলা অনেক ঝগড়া
করেছে আমার সাথে এবং এক পর্যায়ে
মিথিলা বলল,
মিথিলা:আমার আপনাকে সহ্যই হচ্ছে
না।
আমি:তাহলে কি চাও?
মিথিলা:ডিভোর্স।
এই কথা শোনার পর মনে হল আমি
নিজের
মাঝে নেই।মিথিলা আমার সাথে
যাই
করুক,আমি ত ওকে ভালবাসি।এতদিন ও
আমার
সামনে ছিল তাই ওকে দেখতে
পেয়েছি।ও
চলে গেলে কাকে দেখব।এসব ভাবছি
আর
মিথিলা আবার বলল,
মিথিলা:কি,শুনতে পাননি,আমি কি
বললাম?
আমি:হুমম পেয়েছি।
[এসব ঘটনা আমার মা ও বোন জানতেন
না
কারন তারা কদিন আগে বাড়িতে
গেছেন]
↓
আমি আর মিথিলা পরের দিন কোর্টে
গিয়ে
ডিভোর্স পেপারে সাইন করলাম।কোর্ট
থেকে বলা হল আমরা আর ৬ মাস
একসাথে
থাকব।এর পর যদি মনে হয় আমরা আলাদা
থাকতে চাই তাহলে আমাদের
ডিভোর্স হবে।
আমি খুব খুঁশি হলাম।কিন্তু মিথিলা
খুঁশি হল
না।বাসায় ফিরে মিথিলা বলল,
মিথিলা:আমি আপনার সাথে আর
কিছুতেই
থাকব না।আমি বাবার বাসায় চলে
যাব।
আমি:কিন্তু কোর্ট থেকে যা বলল...
মিথিলা:আমি সেগুলো মানি না।
আমি যখন
বলেছি তখন চলেই যাব।
আমি শুধু নিরবে চোখের পানি ফেলে
গেলাম।
বিকেলে মিথিলা ওর বাবার বাসায়
চলে
যাবে ঠিক তখনি মা আর রিমি এল।
তারা সব
কথা শুনে মিথিলাকে আঁটকানোর
চেষ্টা
করল কিন্তু আঁটকাতে পারলেন না।
মিথিলা
চলে গেল।
মা আমায় শুধু একটি কথা বললেন,
মা:শুভ?
আমি:হুমম
মা:তর জীবনটা আমি শেষ করে দিলাম।
বলেই মা কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে
গেলেন।
রিমিও কাঁদতে কাঁদতে রুমে চলে
গেল।
সেদিন রাতে আমার আর ঘুম হল না।শুধু
মিথিলার কথাই ভাবলাম।
মাঝে মাঝে মিথিলাকে ফোন
দিতাম কিন্তু
ও রিসিভ করত না।মাঝে মাঝে ওর
বাসাতে
যেতাম কিন্তু ও অনেক খারাপ ব্যবহার
করত
তাইএখন আর ওদের বাসায় যাই না।
নিজেকে ঘরের মধ্যেই বন্দি করে
রাখি।
একদিন মা বললেন,
মা:শুভ এইভাবে কতদিন নিজেকে বন্দি
করে
রাখবি?
আমি:যতদিন পারব।
মা:আমি বলি কি তুই একটু বাইরে
থেকে
বেরিয়ে আয় তাহলে তর মনটা হালকা
হবে।
আমিও ভাবলাম ঠিক ত অনেক দিন ধরে
বাইরে বের হই না।আজ না হয় একটু বের হই
বলেই বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তার
পাশে
হাঁটতে লাগলাম।কিছু দূর যাবার পর
আমি
মিথিলাকে দেখতে পেলাম।হাতে
অনেকগুলো ব্যাগ।মনে হয় শপিং
করেছে।
মিথিলা রাস্তা পার হচ্ছিল,সেই সময়
একটি
ট্রাক ওপর দিক থেকে আসছিল।আমি
দৌড়ে
গিয়ে মিথিলাকে ধাক্কা দিয়ে
সরিয়ে
দিলাম।হ্যাঁ মিথিলা নিরাপদেই
আছে।শুধু হাতটা একটু
কেঁটে গেছে।কিন্তু
আমার রক্তে রাস্তাটা লাল হয়ে
যাচ্ছে।
আমার মনে হল আমি সবকিছু অন্ধকার
দেখছি।
হঠাৎ দেখি মিথিলা দৌড়ে আমার
কাছে
আসল আর বলল,
মিথিলা:আপনি???
আমি:হুমম
মিথিলা চিৎকার করতে লাগল,প্লিজ
কেউ
একটু সাহায্যে করুন।ওকে হাসপাতালে
নিয়ে
যেতে হবে।
তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।
↓
যখন জ্ঞান ফিরল তখন দেখি আমি
হাসপাতালে।পাশে
মিথিলা,মা ও রিমি বসে কাঁদছে।
কিন্তু আমার অবস্থা খুবই
খারাপ ছিল।আমি মিথিলাকে
বললাম,
আমি:মিথিলা কাঁদছ কেন?
এই কথা বলার সাথে সাথে মিথিলা
আমাকে জড়িয়ে
ধরে বলল,
মিথিলা:কেন করলে এমনটা?
আমি:তোমায় ভালবাসি বলে।
মিথিলা:শুভ আই লাভ ইউ।আমি
তোমাকে ভালবাসি।
আমি:কি ভাগ্য আমার!!! এতদিন আমি
তোমায়
ভালবেসেছিলাম।কিন্তু তোমার
ভালবাসা পাইনি,আর
আজ দেখো তুমি আমায় ভালবাসার
কথা বললে কিন্তু
আমার কাছে আর সময় নেই।
মিথিলা:তোমার কিছু হবে না।শুধু
একটি বার বল আমায়
ভালবাস?
আমি:আমি তো তোমার ছবি দেখেই
ভালবেসে
ফেলেছিলাম।কিন্তু মনের কথাটা
তোমায় বলতে
পারিনি,তাই আজ বলছি
আমি তোমায় ভালবাসি।আমার
নিজের থেকেও
বেশি।
মিথিলা আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে
বলল,
মিথিলা;আই লাভ ইউ টু শুভ।আমাকে
ক্ষমা করে দাও
প্লিজ।
আমি:আরে ভালবাসার মানুষের ওপর
রাগ করে থাকা যায়
না।তাই তো আজ আমি চলে যাচ্ছি।
মিথিলা:তোমার কিছু হবে না।
আমি:মিথিলা তুমি ডিভোর্স চেয়ে
আমার থেকে
আলাদা হয়ে যেতে চেয়েছিলে আর
আজ দেখ
আমিই তোমার জীবন থেকে সরে
যাচ্ছি।
মিথিলা:এক কথা কেন বার বার বলছ?
আমি বলছি তোমার
কিছু হবে না।
আমি:তোমার ভালবাসা যে আমি
পেয়েছি এটাই আমার
কাছে অনেক।তাই তো এর নাম দিলাম
"অনেক
কষ্টের ভালবাসা"।
হঠাৎ মিথিলার মনে হল শুভ
নাড়াচাড়া করছে না।মিথিলাও
বুঝে গেল যে শুভ আর নেই।মিথিলা
কাঁদতে
কাঁদতে বলতে লাগল তোমার
ভালবাসা আমি বুঝতে
পারিনি শুভ।আর যখন বুঝলাম তখন তুমিই
আমাকে
ছেড়ে চলে গেলে।তুমি ঠিকই
বলেছিলে সবাই
এক না,তার প্রমান তুমি দিয়ে গেল।
তুমি আরেকটি কথাও ঠিক বলেছ শুভ,এটা
তোমার
"""অনেক কষ্টের ভালবাসা"""
↓
------------------সমাপ্ত------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now