বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অামাদের এলাকাটা সন্ত্রাসপ্রবন।জোড় যার মুল্লুত তার অবস্থা আরকি।আমার বয়স যখন ষোল হল,তখনি এক বখাটের নজরে পড়ি আমি।আর বাধ্য হয়েই আমার সহজ সরল শিক্ষক আর বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা বাবাকেও চোখ মুছতে মুছতে আমাকে বাল্যবিবাহ দিতে হয়েছিল।আমিতো পুরাই বেকে বসেছিলাম বিয়ে করবনা বলে।তবুও পরিস্থিতির স্বীকার হয়ে বাধ্য হয়েছিলাম।
.
আমার সবচেয়ে ভয়ের সময়টা ছিল আমার বাসর রাত।যখন লাল বেনারশী পড়ে বাসর ঘরে বসেছিলাম,চোখ দিয়ে ভয়ে আর কষ্টে ঝর্নার মত পানি ঝড়ছিল।হৃৎপিন্ডের ধুকধুকানি দ্বিগুন হয়ে গিয়েছিল যখন দরজা আটকানোর শব্দে দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার স্বামী ঘরে প্রবেশ করেছে।ভয়ে যেন জড়সড় হয়ে যাচ্ছিলাম।
.
উনি ঘরে ঢুকেই প্রথমে বলল
-আরে তুমি এখনো এসব গহনা শাড়ি পরে বসে আছ?গরম লাগছেনা তোমার?চেঞ্জ কর এসব।কথাটা বলেই উনি ঘর থেকে বেড়িয়ে গেলেন। তারপর হাতে এক সেট থ্রি পিস নিয়ে এসে বললেন
-এটা আমার বোনের জামা।বিয়ে উপলক্ষে বানিয়ে দিয়েছিলাম।কিন্তূ ও পড়েনি কখনো।তুমি এটা পড়ে নাও।
.
আমি ড্রেসটা চেন্জ করলাম ।তারপর উনি নিজেই আমার শাড়ি গহনাগুলো গুছিয়ে আলমারিতে তুলে রাখলেন।উনার আচরন ভালই লাগল আমার কাছে।তবুও ভয়টা কাটছিল না।
.
তারপর উনি ফ্রিজ থেকে কিছু
মিষ্টি আর ফলমূল এনে আমার সামনে রাখলেন আর বললেন
-সাড়াদিনতো অনেক ধকল গিয়েছে তোমার উপর দিয়ে।নিশ্চয় পেট ভরে কিছু খেতে পারনি।খেয়ে নাও এগুলো।
.
আমি যতই উনাকে দেখছিলাম কেবল অবাক হচ্ছিলাম।বাসর রাত সম্পর্কে কত উল্টা পাল্টা কথা শুনেছি আগে।কিন্তূ আমি আমার হাজব্যান্ডের থেকে সম্পূর্ন তার বিপরীত ব্যবহার পাচ্ছিলাম।
.
খাওয়া যখন শেষ তখন উনি বললেন শুয়ে পড়।তুমি নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্ত।আর কোন সমস্যা হলে আমাকে বলো।আমি শুয়ে পড়লাম। উনিও এক পাশে শুয়ে পড়লেন।তারপর আবারো বললেন
-একটা ষোড়সী মেয়ে হিসেবে তোমার মনে নিশ্চয়ই অনেক ভয় কাজ করছিল।আমি যতটুকু পারছি তোমার সাথে কো অপারেট করারা চষ্টা করছি।এবার আমার আদর্শবান
স্বামীদের মত তোমাকে অনেক উপদেশ দেওয়া উচিত।যেমন আমার মা বাবার সেবা করবে।ঘরের সব কাজ নিজের মত করে করবে।আমার ভাই বোনকে কেয়ার করবে।ইত্যাদি অনেক কিছু।কিন্তূ আমি এসব বলবনা।কারন আমি জানি সংসার করার উপযুক্ত বয়স এখনো তোমার হয়নি।কিন্তূ তাই বলে তুমি এত পিচ্চি বা অশিক্ষিত মেয়ে না যে কিছুই বুঝনা।তাই তোমার প্রতি ছোট্র একটা অনুরুধ যে তুমি কখনো এমন কিছু করবেনা যাতে তারা মনে কষ্ট পায়।তুমি শুধু এই পরিবারটাকে তোমার নিজের পরিবারের মত ভাববে,তাহলেই
দেখবে কেউ তোমাকে প্রতিদ্বন্দী না ভেবে নিজেদেরই একজন ভাববে।আমি যথেষ্ট খেয়াল রাখব যেন তোমার সাথে কেউ অন্যায় আচরন করতে না পারে।কারোর কথায় বা কাজে যদি তুমি কোনরূপ কষ্ট পাও, কাউকে কিছু না বলে আমার সাথে শেয়ার করবে।তোমার যে কোন সমস্যা,যা লাগবে সব আমাকে বলবে।আমি সাধ্যের মধ্যে তোমার সব শখ পূরন করার চেষ্টা করব।আমাকে তুমি হাজব্যান্ড না ভেবে বন্ধু ভাববে,তাহলেই দেখবে তুমি কোনকিছুতেই আনইজি ফীল করবেনা।
.
আমার কোন কাজ বা ব্যবহার তোমার খারাপ লাগলে তা বলবে।আমি সেগুলো পরিহার করার চেষ্টা করব।আমি কখনো তোমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করবনা।
.
আমি স্পষ্টই বুঝেছিলাম যে উনি আমার উপর কোন দায়িত্ব চাপিয়ে না দিয়েই আমার কর্তব্যটা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।আমাকে শ্রেষ্ঠ বৌ হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন।উনার কথা আর ব্যবহারে আমি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলাম যে মনে মনে বোঝেছিলাম যে এই মানুষটার সাথে শুধু একজনম না হাজার জনম থাকা যাবে।সবশেষে উনি কেবল একটা রোমান্টিক কথাই জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সেটি
-বলতো আমি তোমার কে?যদিও মুখ ফুটে সে কথার উত্তর আমি অনেক পরে দিয়েছিলাম।কিন্তূ মনে মনে চিৎকার করে উত্তরটা সেরাতেই দিয়েছিলাম।বলেছি
লাম যে
-তুমি স্বামী।তুমি আমার স্বামী।আমার সাত
জন্মের ভাগ্য যে তোমার মত স্বামী পেয়েছি।শুধু একটা রাতের ব্যবহারটাতেই ঐ মানুষটার প্রতি আমার সাড়াজীবনের জন্য ভালবাসা জন্মেছিল।আমাদের বিয়ে হয়েছে দশ বছর।ভালবাসার কোন কমতি হয়নি আজ অব্দি।আমি দোয়া করি সব মেয়ের ভাগ্যেই যেন এমন স্বামী আর এমন বাসর রাত আসে।
সংগৃহীত
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now