বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

প্রিয়তা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X প্রিয়তা আমার স্মৃতিশক্তি ভালো না । অনেক কিছু মনে রাখতে পারিনা । প্রিয়তাকে আমি প্রথম কবে দেখেছিলাম সেটাও তাই মনে পড়ে না । আমি সকালে কি দিয়ে নাস্তা করেছি সেটা বিকেল হতেই ভুলে যাই । সেখানে প্রায় এক সৌরবছর আগের একটা নির্দিষ্ট দিন, কিভাবে মনে থাকতে পারে ? তবে, প্রিয়তার হাসি আমার খুব ভালো মনে আছে । সে কিভাবে হাসে, একবারে কতক্ষণ হাসে , হাসির মধ্যে কয় মিনিট ব্রেক থাকে , হাসলে তাকে কেমন দেখায় সব মনে আছে । মনে থাকে । চোখ বন্ধ করে তান্ত্রিকের মতো হাসি শুনে বলে দিতে পারি এটা প্রিয়তা । প্রিয়তার চশমার ফাঁকে আমি এমন ভাবে আটকেছি যে চশমার ফ্রেম বদলায় কিন্তু আমার যে আটকে থাকা সে আটকেই থাকতে হয় । আজ বসন্ত । এরকম বসন্ত আমি আরো অনেক দেখেছি । বেশি দেখা জিনিস বার বার দেখতে ভালো লাগে না । কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে , প্রিয়তা থাকলে ভালো হত । শাড়ি পরার পর সে যখন মাথায় স্কার্ফ জড়িয়ে নেয় তখন তাকে মনে হয় পৃথিবীর পবিত্রতম সুন্দর । এর থেকে পবিত্র হওয়া সম্ভব না । ফাপড় মারছিনা । অন্যেরা হয়ত বুঝবে না । স্বাভাবিক । তারা তো আমার চোখ দিয়ে তাকে দেখেনা । আমি প্রিয়তাকে যখন দেখি, তখন তাকে আসলে দেখিনা । পড়ি । সে একটা ঢাউস সাইজের কাব্যগ্রন্থের মত । যেমন ধরা যাক ট্রয় । ট্রয়ের নায়িকা হেলেন যেমন ট্রয়ের ধ্বংসে অবদান রেখেছেন না বুঝে । প্রিয়তা ঠিক সেরকম না বুঝে না জেনেই আমার চিন্তার জগৎ টা গুড়ো গুড়ো করে দিচ্ছে । সে এসব বোঝে কি বোঝে না, জানে কি জানেনা তাও আমি জানিনা ।প্রেমে পড়লে মানুষ হয় রোমিও হয় , নাহলে হয় দেবদাস । আমি তার কোনটাই হই নি । আমি হয়েছি মদন । এমন মদন হয়েছি যে , প্রিয়তার স্কার্ফের প্যাঁচ আমার কাছে মনে হয় ভালোবাসার মানচিত্র । তার কাঁধের ব্যাগ খানা মনে হয় প্রেমিকের আফসোস ভরা বোঝা । অবশ্য প্রিয়তার কয়েকটা ব্যাগ । আমি সবগুলোর সাইজ এবং রঙ মুখস্ত করেছি । এগুলো যদি পরীক্ষায় আসতো, তাহলে আমি হতাম রেকর্ড মার্কস ধারী ছাত্র । যেমন, পরীক্ষায় যদি আসতো, প্রিয়তার চশমা এবং তার চোখের বিবরণ দাও । আমি উত্তর দিতে গিয়ে পরীক্ষার খাতায়ই একটা শাহনামা লিখে ফেলতাম । তাতেও কম হয়ে যেতো । এক মহাকাব্যে তার বিবরণ দেয়া সম্ভব তো নয়ই , ধারে কাছেও নয় । তার উপর সে লেখে কবিতা । অনলাইনে এবং অফলাইনে আমি তার কবিতা পড়ি । একেকটা শব্দ উচ্চারণ করি আর বুকের বাম পাশে হাতুড়ি পেটার আওয়াজ হয় । সে যে কি কবিতা, যে না পড়েছে সে বুঝবে না । ওকে কবি বললেও ভুল হবে । ও হলো কারিগর । কবিতা রা ওর হাতে পূর্ণতা পায় । শুধু আমিই ওর সান্নিধ্য পেলাম না । সান্নিধ্য যে পাবো, তার জন্য তো মুখ ফুটে কিছু বলতে হয় । তাকে দেখলেই আমার বাকশক্তি ফুটুস করে উড়ে চলে যায় বাংলাদেশ থেকে হন্ডুরাস । আর আমি পড়ে থাকি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বেঞ্চে । চা সিগারেট খেয়েই সময়টা কভার করতে হয় । উপায় নেই । কেন জানি না তাকে আমি ভয় পাই । অতটুকু ছোট খাট একটা শরীর তার , অথচ ভয় পাই হাতির মত । যেন কিছু বললেই তুলে আছাড় মারবে । কিন্তু এই প্রিয়তাই আমার রাতের বেলার গানের সুর । আনাড়ি হাতে লেখা গল্পের নায়িকা । যেমন তেমন নায়িকা নয় । কলকাতার বাংলা থ্রিলার মুভির নায়িকার মত । সাবলীল , সহজ কিন্তু চরিত্র হিসেবে প্রচন্ড শক্তিশালী । প্রিয়তা আসলেই সেরকম শক্তিশালী চরিত্র । তার কাছে গিয়ে ক্যাল ক্যাল করতে করতে বলবো , আমি তোমাকে ভালোবাসি হ্যানো ত্যানো ইত্যাদি ? গিলে খেয়ে ফেলে দেবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে ? নেই । সুতরাং , প্রেমে পড়ে আছি পড়েই থাকি । এ এক অন্যরকম অনুভূতি । যে না পড়েছে এমন প্রেমে , তাকে একশোটা প্রেমের উপন্যাস ভর্তা বানিয়ে খাইয়ে দিলেও বুঝতে পারবে না আমি কোন সমুদ্রে পড়েছি । প্রিয়তাকে যে বলবো , আমার হাত ধরে একটু টেনে তুলো , হাবু ডুবু খেতে খেতে পেট ফুলে মরে যাচ্ছি । সে সাহস আমার কবে হবে কে জানে ? প্রিয়তা পিংক ফ্লয়েড শোনে । সে বলে পিংক ফ্লয়েড ইজ লাভ । আমি বলি তা তো বটেই । মনে মনে বলি, পিংক ফ্লয়েড নয় , আমাকে ‘কম্ফোরটেবলি নাম্ব’ করে দিয়েছো তুমি । বলেছিলাম, তোমার নাম টা অনেক সুন্দর । সে বোধ হয় জিজ্ঞেস করেছিলো , কিরকম ? আমি বলেছিলাম , কোল্ড প্লের যেমন সবকিছু রঙিন , তোমার নামটাও সেরকম রঙিন । এর চে ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবোনা । সে বলেছিলো, বুঝেছি । কি বুঝেছিলো আর কি বুঝেনি, সেটা সে ই ভালো জানে । আমি শুধু জানি আমি তার প্রত্যেকটা দৃষ্টিগোচর কাজের প্রেমে পড়ে আছি । মনের মধ্যে জায়গা দিলে হয়ত দৃষ্টির অগোচরের কাজগুলোও বাঁধাই করে রাখতে পারতাম । সে সুযোগ সে দিচ্ছে না । তার মনের চারিদিকে চীনের মহাপ্রাচীরের মত ফুট কে ফুট চওড়া আর উঁচু শক্ত পোক্ত দেয়াল । সে দেয়াল ভাঙার জন্য আমাকে প্রেমের বারুদ ভরা কামানের গোলা নিক্ষেপ করা ছাড়া পথ নেই । বারুদ আছে , গোলা আছে , শুধু কামানটাই নেই । মানে সাহস নেই । কামান টা হাতে পেলেই তাকে বলবো, লুকিয়ে থাকতে চাইলে আমার কাছে এসো । দেয়াল দিয়ে কি লাভ ? যদি তোমার পাহারাদারই না থাকে ! প্রিয়তা সারারাত ঘুমায় না । ভোর বেলা সূর্য ওঠার পর তার চোখে একটু ঘুম আসে । কি যে সে ভাবে ! তার এত কিসের ব্যথা যা তাকে ঘুমাতে দেয় না , আমার খুব জানার ইচ্ছা । একবার জানতে পারলে আমি সেসব বিদায় করার প্রকল্প হাতে নিতাম । প্রকল্পের বাজেট আমার নিজের । আমিই সেখানে প্রকৌশলী, আমিই ঠীকাদার । আর পুরোটা প্রকল্প জুড়ে শুধু প্রিয়তার নাম । যে মানুষের নামের মধ্যে এত রঙ, কাজের মধ্যে আমাকে চুবিয়ে রাখা প্রেম সে কেন রাতের বেলা শান্তিতে একটু ঘুমাতে পারবে না । এ ঘোরতর অন্যায় । কতবার চশমার ফাঁক দিয়ে তার লাল লাল চোখ দেখেছি, তার হিসেব রাখিনি । যতবার দেখেছি ততবার ধক করে একটা কি জিনিস লাফিয়ে উঠেছে বুকের ভেতর । এ বসন্তে যদি এই ইনসমনিয়ায় ভোগা মেয়েটাকে ভালোবাসি বলতে পারতাম, খুব ভালো হত । কিন্তু সাহস আসছে না । ভালোবাসার কথা বলার জন্য বুকের মধ্যে বিপ্লবের সমান আগুন থাকতে হয় । আমার বিপ্লব টা করার জন্য আমি প্রস্তুত কিনা বুঝতে পারছিনা । কবীর সুমন বলেছিলেন, “প্রেম আর বিপ্লব একই । বিপ্লবের সময় বিপ্লবীর মধ্যে যে প্রেম প্রেম আগুন টা থাকে সেটাই তার বিপ্লবের জ্বালানী । বিপ্লবী কপর্দকহীন গীটার বাদক তখন গীটারের তার ছিঁড়ে গেলে চলে যাবে সোজা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে । গিয়ে বলবে , আমার গীটারের তার ছিঁড়ে গিয়েছে আমাকে তারের ব্যবস্থা করে দিন” । কবীর সুমন লোকটা আর্টিস্ট মানুষ , যা বলেছে গুছিয়ে বলেছে । তার গানের মধ্যেও প্রেমের ছড়াছড়ি । তিনি গুছিয়ে হয়ত প্রেমের ব্যাখ্যাও দিতে পারবেন । আমি পারবোনা । যদিও প্রেমের ছড়াছড়ি আমার বুকের মধ্যেও আছে । তা নিয়েই আমি প্রিয়তাকে বলতে চাই বোঝাতে চাই, পৃথিবীটা তোমার নামের মতই রঙিন । এত কাঠখোট্টা নয় যে তা তোমাকে রাতের বেলা ঘুমাতে দেবে না । আমি একদিন বিপ্লবী প্রেমিক হয়ে ফরাসি বিপ্লবকে হার মানাতে চাই । একদিন ভোর বেলায় প্রিয়তা কে আমি বলতে চাই , “আমার প্রেম চাই প্রিয়তা, তোমার প্রেম চাই” । -বাপ্পী ইমাম


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ প্রিয়তা আপনাকে চাই; প্রতিক্ষণ,সারাক্ষণ
→ প্রিয়তা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now