বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৫)
আবুল ফাতাহ
.
চার
ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেল।হাতমুখ ধুয়ে দেখি আটটা বাজে।আফরীনের কলেজ ন’টা থেকে।সকালে যে যেতে বলেছে,সেটা নিশ্চয়ই কলেজের আগেই।এখন যেতে যেতে ও কলেজে চলে যায় কিনা সেটা একটা চিন্তার বিষয়।আর চলে না গেলেও দেরী করে যাওয়াতে কতটা রাগ করবে সেটা আরেক চিন্তার বিষয়।
কিছুক্ষণ ভেবে টেবে ঠিক করলাম খাওয়া দাওয়া না করেই রওনা দিয়ে দেয়া যাক।ওকে না পেলে কলেজে চলে যাব।
হাত মুখ ধুয়েই বেরিয়ে পড়লাম।কী মনে করে যেন আজ সিএনজি নিলাম।আমার জন্য বেশ দুঃসাহসিক কাজ বলতে হবে।এর আগে আমার একার জন্য কোনোদিন সিএনজি নিয়েছি কিনা মনে করতে পারছি না।নেইনি বোধহয়।এর আগে কারো রাগ ওঠার আগেই সেটাতে জল ঢেলে দেবার প্রয়োজন পড়েনি।আজ কেন পড়ছে?আমি ওদের বাড়িতে চাকরী করি,চাকরীটা না থাকলে অনেক বড় বিপদে পড়ব-এজন্য? নাকি অন্য কোনো ব্যাপার আছে?
উত্তর খুঁজতে গেলাম না।সব উত্তর জানতে নেই।
পরবর্তী আধ ঘন্টার মধ্যে আমি আফরীনদের বাসার সামনে চলে এলাম।বাসার সামনে সোলেমান ভাই গার্ড দিচ্ছে।গার্ড দিচ্ছে না বলে ঝিমাচ্ছে বলাটাই ভাল।সোলেমান ভাইয়ের ঝিমানো রহস্য অন্যান্য গার্ডদের মত নয়।সোলেমান ভাইয়ের স্ত্রীর খুব অসুখ।কী অসুখ বিস্তারিত জানি না,শুধু জানি অনেক টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।সেজন্য সোলেমান ভাই দিনে আফরীনদের বাসায় আর রাতে অন্য একটা কমার্শিয়াল বিল্ডিং-এ গার্ড দেয়।কতদিন একটা ঘন্টা বিছানায় পিঠ ঠেকিয়ে মানুষটা ঘুমান না,সে হিসাব বোধহয় তার কাছেও নেই।এই ছোটখাট গোবেচারা মানুষটা অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি এক সমুদ্র ভালবাসা কোথায় লুকিয়ে রাখে জানতে খুবই ইচ্ছে হয়।
কিছুদিন আগে আরশিয়া নামে একটা মেয়ে আমার মাধ্যমে বেশ কিছু টাকা দিয়ে গিয়েছিল সোলেমান ভাইকে।সে টাকাও ফুরিয়ে যাচ্ছে দ্রুত।এরপর কী হবে সে প্রশ্নের উত্তর আমাদের কারোই জানা নেই।সোলেমান ভাইয়ের স্ত্রীকে উৎসর্গিত একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম আমি।
‘সালাম অভ্রু ভাই।’ মুখ ভর্তি হাসি সোলেমান ভাইয়ের।
‘ওলাইকুম আস সালাম।’ আমি ততধিক হাসি মুখে নিয়ে জবাব দিলাম।আমাকে দেখলে মানুষটার মুখের হাসি এতটুকুও ম্লান হয় না কখনো।তার সাথে কথা বলতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আমার মুখেও একটা হাসি ফুটে ওঠে।
‘কেমুন আছেন?’
‘বলতে পারছি না,সোলেমান ভাই।’
‘কেন ভাইজান?’
‘আফরীন বাসায় আছে কিনা তার উপর নির্ভর করছে আমার ভাল থাকা না থাকা।ও বাসায় থাকলে ভাল,নইলে নাই।’
‘হে হে,তাইলে আপনে ভালই আছেন।আপুমনি আইজ কলেজে যায় নাই।’
‘তাইনাকি?’আমি গার্ড রুমে ঝোলানো দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে অবাক হলাম।কলেজে যেতে চাইলে এতক্ষণে বেরিয়ে যাবার কথা আফরীনের।আজ কি যাচ্ছে না?
‘হুম,তাহলে তো তাই মনে হচ্ছে।আচ্ছা আমি তাহলে ভেতরে গিয়ে ঘটনা দেখে আসি।’ সোলেমান ভাইয়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি গেট পেরিয়ে আফরীনদের সুবিশাল বাড়িটাতে ঢুকে পড়লাম।দোতলার বা দিকের দ্বিতীয় কামরাটাই আফরীনের।
দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খুক করে কাশি দিলাম।
‘ভেতরে আসুন।’ভেতর থেকে বলল আফরীন।
আমার কাশিটা পরিচিত হয়ে গেছে আফরীনের কাছে।আমি ভেতরে ঢুকলাম।ঢুকতে ঢুকতে ধারণা করলাম কলেজ ড্রেস পরা আফরীনকে বসে থাকতে দেখব।তা না,মেয়েটা হলুদ হলুদ কী একটা রঙের জামা পরে আছে।আমাকে ঢুকতে দেখেই বলে উঠল,‘আচ্ছা বলুন তো,আমি যে রঙের জামা পরে আছি সেটার কী নাম?আপনাকে এর আগে আমি বলেছিলাম একদিন।’
আমি মহা ফ্যাসাদে পড়ে গেলাম।নামটা যে বলেছিল সেটা আমারও মনে আছে কিন্তু নামটা মনে পড়ছে না কিছুতেই।অনেক ভেবে টেবে বলে দিলাম,‘কোষ্ঠ!’
‘কোষ্ঠ?এটা আবার কী জিনিস?’
আমি আমতা আমতা করতে লাগলাম।শব্দের অর্থটা বলা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না।খুবই আপত্তিজনক।আফরীনকে আমার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললাম,‘ইয়ে...কোষ্ঠ মানে...শুনতে হবে না।’
‘কোষ্ঠ মানে শুনতে হবে না নাকি অর্থটা শুনতে হবে না?’
‘অর্থটা শোনার দরকার নেই।ভয়াবহ রকমের অশ্লীল অর্থ।’
‘জামার রঙ কিভাবে ভয়াবহ রকমের অশ্লীল হয় সেটা আজ আমি শুনবই।’
‘কোষ্ঠ মানে গু!’ আমি দুম করে বলে দিলাম।
‘ছিহঃ!’
‘দেখো,তুমি যে রঙের জামা পরেছো সেটা কিন্তু ঠিক হলুদ না।তুমি আমাকে যে নাম বলেছিলে সেটাও মনে পড়ছিল না তাই আরকি।তবে তুমি লক্ষ্য করে দেখো রঙটা কিন্তু মিলে যায়!’
‘আপনি আর কোনো কথাই বলবেন না।এটা বাসন্তি রঙ।’
‘আচ্ছা বলব না,’ বলেই বললাম,‘তুমি আজ কলেজে না গিয়ে কোষ...বাসন্তি রঙের জামা পরে বসে আছো কেন?’
‘এমনি।’
‘আজ কী সাপ্তাহিক ছুটি?’
‘কেন সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বোধহয় আর কোনো বিশেষ ছুটি হতে পারে না?’ রাগ রাগ গলায় জবাব দিল আফরীন।
‘পারবে না কেন,অবশ্যই পারে।কিন্তু যদ্দুর মনে পড়ছে আজ কোনো বিশেষ দিবস ফিবসও না।অবশ্য আজকাল তো দিবসের অভাব নাই।বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস!এই দিনে পৃথিবীর সবাই মিলে চোখ মুখ শক্ত করে শুধু হাতই ধুয়ে যাচ্ছে,ব্যাপারটা একবার কল্পনা করো তো?’
আফরীন রাগ ভুলে খিলখিল করে হেসে উঠল।
‘কী কল্পনা করেছো?’
‘না,আপনার কথা শুনে হাসছি।এই দিনে সবাই মিলে হাত ধোয় সেটা কে বলল আপনাকে?হাত ধোয়ার ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্যই এই দিবস।’
‘তা জানি,কিন্তু নামটা লক্ষ্য করলে আমি যা বললাম সেটাই মনে হয়।হয় কিনা বলো?’
‘হয়।’
‘আজ কী ধোয়া দিবস?’
‘আজ কিছুই ধোয়া দিবস না।তাছাড়া দিবস যে সবসময় বিশ্ব কিংবা সমাজকেন্দ্রীক হবে তা তো না।ব্যাক্তিকেন্দ্রীকও তো হতে পারে।’
‘তা তো পারেই।আজ কি বিশেষ কারো জন্মদিন?’
আফরীন কটমট করে আমার দিকে তাকাতেই মনে পড়ে গেল আজ ২৯ ডিসেম্বর।আমি বুঝে ফেললাম,সেই বিশেষ ব্যাক্তিটা এই মুহুর্তে আমার সামনেই দাঁড়ানো।‘ওহ মাই গড! আগে বলবে না?হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ।’
‘থ্যাঙ্কস।’ আফরীন মুখ গোমড়া করে জবাব দিল।
‘আসলে হয়েছে কী...’
‘ওকে,লিভ ইট,’ আফরীন আমার মুখের কথা কেড়ে নিল।
মেয়েদের চোখে ছেলেদের “দিবস” ভুলে যাওয়াটা মহা অপরাধ।আর আমি সেই অপরাধ করে ফেলছি।কিছুটা প্রায়শ্চিত্ব করতেই হবে।‘আচ্ছা,আফরীন,আজ যেন তোমার কত তম জন্মদিন?’
‘আপনি সেই পুরনো প্রবাদটা জানেন না?’
‘কোনটা?’
‘ছেলেদের কামাই আর মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করতে নেই?’
‘জানি।তবে আমার বিশেষ একটা প্ল্যান ছিল।না বলতে চাইলে নাই।’ আমি জানি আফরীন বলবে।এমনিতেও ওর বয়স মোটামুটি আমি জানি,কিন্তু আজ কততম জন্মদিন সেটা নিয়ে খানিক সন্দেহ আছে।আফরীন বলবে,কারণ আমার “বিশেষ প্ল্যান” গুলোর ব্যাপারে ভালই জানা আছে ওর।
‘সতেরো।আপনার প্ল্যানটা কী?’
‘প্ল্যানটা হল আজ সতেরোটা পথশিশুকে নিয়ে আমরা পার্টি করব।’
‘সত্যি?’
‘একশবার সত্যি।আমাদের পার্টি হবে পার্কে।কেকের টাকা আমি দেব।’
আফরীন কথা না বলে উজ্বল মুখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকল।একটু আগের সমস্ত রাগ বিস্মৃত হয়েছে।
পাঁচ
বিকেল হয়ে গিয়েছে।আমি আর আফরীন উত্তরার একটা পার্কে বসে আছি ঘাসের উপর।আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে রেখেছে সতেরোজন পিচ্চি-পাচ্চা।কারো প্যান্ট ঢোলা,কারো বা আবার প্যান্টই নেই!স্রেফ জাঙ্গিয়া পরে আছে।ইলাস্টিক ঢিলে হয়ে পড়ায় একটু পর পরই টেনে জায়গামত আনছে।কয়েকজন ফ্রক পরা মেয়েও আছে।তাদের জামা কাপড় ছেড়া-ময়লা হলেও এরকম পরার অযোগ্য না।মেয়েরা ফ্যাশন সচেতন,সেটা র্যাম্পে হলেও,রাস্তায় হলেও!
আমাদের সামনে উনিশটা বিরিয়ানীর প্যাকেট আর একটা কেকের বড়-সড় প্যাকেট রয়েছে।যদিও সুঘ্রান আসছে বিরিয়ানী থেকে এরপরও পিচ্চিদের নজর কেকের প্যাকেটের দিকে।বিরিয়ানী মাঝে মধ্যেই খেতে পায় ওরা।সমস্ত রাজনৈতিক কিংবা কুলখানির অনুষ্ঠান এদের নখদর্পণে।কিন্তু কেক ব্যাপারটা তাদের কাছে সুখস্বপ্নের মতই দুষ্প্রাপ্য।
আজ সকাল থেকে এ পর্যন্ত আফরীনের সাথে ভোঁ ভোঁ করে চক্কর কেটেছি পুরো শহরে।আফরীনকে হাসিয়েছি,রাগিয়েছি আবার হাসিয়েছি।আফরীন রেগেছে,হেসেছে আবার রেগেছে।
এখন আমরা দলবল নিয়ে সতেরোটা সতেরো,অর্থাৎ পাঁচটা সতেরো বাজার অপেক্ষা করছি।সতেরোটা সতেরোতে সতেরোজন বাচ্চাকে নিয়ে সতেরোতম জন্মদিন পালন করার ব্যাপারটা অভিনব।আফরীন খুবই উত্তেজিত এটা নিয়ে।
প্রথমত আমার আইডিয়া ছিল শুধু কেক।আফরীন বলল,বাচ্চাগুলোকে সে বিরিয়ানী খাওয়াতে চায়।খানিক ভড়কে গিয়ে উনিশ প্যাকেট বিরিয়ানীর দাম হিসেব করছিলাম এমন সময় আফরীন টাকা বের করে দিল।বিরিয়ানী কেনার পর দেখলাম,যে পরিমাণ টাকা আছে তাতে করে এই বাচ্চাগুলোর জন্য মোটামুটি মানের শীতের কাপড় হয়ে যাবে।জামা কাপড়ও কেনা হয়েছে।তবে সেগুলো এখন লুকন্ত।
“লুকন্ত” শব্দটা বেশ।তবে মনে হয় না বাংলা ভাষায় এরকম কোনো শব্দ আছে।না থাকলে নাই।রবীন্দ্রনাথ শব্দ আবিষ্কার করতে পারলে অভ্র কেন পারবে না?
পার্টি শেষে জামা কাপড় বিতরণ হবে।আপাতত অপেক্ষা সতেরোটা সতেরো বাজার।এখন বাজছে সতেরোটা তেরো।আমি গলা উঁচিয়ে বললাম,‘ওকে বাচ্চারা,আর চার মিনিট পর আমাদের পার্টি শুরু হবে।কেক কাটার সাথে সাথেই তোমরা সবাই “হ্যাপি বার্থ ডে টু আফরীন” বলে উঠবে,ঠিক আছে?’
বাচ্চারা আমার কথায় সমস্বরে সায় জানাল।তাদের হল্লায় ফিরে তাকাল কয়েকজন প্রকৃতিসেবী।তবে এদিকে আসার আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেউ।দুর থেকেই পাশ কাটাচ্ছে। সম্ভবত ধারণা করছে,এটা বোধহয় পথশিশুদের স্কুল জাতীয় কিছু।কাছে এলেই ক্যাঁক করে ধরে চাঁদা চাওয়া হবে!
পাচটা সতেরো বাজতেই আমার ইশারায় আবার হল্লা শুরু হল।আফরীন মুখে পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাসিটা নিয়ে কেক কাটল।
পার্টিটা দ্রুতই শেষ হয়ে গেল।সবাই কেক খাবার পর বিরিয়ানী আর জামার প্যাকেট বিতরণ করা হল।বাচ্চাগুলো চোখ ভরা কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিল।একটা পিচ্চি মেয়ে বাড়িতে তাঁর ছোট ভাইয়ের জন্য এক প্যাকেট বিরিয়ানীর আবদার করতে আমি আমার প্যাকেটটা দিয়ে দিলাম।
সন্ধ্যা নেমে পড়বে খুব শিঘ্রই।কুয়াশার কণাগুলো আকৃতি পাচ্ছে যেন কোনো জাদু বলে।গাছের দু একটা করে পাতা সবসময়ই ঝরছে।পাক খেতে খেতে নেমে এসে পতনের পর মৃদু মর্মর ধ্বণি তোলে।
আফরীন বিরিয়ানীর প্যাকেট খুলে ফেলল।‘নিন,আমার এখান থেকে নিয়ে খান,’একটু বিরতি দিয়ে বলল,‘আচ্ছা,আপনি কাল কী যেন কাজের কথা বলছিলেন,সেটা কী?’
‘আছে একটা কাজ।’
‘সেটাই তো জানতে চাইছি।আপনার তো আবার রাত বিরেতে বউ খুঁজতে যাবার অভ্যেস আছে।এটাও তেমন কোনো কাজ কিনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।’
‘হয়ে কী করবে?’
‘সম্ভব হলে বাধা দেব।’
‘কেন বাধা দেবে? আমার বউ নিশ্চয়ই তুমি খুঁজে দেবে না?’
‘খুঁজে না দিলাম...’এরপর বিড়বিড় করে আফরীন কী বলল শুনতে পেলাম না।ঠোঁটে দুষ্টুমির একটা হাসি।
আমিও ইচ্ছে করেই শুনতে চাইলাম না।কিছু একটা আন্দাজ করে নিলাম আমার মত করে।এরপর জহির সাহেবের কাহিনী খুলে বললাম ওকে।
‘ইন্টারেস্টিং।জহির আঙ্কেলের মেয়ে আছে সেটা তো জানতাম না।’
‘তিনিই নিজেই কি জানতেন?’
‘তাও ঠিক।’
‘এখন কী করতে চাচ্ছেন?’
‘আমি একটা ব্যাপার নিয়ে ধন্দে পড়ে গেছি,বুঝলে? আমি মোটামুটি নিশ্চিত ইয়াসমিন ম্যাডাম কোনো না কোনো সূত্র রেখে গেছেন।না রেখে যাবার কোনো কারণই নেই,যেখানে তাঁর মেয়ে খুবই বিপদে।এবং সেটা খুব বেশি সরল সূত্র।এজন্যই হয়ত খুঁজে পাচ্ছি না সেটা।কিন্তু সবচাইতে অবাক করা ব্যাপার হল,ইয়াসমিন ম্যাডামের পত্রবাহক কিভাবে গাড়ি হাকিয়ে আসেন?’
‘আচ্ছা,এমন কী হতে পারে না,জহির সাহেবের মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে।মেয়ে অনেক সুন্দরী বলে হয়ত বড়লোক জামাই পেয়েছেন।তাকে দিয়েই...’ বলতে বলতেই থেমে গেল আফরীন।বুঝতে পারছে সেটা হবার নয়।চিঠিতেই স্পষ্ট লেখা আছে তাঁর মেয়ের বিয়ে হয়নি।বিয়ে হলে এই চিঠি কিছুতেই পাঠাতেন না ভদ্রমহিলা।
‘আপনি তো কিছুই নিচ্ছেন না,’ অনুযোগের সূরে বলল আফরীন।
ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চাইছিলাম আমি-এক প্যাকেট থেকে দুজনে খাওয়া।কিন্তু আফরীন সেটা চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।আমি পাশ কাটাবার জন্য বললাম,‘আচ্ছা,আজ তোমার জন্মদিন গেল,তোমার বাসায় তোমার বাবা মা কোনো আয়োজন করেননি?’
‘নাহ,আমি মানা করে দিয়েছি।’
‘কেন?’
‘কারণ তাঁরা আমাকে এই অকৃত্রিম আনন্দ দিতে পারতেন না।ঝা চকচকে পার্টি-টার্টি দেখলেই আমি অসুস্থ বোধ করি।’
‘কী বললে,টাট্টি?’
‘আপনি না!’কপট রাগ আফরীনের গলায়।‘পার্টি-টার্টি বলেছি।কেন টাট্টি মানে কী?আবার বলবেন না যেন টাট্টি আর সেই কোষ্ঠ না কী যেন,দুটো একই জিনিস।’
‘আসলে...সেটাই বলতে চাচ্ছিলাম!’
‘ইয়াক!আপনার মাথায় এই জিনিস ছাড়া আর কিছু আসে না?’
‘আসবে না কেন?অবশ্যই আসে।আচ্ছা বাদ দাও। আজ তোমার জন্মদিন অথচ বাবা মা’কে রেখে আমার সাথে বসে আছো,এটা ঠিক হচ্ছে না।’ বলতে গিয়েই যেন মাথায় কিসের যেন বিস্ফোরণ ঘটল।অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটা কথা ধরি ধরি করেও ধরা যাচ্ছিল না অনেক্ষণ থেকেই।এই মাত্র মাথায় ঝিলিক মেরে গেল।একটা বাক্য।সেই বাক্যটাতে মনে হচ্ছে অনেক বড় একটা রহস্যের সমাধান রয়েছে।
আমি এইমাত্র বলা কথাটা আবার মনে মনে পুনরাবৃত্তি করলাম,“আজ তোমার জন্মদিন অথচ বাবা মা’কে রেখে আমার সাথে বসে আছো,এটা ঠিক হচ্ছেনা।”
ইয়েস!“আজ তোমার জন্মদিন”।এই বাক্যটা এইমাত্র বড় একটা রহস্যের সমাধান করে দিয়েছে।আনন্দে সবগুলো দাঁত বের হয়ে পড়ল আমার।ঠিক সেই সময় আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম,আফরীন যেন কখন নিজ হাতে এক লোকমা খাবার আমার মুখের দিকে বাড়িয়ে ধরেছে।
আমি চমকে উঠে সেদিকে তাকাতেই সন্ধ্যার নিভু নিভু রাঙা আলোয় ওর মুখে এক ধরনের মায়া দেখতে পেলাম।এই মায়ার উৎস আমাদের চারপাশের এই জগত হতে পারে না।
.
(পরের পর্ব আজ রাত দশটায় প্রকাশিত হবে)
.
এই মেলায় অভ্র সিরিজের নতুন বই 'অভ্রত্ব' প্রকাশিত হয়েছে রোদেলা প্রকাশনী থেকে। প্রথম মূদ্রণ ইতোমধ্যেই শেষ, দ্বিতীয় মূদ্রণ মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। স্টল নাম্বার : ২১৩-১৫। অনলাইনে কিনতে আমাদের পেজে নক করুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now