বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
(Apu Tanvir)
ভাইয়ার নামে হুলিয়া জারি হয়েছে । তাকে যদি বাড়ির আসে পাশে দেখা যায়, যেই দেখবে সেই যেন নিজ দায়িত্বে তাকে প্যাদানি দেয় এবং সেই সাথে তার সাথে পরিবারের সকল সদস্যের দেখা সাক্ষাত এবং কথা বার্তার বলার উপরেও নিষেজ্ঞা জারি হয়েছে । সেই দুর্ঘটনার পরে আমি নিজের এখন নিজের কাছে সুস্থির হতে পারি নি তার ভেতরে ভাইয়ার ফোন এসে হাজির ।
-অপু কোথায় রে তুই ? ঢাকায় এসেছিস ?
-হুম ।
-এক কাজ কর আজকে সন্ধ্যার দিকে আয় দেখা করি !
একটু মেজাজ খারাপ হল । আমি আর ভাইয়া একস সাথে ঢাকায় প্রায় তিন সাড়ে তিন বছর । কিন্তু আমরা এক সাথে থাকি না । আমার কেন জানি তার সাথে থাকতে ভাল লাগে না । আমি একাই থাকতে ভালবাসি । ভাইয়াও সেকরম । খুব দরকার না পরলে সে আমাকে ফোন করে না ! এমনি এমনি দেখা করার তো প্রশ্নই আসে না । আর আজকে বলতেছে আয় দেখা করি ।
অবশ্য তার আকামের জন্য যে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই জন্য হয়তো সরি ফিল করছে । একবার ভাবলাম যে বলি আমার কাজ আছে কিন্তু বললাম না ।
ভাইয়া বলল
-সুচিও দেখা করতে চাইছে তোদের সাথে ?
-তোদের ? তোদের মানে ?
-আরে তুই আর মীমের সাথে । মেয়েটার নাম মীম তো ?
মীমের নাম আমি ঠিক মত জানি না ভাইয়া দেখি ঠিক ঠিকই জানে । আর জানবেই না কেন ? ভাইয়ার সাথেই তো বিয়ে হতে যাচ্ছিলো । যাকে রেখেই সে পালিয়ে গেছে । আমি কি বলবো খুজে পেলাম না ।
-মীম তো তোর ভার্সিটিতেই পারে । তাই না ?
-হুম !
-ওকে ফোন করে দে ।
আর কিছু না বলে ফোন রেখে দিল । আমি মীম কে ফোন দিলাম না । কেবল একটা মেসেজ করে দিলাম । বাসা থেকে আসার পর মীমের সাথে আমি একদিনও কথা বলি নি । বলতে পারি নি । ভাইয়ার জন্য যা হয়েছে সেই জন্য ও নিজে যেমন অস্বস্থিতে আছে আমিও ঠিক তেমনই । কি কথা বলবো কিংবা কি কথা বলা উচিৎ এখনও বুঝতে পারছি না । আরও কটা দিন যাক তারপর বোঝা যাবে ।
সন্ধ্যার সময় ঠিক সময়ে হাজির হলাম । গিয়ে দেখি ভাইয়া আর তার পাশে সেই সুচি আপু বসে আছে । একটা কথা বলতেই হবে যে দুজনকেই মানিয়েও বেশ । আমাকে দেখে হাসলো ।
ভাইয়া বলল
-মীম কই ?
-আসছে ।
-একসাথে আসবি না ?
-আরে আমরা কি একসাথে থাকি নাকি ? ও কখন আসবে আমি কিভাবে বলবো ? আসবে কি না তাও জানি না ।
-কথা হয় নি ।
-না !
ভাইয়া একটু রাগ করতে গেল কিন্তু সুচি আপুর জন্য কিছু বলল না । সম্ভবত মীম আসবে না । কেন আসবে ? আসার কি কোন কারন আছে ?
কিন্তু আমাকে খানিকটা ভুল প্রমানিত করে দিয়েই মীমকে আসতে দেখলাম । নীল রংয়ের একটা চুড়িদার পরে আসছে । রেস্টুরেন্টের উজ্ঝল আলোতে ওকে যেন আরও বেশি সুন্দর লাগছে । মাথাটা একটু নিচ করে আস্তে আস্তে হাটতে হাটতে আসছে ।
আমি তাকিয়ে রইলাম কিছুটা সময় । এসে বসলো ঠিক আমার পাশে সিটে । চারজনই কিছু সময় কোন কথা বলল না । আসলে কেউ কোন কথা শুরু করতে পারছে না । কি বলবে কিভাবে বলবে কেউ জানে না । সুচি আপুই সবার আগে কথা বলল । আমাদের ভেতরেই সেই মোটামুটি খানিকটা নির্ঝাট । অথচ সব ঝামেলা তাকে নিয়েই বেধেছে ।
-তো মীম তোমার কি খবর ?
মীম খুব আস্তে করেই বলল
-ভাল ।
মীমের কন্ঠস্বর এই প্রথম আমি শুনলাম । ঐদিন একটা বারের জন্যও আমি শুনতে পারই নি ।
ভাইয়া বলল
-দেখ আমি আজকে তোমাকে মানে তোমাদের ডেকেছি সরি বলার জন্য !
সকল আকাম করে আমাদের ঝামেলায় ফেলে এখন সরি । তুই যদি আমার থেকে ছোট হলে আজকে তোর খবর ছিল !
তারপর দুজন মিলে আমাদের কে আরও অনেক কথা বললেন তাদের কিভাবে পরিচয় কিভাবে কি সব কিছু । আমরা দুজনই বলতে গেলে চুপ করেই শুনে গেলাম । কোন কথার ভেতরে গেলাম না । যখন রেস্টুরেন্ট থেকে বের হলাম তখন প্রায় ১০ টা বেজে গেছে । ভাইয়া বলল ওকে হলে রেখে আসতে । না বললেও আমি ওর সাথে যেতাম এমনিতেও ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now