বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#ছোট_গল্প- কন্যা্ দর্শনের মুহূর্ত
-মিশু সাহেব, মিশু সাহেব।
খুব চিকন কণ্ঠস্বরে কেউ আমাকে ডাকছে। এমন ভাবে আমাকে একজন ডাকতো, মেসের সাহাবুল ভাই। সবার নামের শেষে তিনি সাহেব জুড়ে দেন । নামের শেষে সাহেব শুনতে কার না ভালো লাগে। একদিন তিনি মেস থেকে বিদায় নিয়ে অন্য মেসে চলে গেলেন। মাঝে মধ্যে মেসে আমাদের সাথে দেখা করতে আসেন, আজও হয়তো এসেছেন। আমি দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে এলাম। ৪০-৪৫ বছর বয়সী এক মহিলা দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে-
-আপনি মিশু সাহেব?
-জ্বি আমি মিশু!
-তিনতিলিকা ম্যাডাম আমাকে পাঠিয়েছেন। আপনার ফোন অফ তাই।
-আচ্ছা আমি ফোন অন করছি। আপনি যান।
-খুব দরকার নাকি! তাড়াতাড়ি করেন।
-আচ্ছা।
রাতে একটা বিশ্রী কারণে ইদানিং ফোন অফ রাখছি। ফোন অন করতেই তিনতিলিকার ফোন-
-মিশু তোর ফোনে রাত থেকে ট্রাই করছি। বন্ধ করে রেখেছিস ক্যান সেটা আগে বল।
-ওটা পরে বলবো, আগে বল আমাকে কি দরকার?
-বিকালে একবার আমাদের বাড়িতে আসতে পারবি?
-সরি, আমার একটা কাজ আছে।
-কি জন্য আসতে বলছি সেটা না শুনেই আসতে চাচ্ছিস না?
-হ্যাঁ, বল কি জন্য?
-তোকে দেখতে খুব ইচ্ছে করছে! গত রাত তোকে নিয়ে একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছি রে! তখন থেকে তোর ফোনে ট্রাই করছি। সারারাত ঘুম হয়নি আমার!
-ও আচ্ছা! কিন্তু বিকালে আমার তো সময় নাই।
-জানি না তুই আসবি তাই জানি। মনটা খুব খারাপ! ফোন রাখছি!
এমন আবদার না রাখতে পারলে কষ্ট হয়, অপরাধও হয় হয়তো!
শেষ বিকাল। ফুটপথ থেকে এক প্লেট হাফ ডিমের চটপটি খেয়ে বসে আছি তিনতিলিকার ফোনের জন্য।
-হ্যালো মিশু।
-হুম।
-মনে হয় বাবা আজ বাসা থেকে কোথাও যাবেন না!
-তাহলে আজ থাক কাল আসি!
-না, তুই আমার রুমের পিছনে আসতে পারবি?
-সম্ভব না। তোদের পাঁচিল টপকানো আমার দ্বারা সম্ভব নয়, তাছাড়া রাস্তায় মানুষের সামনে কেমনে টপকাবো? মাপ কর।
-তুই আসবি না! আচ্ছা আর কখনো যেন তোর ছায়া না দেখি আমি। বাই।
-শোন শোন, আসছি আসছি।
-ওকে। আমি পিছনের বেলকুনিতে বসে আছি তুই আয়।
-আসছি।
মেইন রোডের পাশে দশ ফুট উঁচু পাঁচিল। এক ফাঁকে টপকিয়ে গেলাম। তিনতিলাকার বাবা দেখলে আমাকে হয়তো গুলি করে মারবেন। নয়তো এই শীতের দিনে বলবেন, পুকুরে মাঝ খানে যা, গিয়ে কাদা তুলে আন। তারপর একশো বার ডুব দিয়ে উপরে উঠে আয়। কান ধরে বল যে আমাদের বাড়ির ত্রিসীমানায় আর কখনো আসবি না!
সন্ধ্যার হবো হবো এই মুহুর্তটা আমার কাছে অসাধারণ লাগে! কোথায় যেন পড়েছিলাম এটা কন্যা দেখার মুহুর্ত! আমি কন্যা দেখতে এসেছি! দুই তলার বারান্দায় তিনতিলিকা দাঁড়িয়ে আছে, অসম্ভব সুন্দর লাগছে ওকে আজ। হালকা বাতাসে লম্বা চুলগুলো ঢেউ খেলে যাচ্ছে, ঢেউ খেলে যাচ্ছে আমার দেহ-মনে! এক দৃষ্টিতে ও দেখে যাচ্ছে আমাকে। কথার বলার সুযোগ নেই। যে কেউ দেখে ফেলতে পারে। দেখে ফেললে মহা ঝামেলা!
ইশারায় ওকে বললাম চলে যাচ্ছি। ও আরো কিছুক্ষণ থাকতে বলল ইশারায়।
এক সময় চলে আসছি, ও অপল দৃষ্টিতে দেখে যাচ্ছে আমায়। কষ্ট হচ্ছে খুব, কেমন একটা অজানা কষ্ট! যে কষ্টের কোন সংজ্ঞা নেই, নেই নিভানোর কোন পথ....
-গাজী তৌহিদ
২১/০২/২০১৭
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now