বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
?যমজ শিশু
------------
সে সময় আমি এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়ে গ্রামের বাড়ি এসেছি।রেজাল্টের জন্য অপেক্ষা।মন ভীষন খারাপ।রেজাল্ট এর চিন্তায় আধা পাগোল অবস্থা।না না, আমি খুবই মনোযোগী আর পড়ুয়া ছাত্রী।বারো ক্লাস পর্যন্ত রেজাল্ট খুবই ভাল।তারপরও আমার পরীক্ষা ভীতি খুবই প্রবল।মাঝে মাঝে তা পাগলামীতে রূপ নেয়।পরীক্ষার কয়েকদিন পর থেকেই মনে হতে থাকে আচ্ছা, আমি কি রোল নম্বর ঠিক মত লিখেছিলাম।কৈ মনে পড়ছে নাতো তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তর লিখেছি কিনা।লুজ শিট মেইন খাতার সাথে সেলাই হয়েছিল তো! এমনি হাজারোপ্রশ্ন মাথায় নিয়ে ঘুরতাম।এবং যথারীতি আমার রেজাল্ট ভাল হত।ফলাফল,আমার আপন বান্ধবীও আমায় মিথ্যেবাদী এবং ঢংগী ভেবে এড়িয়ে যেত।কিন্তু কসম আমার চিগির, আমি সত্যি সত্যি ভীত থাকতাম।আত্মবিশ্বাস বলতে আমার কিছুই ছিল না।
বাড়িতে আমি কিছুটা বেকায়দা অবস্থায় থাকতাম।আমার বড় ভাইবোনদের একটা গ্রুপ আছে।সংখ্যায় তারা অনেক।একমাত্র আমাকেই তারা দুইচোখে দেখতে পারতো না।তারা দুটি মারাত্মক অপরাধের সাথে জড়িত ছিল।প্রেম এবং পড়ায় অমনোযোগ।এরা স্কুলের নীচু ক্লাস থেকেই খুচরা প্রেম করতো এবং পরীক্ষায় ফেল করতো।ফলে আমাদের পিতামাতার বয়সী ভাইবোনদের রোষানলে পড়তো।আর আমি ছিলাম সর্বোচ্চ বড়দের চোখের মনি। কারন আমিঐসব প্রেম পিরীতির ধার দিয়েও যাইনি।ঐ হারামী গ্রুপটা আমার পিছনে লেগেই থাকতো।আর একটু আধটু ভয় তো ওদের পেতেই হত।নিজেদের রেজাল্ট যা ই হোক না কেন আমার রেজাল্ট খারাপ হলে আমায় সাত হাত মাটির নীচে পুঁতে ফেলবে।
রেজাল্টের ভয়ে আধমরা হয়ে দিন কাটাতে লাগলাম।
সেদিন আসরের নামাজের পর হাটতে হাটতে বাড়ির বাইরে এলাম।বড় রাস্তা পার হয়ে নদীর পাড়ের মাটির রাস্তায় পড়লাম।পথটা একেবারে নদীর সান বাধানো ঘাট পর্যন্ত গিয়েছে।পথটার দুপাশে সারি সারি তালগাছ।ভীষন সুন্দর এই পথটুকু।পথের দুইপাশে দিগন্তবিস্তৃত মাঠ।এই মাঠদুটি আমাদের পূর্বপুরুষদের।আমার সব স্বজনরা এই জমির বন্ধনে বাধা।তাই ছেলেবেলা থেকে এই পথটুকু আমার খুবই প্রিয়।
আমি অন্যমনস্ক ছিলাম।অর্ধেকের বেশি পথ চলে এসেছি।হঠাৎ দেখলাম দুটি শিশু দৌড়ে আমার দিকে আসছে।জমজ মেয়ে শিশু।হলুদ নীল চেক শার্ট আর জিন্সের স্কাট।চুল দামী বাহারী রিবন দিয়ে দুই ঝুটি করা।পায়ে কি পরা ছিল দেখিনি।স্বাস্থ্য ভাল না।ফর্সা।কিন্তু বেশি না।কিন্তু চোখ মুখে খুশির ছটা।তাদের দুজনার হাতেই লম্বা ডাঁটাওয়ালা শুকনা ফুল।শিশু দুটি আমার সামনে এসে ফুলগুলি আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।আমি একজনের হাত থেকে ফুলগুলি নিতেই আমাকে পাশ কাটিয়ে তারা দৌড়ে চলে গেল।আমি ফুলগুলি মনোযোগ দিয়ে দেখছিলাম।এক মিনিট।আমি পিছন ফিরে তাকালাম।না রাস্তা ফাঁকা।আমি দৌড়ে বড় রাস্তায় এলাম।না কেউ নাই।আমি পরিচিত সবার কাছে শিশু দুটির কথা জানতে চাইলাম। না, কেউ দেখেনি ওদের।মাগরিবের আজান পড়ে গেছে। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।একটি কাঠের বাক্সে ফুলগুলি সযত্নে রেখে দিলাম।আমি বাড়ির প্রতিটা ঘরে খোঁজ নিলাম ঢাকা থেকে কোন আত্মীয় এসেছে কিনা যার যমজ কন্যা আছে।না, কেউ বেড়াতে আসেনি।
পরদিন বাড়ির আসেপাশে ওদের খুঁজলাম।নদীর পাড়ের কাছেই ওদের বাড়ি হবার কথা।ছোট্ট শিশু ওরা।দূর থেকে তো আসার কথা না।বহু খুঁজলাম ওদের।সম্ভব অসম্ভব সব জায়গায়।না, পেলাম না।
দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেল।আমি শিশুদের ভুলতেই পারছিলাম না।আমার বড় চাচাতো বোন আমার অস্থিরতা টের পেলেন।একদিন রাতে সেই কাঠের বাক্সটি নিয়ে আপাকে সব বল্লাম।আপা সেই রাতেই বাক্স সমেত আমাকে নদীর পাড়ে নিয়ে গেলেন।বাক্স খুলে নিজ হাতে ফুলগুলি ভাসিয়ে দিয়ে আমার পাশে এসে বসলেন।তিনি আমার কাছ থেকে এই ঘটনা করো কাছে না বলার প্রতিশ্রুতি আদায় করলেন।আমি তার কোলের উপর শুয়ে রইলাম গভীর রাত পর্যন্ত।কিন্তু সেদিন আমি কি দেখেছিলাম, এই প্রশ্নের কোন জবাব তিনি দেননি।
রেজাল্ট হল।খুব ভাল রেজাল্ট।শত্রুপক্ষ খুশিতে আটখানা।হাজার হোক তাদের ছোট বোন আমি। বাড়িতে উৎসব শুরু হল।আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার উদ্দশ্যে বাড়ি ছাড়লাম।
আমি ঘটনাটি ভুলিনি।বহু বছর পার হয়ে গেছে। আমার বড় বোন জান্নাতবাসী হয়েছেন,তাই ঘটনাটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।হেলুসিনেশন ছিল না।কারন ফুলগুলি তার প্রমান।আমি শিশুদুটিকে কখনোই ভুলিনি।অতিপ্রাকৃত কোন কিছুতে আমার বিশ্বাস নাই।তারপরও আমি আজো বুঝে উঠতে পারিনি সেদিন আমি কি দেখেছিলাম।শিশু দুটি কি অন্য লোকের ছিল
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now