বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

মৃত্যুঞ্জয় এবং কিছু প্রেমময় মুহূর্ত

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X শীতকালটা মিথিলার খুব প্রিয় ঋতু।সেই ছোটকালে লেপের নিচে ঢুকে মায়ের কাছ থেকে লুকিয়ে তিন গোয়েন্দা পড়ার সময় থেকে শুরু করে আজ ভার্সিটি জীবনে হিম শীতল বাতাসে সকাল আটটায় ক্লাস করতে আসা সবসময়ই শীতকালটাকে খুব বেশি ভালবাসে ও।কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের ব্যাপারটা আলাদা,ছেলেটা সকালে ক্লাস করতে পারে না মোটেও।যদি কখনো ভুলে সকাল আটটায় ক্লাস নিয়ে ফেলে, ওই সেমিষ্টারে প্রতিদিন ক্লাস করতে সময়মতন আসা ওর পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়।সেমিষ্টার শেষে দেখা যায়,ক্লাসে উপস্থিতি থেকে ওর অনুপস্থিতির হার তিনগুণ বেশি।আর এই সেমিষ্টার তো আবার পরেছে শীতকালে, তাই আগে থেকেই মিথিলা মৃত্যুঞ্জয়কে ক্লাস নিতে সকাল ১১ টায় বলে দিয়েছে ছেলেটির একটি জিনিস খুব ভালো, মিথিলার কথা সহজে ফেলতে পারে না ও।আর এসব কারণে মিথিলা মাঝেমধ্যে ওর মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অনেক দায়িত্ববোধ অনুভব করে। ভার্সিটির বাইরে রাস্তার ধারে খোলা জায়গায় ফুসকার দোকানের পাশে বসে একটু বসার জায়গা আছে।সবাই ওখানে বসে ফুসকা খায়, আড্ডা দেয়।ফুসকার দোকানের একটু পরে আছে কয়েকটি চায়ের দোকান, দোকানগুলো পাশাপাশি এক লাইনে অবস্থিত। এই দোকানগুলোর মাঝে একটি দোকানের মৃত্যুঞ্জয় নিয়মিত কাস্টমার। মৃত্যুঞ্জয় আর ওর বন্ধুদল ওই চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে কাপের পর কাপ চা খায়, কেউবা একটার পর একটা সিগারেট টানে। ওদের কোন হিসাব নেই, দিনে কত কাপ চা আর কয়টি সিগারেট ফুঁকলো। মাস শেষে এই অগণিত চা- সিগারেটের বিল ওরা ওদের প্রিয় দোকানদার মামাকে বুঝিয়ে দিয়ে ঋণ মুক্ত হয়।এভাবেই চলছে ওদের ভার্সিটি জীবন।যদিও মিথিলা বহুকষ্টে মৃত্যুঞ্জয়ের সিগারেটের নেশাকে ছাড়িয়ে ফেলেছে,তবুও ওর ভয় হতে থাকে বন্ধুদের পাল্লায় পরে না আবার এক- দুই টান দিয়ে বসে ছেলেটা। সকাল ১১:০৫। মিথিলার ক্লাসের বিরতি এখন। তাই বাইরে এসে ফুসকার দোকানের ওখানে বসলো ও।মৃত্যুঞ্জয় এখনো আসেনি, ও আসলে একনজর ওকে দেখার আশাতেই বসে আছে মিথিলা।যদিও চাইলেই ক্লাসের পর দেখা হবে,কিন্তু এই লুকিয়ে অল্প দেখার মাঝে আলাদা ভালোলাগা কাজ করে।মৃত্যুঞ্জয়ও জানতে পারেনা,মিথিলা ওকে দেখার জন্যই ওখানে বসে থাকে।মিথিলা বারবার ঘড়ি দেখছিলো, এগারোটা বেজে গেছে কখন, এখনো ছেলেটা এলো না।ক্লাস মিস হলে আবার সমস্যা। ফোন করতেই যাবে,ঠিক তখন সাইকেলের আওয়াজ কানে আসলো ওর।সাইকেল নিয়ে ঝড়ের গতিতে ভার্সিটির রাস্তায় প্রবেশ করলো মৃত্যুঞ্জয়।তারপর সাইকেল পার্ক করে রাখলো ফুসকার দোকানের বিপরীত পাশের সাইকেল স্ট্যান্ডে।এরপর মাথার এলেমেলো চুলগুলো ঠিক করতে করতে নিজের গম্ভীরতার সাথে ভার্সিটির ভেতরে ঢুকে গেলো দ্রুতপদে।মিথিলার চোখের পলক পরছিলো না,পুরো বিমোহিত হয়ে তাকিয়ে রইছিলো ও।মৃত্যুঞ্জয় যখন সাইকেল নিয়ে প্রতিদিন আসে,মিথিলার মনে হয় বাতাসে ভেসে ভেসে পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে কোন রাজকুমার আসছে।ওই রাস্তার সবকিছু হয়তো মৃত্যুঞ্জয় আসার পূর্বে আর পরে একই থাকে,কিন্তু মিথিলার মনের মাঝে অদ্ভুত এক শিহরণ খেলা করতে থাকে আর ওর মনে হয় সিনেমার মতন ওর চারপাশে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছে।"আমারো পরানো যাহা চায়,তুমি তাই গো" এই গানটাই তখন শুধু মাথায় বাজতে থাকে মিথিলার। মিথিলার ক্লাস আবার সাড়ে বারোটায়,এতক্ষণ কি করবে ভাবতে লাগলো মিথিলা।ওর এইমুহূর্তে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে ইচ্ছে করছে না।এতগুলো সময় কি করে কাটাবে ভাবতে ভাবতে ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করলো ও,তারপর একরকম ঘোরের মাঝেই সিঁড়ি বেয়ে উঠে সোজা গিয়ে থামলো মৃত্যুঞ্জয়ের ক্লাসের সামনে।যাক! এসেই যখন পরলাম, একনজর দেখেই যাই তাহলে।নিজের কাছে যেন সাফাই গাইলো মিথিলা।কিন্তু ক্লাসের সামনে বসার জন্য কোন চেয়ার নেই,তাই এই শীতের দিনেও সাতপাঁচ না ভেবে মেঝেতে বসে পরলো ও।তারপর কেউ দেখে ফেললে কি জবাব দিবে ভাবতে লাগলো।মাথায় আসলো পড়ার ভান করার,তাই ব্যাগ খুলে বই- খাতা নিয়ে সামনে রাখলো সে।যদিও মন পরে আছে ক্লাসের ভেতরে।পৌনে বারোটা বাজলে, ক্লাসের মাঝে বিরতি দিলেন মৃত্যুঞ্জয়ের ম্যাডাম।ক্লাসের দরজা খুলে একে একে সবাই বাইরে আসতে লাগলো,মিথিলার চোখ ওর প্রিয়মুখটিকে খুঁজে বেরাতে লাগলো।কিন্তু সবাই বেরিয়ে পরলেও মৃত্যুঞ্জয়ের কোন দেখা নেই। - তুমি কি করছো এখানে? হঠাৎ প্রিয় কন্ঠ শুনে আতকে উঠলো মিথিলা।ওর পাশে দাঁড়ানো মৃত্যুঞ্জয়। - আমি! আমি পড়ছি,কাল কুইজ আছে। মিথ্যা বলেনি মিথিলা,কাল ওর আসলেই কুইজ আছে। - তাই বলে এই ঠান্ডায় মেঝেতে? অবাক হলো মৃত্যুঞ্জয়। - তুমিও তো টি শার্ট পরে সাইকেল চালিয়ে এসেছো,ঠান্ডা লাগেনি? মিথিলা কথা খুঁজে বেড়াচ্ছে। - নাহ,আমার শীত কম লাগে। কিন্তু তুমি লাইব্রেরী যাও তো। মৃত্যুঞ্জয় এবার বিরক্ত হলো। "আহা! কত্ত ভালবাসা " মনে মনে হাসলো মিথিলা। তারপর বললো, - তুমি ক্লাস করছো না বুঝি? - করছি তো,কেন? প্রশ্ন করলো মৃত্যুঞ্জয়। - না মানে বের হতে দেখলাম না যে তোমাকে।জবাব দিলো মিথিলা। - ওহ! ওয়াশরুমে ছিলাম,যাবার সময় তোমাকে বই- খাতা বের করতে দেখে গেছি।মৃত্যুঞ্জয় হাসলো। মৃত্যুঞ্জয়ের ম্যাডাম ক্লাসে ফিরে এলেন। মিথিলাকে আরো একবার লাইব্রেরীতে যেতে বলে বিদায় নিলো মৃত্যুঞ্জয়। বেলা ২ টা। মিথিলার ক্লাস শেষ,কিন্তু বাসায় এখন যাবে না ও।আরো একবার মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে দেখা করেই ফিরবে বাসায়। অন্যথা বাসায় ফিরে নাওয়াখাওয়া করতে ভালো লাগবে না,পড়াশুনো হবে না আর ঘুমের কথা তো বাদই।মৃত্যুঞ্জয়ের প্রেমে যেদিন থেকে হাবুডুবু খাচ্ছে ওইদিন থেকেই ঘুম হাওয়া হয়ে উড়ে গেছে ওর। ক্লাস থেকে বের হয়ে সোজা ফুসকার দোকানে গেলো মিথিলা। - মামা, এক প্লেট ফুসকা দেই আপনাকে? ফুসকা মামা হেসে বললো। মিথিলা বাইরের কিছু খায়না।যদিও ফুসকা ওর খুব প্রিয় ছিলো,কিন্তু মৃত্যুঞ্জয়ের কড়া মানা অস্বাস্থ্যকর কিছু খাওয়া যাবে না।কি করবে ভাবলো মিথিলা।এভাবে ফুসকার দোকানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে অথচ ফুসকা খায়না এটা তো অন্যায়। - আচ্ছা মামা শুধু দুইটা দিও,বেশি ঝাল দিয়ে।আমি পুরা প্লেটের টাকাই দিবো। অনেক চিন্তার পর বললো মিথিলা। মৃত্যুঞ্জয় এখনো আসেনি, এই সুযোগে খেয়ে নেওয়া যায়।যদিও ও ভালো করেই জানে বাসায় ফিরে ফোনে যখন পুরাদিনের ইতিহাস বলতে নিবে মৃত্যুঞ্জয়কে,ফুসকার কথাও পেটে রইবে না।আসলে ওরা দুজন কথা লুকাতে পারে না দুজনের কাছে,এটা একটা বড় সমস্যা। মিথিলা একটি ফুসকা মুখে পুরে বোম্বে মরিচের ঝালে চোখ বন্ধ করে ফেললো।আহ! অমৃত, নিজেকে বললো ও।এরপর দ্বিতীয় যেই মুখে দিলো,পরিচিত কন্ঠটি কানে এলো। - মামা,এক কাপ দুধ চা দাও। মিথিলা অবশ হয়ে গেলো, ওর হাত মুখের সামনেই ফুসকা ধরা অবস্থায় রইলো।চা হাতে নিয়ে মৃত্যুঞ্জয় যখন ঘুরে বেঞ্চে গিয়ে বসবে ওর চোখ স্থির হলো মিথিলার উপর।মিথিলাকে এভাবে মূর্তির মতন দাঁড়ানো দেখে হো হো করে অট্টহাসিতে ফেটে পরলো সে।মিথিলার খুব রাগ হলো,জলদি বিল মিটিয়ে বাসার দিকে পা বাড়ালো ও।এইভাবে কেউ পাবলিক প্লেসে হাসে? যদিও এই রাগ বেশিক্ষণ টিকলো না।ওইদিন সন্ধ্যায় মৃত্যুঞ্জয় কল দিলেই সব রাগ মাটিতে মিশে গেলো ওর।মৃত্যুঞ্জয় খেপলো না মোটেও ফুসকা খাওয়া নিয়ে শুধু বিশ্বাস করতে চাইলো না মিথিলা যে মাত্র দুটি ফুসকা খেয়েছিলো।তবে মিথিলা বেশ ঝাড়লো ওকে,ভার্সিটিতে দেরীতে পৌছানোর জন্য।তারপর পরেরদিন থেকে ক্লাসের দেড় ঘন্টা আগে কল দিয়ে ডেকে দিবার ভার নিলো। যদিওবা আগেই প্রতিদিন মিথিলাই ভোরে উঠায় মৃত্যুঞ্জয়কে,ফজরের নামাজ পড়ার জন্য।সেদিন থেকে আরো একটি দায়িত্ব বারলো আর কি মিথিলার,ভালবাসার মধুর দায়িত্ব। সেদিন ছিলো মঙ্গলবার। এইদিন মিথিলার এতো বেশি প্যারা থাকে ক্লাসের যে মৃত্যুঞ্জয়ের সাথে একটু দেখা করার সময় পাওয়াও মুশকিল হয়ে উঠে।কিন্তু আজকের দিনটি একটু বিশেষ হয়ে গেলো।ক্লাসে এসে শুনলো, ক্লাস ক্যাঞ্চেল হয়ে গেছে।মিথিলা খুশির ঠ্যালায় তাড়াতাড়ি নিচে নেমে এলো, তারপর বেরিয়ে চায়ের দোকানের ওইদিকে হাঁটা শুরু করলো। - এই মিথি, এইদিকে আয়। হঠাৎ বাইক স্ট্যান্ড থেকে মিথিলার খুব কাছের এক বন্ধু ডেকে উঠলো।মিথিলা ঘুরে দেখলো,ওখানে ওর আরো চার- পাঁচজন বন্ধু- বান্ধবী আড্ডা দিচ্ছে।মিথিলা না চাইতেও সেখানে যেতে বাধ্য হলো, বন্ধুদের তো আর না বলা যায় না।যদিও বাইক স্ট্যান্ডে বাইকের উপর বসে বসেও চায়ের দোকান দেখা যাবে। বন্ধুদের কাছে গিয়ে মিথিলা এমন একটি বাইকের উপর বসলো যাতে মৃত্যুঞ্জয়কে সহজেই দেখতে পারে ও।কিন্তু কোথায় মৃত্যুঞ্জয়? মিথিলা অস্থির হতে লাগলো,বন্ধুদের কথার একটি শব্দও কানে যাচ্ছিলো না ওর।শুধু মাঝেমধ্যে হ্যাঁ হ্যাঁ বলছিলো আর সারাক্ষণ মুখে একটি হাসি ধরে রাখছিলো।এভাবে বিশ মিনিট যাবার পর ক্যাম্পাসের ভেতর থেকে একজন বন্ধুর সাথে বেরিয়ে আসলো মিথিলার মৃত্যুঞ্জয়।মৃত্যুঞ্জয় মিথিলাকে খেয়াল করলো না,এসেই চায়ের দোকানে ঢুকে এক কাপ চা হাতে নিলো। মৃত্যুঞ্জয়ের বন্ধুটি চায়ের সাথে একটি সিগারেটও নিলো।তারপর দুইবন্ধু পাশাপাশি বসে জম্পেশ আড্ডা শুরু করলো,আরো কিছু পরিচিত ছেলেপুলেও আছে দোকানে।মিথিলার শরীর তো ছিল বাইকের উপর কিন্তু অন্তরটা ছিলো চায়ের দোকানের ওই কাঠের বেঞ্চের উপর বসা অদ্ভুত চাহনির ওই ছেলেটর কাছে।মিথিলা অবিরত তাকিয়ে রইলো আর মুচকি হাসতে লাগলো।কয়েকবার ওর বন্ধুরাও অবাক হয়ে হাসির কারণ জানতে চাইলো,কুইজ ক্যাঞ্চেল হয়েছে তাই খুশি বলে পার পেলো মিথিলা। হঠাৎ একটি ঘটনা মিথিলার মুগ্ধতার মাঝে এসে বাধা সৃষ্টি করলো।মৃত্যুঞ্জয়ের বন্ধুটি আবার একটি সিগারেট ধরিয়ে একটান দেওয়ার পর মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঢুকে গেলো।মিথিলার বুকের ভেতরে হৃদপিন্ডটা মোচড় দিয়ে উঠলো, " মৃত্যুঞ্জয় কি মিথিলাকে দেওয়া ওয়াদা তাহলে ভেঙে ফেলবে? এর আগেও কি তাহলে ও সিগারেট খেয়ে মিথিলার কাছে লুকিয়েছে? " এসব প্রশ্ন মিথিলার মাথা খারাপ করে দিতে লাগলো।যদিও এখনো মৃত্যুঞ্জয় শুধু সিগারেট হাতে নিয়েই বসে আছে,মুখে দেয়নি।আসলে এমন নয় যে একদিন সিগারেট খেলেই আয়ু কমে যাবে কিংবা খুব ক্ষতি হবে,আসল ব্যাপারটি হলো, ওদের পারস্পারিক বিশ্বাস।আজ যদি মৃত্যুঞ্জয় সিগারেটে টান দিয়ে বাসায় ফিরে মিথিলাকে ফোনে মিথ্যা বলে তাহলে কি মিথিলা আগের মতন মৃত্যুঞ্জয়কে আর বিশ্বাস করতে পারবে? মিথিলার চোখে পানি চলে এলো, বহুকষ্টে কান্না দমন করলো ও।একবার ভাবলো, মৃত্যুঞ্জয়ের সামনে গিয়ে দাঁড়ালে কেমন হয়? মৃত্যুঞ্জয় হাতেনাতে ধরা পরার পর কি কৈফিয়ত দিবে? কিন্তু পরক্ষণে চিন্তাটা বাদ দিলো মিথিলা।মৃত্যুঞ্জয় কি করে আড়াল থেকেই দেখার সিদ্ধান্ত নিলো ও।মিনিট পাঁচেক পর,ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে এসে মৃত্যুঞ্জয়ের হাত থেকে সিগারেটটি নিলো সেই বন্ধুটি।এতক্ষণে সব পরিষ্কার হলো মিথিলার কাছে, ওয়াশরুমে কিংবা কোন কাজে ভেতরে গিয়েছিলো বন্ধুটি,তাই সিগারেটটি মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে দিয়ে গেছে।যাক ভাগ্যিস,কোন কাহিনী ঘটায়নি মিথিলা। নিজেকে মনে মনে কয়েকশত গালি দিলো মিথিলা,কেন যে এতো ভয় পায় ও। সেদিন বাসায় যাবার পর মৃত্যুঞ্জয়কে কল দিয়ে ওয়াদা করলো মিথিলা,আর কখনওই লুকিয়ে এমন কিছু করবে না যা মৃত্যুঞ্জয় ওকে করতে বারণ করেছে।মিথিলার এই অদ্ভুত আচরণে অবাক হলেও কিছু জিজ্ঞাসা করলো না মৃত্যুঞ্জয়,জানে ও মিথিলা যে একটা পাগলী। মিথিলাও নিজের কাছে ওয়াদা করলো,আর কখনো কোন ঘটনা ভালো করে বিচার না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে না। ওইদিন আর যাইহোক, ওদের সম্পর্কে আরো একটি ধাপ পাকাপোক্ত হয়েছিলো। আর এই ধাপ এগিয়ে নিয়েছিলো ওদের সম্পর্ককে আরো বেশি ভালবাসার যাত্রাপথে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now