বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৭
মুসা আমান: “নাহ্, একা যাবনা !”
ফিসফিস করে বলল মুসা।
“বাবাকে জাগাব গিয়ে। ভয় পাচ্ছি, তা নয়।
আমাদেরকে বোর্ডিং হাউস থেকে
বেরোতেনিষেধ করেছে, তবু বেরিয়েছি।
কোন বিপদে পড়ারআগেই তাকে জানিয়ে রাখা
ভাল।”
রবিন মিলফোর্ড: “ঠিকই বলেছ। চল যাই। তাঁকে
জানিয়ে গেলে আর কোন ভয় থাকবে না
আমাদের।”
ক্যাম্পের দিকে পা বাড়াতেগিয়েই থমকে গেল
দু’জনে। ধড়াস করে উঠল বুকের ভেতর।
কেউ এসে দাঁড়িয়েছে পেছনে।বিশাল-দেহ
ী কেউ।
–“খবরদার !! যেখানে আছ, দাঁড়িয়ে থাক !”
শোনা গেল গর্জন।
বরফের মত জমে গেল যেন দুই গোয়েন্দা।
জিম রিভান: “আরে একি ! তোমরা ! এত রাতে
চোরের মত এখানে কি করছ ?”
দু’জনের চোখের ওপর থেকে আলো সরাল
জিম, নিচের দিকে ফেলল।
“ভাগ্যিস, মেরে বসিনি ! এতরাতে এখানে কি করছ
তোমরা ?”
রবিন মিলফোর্ড: “দ্বীপের রহস্য ভেদ করে
ফেলেছে কিশোর। তার অনুমান ঠিক কিনা
দেখতে এসেছি।”
জিম রিভান: “দ্বীপের রহস্য !! কি বলতে
চাইছ ?”
মুসা আমান: “সত্যিই গুপ্তধন লুকানো আছে
এখানে। কিশোরের তাই ধারণা।”
জিম রিভান: “গুপ্তধন !!”
ছেলেদের কথা বিশ্বাস করতেপারছে না যেন
গার্ড।
“কিসের গুপ্তধন ?”
মুসা আমান: “ওই যে . . . ”
থেমে গেল মুসা।
তার আগেই কথা বলতে শুরু করেছে রবিন।
রবিন মিলফোর্ড: “আপনর কথাথেকেই সূত্র
খুঁজে পেয়েছেকিশোর।”
জিম রিভান: “আমার কথা থেকে।”
বিড়বিড় করল জিম।
“কিছুই বুঝতে পারছি না !”
রবিন মিলফোর্ড: “সেদিন সকালে বললেন না,
দুই বছর আগে আর্মার্ড কার লুট করেছিল দুই
ভাই ? ডিক আর বাড ফিশার ? যারা বাঁ হাত নষ্ট করে
দিয়েছে আপনার।”
জিম রিভান: “হ্যাঁ হ্যাঁ।কিন্তু তাতে কি ?”
মুসা আমান: “আপনি আরও বলেছেন,”
রবিনের কথার খেই ধরল মুসা।
“কোস্ট গার্ডেরা দু’জনকে ধরে ফেলে।
উপসাগরে একটা বোটে ছিল দুই ভাই। কিছু
ফেলছিল পানিতে। চোরাই টাকা ফেলেছিল ওরা,
লোকের ধারণা।”
জিম রিভান: “তাই তো করেছিল।”
রবিন মিলফোর্ড: “এবং,”
মুসার কথার খেই ধরল রবিন।
“ঠিক দুই বছর আগে থেকেই কঙ্কাল দ্বীপে
আবার ভুতেরউপদ্রব শুরু হল। টাকা লুটহল দু’বছর
আগে, স্কেলিটন আইল্যাণ্ডের পাশে ধরা
পড়লদুই ডাকাত, দীর্ঘ বিশ বছর পর আবার
গোলমাল শুরু করল দ্বীপের ভূত। ভয় দেখাতে
লাগল লোককে। ঘটনাগুলো একটার সঙ্গে
আরেকটার মিল যেন খুব বেশি। সন্দেহ জাগল
কিশোরের।”
জিম রিভান: “এত ভণিতা না করে আসল কথা বলে
ফেল তো !”
অধৈর্য হয়ে উঠেছে জিম।
মুসা আমান: “বুঝতে পারছেননা এখনও ? বোটে
করে পালাতে গেল দুই ডাকাত, ইঞ্জিন খারাপ হয়ে
গেল হঠাৎ। ওরা তখন স্কেলিটন আইল্যাণ্ডের
কাছাকাছি। এত ঝুঁকি নিয়ে এতগুলো টাকা লুট
করেছে, পানিতে ফেলে দেবে সহজে ?
মোটেই না। কোনভাবে বোটটা তীরে
ভিড়িয়ে দ্বীপে উঠেছিল ওরা। টাকাগুলো
লুকিয়ে রেখেছিল। তারপর বোটটা তীরে
ভিড়িয়ে দ্বীপে উঠেছিল ওরা। টাকাগুলো
লুকিয়ে রেখেছিল। তারপর বোট নিয়ে ভেসে
পড়েছিল আবার।
কোস্টগার্ডের বোট আসতে দেখে টাকা
পানিতে ফেলার ভান করেছিল, ফেলেছিল
আসলেঅন্যকিছু। ভারি কিছু, যা সঙ্গে সঙ্গে
তলিয়ে গিয়েছিল।
বমাল ধরা না পড়লে খুব বেশি দিন জেল হবে না,
ঠিকইবুঝতে পেরেছিল ওরা। জেল থেকে
বেরোলে আর কোন ভয় নেই। দ্বীপে
এসে টাকাটা নিয়ে দূর কোন দেশে চলে যাবে।
কেউ কিছু সন্দেহ করবে না। মাত্র হপ্তা-দুয়েক
হল ছাড়া পেয়েছে ওরা। সেদিন কিংবা তার পরের
দিনই এসে টাকা নিয়ে যেতে পারত, কিন্তু
মুশকিলকরেছে সিনেমা কোম্পানি। দিকে এলে
ওদের চোখে পড়ে যাবার সম্ভাবনা আছে। ডিক
আর বাডকে ঘোরাফেরা করতে দেখলে
পুলিশের সন্দেহ জাগতে পারে। সে ঝুঁকি
ওরানেয়নি।”
জিম রিভান: “সর্বনাশ ! কি গল্প শোনাচ্ছ !
এখানেই টাকা লুকিয়ে রেখেছে ডিক আর বাড !
কোথায়, কিছু বলেছে কিশোর ?”
রবিন মিলফোর্ড: “কিশোরের ধারণা, শুকনো
উঁচু কোন জায়গায় লুকানো হয়েছে। কাপড়ের
ব্যাগে ভরা কাগজেরটাকা, মাটির তলায় পুঁতে রাখলে
পচে যাবে। শুকনো উঁচু সবচেয়ে ভাল জায়গা
দ্বীপে . . . ”
জিম রিভান: “গুহা !!”
প্রায় চেঁচিয়ে উঠল জিম।
“সেই পুরানো গুহার ভেতরে! কোন তাকের
পেছনের খাঁজে! খাঁজের ভেতরে
থলেগুলো ঢুকিয়ে সামনে কয়েকটা
পাথরফেলে রাখলেই কেউ দেখতে পাবে না !
সন্দেহও করবে নাকিছু !”
মুসা আমান: “কিশোরেরও তাইধারণা। টাকাগুলো
একমাত্র ওখানেই নিরাপদে থাকবে।”
জিম রিভান: “ইস্স্,”
অস্থির হয়ে উঠেছে জিম।
“দুটো বছর ধরে টকাগুলো ওখানে রয়েছে !
ঘুণাক্ষরেওমাথায় এলো না ব্যাপারটা ! যদি
কোনভাবে বুঝতে পারতাম. . . ইস্স্ ! চল চল,
দেখি,সত্যিই আছে নাকি . . . ”
রবিন মিলফোর্ড: “আগে রাফাত চাচাকে ডেকে
নিয়ে আসি।”
জিম রিভান: “দরকার নেই, ওঁরা ঘুমোক। আমরা
বের করেনিয়ে আসি আগে। টাকার বস্তা
দেখিয়ে চমকে দেব ওঁদেরকে।”
মুসা আমান: “কিন্তু . . . ”
বলতে গিয়েও থেমে গেল মুসা।
ঘুরে হাঁটতে শুরু করেছে জিম। ফিরে চেয়ে
বলল,
জিম রিভান: “এসো আমার সঙ্গে।”
অন্ধকারে দু’পাশের গাছপালাগুলোকে অদ্ভুত
দেখাচ্ছে। জিমের পিছু পিছু এগিয়ে চলেছে দুই
গোয়েন্দা। কেন যেন খচখচ করছে দু’জনের
মন। এভাবে যাওয়া ঠিক হচ্ছে না।
রবিন মিলফোর্ড: “উফ্ফ্!!”
হঠাৎ শোনা গেল রবিনের চিৎকার।
গাছের আড়াল থেকে বেরিয় এসে জোরে
কাঁধ খামচে ধরেছে কেউ।
“মিস্টার রিভান ! কে জানি. . . ”
মুখ চেপে ধরল কঠিন একটা থাবা।
পেছনে আরেকটা চাপা শব্দ শুনতে পেল রবিন।
মুসার মুখও আটকে দেয়া হয়েছে, অনুমান করল।
ফিরে দাঁড়াল জিম। এগিয়ে এলো কাছে।
কিন্তু এ-কি !!
সামান্যতম অবাক হল না তো !কোমরের খাপ
থেকে রিভলভারওবের করল না !
জিম রিভান: “চমৎকার ! চেঁচামেচি করতে
পারেনি !”
কি ভীষণ বিপদে পড়েছে, বুঝতে অসুবিধে হল
না দুই গোয়েন্দার।
ভাবছে রবিন, ‘ঠিকই অনুমান করেছে কিশোর।
কঙ্কাল দ্বীপের ওই পুরানো গুহাতেই লুকানো
আছে টাকাগুলো। কিন্তু দুই ফিশারের সঙ্গে
জিমেরও যোগসাজশ আছে, একথা
কিশোরওকল্পনা করেনি। আজ রাতেই টাকা নিতে
আসবে দুই ডাকাত, এটাও ভাবেনি।
আগামী কাল ভোর থেকেই শুরুহবে গুপ্তধন
খোঁজা, নিশ্চয় ঘোষণা করা হয়েছে রেডিওতে।
দ্বীপের কোন জায়গা খোঁজা বাদ রাখবে নাওরা।
কেউ না কেউ আবিষ্কারকরে ফেলবে টাকার
থলেগুলো।তাই, ঝুঁকি নিয়েও চলে এসেছে
ওরা। টাকাগুলো বের করে নিয়ে যাবার জন্যে।
যাবার আগে ওকে আর মুসাকে .. . ‘
আর ভাবতে চাইল না রবিন। চারদিক নীরব নিঃশব্দ।
কানে আসছে শুধু নৌকার গায়ে ঢেউয়ের বাড়ি লাগার
মৃদু ছলছলাৎ।
হঠাৎ আরেকটা শব্দ কানে এলো রবিনের। খুবই
মৃদু। বোটের সঙ্গে কিছুর ঘষা লেগেছে,
আলতো করে একবার দুলে উঠল। চোখের
কোণ দিয়েদেখতে পেল সে, বোটের
ধারে একটা মাথা। আবছা।
অতি সাবধানে উঠতে লাগল মাথাটা। গলা দেখা গেল .
. . কাঁধ . . . বোটের ভেতরে চলে এলো
সে। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে এলো। উঁকি দিয়ে
তাকাল একবার তীরের দিকে। আবার মাথা নামাল।
রবিন আরমুসার পাশে এসে থামল।
এক মুহূর্ত ঘন ঘন শ্বাস ফেলার শব্দ কানে এলো
রবিনের। কানের কাছে ফিসফিস করে উঠল একটা
কণ্ঠ,
–“চুপ ! আমি পাপালো !”
পাপালো ! ও কি করে এলো এখানে ! অবাক
হয়ে গেল দুই গোয়েন্দা। ওর তো এখন
জেলেথাকার কথা !
কিছু একটা বলতে চেষ্টা করল রবিন, গোঙানির
শব্দ হল।
পাপালো হারকুস: “চুপ ! কোনকথা নয় !”
ছুরি দিয়ে বাঁধন কাটতে লাগল পাপালো। মাত্র
কয়েক সেকেণ্ড, কিন্তু রবিনের মনে হল
কয়েক যুগ পেরিয়ে যাচ্ছে।
কাটা হয়ে গেল বাঁধন। মাথাতুলতে গেল মুসা। হাত
দিয়েচেপে নামিয়ে দিল পাপালো।
পাপালো হারকুস: “খবরদার, দেখে ফেলবে !
পেছনের দিকে এগোও। পানিতে নামতে
হবে।”
হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেল মুসা। তার পেছনে
রবিন। সবার পেছনে পাপালো।
“নেমে পড় ! খুব সাবধান ! কোন শব্দ যেন না
হয় ! হালের দণ্ডটা ধরে থাকবে। আমি আসছি।”
হাজারো প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে মনে, পরে
জিজ্ঞেস করবে পাপালোকে। আস্তে
করেনেমে এলো রবিন। শব্দ হল অতি সামান্য,
ঢেউয়ের ছলছলাৎ ঢেকে দিল সে শব্দ।
রবিনের পর পরই নামল মুসা।চলে এলো
পেছনে। রবিন ধরে রেখেছে হালের দণ্ড।
সে-ও এসে ধরল।
মুসা আমান: “খাইছে !”
রবিনের কাছে মুখ এনে বলল মুসা।
“ও এলো কি করে !”
রবিন মিলফোর্ড: “জানি না !তবে এসে পড়ায়
বেঁচে গেলামবোধহয় !”
ফিসফিস করে বলল রবিন।
বান মাছের মত পিছলে পানিতে নামল পাপালো।
নিঃশব্দে। দুই গোয়েন্দার কাছে চলে এলো।
পাপালো হারকুস: “এসো আমারসঙ্গে। খুব
সাবধানে সাঁতরাবে ! কোন আওয়াজ যেন না
হয় !”
তীরের ধার ধরে সাঁতরে চললপাপালো,
নিঃশব্দে। তাকে অনুসরণ করল দুই গোয়েন্দা।
রবিন ভাবছে, জ্যাকেট আর প্যান্ট খুলে নিতে
পারলে ভাল হত !
কালো পানি। আবছা কালো তিনটে মাথা, ভাল করে
খেয়াল না করলে দেখাই যায় না। কোনরকম
শব্দও করল না ওরা। মিনিট দশেক পরে একটাজায়গায়
এসে পৌঁছুল। সাগরের দিকে সামান্য
ঠেলেবেরিয়ে আছে এখানে সৈকত। ওটা ঘুরে
আরেক পাশে চলে এলো। বোটটা আর দেখা
যাচ্ছে না। জিম রিভানের দৃষ্টির বাইরে চলে
এসেছে ওরা।
তীরের দিকে ফিরে সাঁতরাতেশুরু করল
পাপালো। অনুসরণ করল দুই গোয়েন্দা।
বালিতে ঢাকা সৈকত নেই এখানে। পানির ওপর
নেমে এসেছে ঝোপ ঝাড় আর ছোট ছোট
গাছ। একটা শেকড় ধরে উঠে গেল পাপালো।
এগিয়ে গিয়ে থামল দুটো বড় পাথরের মাঝে। মুখ
বের করে উঁকি দিল। তার পাশে এসে দাঁড়ালদুই
গোয়েন্দা। ওরাও উঁকি দিল।
প্রায় তিনশো ফুট দূরে মোটর বোটটা। তারার
আলোয় আবছা। জিম রিভানের মূর্তিটা আরও কাছে।
পাপালো হারকুস: “এবার কথাবলতে পারি,”
নিচু গলায় বলল পাপালো।
“আমাদেরকে দেখতে পাবে না ওরা।”
–“এখানে এলে কি করে ?”
একই সঙ্গে প্রশ্ন করল দুইগোয়েন্দা।
পাপালো হারকুস: “তোমাদের সঙ্গে কথা বলে
শিওর হয়ে এসেছেন হোভারসন, আমি চোর
নই। কাজ শেষ করে ফিরে এসেছেন তখন জজ
সাহেব। নিজের পকেট থেকে জামিনের পঞ্চাশ
ডলার দিয়ে দিয়েছেনচীফ। জামিন হয়েছে হাক
স্টিভেন। হাজত থেকে বাড়ি নিয়ে গেলেন
আমাকে হোভারসন। খাওয়ালেন। তারপর
ছাড়লেন।”
রবিন মিলফোর্ড: “কিন্তু এখানে এলে কি করে ?
কি করে জানলে আমরা এখানে এসেছি ?”
পাপালো হারকুস: “সোজা বাসায় চলে গেলাম।
বাবাকে যতটা খারাপ অবস্থায় দেখব ভেবেছিলাম,
তত খারাপ নয়। পড়শি এক মহিলা দেখাশোনা
করেছেন। বেরিয়ে এলাম বাইরে। সাগরের
দিকে চেয়ে বসে ভাবতে লাগলাম।
ছুরিটাট্রেলারে গেল কি করে ? আমাকে চোর
বানানর জন্যে কেউ একজন ফেলে রেখেছিল
ওখানে ছুরিটা, কে ?
ছুরিটা হারিয়েছি পরশু, যেদিন গুহায় ঢুকেছিলাম। জিম
রিভান তাড়া করল, পালালাম। তার পর থেকেই আরপাইনি
ছুরিটা। তারমানে তাড়াহুড়োয় খেয়াল করিনি, ওটা
রেখেই পালিয়েছিলাম।
এরপর একটা মাত্র লোকের হাতেই পড়তে
পারে জিনিসটা,জিম রিভান।
তার পক্ষেই ট্রেলারে ঢোকাসহজ, অবশ্যই
দরজা দিয়ে। লেন্স চুরি করা সহজ। ট্রেলারের
জানালা ওই ভেঙেছে, ছুরিটা ফেলে
রেখেছে মেঝেতে। ব্যাটার ওপর চোখ রাখা
দরকার মনে করলাম। ঘাটে বাঁধা একটা নৌকা চুরি করে
নিয়ে চলে এলাম দ্বীপে।
নৌকাটা একটা ঝোপের ধারে বেঁধে রেখে
চলে গেলাম ক্যাম্পের কাছে। পার্কের দিকে
এগোতে দেখলাম জিমকে।পিছু নিলাম। পার্কের
পরে ছোট একটা জংলা পেরিয়ে সৈকতে
বেরোল সে। দূরে একটা মোটর বোট
দেখলাম। হাতের টর্চ সেদিকে করে তিনবার
জ্বালাল-নেভাল জিম। তীরে এসে ভিড়ল বোট।
তাজ্জব হয়ে দেখলাম, নামল দুই ভাই, ডিক আর বাড
ফিশার।”
মুসার দিকে ফিরল পাপালো। হাসল।
পাপালো হারকুস: “দাঁড় খুবভাল টানতে পার না তুমি,
মুসা। ছপাৎ ছপাৎ শব্দ হচ্ছিল। লুকিয়ে পড়ল
তিনজনে। তোমাদের তীরে ওঠার অপেক্ষায়
রইল।
তারপর আর কি ? বোকার মত ধরা পড়লে . . . ”
রবিন মিলফোর্ড: “সত্যি, তুমি না এলে প্রাণেই
মারাপড়তাম আজ।”
পাপালোর কাঁধে হাত রাখল রবিন।
পাপালো হারকুস: “শ্ শ্ শ্!!”
ঠোঁটে আঙুল রাখল পাপালো।
“ফিশার ব্যাটারা আসছে !”
দুটো মূর্তি এগিয়ে এসে দাঁড়াল জিমের কাছে।
দু’জনের হাতে দুটো বড় প্যাকেট;
দশ লক্ষ ডলার।
ডিক ফিশার: “সব ঠিক আছে ? কোন গোলমাল
নেই তো ?”
জিম রিভান: “না, গোলমাল নেই। শোন, আমার
ভাগের টাকাটা দিয়ে দাও।”
বাড ফিশার: “পরে, বোটে উঠেদেব। ডিক,
জলদি কর। চল উঠেপড়ি।”
পথ রোধ করে দাঁড়িয়ে আছে জিম। ধাক্কা দিয়ে
তাকে সরিয়ে দিল বাড। এগিয়ে গেলবোটের
দিকে।
বোটে উঠে পড়ল দুই ভাই।
বাড ফিশার: “আরে !”
চেঁচিয়ে উঠল বাড।
“বিচ্ছু দুটো কোথায় ! জিম,তুমি ছেড়ে দিয়েছ
ওদেরকে!”
জিম রিভান: “আমি ছাড়িনি !”
রেগে গিয়ে বলল জিম।
“যাবে কোথায় ? আছে, দেখ !”
বাড ফিশার: “নেই !”
কর্কশ গলা বাডের।
জিম রিভান: “কই, দেখি,”
বলতে বলতে এগিয়ে এলো জিম।আলো
ফেলল বোটে।
“আরে, সত্যিই নেই দেখছি ! গেল কোথায় !
এক চুল নড়িনি আমি জায়গা ছেড়ে !”
ডিক ফিশার: “দেখি, প্যাকেটটা দাও,”
হাত বাড়াল ডিক।
“জলদি নেমে গিয়ে ধাক্কা দাও। এখুনি পালাতে
হবে।”
জিম রিভান: “কিন্তু আমার ভাগ ?
দুটো বছর অপেক্ষা করেছি। পুরো দশ লাখ
পেলেও আমার হাতের দাম হবে না। সেটা না হয়
না-ই বললাম। তোমরা তো পালাবে, আমি যাব
কোথায়? ছেলে দুটো পালিয়েছে। গিয়ে
বলে দেবে সব। জেলে যাব তো !”
ডিক ফিশার: “সেটা তোমার ব্যাপার। বাড, ধাক্কা
দাও।”
স্টার্টারে চাপ দিল সে।
ধাক্কা দিতে গিয়েও থেমে গেল বাড। গায়ে
ওপর ঘেঁষে এসেছে জিম।
জিম রিভান: “খবরদার ! প্যাকেট দুটো দিতে বল
ডিককে। নইলে . . . ”
ডিক ফিশার: “বাড !”
শোনা গেল ডিকের আতঙ্কিত চিৎকার।
“বাড, স্টার্ট নিচ্ছে না !জিম, ইঞ্জিনের কি
করেছ ?”
জিম রিভান: “আমি কিচ্ছু করিনি।”
ডিক ফিশার: “ইঞ্জিন তো স্টার্ট নিচ্ছে না, এখন কি
করব ?”
জিম রিভান: “সেটা তোমাদেরব্যাপার। প্যাকেট
দুটো দাও, জলদি !”
আবার চেষ্টা করল ডিক, আবার, কিন্তু স্টার্ট হল না
ইঞ্জিন।
অবাক হয়ে দেখল দুই গোয়েন্দা, নীরব
হাসিতে ফেটে পড়ছে পাপালো।
রবিন মিলফোর্ড: “কি হল !”
ফিসফিস করে বলল রবিন।
পাপালো হারকুস:”স্পার্কিং প্লাগের তার ছিঁড়ে
ফেলে দিয়েছি।
হারামজাদারা ! এবার যাও ! পালাও ! ওই হারামির বাচ্চা
ডিকই আমার নৌকা ভেঙেছে। ওই বোট দিয়েই।
এইবার পেয়েছি কায়দায়। চল,ক্যাম্পে গিয়ে
লোক ডেকে আনি।”
উঠতে যাবে, এই সময় কানে এলো ইঞ্জিনের
শব্দ। বসে পড়ল আবার পাপালো,
দ্বীপেরদিকেই এগিয়ে আসছে একটা
বড়মোটর লঞ্চ।
কাছে এসে গেল লঞ্চ। আলো জ্বলে উঠল,
সার্চ লাইট। সোজা এসে পড়ল ফিশারদের
বোটের ওপর।
এক লাফে বোট থেকে নেমে এলো ডিক।
ছুটল। হকচকিয়ে গেল জিম। এই সুযোগে থাবা
মেরে তার হাতের রিভলভার ফেলে দিল বাড।
ভাইয়ের পেছনে ছুটল সে-ও।পাপালো হারকুস:
“আরে ! ব্যাটারা এদিকেই আসছে। দাঁড়াও,
দেখাচ্ছি মজা !”
দ্রুত হামাগুড়ি দিয়ে সামনে এগোল সে।
কাছে এসে গেল ডিক। আর দু’কদম ফেললেই
ঝোপ পেরিয়েযাবে। ঠিক তার পেছনেই
রয়েছে বাড।
দাঁড়িয়ে উঠে হঠাৎ সামনে পা বাড়িয়ে দিল পাপালো।
হোঁচট খেল ডিক। হুমড়ি খেয়ে পড়ল মাটিতে।
ভাইয়ের গায়ে হোঁচট খেল বাড। পড়ে গেল
সে-ও।
ডকের ওপর গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল পাপালো।
একনাগাড়ে কিলঘুষি মারতে লাগল। চেঁচাতেলাগল,
পাপালো হারকুস:”হারামজাদা ! আমাকে হাজতে
পাঠিয়েছিলি !
ডাকাতের বাচ্চা ডাকাত ! চোর বানিয়েছিলি আমাকে .
.. ”
উঠে দাঁড়াল বাড। পাপালোরচুল ধরে হ্যাঁচকা টানে
সরিয়ে আনল ভাইয়ের ওপর থেকে। চিত করে
শুইয়ে ফেলল। পাথরে জোরে ঠুকে দিল মাথা।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে পা তুলল পাপালোবুক সই
করে।
মাথা নুইয়ে খ্যাপা ষাঁড়ের মত ছুটে গেলো মুসা।
নিগ্রোর খুলি কতখানি শক্ত, তলপেটে অনুভব
করল বাড। হুঁক্ক্ করে একটা শব্দ বেরোল মুখ
থেকে। চিত হয়ে পড়ে গেল।তার ওপর পড়ল
মুসা।
চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে উঠতে গেল ডিক, পরল
না। পিঠের ওপর লাফিয়ে এসে বসেছে রবিন।
আবার হাত-পা ছড়িয়ে উপুড় হয়ে পড়ে গেল সে।
ঝাড়া দিয়ে গায়ের ওপর থেকে মুসাকে ফেলে
দিল বাড। উঠে দাঁড়াল হাঁচড়ে-পাঁচড়ে । এই সময়
এসে পড়ল জিম। জ্যাকেটের কলার চেপে
ধরে সোজা করল বাডকে। ঠেলে নিয়ে চলল
সামনের দিকে। ষাঁড়ের জোর তার গায়ে। ওর এক
হাতের সঙ্গেই পেরে উঠল না বাড। ঠেলে
বাডকে পানির ধারে নিয়ে চলল জিম।
জিম রিভান: “আমার সঙ্গে চালাকি ! দেখাচ্ছি মজা !”
বাডকে নিয়ে পানিতে পড়ল জিম। কোমর পানি।
উঠে দাঁড়াল আবার। মাথা তুলল বাড। জ্যাকেটের
কলার এখনওজিমের হাতে। বাডকে ঠিকমত দম
নিতে দিল না জিম। চুবাতে লাগল একনাগাড়ে। রাগে
পাগল হয়ে উঠছে সে। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে
ফেলেছে।
রবিনকে গায়ের ওপর থেকে ফেলে দিয়ে
উঠে দাঁড়াতে গেল ডিক। এবারেও পারল না।প্রায়
একসঙ্গে এসে হাজিরহয়েছে মুসা আর পাপালো।
দু’হাতে ডিকের দু’পা ধরে উঁচু করে ফেলল মুসা।
টান দিল। হাত বাড়িয়ে একটা ছোট গাছের গোড়া
ধরে ফেললডিক। লাথি মেরে হাতটা সরিয়ে দিল
পাপালো।
পাপালো হারকুস: “এ হারামজাদাকেও পানিতে
ফেল!”
তিন কিশোরের সঙ্গে পেরে উঠলো না ডিক।
হিড়হিড় করে টেনে তাকে পানির ধারেনিয়ে
এলো ওরা।
বাডকে ছাড়ছে না জিম। চোবাচ্ছে এখনও।
মেরেই ফেলবে যেন। তার পাশেই ডিককে
নিয়ে এসে পড়ল তিনকিশোর।
বাডকে ছেড়ে দিয়েই ডিকেরঘাড় চেপে ধরল
জিম। তাকে চুবাতে শুরু করল।
–“হয়েছে ! ছাড় !”
শোনা গেল একটা গম্ভীর আদেশ।
“মেরে ফেলবে তো !”
চমকে ফিরে চাইল তিন কিশোর। তাদের
পেছনে কয়েকহাত দূরে এসে গেছে দুটো
নৌকা। একটা নৌকায় দাঁড়িয়ে আছেন পুলিশ
চীফহোভারসন। এক হাতে রিভলভার, আরেক
হাতে টর্চ।
হোভারসন: “ছাড় ! এই জিম শুনতে পাচ্ছ।”
ডিককে ছেড়ে দিল জিম। সরেযাবার তাল করছিল
বাড, তাকে চেপে ধরল। দিল আরেক চুবানি।
হোভারসন: “হয়েছে হয়েছে! মেরে
ফেলবে, ছেড়ে দাও!”
দুই ডাকাত আর জিমকে টেনে ডাঙায় তুলল
কয়েকজন পুলিশ। হাতকড়া পরিয়ে দিল।বিশাল
টেবিলে পড়ে থাকা মোহরের ছোট স্তূপের
দিকে অবাক হয়ে চেয়ে আছেন মিস্টার ডেভিস
ক্রিস্টোফার।
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”হুম্ম্,”
মাথা ঝোঁকালেন পরিচালক।
“তোমাদের এই অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী নিয়ে খুব
ভাল একটা ছবি হবে। ভাবছি, পুরোটাই শূটিং করব
স্কেলিটন আইল্যাণ্ড আর আশেপাশের
দ্বীপগুলোতে। যেখানে যা যা যেভাবে
ঘটেছে, ঠিক তেমনি ভাবে। পাপালোর চরিত্রটা
তাকে দিয়েই অভিনয় করালে কেমন হয় ?”
–“খুব ভাল হয় !”
একই সঙ্গে বলে উঠল তিন গোয়েন্দা।
ঘড়ি দেখলেন পরিচালক।
ডেভিস ক্রিস্টোফার: “ঠিক আছে। নতুন কোন
রহস্যের খোঁজ পেলে জানাব।”
ইঙ্গিতটা বুঝল তিন কিশোর।উঠে দাঁড়াল।
মোহরগুলো টেনে নিলো মুসা। বেছে
বেছে একটা ভাল মোহর– যেটা কম ক্ষয়
হয়েছে, তুলে নিয়ে বাড়িয়ে ধরল।
মুসা আমান: “এটা আপনাকে দিলাম, স্যার। আপনার
সংগ্রহে রেখে দেবেন।”
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”থ্যাংক ইউ, মাই বয়,”
মোহরটা নিতে নিতে বললেন পরিচালক।
ঘর থেকে বেরিয়ে গেল তিন গোয়েন্দা।
হাতের তালুতে নিয়ে মোহরটার দিকে চেয়ে
রইলেনমিস্টার ক্রিস্টোফার। বিড়বিড় করলেন,
ডেভিস ক্রিস্টোফার:”সত্যিকারের জলদস্যুর
গুপ্তধন !”
হাসলেন আপন মনেই।
“দারুণ ছেলেগুলো ! কী সুন্দর সুন্দর
কাহিনীর জন্ম দিচ্ছে ! ভাবছি, এরপরকি
অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া যায় তিন গোয়েন্দা কে !”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now