বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আলিফ আর লামিয়া, ছোটবেলা থেকে একই সাথে বড়
হয়েছে। ছোটবেলা থেকেই ওরা খুব ভালো বন্ধু ছিল।
একটা সময় যৌবনে এসে সেই বন্ধুত্ব প্রেমে রূপান্তরিত
হলো। খুব ভালো বোঝাপড়া ছিলো ওদের। দুজন যেমন
একজন আরেকজনকে না দেখে থাকতে পারতো না।
আবার ঝগড়াও হতো তুমুল। একদিনের কথা আলিফ তখন
টুকটাক ধূমপান করতো। সেটা লামিয়া জানতো না, তো
একদিন আলিফ রাস্তায় ওর বন্ধুদের সাথে ধূমপান
করছিলো। আর লামিয়া ঐ রাস্তা দিয়েই কোথাও
যাচ্ছিলো, আর আলিফের কুকির্তী ওর চোখে পরে
গেল। আর যা হবার, রেগে আগুন হয়ে আর ঐদিকে না
গিয়ে সোজাে বাসায় চলে আসলো। আলিফও এই
ব্যাপারটা লক্ষ্য করলো, তো আলিফের বোঝা হয়ে
গেলো সামনে ওর জন্য কি অপেক্ষা করছে। তো আলিফ
আর দেরি না করে, সোজা বাসার দিকে রওনা হলো।
এলাকায় ঢুকতেই দেখা হয়ে গেলো ওদের এক মুরব্বির
সাথে, দেখতেই উনি আলিফকে ডাকলেন।
মুরব্বি: এই'যে আলিফ শোনো এই দিকে আসো।
আলিফ: আসসালামু আলাইকুম আংকেল, ভালো আছেন ?
মুরব্বি: ওয়ালাইকুম আসসালাম, হ্যা বাবা আল্লাহ্'র
রহমতে ভালোই আছি। তা বাবা তোমাকে'তো অনেক
ভালোই জানতাম, তো শেষে তুমিও....
আলিফ: আংকেল আমি ঠিক বুঝলাম না আমিও মানে,
মুরব্বি: না শুনলাম তুমিও নাকি আজকাল ধূমপান কর।
(আলিফের আর বুঝতে বাকি নেই, এইকাজ করেছে।
এতোক্ষনে হয়তো পুরো এলাকা জানানো শেষ।
আলিফ ভাবছে আর রাগে জ্বলছে, এখন যদি লামিয়াকে
সামনে পেতো তো নির্ঘাত দু'চারটা লাগিয়ে দিতো
ওর গালে। ভাবতে ভাবতেই বাসায় চলে এসেছে। বাসায়
ঢুকতেই মায়ের সামনে পরলো ও এবার শুরু হলো, আরেক
ধাপ। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই মায়ের হাতটা
দু'চারবার ওর গাল ঘুরে গেলো। আলিফ আর কি বোকার
মতো তাকিয়ে রইলো।)
আলিফের মা: যা বাইর হ বাসা থেকে, কতবর সাহস,
সিগারেট খাওয়া শিখছে। ঐ আমাদের ফ্যামিলিতে
কেউ খায় সিগারেট। মান সম্মান যা ছিল সব ডুবাছেরে
এই পোলায়। দারা আজকে আসুক তোর বাবা,তারপর
বুঝাবো।
(আলিফ আর কি করবে, রাগে জ্বলতে জ্বলতে নিজের
রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো। কখন ঘুমিয়ে পরেছে, ও নিজেও
বুঝতে পারে নি। ঘুম থেকে উঠে দেখে ৪:০০ টা বেজে
গেছে। বিছানা থেকে উঠে চোখ ডলতে ডলতে বাথরুমে
গেলো, গিয়ে গোসল সেরে নিল। গোসল শেষে খাবার
টেবিলের কাছে যেতেই দেখলো মা খাবার বেরে
রেখেছে, হয়তো মা ওর ছোট ভাইদের নিয়ে বাইরে
কোথাও গেছে।ও আর কোন কিছু না ভেবে খেয়ে
নিলো। খেয়ে ভাবলো এখন আর বাইরে বেরুবে না,
এমনিতেই লামিয়া আজ যা করেছে তাতে বাইরে গেলেই
সবাই সেই একি প্যাচাল শুরু করবে। তাই ওর রুমে গিয়ে
টিভি অন করে দেখতে লাগলো। এ মধ্যেই দেখলো ওর
ফোন বাজছে, ও ফোন ধরতেই ওপার থেকে রাজন বলতে
শুরু করলো।
রাজন: ধূর ব্যাটা তুই এইটা কাজ করছস ।
(আলিফতো বোকা বনে গেল, তো বিরক্তির স্বরে
বললো।)
আলিফ: মানে ?
রাজন: মান সম্মান সব ডুবাইলিরে বন্ধু ।
আলিফ: এই কথারে না প্যাচায়া, যা বলার পরিষ্কার করে
বল।
রাজন: কেন তুই কিছু জানিস না।
আলিফ: কি জানবো আমি
রাজন: তুই facebook এ ঢুকে দেখ।
(আলিফের মাথা এবার ঘুড়তে লাগলো। আর কোন কিছুই
চিন্তা না করেই, ও facebook এ ঢুকলো। ঢুকেইতো ও থ,
৬৭টা ম্যাসেজ আর ১২৪ টি নোটিফিকেশন। ও বুঝতেই
পারছে না মাত্র ৩ ঘন্টায় এটা কিভাবে সম্ভব। ও প্রথমেই
নোটিফিকেশনে ঢুকলো ঢুকেই দেখলো "অবুঝ বালিকা,
শান্ত ছেলে, শারমিন, অশান্ত মন এরা সবাই ওকে ট্যাগ
করা কোন একটা ছবিতে কমেন্ট করেছে। এবার ও ঐ
ছবিটা দেখার জন্য ঐ নোটিফিকেশনটাতে ঢুকলো,
ঢুকে ও যা দেখলো এবার'তো ওর মাথা পুরা হ্যাঙ হবার
উপক্রম। দেখলো লামিয়ার আইডি থেকে ওর ধূমপান রত
অবস্থায় তোলা একটা ছবি আপলোড করেছে, আর
ঐটাতে সে ওকে সহ ওর আরো ভালো কিছু বন্ধু, শিক্ষক,
আর এলাকার বড় ভাইদেরকে ট্যাগ করেছে। এবার ও
ভাবছে ওরতো মানসম্মান আর কিছুই রইলো না। এবার ও
ওর হ্যাঙওভার কাটানোর জন্য বালিশের কভারের ভেতর
থেকে সিগারেটের প্যাকেটটা বের করে, একটা
সিগারেট জ্বালালো। আর ভাবছে, আজকে লামিয়াকে
একটা শিক্ষা অবশ্যই দিবে। রাত ৮:০০টা বিদ্যুৎ চলে গেল,
আলিফ এবার সোজা ওদের বাসার পেছনের কদম গাছ
তলায় গিয়ে বসলো। এটাই ওদের লাভ স্পট, লামিয়া জানে
বিদ্যুৎ চলে গেলেই আলিফ এখানে আসবে। তার ওপরে
সেই সকালে তখন দেখা হবার পরে, সারাদিনে আর
আলিফের সাথে দেখা হয়নি । তো লামিয়া আজকে একটু
বেশি সাজুগুজু করলো। আর আজই প্রথমবার গত
ভালোবাসা দিবসে আলিফের কিনে দেয়া নাকের নথ
আর রিংটা পরেছে। আর ঐদিকে আলিফ রাগে জ্বলছে,
আর সিগারেট ফুকছে। এর মধ্যেই লামিয়া সেখানে উপস্থিত।
লামিয়া গিয়েই দেখলো আলিফ আবার ধূমপান করছে,
এবারতো লামিয়া আবারও রেগে একাকার হয়ে গেলো। ও
আর কোন কিছু চিন্তা না করেই, আলিফের হাত থেকে
সিগারেটটা নিয়ে ফেলে দিলো। আর আলিফতো
এমনিতেই রেগে হট্ ছিলো তো রাগ আর সামলাতে না
পেরে, ঠাটিয়ে একটা মেরে দিলো লামিয়ার গালে।
থাপ্পরটা পুরোপুরি লামিয়ার গালে না লেগে নাকে
লেগে গেছে। আর লামিয়া সাথে সাথে নাকে ধরে মাটিতে
বসে পরলো। লামিয়াকে এভাবে মাটিতে বসে পরতে দেখে,
আলিফের রাগ আর কোথায় থাকে উল্টো ও আরো ভয়
পেয়ে যায়। তো আলিফ এবার বসে পরে লামিয়া দেখতে
বলে কি হয়েছে। লামিয়া দেখাতে চায়না, আলিফ আবার
রেগে গিয়ে লামিয়াকে এক ধমক দেয়। এবার লামিয়া ভয় পেয়ে
যায় আর আলিফকে দেখায়। আলিফ দেখলো ওর নাক
দিয়ে রক্ত পরছে, এবার'তো আলিফের মাথা আরো
খারাপ, ও লামিয়াকে উঠতে বলে । বলে যে, পুকুরের গিয়ে
নাকে পানি দিতে। লামিয়া রাজি হয়না, তো আলিফ বাধ্য
হয়ে লামিয়াকে তুলে নেয়। কোলে করে নিয়ে পুকুড় পারে
দিকে যায়। পুকুড়টা কাছাকাছিই ছিলো। তো পুকুরের
পারে লামিয়াকে বসিয়ে আলিফ একটু নিচের দিকে নেমে
পানি তুলে লামিয়ার নাকে দিচ্ছিল। লামিয়া এতোক্ষন
হয়তো কোন ঘোরের মধ্যে ছিলো তাই বুঝতে
পারাছলো না, কি হচ্ছে। এবারে ও লক্ষ করলো আলিফ
নিচ থেকে পানি তুলে ওর নাকে দিচ্ছে। লামিয়াএবার
আরো ভালো করে তাকিয়ে দেখলো, আলিফের চোখ
দিয়ে জল পরছে, মানে আলিফ কাদছে। এবার লামিয়া
জিজ্ঞেস করলো।)
লামিয়া: একি তুমি কাদছো ?
আলিফ: কই না তো।
লামিয়া: মিথ্যে কেনো বলছো, ঐযে, তোমার চোখের
পানি।
আলিফ: হয়তো এমনি পরছে।
লামিয়া: না মিথ্যে বলছো, আমি তোমাকে চিনি। আমার
ব্যাথা যখন তুমি সহ্যই করতে পারবেনা, তাহলে আমাকে
মারলে কেন ?
আলিফ: আমাকে যখন চিনোই, তাহলে আমাকে রাগালে
কেন ?
লামিয়া: আমার ভুল হয়ে গেছে, আর এরকমটি হবে না।
তাছারা ধূমপান করাটা যে খারাপ, তাতো তুমি যানো,
আর আমি জেনে তোমাকে খারাপ কাজ কিভাবে করতে
দেই বলো।
আলিফ: তুমি আমাকে বললেই পারতে, দেখতে আমি কি
করি।
লামিয়া: আচ্ছা sorry আমি তোমাকে এখন বলছি আর ধূমপান
করো না।
আলিফ: ঠিক আছে আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আজ
থেকে আর ধূমপান করবো না।
(এর মধ্যেই লামিয়া ওর মুখের পানি গুলো মুছতে গিয়ে লক্ষ
করলো ওর নথটি নাকে নেই)
লামিয়া: আরে আমার নথ কোথায় গেল
আলিফ: নথ কোথায় গেলো মানে,
লামিয়া: আরে তুমি যে গত ভালোবাসা দিবসে আমাকে
একটি নথ কিনে দিয়েছিলে, ঐটা আজ পরেছিলাম।
আলিফ: ওহ্ তাহলে হয়তো ঐ কদম গাছের নিচেই
কোথাও পরেছে।
(দুজনের কেউই আর দেরি না করে দ্রুত কদম গাছের দিকে
রওনা হলো, ওখানে পৌছেই মোবাইলের টর্চ জালিয়ে
খুজতে লাগলো। একটু খুজতেই আলিফ নথটি পেয়ে
গেলো। কিন্তু একথা আলিফ লামিয়াকে বললো না,
ভাবলো এবার লামিয়াকে একটু কাদাবে। লামিয়া'তো খুজেই
চলেছে, অনেক ক্ষন খুজেও লামিয়া নথটি খুজে পেলো না।
এবার লামিয়া কাদতে লাগলো। আলিফ দেখছে আর মনে
মনে হাসছে, আর বলছে একটু আগে আমাকে কাদিয়েছো
এখন আমি তোমায় কাদাবো। এভাবে কিছুক্ষন কাটার
পর বিদ্যুৎ চলে এলো ।
আলিফ: দেখ বিদ্যুৎ'তো চলে এসেছে এক কাজ করো
তুমি বাসায় চলে যাও।
লামিয়া: না আমি ওটা না নিয়ে বাসায় যাবো না।
আলিফ: আরে বাবা আমি আছি'তো আমি খুজে দেখছি,
তুমি যাও।
(লামিয়া কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না, এক পর্যায়ে লামিয়া
মাটিতে বসেই পরলো। আলিফ দেখলো লামিয়ার কান্নাটা বারছেই আলিফ বুঝতে পারলো, একে এক্ষুনি না
থামালে, সামনে বিপদ আছে। এবার আলিফ ওকে মাটি
থেকে তুললো, আর কান্না থামাতে বললো, কিন্তু
লামিয়ার কান্না আরো বারতে দেখে ওকে একটা ধমক
দিলো। লামিয়া ভয়ে কান্না থামালো, এবার আলিফ ওর
পকেট থেকে নথটা বের করে লামিয়ার নাকে পরিয়ে
দিলো। আর সাথে লামিয়াকে জড়িয়ে ধরে কপালে ছোট্ট
করে একটা চুমু একে দিল, আর লামিয়ার কানে বললো।
আলিফ: আমাকে কাদাতে'তো তোমার ভালোই লাগে,
তাই এবার আমিও একটু কাদালাম।
লামিয়া: কাদিয়ে যদি সুখ পাও তবে তোমার জন্য আজীবন
কাদতে রাজি আছি।
আলিফ: ভালো'তো তহেলে এখন থেকে প্রতিদিন
তোমাকে কাদাতে হবে।
লামিয়া: হুম্
আলিফ: একটা কথা তোমার ওজন এত্ত বাড়লো, কি করে,
আগে তো ছিলো না।
লামিয়া: ছিঃ তুমি আমাকে এই জন্য কোলে নিছো দাড়াও,
( এভাবেই আর কিছুক্ষন ক্ষুনসুটির পর ওরা যে যার বাসায়
চলে গেল।)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now