বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাহারবনু’র গল্প -৪

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X মোল্লাবাজির মেয়ের পায়ের শব্দে দৈত্যের ঘুম ভেঙে গেল। চোখ মেলে সে দেখলো বিশ্রি একটা মেয়ে তার সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটা তাকে কোনোরকম সালামও করলো না। দৈত্য তাই গভীর দৃষ্টিতে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থাকলো। মেয়েটাও অপলক চোখে তাকিয়ে থাকলো দৈত্যের দিকে। তারপর কী ঘটলো, সে কাহিনী আমরা শুনবো আজকের আসরে। আপনারা যারা দীর্ঘ সময় ধরে ভেবেছেন কী ঘটতে পারে তাঁরা মিলিয়ে নিন নিজ নিজ ভাবনাগুলো। সেই অপলক চোখে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে থেকেই দৈত্য বললো: ওই! তুই এখানে কী করছিস! মেয়েটি বললো: আমার তুলাগুলো বাতাসে এখানে উড়িয়ে নিয়ে এসেছে। তাই এসেছি তুলাগুলো নিতে। দৈত্য বললো: এতো তাড়া কীসের! এদিকে আয়! আমার মাথাটা ভালো করে পরিষ্কার করে দে! তারপর তোর তুলা নিয়ে চলে যা। মেয়েটা রাগে বিড়বিড় করছিল। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। সামনে এগিয়ে গেল এবং দৈত্যের চুলে বিলি কাটতে শুরু করে দিল। দৈত্য বললো: আচ্ছা! বল তো! আমার চুল সুন্দর পরিষ্কার নাকি তোর মায়ের চুল। মেয়েটা বললো: অবশ্যই আমার মায়ের চুল। মায়ের মাথায় উকুন আর তোমার মাথাভর্তি সাপ আর বিচ্ছু। দৈত্য বললো: ঠিক আছে! এবার উঠে গিয়ে উঠানটায় ঝাড়ু দে! মেয়েটা বিরক্তির সাথে উঠলো এবং উঠোনে ঝাড়ু দিয়ে দৈত্যের কাছে এলো। দৈত্য বললো: বল তো! তোদের উঠোন সুন্দর নাকি আমারটা? মেয়ে ঝটফট বললো: অবশ্যই আমাদের উঠোন। আমাদের উঠোনে কেউ গেলে তার মন প্রশান্তিতে ভরে ওঠে। আর তোমার উঠোনে কেউ এলে তো তার মনটাই বিষিয়ে উঠবে। দৈত্য বললো: তাই। ঠিক আছে। যা,এবার আমার থালাবাটিগুলো ধো! মোল্লাবাজির মেয়ে এবার বললো: হায় খোদা! কী ঝামেলার মধ্যে পড়লাম’। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই। ইচ্ছার বাইরেও তাকে ধুতেই হলো থালাবাসন। কোনোরকমে ধুয়ে সেগুলো নিয়ে রাখলো রান্নাঘরের এক কোণে। দৈত্য এবার জানতে চাইলো: কার থালাবাসন সুন্দর, তারগুলো নাকি মেয়েরগুলো! মেয়ে নির্দ্বিধায় বললো: নি:সন্দেহে আমাদেরগুলো সুন্দর। তোমার থালাবাসন যে দেখবে তার তো মাথাখারাপ হয়ে যাবে। এবার দৈত্য বললো: অনেক হয়েছে। এবার তোর মুখ বন্ধ কর। উঠোন থেকে তোর তুলাগুলো নিয়ে ভাগ। মোল্লাবাজির মেয়ে তুলা নিতে গিয়ে দেখে তুলার পাশে পড়ে আছে ঝকমকে সোনার বার। অনেক অনেক। সে হাতে নিয়ে দেখলো বেশ ওজন ওগুলোর। লোভ সামলাতে না পেরে কয়েকটা নিয়ে জামার ভেতর লুকালো। মাথা নীচু করে এবার বিদায় না নিয়েই কূপ থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলো। কিন্তু তখনই তাকে ডাক দিলো দৈত্য। দৈত্য বললো: কোথায় যাস। এতো তাড়া কেন। এদিকে আয়। কাজ আছে। মেয়েটি ফিরে এসে দৈত্যের সামনে দাঁড়ালো। দৈত্য বললো: বাইরে যাবার আগে এই উঠান থেকে দ্বিতীয় উঠানে যাবে। দ্বিতীয় উঠান থেকে তৃতীয় উঠানে। সেখানে দেখবি উঠানের মাঝখান দিয়ে পানির ধারা বয়ে যাচ্ছে। ওর পাশে বসবি। যখন দেখবি সাদা এবং কালো পানি আসছে, হাত লাগাবি না। যখনই দেখবি হলুদ রঙের পানি আসছে সেই পানি দিয়ে তোর হাত মুখ ধুয়ে নিবি,তারপর তুই তোর কাজে যাবি। মেয়েটা দৈত্যের কথামতো পানির ধারার পাশে গিয়ে বসলো এবং যখনই হলুদ রঙের পানি এলো ওই পানি দিয়ে সে তার হাত মুখ ভালো করে ধুয়ে নিলো। তারপর তার তুলা নিয়ে কূপ থেকে বেরিয়ে গেল। শাহরবনু এতোক্ষণ মোল্লাবাজির মেয়ের অপেক্ষায় ছিল। তাকে দেখেই শাহরবনু খুশি হবার পরিবর্তে তার অজ্ঞান হয়ে পড়ার অবস্থা হলো। কারণ সে দেখলো মোল্লাবাজির মেয়ের কপালের মাঝখানে কালো একটা সাপ আর একটা হলুদ বিচ্ছু তার ঘাড়ে বসা। কিন্তু ভয়ে সে টু শব্দটি করলো না। একসাথে রওনা হলো বাড়ির দিকে। বাসায় ফেরার পর মোল্লাবাজি তার মেয়েকে দেখেই ভয়ে চীৎকার করে উঠলো। নিজের মাথায় নিজে হাত দিয়ে চাপড়াতে চাপড়াতে ভাবলো প্রতিবেশিরা আবার না দেখে ফেলে। সেজন্য তাড়াতাড়ি মেয়েকে ঘরের ভেতর নিয়ে বললো: এটা তুই কী করলি! কেমনে এইরকম ভয়ংকর চেহারা বানালি তুই! মেয়ে মাকে সবকিছু খুলে বললো দৈত্যের সাথে যা যা ঘটেছিল। মোল্লাবাজি ভীষণ বিরক্ত হলো। বললো: তো স্বর্ণের বার আর সূতাগুলো কই? মেয়ে তার পোটলাটা মাটিতে রাখলো। মোল্লাবাজি দেখলো সূতা কোথায়! যে তুলা সে তুলাই নিয়ে এসেছে। এরপর স্বর্ণের বার দেখতে গিয়ে দেখে সেগুলো সব পাথরের টুকরো। মোল্লাবাজি আর রাগ সামলাতে না পেরে বকাবকি শুরু করে দিলো মেয়েকে। কী জন্য তোকে লালনপালন করে এতো বড়ো করলাম। মেয়ে বললো: আমি কি দৈত্যের কাছে যেতে চেয়েছি? তুমিই তো পাঠিয়েছো! সে কারণেই তো আমার এখন এ অবস্থা। বলতে বলতে কাঁদতে শুরু করলো সে। মোল্লাবাজি এবার বললো: সব দোষ শাহরবনুর। এই বলেই শাহরবনুকে কষে এক চড় মেরে বসলো। তারপর মেয়েকে নিয়ে গেল হেকিমের কাছে। হেকিম বললো: এগুলোর শেকড় মনের ভেতরে। ওই শেকড় কাটা সম্ভব নয়। একটাই আছে করণীয়, সেটা হলো একদিন পরপর ধারালো ছুরি দিয়ে সাপ আর বিচ্ছুর লেজ কেটে দিতে হবে। আর কাটা জায়গায় লবণ লাগিয়ে দিতে হবে। এরপর থেকে মেয়ের ওই একটাই কাজ থাকলো: বিচ্ছু আর সাপের লেজ কাটা। ইতোমধ্যে এক প্রতিবেশি মোল্লাবাজি আর তার মেয়েকে বিয়ের দাওয়াত দিলো। মোল্লাবাজি তার পীড়াপীড়িতে বিয়েতে যাবার ব্যাপারে কথা দিতে বাধ্য হলো।#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাহারবনু’র গল্প- (শেষ পর্ব)
→ শাহারবনু’র গল্প -৬
→ শাহারবনু’র গল্প -৫
→ শাহারবনু’র গল্প -৩
→ শাহারবনু’র গল্প -২
→ শাহারবনু’র গল্প-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now