বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শাহারবনু’র গল্প -৩

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X আমরা দেখেছি মোল্লাবাজি শাহরবনুর কপালে আলো দেখে তার মেয়েকেও পরদিন পাঠিয়েছে দৈত্যের কাছে যেন সেও কপালে চাঁদ আর কাঁধে তারা নিয়ে ফেরে। কিন্তু ঘটনা উল্টো ঘটেছে। মোল্লাবাজির মেয়ের কপালে একটা আর কাঁধে গজিয়েছে একটা হলুদ বিচ্ছু। বাসায় ফেরার পর মা তাকে দেখে তো অজ্ঞান হয়ে পড়ার উপক্রম। এরইমধ্যে প্রতিবেশি এসে বিয়ের দাওয়াত দিয়ে গেছে এবং মোল্লাবাজিও কথা দিয়েছে মেয়েকে নিয়ে যাবে। বিয়ের অনুষ্ঠানে যাবার প্রস্তুতি চললো। মোল্লাবাজি মেয়েকে নতুন জামা কাপড় পরালো। জমকালো গয়নাগাটি পরালো তারপর সিল্কের রুমাল দিয়ে তার কপাল এবং ঘাড় ঢেলে দিলো। নিজেও নতুন পোশাক পরলো এবং ব্যাপকভাবে সাজলো। শাহরবনু এ সময় ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। তারও খুব ইচ্ছে করছিলো অনুষ্ঠানে যেতে। মোল্লাবাজির নজর পড়লো তার ওপর। জিজ্ঞেস করলো: কী! বিয়েতে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে? শাহরবনু মাথা নেড়ে বললো: হ্যাঁ! মোল্লাবাজি বললো: তোকে বিয়েতে যাওয়া দেখাচ্ছি, দাঁড়া! এই বলে মোল্লাবাজি স্টোর রুম থেকে তিন-চার বাটি ছোলা, সয়া বিচি আর ভাঙা ডাল একসাথে মিলিয়ে দিয়ে বললো: এই ধর ডালের বাটি আর এই নে খালি বাটি। খালি বাটি তোর অশ্রু দিয়ে পূর্ণ করবি আর ডালগুলো সব আলাদা করে রাখবি। এই হলো তোর বিয়েতে যাবার আয়োজন। মোল্লাবাজি শাহরবনুর হাতে ডালের বাটি ধরিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে মেয়েকে হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল বিয়ে বাড়িতে। শাহরবনু ঘরের এক কোণে বসে বসে দুশ্চিন্তা করছিল: কী করে ওই বাটি চোখের পানি দিয়ে পূর্ণ করবে আর এতো ডাল ছোলা আর সয়া আলাদা করবে। হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল দৈত্যের কথা। দৈত্য বলেছিল কখনো কোনো বিপদে পড়লে তাকে যেন জানায়। শাহরবনু উঠে তাড়াতাড়ি চলে গেল মরুভূমিতে দৈত্যের কূপে। দৈত্যকে দেখেই সালাম দিয়ে তার দুষ্ট মায়ের দেওয়া শাস্তির কথা বলে সাহায্য চাইলো। দৈত্য বললো: ঘাবড়াবার কিচ্ছু নেই। তাড়াতাড়ি উঠে এক মুষ্টি সামুদ্রিক লবণ নিয়ে এলো এবং শাহরবনুর হাতে দিয়ে বললো: বাটি পানিতে পূর্ণ করে এই লবণ ওই বাটিতে ঢালবে। এরপর দৈত্য মোল্লাবাজির মোরগের মতো হুবহু একটা মোরগ দিলো শাহরবনুকে। মোরগ দিয়ে বললো: সবার আগে যেন মোল্লাবাজির মোরগটাকে তার অজান্তে জবাই করে। তাহলে এই মোরগটা তার কাজে লাগবে। সেইসাথে শাহরবনুকে বললো তার যদি বিয়েতে যেতে ইচ্ছে করে তাহলে যেতে পারে। শাহরবনু বললো: ভীষণ ইচ্ছে করছে যেতে। দৈত্য ভেতরে গিয়ে ছোট্ট একটা সিন্দুক নিয়ে এল। সিন্দুক খুলে বিয়ের অনুষ্ঠান উপযোগী একটা পোশাক, চমৎকার একটা মুকুট আর এক জোড়া জুতা শাহরবনুকে দিলো। আরও দিলো মুক্তার একটা মালা, এক জাড়া সোনার চুড়ি, হীরার একটি আংটি। এগুলো দিয়ে বললো: বাসায় ফিরে যেন এগুলো পরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। তবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবার আগেভাগেই যেন বাসায় ফিরে এসে আগের পোশাক পরে। এসব বলে দৈত্য তার তোষকের নীচ থেকে একটা তেলের শিশি বের করলো। শাহরবনুর পায়ে কিছুটা মলে দিলো যাতে দ্রুত যেতে পারে। দৈত্য শাহরবনুর এক হাতে দিলো তাজা ফুলের সুগন্ধিময় পাপড়ি আর অপর হাতে দিলো এক মুষ্টি ছাই। বললো: বিয়ে বাড়িতে গিয়ে ছাইগুলো ছিটাবে মোল্লাবাজি আর তার মেয়ের মাথায়,অপর পাপড়িগুলো ছিটাবে বর-কনে এবং অতিথিদের মাথায়। শাহরবনু মাথা নেড়ে ঠিক আছে বলে ফিরে গেল বাসায়। দৈত্যের পরামর্শ নিয়ে বাসায় ফিরে শাহরবনু সব কাজ ঠিকঠাক মতোই করল। নিজের পুরনো জীর্ণ পোশাক পাল্টালো। পুরোনো কাপড়-চোপড়গুলো নিয়ে লুকিয়ে রাখলো খোঁয়াড়ে। দৈত্যের দেওয়া রাজকীয় পোশাক পরে সেজেগুজে প্রস্তুত হলো। তাকে দেখলে যে-কেউই হা করে তাকিয়ে থেকে ভাববে: এ কী মানুষ নাকি বেহেশতের কোনো হুর। ওই পোশাকেই শাহরবনু পা বাড়ালো বিয়ে বাড়ির দিকে এবং এক সময় গিয়ে হাজির হলো। বিয়ে বাড়িতে শাহরবনুর পা পড়তেই চারদিকে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেল। কেউ আর বরকনের দিকে তাকালো না শাহরবনুর দিকেই এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো সবাই। একে অপরকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো: এ মেয়ে কে? এতো সুন্দর? হতবুদ্ধি হয়ে গেল সবাই। বিশ্বাসই হচ্ছিল না কারও যে কোনো মানুষ এতো সুন্দর হতে পারে। সবাই যখন এভাবে বলাবলি করছিল মোল্লাবাজির মেয়ে তখন তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো: মা! আমার মনে হয় যে মেয়েকে নিয়ে এখানে গুঞ্জন চলছে সে আর কেউ নয় শাহরবনু। তুমি তাকে বিচি বাছতে দিয়ে এসেছো, সেগুলো ফেলে রেখে সে এখানে চলে এসেছে। মোল্লাবাজি বললো: তোর কি কোনো আক্কেল-জ্ঞান আছে? শাহরবনু এখন বিছি বাছার কাজে ব্যস্ত। সে জোর করে কান্নাকাটি করার চেষ্টা করছে যাতে পেয়ালাটা চোখের পানিতে পূর্ণ করতে পারে। নৈলে তো সে জানে কী পরিমাণ মার খেতে হবে তাকে। কিন্তু মা! এ মেয়েকে শাহরবনুর মতোই লাগছে। শাহরবনুর চোখ, নাক, ভ্রু, উচ্চতা, চুল সবকিছুই এ মেয়ের সাথে মিলে যায়। মোল্লাবাজি বলল: বাদ দে এসব ফালতু কথা। সবজি বাগানে গেলে এক রকম বেগুন হাজারটা পাওয়া পাবে। তাহলে একটা শহরে একরকম দেখতে দুইটা মেয়ে পাওয়া যেতে পারে না? তো শেষ পর্যন্ত শাহরবনু ফুলের পাপড়ি ছিটালো বরকনে আর মেহমানদের মাথায়। ওই ফুলের পাপড়ির ঘ্রাণ উপস্থিত সবাইকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করলো। আর অন্য হাতে থাকা ছাই ছিটিয়ে দিলো মোল্লাবাজি আর তার মেয়ের ওপর। বিয়ের অনুষ্ঠানে যারা ছিল সবাই অবাক হয়ে গেল এর মাঝে কী রহস্য আছে: সবার উপরে ছিটালো ফুলের পাপড়ি আর ওই মা মেয়ের মাথায় কেন ছাই! এর রহস্য কেউই উন্মোচন করতে পারল না। কিন্তু যে প্রশ্নটি দেখা দিল তাহলো এই মেয়ে এত ফুল আর এই ছাই পেলো কোথায়! শাহরবনু যখন দেখলো সবাই ফুল আর ছাইয়ের রহস্য নিয়ে মেতে আছে, সেই সুযোগে সে আস্তে করে বেরিয়ে গেল বিয়ের মজলিশ থেকে এবং সোজা চলে গেল বাসায়। ঘটনাক্রমে বাদশার ছেলে শিকার করে ফিরছিল বাসায়। পথেই শাহরবনুকে দেখে তার পিছু নিল। শাহরবনু ভয় পেয়ে আরও জোরে দৌড়াতে লাগলো। দৌড়াতে দৌড়াতে সামনে পড়লো একটা খাল। খাল পার হতে গিয়ে তার এক পায়ের জুতো রয়ে গেল ওপারে। শাহরবনু দেখলো ওই জুতার জন্য পেছনে গেলে শাহজাদা তাকে ধরে ফেলতে পারবে। তাই জুতা রেখেই দৌড়ে পালালো। শাহজাদা শাহরবনুর নাগাল আর পেল না। তবে শাহরবনুর এক পায়ের জুতো নিয়েই সে ফিরলো প্রাসাদে। এদিকে মোল্লাবাজি আর তার মেয়ে বিরক্ত হয়ে বিয়ে বাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি ফিরে গেল বাসায়। মাথাভর্তি ছাই নিয়েই তারা ফিরলো। ওই ছাইয়ের জের শাহরবনুকে পিটিয়ে শোধ নিতে হবে! কিন্তু কী হলো আসলে তারপর! সে কাহিনী শুনবো পরবর্তী আসরে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শাহারবনু’র গল্প- (শেষ পর্ব)
→ শাহারবনু’র গল্প -৬
→ শাহারবনু’র গল্প -৫
→ শাহারবনু’র গল্প -৪
→ শাহারবনু’র গল্প -২
→ শাহারবনু’র গল্প-১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now