বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৬
এক্সিলেটরে চাপ বাড়াচ্ছে কিশোর। হুইলে
হাতের আঙুল চেপে বসেছে। নোঙর বাঁধা
দড়ির মতই টান টান হয়ে গেছে তার স্নায়ু। গর্জন
বাড়ছে শক্তিশালী ইঞ্জিনের।
প্রথম কয়েক মুহূর্ত কিছুইঘটল না। তারপর সামনে
বাড়তে লাগল বোট, ধীরে, অতিধীরে। এক
ইঞ্চি দু’ইঞ্চি করে। বিশাল মরা তিমিকে টেনে
নিয়ে যেতে চাইছে যেনটাগ-বোট। হঠাৎ
সামনে লাফ দিল বোট।
সেরেছে !
ভাবল কিশোর।
গেছে হয়ত ছুটে।
কিন্তু না, যতখানি জোরে ছোটা উচিত তত
জোরে এগোচ্ছে না তো বোট !
তারমানে নৌকাটা আটকে আছে নোঙরে। ওটাকে
টেনে নিয়ে চলেছে বোট।
বিশ ফুট . . . পঞ্চাশ ফুট . .. একশো ফুট দূরে
গিয়ে ইঞ্জিন নিউট্রাল করে দিল কিশোর। প্রায়
সঙ্গে সঙ্গেই থেমে দাঁড়াল বোটটা।
সিট থেকে উঠে পেছনে চলে এলো
কিশোর। কোমরের বেল্ট থেকে ছুরি খুলে
নিয়ে কেটেনিলো দড়ি। ফিরে এসে বসল আবার
ড্রাইভিং সিটে।
আবার আগের জায়গায় বোট ফিরিয়ে নিয়ে এলো
কিশোর। অপেক্ষা করতে লাগল।
এক মিনিট . . . দুই মিনিট . ..
ভুসস করে বোটের পাশেই ভেসে উঠল একটা
মাথা। জোরেশব্দ করে শ্বাস নিলো পাপালো
হারকুস। বোটের গা ঘেঁষে এলো। থলেটা
ছুঁড়ে দিল ভেতরে। চেঁচিয়ে বলল,
পাপালো হারকুস: “জলদি লুকাও ওটা ! ভেতরে
মোহর ! কারও কাছে ফাঁস করা চলবে না এখন !”
হাত ধরে আগে পাপালোকে বোটে উঠতে
সাহায্য করল কিশোর। তারপর ভেজা থলেটা তুলে
নিয়ে সিটে রেখে ওটারওপরেই বসে পড়ল।
লুকানোর এর চেয়ে ভাল জায়গা আর নেই
বোটে।
কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল পাপালো, এই সময়
ভেসে উঠল রবিন। পরক্ষণেই মুসা। দু’জনকে
উঠতে সাহায্য করলকিশোর আর পাপালো।
মুসা আমান: “যাক, উদ্ধার করলে শেষ পর্যন্ত !”
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল মুসা।
“বাঁচার আশা ছিলই না !”
রবিন মিলফোর্ড: “জোসেফের ভাবভঙ্গিতে
মনে হল, খুব রেগে গেছে।”
মুসা আমান: “সব শুনলে বাবাও খেপবে !”
কথার ধরনেই বোঝা গেল, ভয় পাচ্ছে মুসা।
“তবে যা-ই হোক, কিছু মোহর পেয়েছি।
পাপালো বলেনি ?”
কিশোর পাশা: “থলেটার ওপরেই বসে আছি। এখন
মোহরের কথা থাক। পরে সব শুনব।”
রবিন মিলফোর্ড: “কাজটা খুব খারাপ হয়ে
গেছে,”
পিঠে বাঁধা গ্যাস ট্যাংক খুলতে খুলতে বলল রবিন।
“কিন্তু দোষ আমাদের নয়। পাপালোর নৌকাটাকে
ধাক্কা দিয়ে ভেঙে . . . ”
কিশোর পাশা: “চুপ !”
রবিনকে থামিয়ে দিল কিশোর।
“জোসেফ। সব জানানোর দরকারনেই ওকে।
রেখেঢেকে বলবে।”
বোটের পাশে ভেসে উঠেছে জোসেফ।
এক হাতে দড়ির কাটাপ্রান্ত। বাড়িয়ে দিল ওটা।ধরল
কিশোর। বেঁধে দিল ক্যাপস্টানের সঙ্গে।
তাড়াতাড়ি এসে বসল আবার সিটে।
বোটে উঠে এলো জোসেফ।
ধীরেসুস্থে খুলে নিলো ফেস মাস্ক, ফ্লিপার,
গ্যাস ট্যাংক।
নীরবে অপেক্ষা করছে ছেলেরা। ওদের
দিকে তাকাল জোসেফ।
জোসেফ গ্র্যাহাম: “তারপর? খুব তো
দেখালে !”
রবিন মিলফোর্ড: “আমরা . . .”
শুরু করেও থেমে গেল রবিন।
হাত তুলেছে জোসেফ।
জোসেফ গ্র্যাহাম: “আর সাফাই গাইতে হবে না।
যা করার করেছ। তবে তোমাদের ড্রাইভিং
এখানেই শেষ। গোয়েন্দাগিরিও। মিস্টার আমানও
তাই বললেন। শুরু থেকেই আমার মত ছিল না।
বাচ্চাকাচ্চা দিয়ে কাজ হবে না কিছুই। শুধু শুধু বাড়তি
ঝামেলা !”
নীরব রইল ছেলেরা।
পাপালোর দিকে ফিরল জোসেফ।
জোসেফ গ্র্যাহাম: “তারপর? চোরের কি খবর ?
অনেক হারামীপনা করেছ, এবার জেলখাটগে।”
জোসেফ কি বলছে, কিছুই বুঝতে পারল না
ছেলেরা।
“হাঁ করে আছ কেন ?”
পাপালোর দিকে চেয়ে বলল জোসেফ।
“গতরাতে একটা ট্রেলারের জানালা ভাঙা হয়েছ।
ছোট ফোকর। বড় মানুষ ঢুকতে পারবে না ওই
ফোকর দিয়ে, গোটা দুয়েক লেন্স চুরি
গেছে। কম করে হলেও হাজার ডলার দাম। ভুল
করে একটা ছুরি ফেলে গেছে চোর।”
স্থির চোখে পাপালোর দিকে তাকিয়ে আছে
সে।
“ছুরিটা কার, জান ? তোমার!
আর জানালার ওই ফোকর দিয়ে তোমার পক্ষেই
ঢোকা সম্ভব।”
বোবা হয়ে গেছে যেন চার কিশোর। হাঁ করে
চেয়ে আছে জোসেফের দিকে।
জোসেফ গ্র্যাহাম: “তোমার শয়তানী খতম।
হোভারসনকে খবর দেয়া হয়েছে। ফিশিং-
পোর্টে ফিরে গিয়েই তার দেখা পাবে।
কপালে তোমার অনেক দুঃখ আছে, পাপালো
হারকুস, এই বলে দিলাম।”
রবিন মিলফোর্ড: “পাপালোকেপুলিশে দিল
ওরা !”
বিষণ্ণ কণ্ঠে বলল রবিন।
“কাজটা উচিত হয়নি।”
মুসা আমান: “হ্যাঁ,”
আস্তে মাথা দোলাল মুসা।
“আমার কিন্তু এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না,
লেন্সগুলো ও চুরি করেছে।
কিশোর, তুমি কি বল ?”
কোন জবাব দিল না গোয়েন্দা-প্রধান , যেন
শুনতেই পায়নি। দুই বন্ধুরকাছ থেকে দূরে, লিভিং
রুমের আরেক প্রান্তে সোফায় বসে আছে।
গভীর চিন্তায় মগ্ন।
বিকেলের মাঝামাঝি। বাইরে ঝমাঝম বৃষ্টি। সারাদিন
বাইরে বেরুতে পারেনি ওরা।বৃষ্টি না থাকলেও
অবশ্য পারত না। মিস্টার আমানের কড়া নির্দেশঃ একা
কোথাও যেতে পারবে না ওরা। যেতে হলে
তাকে জানাতে হবে। লোকসঙ্গে দিয়ে
দেবেন। গতকাল বিকেলে ছেলেদের
অবাধ্যতার ওপর কড়া বক্তৃতা দিয়েছেন তিনি।
আন্তরিক দুঃখিত হয়েছেন ওদের কাজে, সেটাও
জানিয়েছেন বার বার।
মুসা আমান: “কিশোর !”
গলা চড়িয়ে ডাকল মুসা।
“কি বলছি, শুনছ ? আমার ধারণা, লেন্স পাপালো
চুরিকরেনি। তুমি কি বল ?”
কেশে উঠল কিশোর। এখনও পুরোপুরি যায়নি
সর্দি।
কিশোর পাশা: “না। পাপালো চুরি করেনি। সাক্ষী
প্রমাণ সব ওর বিরুদ্ধেই যাচ্ছে যদিও। ওর ছুরি পাওয়া
গেছে ট্রেলারের ভেতর, তাজ্জব কাণ্ড !”
রবিন মিলফোর্ড: “দুই দিন আগে হারিয়েছিল ওটা।
ও তাইবলেছে।”
কিশোর পাশা: “এখন কেউ বিশ্বাস করবে না
একথা,”
বলেই আবার কাশতে লাগল কিশোর। কাশি থামলে
বলল,
“ধরেই নিয়েছে সিনেমা কোম্পানি, তাদের
সমস্যা শেষ। চোর ধরা পড়েছে, আর কি?”
রবিন মিলফোর্ড: “কঙ্কাল দ্বীপের রহস্যটা
আসলে কি? অনুমান করেছ কিছু ?”
কিশোর পাশা: “কেউ একজন চায় না, কঙ্কাল
দ্বীপে লোক যাতায়াত করুক, কিংবা বাস করুক। এ-
ব্যাপারে আমিশিওর। কিন্তু কেন চায় না, বুঝতে
পারছি না এখনও।”
মিসেস ওয়েলটন: “এই যে, ছেলেরা, চীফ
কথা বলতে চান তোমাদের সঙ্গে।”
হোভারসন: “মিসেস ওয়েলটন, ওদের সঙ্গে
একটু কথা বলতেচাই, প্লীজ . . . ”
মিসেস ওয়েলটন: “ওহ্, শিওর শিওর,”
দরজা ভেজিয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল মিসেস
ওয়েলটন।
রেনকোটটা খুলে দরজার পাশের হ্যাঙ্গারে
ঝুলিয়ে রাখলেন চীফ। সোফায় বসলেন।
সিগারেট বের করে ধরালেন ধীরেসুস্থে।
হোভারসন: “তারপর, ছেলেরা,
পাপালোর পজিশন খুব খারাপ।লেন্স দুটো পাওয়া
গেছে। ওর বিছানার তলায়।”
রবিন মিলফোর্ড: “কিন্তু পাপালো চুরি করেনি।”
রাগ প্রকাশ পেল রবিনের গলায়।
“আমরা জানি ও করেনি।”
হোভারসন: “হয়ত করেনি। কিন্তু সব সাক্ষী-
প্রমাণ ওর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সবাইজানে, বাবার
চিকিৎসার জন্যে গ্রীসে ফিরে যাবার জন্যে
পাগল হয়ে উঠেছে ও।”
মুসা আমান: “উঠেছে, ঠিক। কিন্তু সেজন্যে চুরি
করবেনা সে। তাছাড়া টাকা তার আছে। এবং আরও
পাবার সম্ভাবনা আছে।”
হোভারসন: “তাই !”
তিনজনের দিকেই একবার করে তাকালেন
হোভারসন।
“ওর টাকা আছে ? আরও পাবার সম্ভাবনা আছে ! কি
করে ?”
মুখ ফসকে কথা বেশি বলে ফেলেছে, এখন
আর ফেরার পথ নেই। মোহরের কথা বলতেই
হবে চীফকে। তবু চুপ করে রইল মুসা।
হোভারসন: “ছেলেরা, পাপালোকে আমি পছন্দ
করি, তার ভাল চাই। এখন বলত, সত্যি সত্যি কি ঘটেছিল
গতকাল। বিপদে পড়েছ, এবং উদ্ধার করে আনা
হয়েছে, ঠিকই। কিন্তু কেন পড়েছ বিপদে ?
কেন গিয়ে ঢুকেছ ওই সুড়ঙ্গে। শুধুই কৌতূহল?
নিশ্চয় না। হয়ত তোমাদেরভয়, গুপ্তধনের কথা
ফাঁস হয়ে গেলে দলে দলে ছুটে আসবে
লোক। শূটিঙে বিঘ্ন ঘটাবে। কিন্তু পাপালোর
দিকটাও ভেবে দেখতে হবে তোমাদের।
ওকে হাজত থেকে বের করে আনতে চাও
না ?”
দ্বিধা করছে তিন গোয়েন্দা। শেষে মন স্থির
করে নিলো কিশোর।
কিশোর পাশা: “হ্যাঁ, স্যার, চাই।”
মুসার দিকে ফিরল।
“থলেটা নিয়ে এসো।”
দোতলায় চলে গেল মুসা। পাপালোর থলেটা
নিয়ে ফিরে এলো। থলের মুখ খুলে
হোভারসনের পাশে ঢেলে দিল মোহরগুলো।
মৃদু টুংটাং আওয়াজ তুলে সোফায় পড়ল পঁয়তাল্লিশটা
স্প্যানিশ ডাবলুন।
টেবিলে খাবার দেয়া হল। খেতে বসল
ছেলেরা। কাছেই একটা চেয়ারে বসে এটা ওটা
বাড়িয়ে দিচ্ছে মিসেস ওয়েলটন। বলি বলি করছে
কি যেন। শেষ পর্যন্ত আর থাকতে না পেরে
বলেই ফেলল,
মিসেস ওয়েলটন: “গুপ্তধন খোঁজার জন্যেই
তাহলে এসেছতোমরা। দেখলাম . . . ”
ঝট করে মাথা তুলল কিশোর।
কিশোর পাশা: “কি দেখেছেন?”
মিসেস ওয়েলটন: “সত্যি বলছি, চুরি করে কারও
কিছু দেখার অভ্যেস নেই আমার। দেখতে
এসেছিলাম, চীফ চলে গিয়েছে কিনা। দেখলাম,
বসেআছে, পাশে একগাদা ডাবলুন।ভাবলাম, খুব
জরুরী কোন কথা আলোচনা করছ তোমরা।
বিরক্ত না করে চলে গেলাম।”
একে অন্যের দিকে চাওয়া-চাওয়ি করল তিন
গোয়েন্দা। খাওয়া বন্ধ।
কিশোর পাশা: “কাউকে বলেছেন একথা ?”
মিসেস ওয়েলটন: “কোন্ কথা?”
কিশোর পাশা: “আমরা গুপ্তধন খুঁজে পেয়েছি . .
.”
মিসেস ওয়েলটন: “নাহ্,”
এদিক ওদিক মাথা নড়ল মিসেসওয়েলটন,
“তেমন কাউকে না। ফোনে শুধু আমার ঘনিষ্ঠ
তিন বান্ধবীকে জানিয়েছি। আমারই মত কম কথা
বলে। পেটে বোমা মারলেও আমারই মত মুখে
তালা লাগিয়ে রাখবে। কাউকে কিচ্ছু বলবেনা . . .
”
কিশোর পাশা: “হুঁ,”
চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা ঝোঁকাল কিশোর।
“কয়েকটা মোহর পেয়েছে মুসাআর রবিন।
তবে স্কেলিটন আইল্যাণ্ডে নয়।”
মিসেস ওয়েলটন: “আমাকে বোকা বানাতে
পারবে না, ইয়ং ম্যান,”
নিজের বুদ্ধির ওপর খুব বেশি ভক্তি মিসেস
ওয়েলটনের।
“আগামী কাল ভোর থেকেই লোকযেতে
শুরু করবে স্কেলিটন আইল্যাণ্ডে।
গুপ্তধন খুঁজতে . . . ”
বলতে গিয়েই থেমে গেল। মনেপড়ে
গেছে, একটু আগে বান্ধবীদের প্রশংসা করে
বলেছে, মুখে তালা লাগিয়ে রাখবে ওরা। কথা
ঘোরানর চেষ্টা করল,
“মানে, আমি বলতে চাইছি, যদি আর কেউ শুনে
ফেলে আর কি ! চীফ হোভারসনও তো
জেনেগেল . . . ”
কিশোর পাশা: “তিনি কাউকে বলবেন না, কথা
দিয়েছেন।”
মিসেস ওয়েলটন: “ওহ্, আমি যাই !”
তাড়াতাড়ি উঠে পড়ল মিসেস ওয়েলটন।
“দুধ পুড়ে যাচ্ছে . . . ”
মুসা আমান: “কাম সারছে !!”
কিশোরের মুখে শোনা বাঙালিবুলি ঝাড়ল মুসা।
“এতক্ষণে জেনে গেছে হয়ত আদ্দেক
শহর ! আগামী কাল ভোর হতে না হতেই ভিড়
লেগে যাবে কঙ্কাল দ্বীপে। শূটিঙের
বারোটা বাজল ! সব দোষ আমাদের !”
রবিন মিলফোর্ড: “এরপর রাফাত চাচাকে মুখ
দেখাব কি করে আমরা !”
মুসা আমান: “লোক ঠেকাতে না পারলে সর্বনাশ
হয়ে যাবে ফিল্ম কোম্পানির !
কিশোর, তুমি কিছু বল।”
চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে কিশোর। নির্লিপ্ত। মুখ
তুলল,
কিশোর পাশা: “একটা বুদ্ধিএসেছে আমার মাথায়।
আগে খেয়ে নিই, তারপর বলছি। তোমরাও
খেয়ে নাও।”
কিশোর পাশা: “মুসা, রবিন, জলদি ওঠ ! রহস্যের
সমাধান করে ফেলেছি !”
চোখ মেলল দুই সহকারী গোয়েন্দা। হাই
তুলতে তুলতে তাকাল কিশোরের দিকে।
মুসা আমান: “কি হয়েছে ?”
ঘুম-জড়িত গলায় জানতে চাইলমুসা।
“দুঃস্বপ্ন দেখেছ ?”
কিশোর পাশা: “না !”
উত্তেজিত কণ্ঠ কিশোরের।
“জলদি কাপড় পর ! কঙ্কাল দ্বীপ যেতে
হবে ! রহস্যের সমাধান করে ফেলেছি !”
লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে বসলমুসা আর রবিন।
মুসা আমান: “ইয়াল্লা !! বলবল . . . ”
বলল কিশোর।
রবিন মিলফোর্ড: “কিশোর, তোমার তুলনা
নেই !”
বন্ধুর প্রশংসা না করে পারল না রবিন।
“ঠিক ! ঠিক বলেছ ! একেবারেখাপে খাপে
মিলে যাচ্ছে সবকিছু !”
কিশোর পাশা: “ইস্স্, একটা গাধা আমি !”
রবিনের কথায় কান দিল না কিশোর।
“আরও আগেই বোঝা উচিত ছিল !জলদি যাও।
আমিই যেতাম, কিন্তু সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা . .
. ”
মুসা আমান: “না না, তোমার যাবার দরকার নেই,”
হাত নেড়ে বলল মুসা।
“তুমি শুয়ে থাক। আমরাই পারব। কিন্তু বাবাকে
জানালেই তো পারি। জিমকে নিয়ে তারাও আমাদের
সঙ্গে গেলে . . . ”
কিশোর পাশা: “না,”
মাথা নাড়ল কিশোর।
“আমার অনুমান ভুলও হতে পারে। তা হলে
খেপে যাবেন রাফাত চাচা। তোমরা দু’জনেই
খুঁজে বের করগে আগে। পেলে, সঙ্গে
সঙ্গে গিয়ে জানাবে তাদেরকে।”
পাঁচ মিনিটেই কাপড় পরে তৈরি হয়ে গেল রবিন আর
মুসা। টর্চ নিলো দু’জনেই।দরজা খুলে বেরিয়ে
গেল নিঃশব্দে।
শুয়ে পড়ল আবার কিশোর। ঘুমএলো না।
ক্ষোভে-দুঃখে ছটফট করছে।
কেন লাগল ঠাণ্ডা ? কেন এই হতচ্ছাড়া সর্দি ধরে
বসল তাকে ! নইলে তো রবিন আর মুসার সঙ্গে
সে-ও যেতে পারত। রাতটা দ্বীপেই
থেকেযেত। তারপর ভোর না হতেই গুপ্তধন
শিকারিদের খেলা .. .
গুপ্তধন শিকারি !
আবার লাফিয়ে উঠে বসল কিশোর। ভুল হয়ে
গেছে, মস্ত ভুল ! ভয়ানক বিপদে ঠেলে
পাঠানো হয়েছে রবিন আর মুসাকে ! খুন হয়ে
যেতে পারে ওরা, খুন . . .
গায়ের জোরে দাঁড় টানছে মুসা। প্রায় উড়ে
চলেছে ছোট্ট নৌকা। এক জেলের
কাছথেকে নৌকাটা ভাড়া নিয়েছে সে। সামনের
গলুইয়ের কাছে বসে আছে রবিন। চেয়ে
আছে সামনের দিকে। তারার আলোয় অদ্ভুত
দেখাচ্ছে কঙ্কাল দ্বীপকে।
রবিন মিলফোর্ড: “এসে গেছি!”
মোড় ফেরাল মুসা। জেটির কাছে গেল না।
প্লেজার পার্কের দিকে এগিয়ে চলল।
ঘ্যাঁচ করে বালিতে এসে ঠেকল নৌকার সামনের
অংশ। লাফিয়ে নেমে পড়ল রবিন। মুসাও নামল।
দু’জনে টেনে নৌকাটাকে তুলে আনল ডাঙায়।
মুসা আমান: “চল, পার্কের ভেতর দিয়ে
এগোই,”
নিচু গলায় বলল মুসা।
“পার্ক পেরিয়ে রাস্তায় নামব, সেদিন যেপথে
গুহায় গিয়েছিলাম। খুব সাবধান। জিম টের পেলে
চেঁচামেচি শুরু করবে।”
রবিন মিলফোর্ড: “হ্যাঁ। তবে সঙ্গে ও গেলে
ভালই হত।
. . . অন্ধকারে গুহাটা খুঁজে পাব তো ?”
মুসা আমান: “মনে হচ্ছে পাব।”
দ্বিধা করল এক মুহূর্ত। গাঢ় অন্ধকার। নীরব-
নিস্তব্ধ।
সৈকতে ঢেউ আছড়ে পড়ার একটানা মৃদু ছল-ছলাৎ
শব্দনীরবতাকে আরও গভীর করে তুলেছে
যেন।
“চল, এগোই।”
আগে আগে চলেছে মুসা। মাঝেমাঝে টর্চ
জ্বেলে দেখে নিচ্ছে সামনের পথ। এসে
ঢুকল পার্কে।
কালো আকাশের পটভূমিতে কিম্ভূত এক দানবের
মত দেখাচ্ছে সাগর-দোলাটাকে।পাশ কাটিয়ে
নাগরদোলার কাছে চলে এলো দু’জনে। মোড়
ঘুরে এগোল। পেছনের ভাঙা বেড়ার কাছে
এসে দাঁড়িয়ে পড়ল।
[[চলবে......]]
{কেমন লাগছে আমার দেয়া ৩ গোয়েন্দার গল্প গুলা প্লিজ Comment করুন ৷Comment করলে বুঝতে পারি আপনি গল্পটা পড়ছেন কিনা ৷ আর বেশি বেশি Comment পাওয়ার জন্যইতো গল্প গুলা দিই ৷ আর যদি ভাল লাগে তবে রিটিং এবং ক্রেডিড দিন ৷ ধন্যবাদ}
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now