বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:ইসতিয়াক আহমেদ
যে ইতিহাসে ব্রিটিশরা আসেনি:-
একটি বিকল্প পৃথিবীর ইতিহাস
১৭৫৭ সাল।
গঙ্গার তীরে তখন বর্ষার শেষ। আকাশে কালো মেঘ, দূরে বজ্রপাতের শব্দ। ভাগীরথীর জল ধীরে ধীরে দক্ষিণে বয়ে যাচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ তখন শুধু বাংলার রাজধানী নয়—এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ নগরী।
সোনার গহনা, মসলিন, রেশম, নীল, মসলা আর চালের বাণিজ্যে বাংলার বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ আসত। ইউরোপীয় বণিকরাও আসত—ইংরেজ, ফরাসি, ডাচ, পর্তুগিজ।
কিন্তু তারা ছিল বণিক।
শাসক নয়।
সেই বছর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার শেষ চেষ্টা করেছিল।
পলাশীর মাঠে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বাহিনী প্রস্তুত ছিল।
ইতিহাসের বাস্তব পৃথিবীতে এখান থেকেই একটি বিশাল পরিবর্তন শুরু হয়েছিল।
কিন্তু এই পৃথিবীতে—
সিরাজ বিশ্বাসঘাতকতাটি আগেই বুঝতে পেরেছিলেন।
মীর জাফরের সেনারা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে স্থির দাঁড়িয়ে ছিল, নবাবের বিশ্বস্ত বাহিনী হঠাৎ তাদের ঘিরে ফেলল।
রবার্ট ক্লাইভ বুঝতে পারলেন, পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি ঘোড়ার পিঠে উঠে চিৎকার করলেন,
"Retreat!"
কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
সন্ধ্যার আগেই ইংরেজ বাহিনী পরাজিত হলো।
ক্লাইভ বন্দী হলেন।
পলাশীর মাঠে দাঁড়িয়ে সিরাজ আকাশের দিকে তাকিয়ে শুধু বললেন,
"বাংলার মাটিতে বাণিজ্য করতে এসেছিলে। বাণিজ্যই করো। সিংহাসনের স্বপ্ন দেখো না।"
সেদিন থেকেই ইতিহাস অন্য পথে হাঁটতে শুরু করল।
প্রথম অধ্যায়: কোম্পানির পতন
পলাশীর পর ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।
তাদের কলকাতায় বাণিজ্য করার অনুমতি থাকল, কিন্তু কোনো দুর্গ নির্মাণ, সেনাবাহিনী রাখা কিংবা স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হলো।
ফরাসিরাও একই নিয়মের মধ্যে পড়ল।
ডাচরাও।
বাংলার নবাব ঘোষণা করলেন—
"বিদেশিরা বাংলায় ব্যবসা করতে পারবে। কিন্তু বাংলাকে শাসন করতে পারবে না।"
এই একটি বাক্য পরবর্তী দুইশ বছরের ইতিহাস বদলে দিল।
ইংল্যান্ডে কোম্পানির শেয়ার পড়ে গেল।
লন্ডনের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হলো।
কিন্তু ব্রিটিশ সরকার তখন ইউরোপের যুদ্ধ এবং আটলান্টিকের উপনিবেশ নিয়ে ব্যস্ত।
ভারতে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার মতো রাজনৈতিক সমর্থন তারা পেল না।
বাংলা স্বাধীন থাকল।
দ্বিতীয় অধ্যায়: বাংলার পুনর্জাগরণ
১৭৬৫ সালে মুর্শিদাবাদে একটি নতুন আইন পাস হলো।
বাংলার প্রশাসনে ফারসির পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে সরকারি ভাষা করা হলো।
ঢাকা, মুর্শিদাবাদ, চট্টগ্রাম, সোনারগাঁও ও রাজশাহীতে নতুন শিক্ষাকেন্দ্র তৈরি হতে লাগল।
ঢাকার তাঁতিদের জন্য রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়া হলো।
মসলিন আবার ইউরোপে রপ্তানি হতে লাগল।
কিন্তু এবার ইউরোপীয় বণিকদের শর্তে নয়।
বাংলার শর্তে।
চট্টগ্রাম হয়ে আরব, পারস্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য বাড়তে লাগল।
ঢাকার বাজারে তখন একসঙ্গে দেখা যেত—
আরবের ব্যবসায়ী,
পারস্যের পণ্ডিত,
আর্মেনীয় বণিক,
চীনা ব্যবসায়ী,
ইউরোপীয় বণিক,
আর বাংলার তাঁতি।
ঢাকা ধীরে ধীরে একটি আন্তর্জাতিক নগরীতে পরিণত হলো।
তৃতীয় অধ্যায়: ভারত নামে কোনো একক দেশ নেই
১৭৮০-এর দশকে মুঘল সাম্রাজ্য কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
কিন্তু এবার তাকে প্রতিস্থাপন করার মতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য ছিল না।
ফলে উপমহাদেশে একের পর এক শক্তিশালী রাষ্ট্র তৈরি হলো।
পশ্চিমে মারাঠা কনফেডারেসি।
উত্তরে শিখ সাম্রাজ্য।
দক্ষিণে মহীশূর।
মধ্য ভারতে বিভিন্ন রাজ্য।
হায়দরাবাদ একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাষ্ট্র।
আর পূর্বে—
বাংলা।
মানচিত্রে তখন কোনো "British India" লেখা ছিল না।
ছিল অনেকগুলো পতাকা।
অনেকগুলো রাজধানী।
অনেকগুলো রাজদরবার।
অনেকগুলো ভাষা।
ইউরোপের মতোই দক্ষিণ এশিয়া হয়ে উঠল বহু রাষ্ট্রের মহাদেশ।
চতুর্থ অধ্যায়: ১৮৫৭ সালের যে বিদ্রোহ কখনো হয়নি
১৮৫৭ সাল।
বাস্তব ইতিহাসে এই সময় উত্তর ভারতে সিপাহী বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল।
কিন্তু এই পৃথিবীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীই নেই।
তাই সেই বিদ্রোহও নেই।
তার বদলে ১৮৫৭ সালে দিল্লিতে অন্য একটি ঘটনা ঘটে।
বিভিন্ন ভারতীয় রাজ্যের প্রতিনিধিরা সেখানে একটি সম্মেলনে বসে।
তারা সিদ্ধান্ত নেয়—
বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।
একটি সামরিক জোট।
নাম দেওয়া হলো—
দক্ষিণ এশীয় প্রতিরক্ষা সংঘ।
এটি কোনো একক দেশ নয়।
প্রত্যেক রাষ্ট্র স্বাধীন।
কিন্তু বাইরের কোনো শক্তি আক্রমণ করলে তারা একসঙ্গে লড়বে।
সেদিন দিল্লির লালকেল্লায় একজন বৃদ্ধ রাজনীতিবিদ বলেছিলেন—
"আমরা এক দেশ নই। কিন্তু আমরা একই ভূখণ্ডের সন্তান।"
এই কথাটি পরবর্তী শতাব্দীতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বিখ্যাত রাজনৈতিক উক্তিগুলোর একটি হয়ে ওঠে।
পঞ্চম অধ্যায়: বাংলা ও পশ্চিম বাংলা
১৮৮০ সাল।
বাংলার রাজনীতি বদলাতে শুরু করল।
শিক্ষিত তরুণরা দাবি তুলল—
বাংলাকে আধুনিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে হবে।
মুর্শিদাবাদে সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলো।
ঢাকা পেল দ্বিতীয় রাজধানীর মর্যাদা।
কলকাতা হলো বাণিজ্যিক রাজধানী।
চট্টগ্রাম হলো সামুদ্রিক বন্দর।
রাজশাহী হলো শিক্ষা ও কৃষি গবেষণার কেন্দ্র।
সিলেট চা-বাণিজ্যের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠল।
আর পুরো বাংলা জুড়ে একটি নতুন পরিচয় তৈরি হলো—
বাঙালি।
ধর্মের ভিত্তিতে নয়।
ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে।
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই বাংলার নাগরিক।
ষষ্ঠ অধ্যায়: ১৯১৪
ইউরোপে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো।
ব্রিটেন বাংলার কাছে সাহায্য চাইল।
কিন্তু বাংলা বলল—
"আমরা নিরপেক্ষ।"
ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন,
"আপনারা ব্রিটেনকে সাহায্য করবেন না?"
বাংলার প্রধানমন্ত্রী হাসলেন।
"আপনারা তো আমাদের শাসন করেন না। তাহলে আপনাদের যুদ্ধে আমরা কেন সৈন্য পাঠাব?"
এটি ছিল একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বাংলা কোনো ইউরোপীয় সাম্রাজ্যের অংশ নয়।
বাংলা নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেয়।
সপ্তম অধ্যায়: ১৯৪০
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলো।
জাপান পূর্ব এশিয়ায় দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
বাংলার পূর্ব সীমান্তে উদ্বেগ।
চট্টগ্রাম বন্দরে যুদ্ধজাহাজ।
ঢাকায় জরুরি সভা।
বাংলার প্রধানমন্ত্রী বললেন,
"আমরা কোনো সাম্রাজ্যের অংশ নই। কিন্তু আমাদের ভূমি আক্রমণ করা হলে আমরা প্রতিরোধ করব।"
বাংলা সেনাবাহিনী সীমান্তে মোতায়েন হলো।
কয়েক মাসের মধ্যে জাপানি বাহিনী বার্মার দিকে অগ্রসর হলেও বাংলার সীমান্তে প্রবেশ করতে পারল না।
চট্টগ্রাম হয়ে মিত্রশক্তির সঙ্গে বাংলার সামরিক সহযোগিতা তৈরি হলো।
যুদ্ধ শেষে বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে উঠে এল।
অষ্টম অধ্যায়: ১৯৫০
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ।
ইউরোপ ধ্বংসস্তূপে।
কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া স্বাধীন।
এখানে কোনো "Partition of India" হয়নি।
কারণ কোনো British India-ই ছিল না।
তাই পাকিস্তান নামে নতুন কোনো রাষ্ট্রও তৈরি হয়নি।
বাংলা তার নিজের সীমানায় দাঁড়িয়ে আছে।
পাঞ্জাব আলাদা রাষ্ট্র।
সিন্ধু আলাদা।
বোম্বে-কেন্দ্রিক পশ্চিম ভারতের রাষ্ট্র আলাদা।
দক্ষিণে দ্রাবিড় অঞ্চলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে।
দিল্লি একটি স্বাধীন উত্তর ভারতীয় রাষ্ট্রের রাজধানী।
আর উপমহাদেশের মাঝখানে অসংখ্য ছোট-বড় রাষ্ট্র।
নবম অধ্যায়: ১৯৭১
এই পৃথিবীতে ১৯৭১ সালও আসে।
কিন্তু এখানে যুদ্ধটা অন্যরকম।
কোনো পাকিস্তান নেই।
কোনো বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধও নেই।
১৯৭১ সালে বাংলার সংসদে বরং একটি নতুন সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয়।
বাংলাকে দুই প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করা হবে—
পূর্ব বাংলা
ও
পশ্চিম বাংলা।
কিন্তু দুটোই একই রাষ্ট্রের অংশ।
ঢাকা ও কলকাতা যৌথভাবে জাতীয় রাজধানীর মর্যাদা পায়।
সেদিন ঢাকার সংসদ ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল।
একজন বৃদ্ধ স্বাধীনতা সংগ্রামী তার নাতিকে বললেন—
"তুই ভাগ্যবান। তোকে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে হয়নি।"
নাতি জিজ্ঞেস করল,
"কেন?"
বৃদ্ধ বললেন,
"কারণ আমাদের পূর্বপুরুষেরা দেশটাকে আগে থেকেই নিজেদের হাতে রেখেছিল।"
দশম অধ্যায়: ২০২৬
ঢাকা।
রাত ১১টা ৪৭ মিনিট।
বুড়িগঙ্গার ওপর দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বইছে।
ঢাকার আকাশে অসংখ্য আলো।
নগরী এখন এশিয়ার অন্যতম বড় প্রযুক্তি ও বাণিজ্যকেন্দ্র।
ঢাকা মেট্রোর শেষ ট্রেনটা ধীরে ধীরে উত্তরের দিকে চলে যাচ্ছে।
রাস্তার পাশে বাংলা, আরবি, ফারসি, ইংরেজি—বিভিন্ন ভাষার সাইনবোর্ড।
কিন্তু দেশের প্রধান সরকারি ভাষা বাংলা।
একটি বিশাল ভবনের সামনে পতাকা উড়ছে।
সবুজ জমিনের মাঝখানে সোনালি সূর্যের প্রতীক।
সেটি বাংলার পতাকা।
একজন ষোলো বছরের ছেলে ছাদের ওপর দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল।
তার হাতে একটা পুরোনো বই।
বইটির নাম—
"যে ইতিহাস ঘটতে পারত"
সে বইয়ের শেষ পাতাটি খুলল।
সেখানে লেখা—
"১৭৫৭ সালে যদি পলাশীর যুদ্ধ অন্যভাবে শেষ হতো, তাহলে পৃথিবীর ইতিহাসও অন্যরকম হতে পারত।"
ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল।
তারপর দূরের আকাশের দিকে তাকাল।
ঢাকার আকাশে সেদিন অসাধারণ পরিষ্কার রাত।
সে উত্তর-পশ্চিম দিকে তাকিয়ে তারার মাঝে একটা উজ্জ্বল বিন্দু দেখতে পেল।
হয়তো কোনো গ্রহ।
হয়তো কোনো উপগ্রহ।
হয়তো দূরের কোনো নক্ষত্র।
সে ভাবল—
"ইতিহাস কি সত্যিই একটাই?"
তার পাশে দাঁড়ানো দাদা ধীরে ধীরে বললেন,
"না।"
ছেলেটি ঘুরে তাকাল।
দাদা বললেন,
"মানুষের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে অসংখ্য ইতিহাস জন্ম নেয়। আমরা শুধু একটাকেই বাস্তব হতে দেখি।"
ছেলেটি আবার আকাশের দিকে তাকাল।
তার মনে হলো—
এই পৃথিবীতে ব্রিটিশরা কখনো বাংলা শাসন করেনি।
কোনো ভারত-পাকিস্তান বিভাজন হয়নি।
কোনো ১৯৪৭ নেই।
কোনো ১৯৭১ নেই।
কিন্তু তার নিজের দেশ আছে।
তার নিজের ভাষা আছে।
তার নিজের পতাকা আছে।
আর সবচেয়ে বড় কথা—
তার পূর্বপুরুষেরা নিজেদের ইতিহাস নিজেরাই লিখেছিল।
দূরে ঢাকার মসজিদ থেকে আজানের শব্দ ভেসে এলো।
তার সঙ্গে মিশে গেল শহরের ট্রেনের শব্দ।
আকাশে তারাগুলো জ্বলছিল।
আর পৃথিবীর কোথাও কোনো ইতিহাসের বইতে লেখা ছিল না—
"British India."
কারণ এই পৃথিবীতে সেই নামটি কখনো জন্মই নেয়নি।
সমাপ্ত।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now