বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পূব আকাশে সূর্য উঠেছে। রাতের নিকষ কালো আঁধার ভেদ করে।
প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো। আলোময় হয়ে ওঠলো ধরণী। পাখিরা ডাকছে কিচিরমিচির করে। মোরগ ও পাল্লা দিয়ে ডাকছে। কুক্কুরুকুক... । ভোরের মাতাল হাওয়া সবুজ পাতাগুলোকে দিচ্ছে দোলা। খোয়াড় থেকে হাঁস আর মুরগীগুলোকে বের করল জোহরা বেগম। ও বাড়ির হাশেম গরুগুলোকে নিয়ে বের হল। গরুগুলো সারাদিন মাঠেই থাকবে। ঘাস খাবে। এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করবে। হাশেম আবার বিকেলে গরুগুলোকে নিয়ে আসবে।
রমিজউদ্দীনের পুকুরে আজ জাল ফেলেছে। সকাল থেকেই পুকুরের চারপাশে ভীড় জমিয়েছে নানা বয়সী মানুষ। কত রকমের মাছ উঠছে জালে।
রান্নার জোগাড়যন্ত্র করে আছিয়া তার ছোট রান্নাঘরটায় ঢুকল।উঠোন ঝাড়ু দিয়ে আর বাড়ির পিছনের গাছতলায় পাওয়া ডালপালা আর শুকনো পাতাগুলোই সম্বল। যেদিন বৃষ্টি হয় সেদিন আছিয়ার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়তো আর কেউ পায়না। পাতাগুলো ভিজে থাকে। উনুনটাও।
পাশের বাড়ির সোলায়মান মিঞা এখনো ওঠেননি ঘুম থেকে। শুয়ে আছেন বিছানায়। তার আর দিন-রাত। জীবনের শেষ প্রহরে এসেছেন তিনি। শুয়ে শুয়ে মাথার উপর ফ্যানটা দেখেন। হয়তো আরো অনেক কিছুই দেখেন আর ভাবেন।
শরীফ, কাকলী, ঝুমুর, আসিফ পাড়ার বাচ্চাকাচ্চারা দলবেধে স্কুলে যেতে শুরু করল। কারোও কাঁধে ব্যাগ, কারো নেই। কাঁচা পাকা রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ওরা সবুজ আর ফয়সালকে দেখে। ওরা স্কুলে যায় না। মাঠে কাজ করে ওদের বাবার সাথে।
সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছেন হেডমাস্টার। চা দোকানের সামনে থেকে এককাপ চা খেয়ে নিলেন।আর রহিমের দোকান থেকে একটা পত্রিকা কিনে নিলেন। ছাত্রদের কাছে তিনি যমস্যার।সঙ্গে সবসময় হাতে একটা বেত রাখেন। কথাবার্তায়, চলাফেরায়, পড়ালেখায় একটু ভুল দেখলেই তার বেতের কাজ শুরু করেন।
চুলায় আগুন ধরাতে গিয়ে ধোঁয়ায় ভরে গেছে আছিয়ার ছোট রান্নাঘর। চোখে মুখে আঁচল দিয়ে ঢেকে চোঙা দিয়ে উনুনের মুখে ফুঁ দিচ্ছে আছিয়া। অমনি কেঁদে ওঠল তার ২ বছরের আমান। ঘুম পাড়িয়ে এসেছিল। জেগে গেছে। পিড়িতে বসেই আছিয়া গলা ছাড়ল "আম্মা, আমানরে একটু দ্যাখেন তো।" আছিয়ার শাশুড়ি আমানের কাছে উঠে গেল।
ও বাড়ির আসিফের বোনকে আজ দেখতে আসবে। বয়স বেশি হয়নি পারুলের। বাচ্চামো স্বভাব এখনো স্পষ্ট। পারুলের মা ফুপি ব্যস্ত রান্নাবান্না আর ঘরদোর গোছানো নিয়ে। ওদিকে পারুল তার সই কলিদের বাড়িতে গিয়ে আমের ভর্তা খাচ্ছে আর আড্ডা দিচ্ছে।
হাতে একটা ঝিংলা নিয়ে পারুলের মা কলিদের বাড়িতে গেলেন। দূর থেকে দেখেই পারুল দিল ভো দৌড়। " আভাগী, জলদি বাড়িতে আয় বলে দিলাম। এত বড় হলি তোর ঢেঙামি গেল না। এখনই বাড়িতে যাবি নাইলে এই ঝিংলা আমি তোর পিঠে ভাঙবো আজ।"
মনে মনে ভাবলেন ভালোই ভালোই পাত্রপক্ষ এসে দেখে পছন্দ করে গেলেই হয়। যা ঢেঙা মেয়ে। আর পারিনা।
______চলবে______
_---রেহনুমা আহমেদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now