বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপসংহার

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "উপসংহার" লিখেছেনঃ Mobashwer Ahmed Noman ============ ১. আজ খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে সাগর । ছোট ছেলে রাকিব কেও ডাকে । কাঁচা ঘুম থেকে ওঠানোয় কান্না জুড়ে দেয় রাকিব । : না না বাবু কাঁদেনা ! তোমার আম্মুর কাছে যাবো । হয়ত কিছু কিছু বুঝে অথবা না বুঝলেও কান্না থামে রাকিবের । সাত সকালেই ভালো জামা কাপড় পড়ে রওয়ানা দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় । আজ রুনুর চতুর্থ বিবাহ বার্ষিকী । আজকের দিনে তার পছন্দের সব ফুলই তাকে গিফট করে সাগর । ২. কালের পরিবর্তনে অনেক কিছুই পরিবর্তিত হয় । আধূনিক অনেক ছেলেই এখন নিজেরাই বিয়ে করে অথবা পছন্দ করে বাবা মাকে জানায় তারপর সামাজিকতা মেনে তারা সেখানে বিয়ে দেয় । সাগর এই ব্যাপারটাতে নিজেকে না জড়ানোতে বিশ্বাসী ছিল । বাবা মাকেই এ ভার দিয়েছিল । ভার্সিটিতে পড়ার সময় বেশ কয়েকটা মেয়ে ভাব জমাতে এসে ব্যর্থ হয়ে আরেকজনকে বেছে নিয়েছে । একজন অপরিচিত মেয়েকে আপন করার যে অনুভূতি একজন পরিচিত মেয়েকে কাছে টানার অনুভূতি অপেক্ষা অনেক মধুর ও ভিন্ন বলে বিশ্বাস সাগরের । বিয়ের আগে সম্পর্কে জড়ালে দুজনের যত কথা গল্প গাঁথা সব শেয়ার করার পর বিয়ে নতুন কোন কথা না থাকায় দাম্পত্য জীবন শুরু হয়া ঝগড়া দিয়ে ! নতুন কেউ আসলে দুজনের হাসি কান্না আনন্দ বিষাদের গল্প বলতে বলতেই দুই এক বছর শেষ তারপর অনাগত ভবিষ্যত উঁকি দিতে থাকায় তাকে নিয়ে স্বপ্নের ডালি সাজানোতেই যৌবনের উদ্দাম দিনগুলো দেখতে দেখতেই শেষ । এই জীবনধারাটাই অনেক পছন্দ সাগরের । ৩. ভার্সিটির স্বাধীন দিনগুলো শেষ হওয়ার পর পরই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে চাকরী পেয়ে যায় সাগর । একমাত্র ছেলের বিয়ের জন্য প্রায় ২0 থেকে ৩০ টা মেয়ে দেখে তার বাবা মা , তাদের হাঙ্গামা দেখত আর হাসত সাগর । মা একটা একটা করে ছবি দেখাতো আর বলত দেখত এটা পছন্দ হয় কিনা ? একটু দেখেই সাগর বলত তোমার কি পছন্দ হয়েছে ? হ্যাঁ মোটামুটি তবে চোখগুলো কাজল কালো হলে ভালো লাগত । তাহলে তেমন একটাই দেখ মা । এভাবেই অনেক চুলচেরা বিশ্লেষন করে আজকের শুভদিনে রুনুর সঙ্গে বিয়ে । বাবা মা বাইরের অনেক কিছু দেখলেও ভিতরের রূপটা দেখতে পারেনি এটা একটা জুয়া খেলার মতো যেখানে কার্ডের বাইরের মূল্যহীন রূপটাই দেখা যায় শুধু । এ জুয়ায় ভালোভাবেই জিতেছিল সাগর । নতুন একটা জায়গায় এসে রুনু এমনভাবে মিশে গিয়েছিল মনে হত যেন কত আগে থেকেই রুনু এই পরিবারের একজন । যদিও একটু অভিমানি ছিল তবু এখনকার মত এত বেশী নয় । ভালোলাগা ভালোবাসায় দিনগুলোও কাটতেছিল বেশ । প্রথম বিবাহবার্ষিকীর কথা মনে পড়তেছে । বাবু তখন কেবল উঁকি দিচ্ছে মায়ের উদরে । আগের রাতে ঠিক করল আগামী দিন বাবুর কথা বাবুর ভবিষ্যত চিন্তা ছাড়া কোন কথা হবেনা ।তারপর সারাদিন বাবুকে নিয়ে যে কত বকবক করল তার ইয়ত্বা নেই । কত রঙ্গীন স্বপ্ন কত আশা তাকে ঘিরে ! আমি কেবল শুনি আর হাসী । গাছে কাঠাল গোঁফে তেল ! বাবুটাকে সত্যি অনেক ভালোবাসত রুনি । অথচ অভিমান করে আজ প্রায় ২ বছর থেকে বিচ্ছিন্ন সাগর আর তার আদরের বাবুর কাছ থেকে । বাবার বাড়িতে থাকে রুনি । নানা ব্যস্ততায় শুধু এই দিনটাতেই তার কাছে যাওয়া হয় তাও রুনি দেখা না করে নিশ্চুপ থাকে । সেজন্য সাগর আরো কষ্ট পায় যেতে ইচ্ছা করেনা কিন্তু আবার এই দিনটি এলেই কোন এক অজানা টানে ঠিকই সেদিকে পা বাড়ায় । এ এক অদ্ভুত মায়া । ৪. রওয়ানা দেওয়ার পূর্বে প্রতি বছরের মতো আর একটি কাজ করে সাগর । রং বেরংয়ের নানা ফুল দিয়ে মুড়িয়ে দেয় রুনিকে । ফুলের ভীড়ে তাকে খুঁজে পাওয়াই দায় শুধু মায়াবী চোখ দুটি দিয়ে যেন অপলক চেয়ে আছে রাকিবের দিকে আর ঠোঁটে চিরপরিচিত সেই হাসি । যা দিয়ে একমুহুর্তেই জয় করেছিল সাগরকে সাগরের মাকে এই পরিবার প্রতিটি মানুষকে ! তাইতো সে যেদিন বাবার বাড়ি চলে যায় বাড়ির কাজের মহিলাটিও ইস্তফা দিয়ে চলে গিয়েছিল ! রুনুর দিকে তাকাতে তাকাতে গেট দিয়ে বের হয় সাগর আপন মনে স্বগোক্তি করে গতবার রাকিবকে নিয়ে যাইনি বলে মন খারাপ করেছিলে দেখাও করোনি এবার কিভাবে অবহেলা করবে ? তোমার আদরের সন্তানকে নিয়ে যাচ্ছি তার সাথে না কথা বলে থাকতেই পারবে না । ৫. সাগর শ্বশুর বাড়িতে না ঢুকে বাড়ির পিছন দিয়ে বাগান বাড়িতে যায় । রুনু সাগরের কাছ থেকে অভিমান করে চলে আসার পর এখানেই থাকে সাথে থাকে তার প্রিয় অনেক ফুল । বাতাসে যখন ফুলগুলো দোলে তখন নিশ্চয়ই অনেক খূশি হয় রুনি । দুর থেকে রুনির হাসির ছটা শুনতে পায় সাগর যতই এগোতে থাকে ততই হাসিটাও মিলিয়ে যেতে থাকে । নিশ্চয়ই রুনি বুঝতে পেরেছে তাদের আগমনের খবর তাই লুকাতে চাচ্ছে । ইস ! অভিমানটা আর গেল না । একবার ফজরের নামাজ ইচ্ছাকৃত কাজা করায় রুনু অনেক রাগ করেছিল কিছুতেই রাগ কমাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত কান ধরে বলেছিল আর জীবনে ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ বাদ দিবেনা তখন রুনু আনন্দে কেঁদে ফেলেছিল প্রায় । তারপর কাঁদোকাঁদো গলায় বলেছিল জানো আমি স্বপ্ন দেখি আমরা উভয়েই জান্নাতে যাবো । তাকে দেওয়া কথা আজ পর্যন্ত ভূলিনি অথচ তার দেয়া কথা সে রাখতে পারেনি । একটু কষ্ট হলেও সবসময় রুনুর অভিমান ভাঙ্গাতে পেরেছিল সাগর । কিন্তু তার আদরের বাবুটার জন্মের সময় সাগরের কোন ভূলে যে রুনু এত বড় অভিমান করল তা কিছুতেই বুঝতে পারেনা সাগর । হিম বাতাসের ঝাপটায় হঠাত্‍ সচকিত হয় সাগর দেখে রাকিব তার কচি হাত দিয়ে চোখের পানি মুছে দিচ্ছে । রাকিবকে আবেগের বশে খুব জোরে বুকে চেপে ধরে হু হু করে কেঁদে ওঠে সাগর । সামনে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে রুনু বড় অভিমানে যে অভিমান ভাঙ্গা যায়না যে অভিমানেই জীবনের উপসংহার !


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপসংহার - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
→ উপসংহারহীন অবতবণিকা
→ উপসংহার
→ উপসংহার
→ তারাবাঈ (উপসংহার)
→ মা-৬৫ —উপসংহার
→ উপসংহার

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now