বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রিজনেল্ট কল্পনাও করতে পারেননি এত বড়
বিশাল বাহিনী কারো দ্বারা আক্রান্ত
হতে পারে। মরুচারী বেদুঈনরা ছোটখাট
কাফেলা আক্রমণ করে লুটপাট করে, তাদের
পক্ষে সেনাবাহিনীর ওপর চড়াও হওয়ার
প্রশ্নই উঠেনা। সুলতান আইয়ুবীর এখন
আলেকজান্দ্রিয়ায় খৃস্টান নৌসেনাদের
হাতে নাস্তানাবুদ হওয়ার কথা, নূরুদ্দিন
জঙ্গী ক্রাকে, তাহলে কে তাদের ওপর এমন
ভয়ানক গজব নাজিল করলো?
কিন্তু তার জানা ছিল না, নূরুদ্দিন জঙ্গী
কয়েকদিন আগে থেকেই তার সৈন্যদল নিয়ে
জনবসতিহীন টিলার পিছনে, উঁচু নিচু মাঠের
গভীরে এবং কাঁটা ঝোপের আড়ালে গোপন
আস্তানা গেড়ে ওঁত পেতে বসেছিলেন।
তাদের দৃষ্টি ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস
থেকে আসা মরুভূমির পথের দিকে। নূরুদ্দিন
জঙ্গী জানতেন, খৃস্টান বাহিনী পানির
জন্য অবশ্যই কোন না কোন মরুদ্যানের
পাশে ক্যাম্প করবে। সে জন্য তিনি
মরুভূমিতে গোয়েন্দা লাগিয়ে
রেখেছিলেন। খৃস্টানদের অগ্রবর্তী
সৈন্যদলটি দিনের বেলাতেই তাদের
চোখের সামনে দিয়ে অগ্রসর হয়ে গেল।
জঙ্গী তাদের মোকাবেলায় না নামায়
জঙ্গীর কমান্ডাররা বেশ নিরাশ এবং দুঃখ
পেয়েছিল। তাদের বলা হলো, ‘একটু
অপেক্ষা করো। রাত নামুক, দেখবে এরচে বড়
শিকার পাবে। রাতে আমরা তাদের
ক্যাম্পের ওপর আক্রমণ চালাবো।’
সেখানে কোন ক্যাম্প ছিল না। তাই কি
করে জঙ্গী ক্যাম্পে আক্রমণ চালাবেন
বুঝতে পারলো না অনেক সৈনিকই।
এক সময় তাদের চোখ অনেক দূরে ধূলিঝড়
দেখতে পেল। তারা মনে করলো, মরুভূমিতে
ঝড় শুরু হয়েছে। এ মরু ঝড় খুব মারাত্বক হয়ে
থাকে। কিন্তু এটা কোন মরু ঝড় ছিল না, এ
ছিল খৃস্টান বাহিনীর মধ্যবর্তী মূল
সেনাদলের অশ্বখুরের উড়ন্ত ধূলি। তারা
মরুদ্যানের কাছে এসে রাত্রী যাপনের জন্য
থামলো। নূরুদ্দিন জঙ্গী গোপন অবস্থান
থেকে সবই দেখলেন। খৃস্টান বাহিনী
মামুলী ভঙ্গিতে তাবু টানালো, কারণ
ভোরেই তাদের যাত্রা করতে হবে।
পশুগুলোকে পৃথক স্থানে বেঁধে রাখলো।
ধীরে ধীরে অস্তাচলে ডুবে গেল সূর্য।
মধ্য রাতে জঙ্গীর সৈন্যরা সালারের
নির্দেশে গোপন আস্তানা ছেড়ে বাইরে
বেরিয়ে এলো। এদের সবাই ছিল
অশ্বারোহী। ঘুমন্ত খৃস্টান সৈন্যদের
ওখানে প্রথমে তারা অন্ধকারে
এলোপাথাড়ী তীর বর্ষণ করলো। যখন
পাহারারত সৈনিকরা আহত হয়ে ডাক-
চিৎকার শুরু করলো, তখন ঘুমন্ত সৈন্যদের ঘুম
ভেঙ্গে গেল এবং তারা বাইরে এসেই
তীরের আওতায় পড়ে গেল। তারা যখন ভয়ে
দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিল তখন অশ্বারোহী
বাহিনী তাদের ঘোড়া তীরবেগে ছুটিয়ে
দিল সেই সৈনিকদের ওপর দিয়ে।
তারা অন্ধকারে এলোপাথাড়ি বর্শা ও
তলোয়ার চালাতে লাগল। খৃস্টান সৈন্যরা
সতর্ক হওয়ার আগেই অশ্বারোহীরা আর এক
দফা আক্রমণ চালিয়ে খৃস্টান বাহিনীর
বাঁধা ঘোড়াগুলোর রশি কেটে দিলো।
ঘোড়াগুলো ছাড়া পেয়েই ছুটে পালালো
মরুভূমির বিপু বিস্তারে।
রিজনেল্ট নিরূপায় হয়ে সেখান থেকে
পালিয়ে গেলেন এবং ডানের সেনাদলে
গিয়ে পৌছলেন। এ দলটি বহু দূরে একস্থানে
ক্যাম্প করে বিশ্রাম নিচ্ছিল। নূরুদ্দিন
জঙ্গীও রিজনেল্টকে অনুসরণ করে সেখানে
গিয়ে পৌছলেন। এই বাহিনীর পিছনেই ছিল
সমস্ত রসদপত্র বোঝাই ঘোড়া ও খচ্চরের
কাফেলা। এই কাফেলার বন্দোবস্ত করা
জন্য নূরদ্দিন জঙ্গী আলাদা বাহিনী
নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন। তারা এখানে
না থেমে এগিয়ে গেল সেদিকে। ভোরের
আলো ফুটতেই রসদপত্রের কাফেলা নজরে
পড়লো তাদের। বিলম্ব না করে তারা
ঝাঁপিয়ে পড়লো কাফেলার ওপর এবং
সহজেই কব্জা করে নিলো সব রসদপত্র।
রিজনেল্ট পৌঁছতেই ডান দিকের বাহিনী
সতর্ক হয়ে গেল। সম্ভাব্য হামলা
প্রতিরোধের জন্য প্রস্তুত হলো তারা।
রিজনেল্ট তাদেরকে নিয়ে ছুটলেন নিজের
দলের দিকে। কারণ তিনি সেটাকেই যুদ্ধের
ময়দান হিসেবে গণ্য করলেন। ভোরের আলো
ফোটার আগেই সেনাদল নিয়ে তিনি
যাত্রা করলেন যেখানে আক্রান্ত
হয়েছিলেন সেদিকে। নূরুদ্দিন জঙ্গী সৈন্য
গুছিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষ করতেই
দেখলেন খৃস্টান সেনাদল যাত্রা শুরু করে
দিয়েছে। তিনি তাদের ওপর পিছন ও পাশ
থেকে তীব্র আক্রমণ চালালেন। তারা
বুঝতেই পারলো না, কোথেকে এবং কেমন
করে তাদের ওপর এমন কঠিন মুসিবত নেমে
এলো। সুলতান আইয়ুবীর মত সুলতান জঙ্গীও
সামনাসামনি লড়াইয়ের ঝুঁকি না নিয়ে
তাদের ওপর চোরাগুপ্তা হামলা চালালেন।
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল তুফানের মত তাদের একদিক
দিয়ে আক্রমণ করে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে
যেতো। ফলে খৃস্টান বাহিবীর অটুট শৃংখলা
তছনছ হয়ে ভেঙ্গে পড়তো, ছত্রভঙ্গ হয়ে
যেতো খৃস্টানদের সাজানো সারি।
সেই রাতেই তিনি সুলতান আইয়ুবীর কাছে
খবর পাঠালেন। কারণ এরা দুই সেনাপতি
আগে থেকেই যুদ্ধের নীল-নকশা এঁকে
রেখেছিলেন। জঙ্গীর প্রতিটি একশন
পরিকল্পনা ছিল শত্রুর পরিকল্পনা ও
চিন্তার বাইরে। তিনি তার প্ল্যান
অনুসারেই যুদ্ধ চালাচ্ছিলেন। রিজনেল্ট
তার নিজ বাহিনীর অগ্রবর্তী দলকে
পিছনে সরে আসার সংবাদ পাঠালেন।
চারদিন ধরে রিজনেল্ট ও জঙ্গীর বাহিনীর
মধ্যে ব্যাপক যুদ্ধ চলতে থাকলো। সুলতান
জঙ্গী খৃস্টান বাহিনীকে আক্রমণ করে
বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন। তার পলিসিই
ছিল ‘আক্রমণ কর! আর পালাও।’
খৃস্টান অগ্রবর্তী দল যখন ফিরে এলো, তখন
তাদের উপরও পিছন থেকে অতর্কিত আক্রমণ
হলো। এই আক্রমণ চালালো সুলতান আইয়ুবীর
কমান্ডো বাহিনী।
এই গেরিলা বাহিনী একই রাতে তাদের
দু’তিনবার ঝটিকা আক্রমণ চালিয়ে ঝড়ের
বেগে এক দিক দিয়ে প্রবেশ করে অন্য দিক
দিয়ে চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেল।
যাওয়ার আগে তছনছ করে দিয়ে গেল তাদের
সাজানো দৃশ্যপট। এভাবেই যুদ্ধ চলতে
থাকলো।
খৃস্টান বাহিনী সম্মুখ যুদ্ধে পারদর্শী হলেও
কমান্ডো হামলা প্রতিরোধে ছিল দুর্বল।
তারা সামনাসামনি যুদ্ধ করতে চাচ্ছিল।
কিন্তু সুলতান আইয়ুবী ও জঙ্গী তাদের এ
আশা পূরণ করেননি।
গেরিলা যুদ্ধের পদ্ধতি মোটেই সহজ ছিল
না। একশ জনের একটি দল আক্রমণে গেলে
দেখা যেত বিশ-ত্রিশ জনই শহীদ হয়ে
গেছে। প্রতিটি আক্রমণেই শহীদের সংখ্যা
অল্প-বিস্তর বাড়তো। এই গেরিলা যুদ্ধের
জন্য বিশেষ দক্ষতা, সাহসিকতা, বীরত্ব ও
ক্ষীপ্রতার প্রয়োজন হতো। যে গুনগুলোর
পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন সুলতান
আইয়ুবী ও জঙ্গী তাঁদের কমান্ডো
বাহিনীকে।
যুদ্ধ অনেক দূর দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়লো।
খৃস্টান সৈনুওদের মাঝে শুরুতেই জঙ্গী যে
বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করেছিল তা কাটিয়ে
উঠে তারা আর পূনরায় আকতাবদ্ধ হতে
পারেনি। তাদের সংখ্যা শক্তির আধিক্য
না থাকলে অনেক আগেই তাদের পরাজয়
বরণ করতে হতো। কিন্তু বিচ্ছিন্ন হওয়ার
পরও সংখ্যাধিক্যের কারণে তারা লড়াই
অব্যাহত রাখতে সমর্থ হলো।
খৃস্টানদের রসদপত্র নূরুদ্দিন জঙ্গীর কব্জায়
এসে গিয়েছিল। ফলে রসদের সরবরাহ না
পাওয়ায় খৃস্টানদের অবস্থা শোচনীয়
আকার ধারণ করলো। মুসলমানরা গেরিলা
পদ্ধতিতে যে যুদ্ধ চালাচ্ছিল সে যুদ্ধের
মোকাবেলা করার মত অবস্থাও তাদের ছিল
না। ফলে যুদ্ধের গতি এমন পর্যায়ে গিয়ে
দাঁড়ালো, খৃস্টান সৈন্যরা ময়দান থেকে
সটকে পড়ার চিন্তা করতে বাধ্য হলো।
চতুর্থ দিন থেকেই শুরু হলো এ পলায়নের
পালা। যে-ই পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ
পেলো সে-ই পালিয়ে প্রাণ বাচাল
নিজের। আর যে পালানোর সুযোগ পেল না,
সে হাতিয়ার ফেলে আত্বসমর্পণ করলো
প্রাণের মায়ায়। কিন্তু রিজনেল্ট সহজে
পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ। তিনি
আত্বরক্ষামূলক লড়াই করে সৈন্যদের
একত্রিত করার উদ্যেগ নিলেন। নিজের
গোয়েন্দা মারফতই খবর নিলেন নূরুদ্দিন
জঙ্গী এখন কোথায় আছেন। এভাবে আটঘাট
বেঁধে তিনি জঙ্গীর ওপর এক সাড়াশী
আক্রমণ চালালেন।
এ আক্রমণ ছিল যেমন মারাত্মক তেমনি
অতর্কিত ও বেপরোয়া। খৃস্টানরা জীবন
বাজি রেখে লড়াই শুরু করলো। রিজনেল্টের
কৌশল এবং সৈন্যদের উপর তার দক্ষ
নিয়ন্ত্রন আশাতীত ফল দিল তাদের। কিন্তু
পঞ্চম রাতে জঙ্গী কয়েকজন জানবাজ
মুজাহিদকে নিয়ে জীবনকে বাজী রেখে
স্বয়ং রিজনেল্টের তাবুতে অতর্কিত
আক্রমণ চালালেন। এ আক্রমণ প্রতিরোধ
করার সাধ্য ছিল না রিজনেল্টের।
রিজনেল্ট বন্দী হলেন।
পরদিন ভোর। খৃস্টানদের সুঃসাহসী
সেনাপ্রধান রিজনেল্ট বন্দী অবস্থায়
ণুরুদ্দিন জঙ্গীর সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছেন।
সুলতান জঙ্গী তাঁকে শোনাচ্ছেন সন্ধির সব
শর্ত।
সুলতান জঙ্গীর বলা শেষ হলে রিজনেল্ট
বললেন, ‘আপনার সব শর্তই আমি মেনে
নিতে রাজি। শুধু একটি শর্তের ব্যাপারে
আমাকে ক্ষমা করবেন। বায়তুল মোকাদ্দাস
সম্পর্কে কোন শর্ত মেনে নেয়া আমার
পক্ষে সম্ভব নয়।’
জঙ্গী বললেন, ‘বায়তুল মোকাদ্দাস
আমাদের দিয়ে দাও, বিনিময়ে তোমরা
সকলেই মুক্তি পাবে।’
সন্ধ্যা নাগাদ সুলতান আইয়ুবীও এসে
গেলেন। রিজনেল্টকে সসম্মানে রাখা
হয়েছিল। সুলতান আইয়ুবী তার সঙ্গে
করমর্দন ও আলিঙ্গন করলেন।
‘আপনি তো এক মহান সৈনিক?’ রিজনেল্ট
সুলতান আইয়ুবীকে বললেন।
‘না। একথা বলুন, ইসলাম এক মহান ধর্ম।
সৈনিক সেই মহান, যার ধর্ম মহান।’
‘মুহতারাম রিজনেল্ট আমাকে জিজ্ঞেস
করেছেন, তার সামুদ্রিক নৌবহর কোথায়?
তারা কি এখনো আসেনি? এ ব্যাপারে
সঠিক উত্তর তুমিই দিতে পার। আমি তো
সেখানে ছিলাম না।’ নূরুদ্দিন জঙ্গী
সুলতান আইয়ুবীকে বললেন।
‘আপনার বিশাল নৌবহর খুব জাকজমকের
সাথেই এসেছিল।’ সুলতান আইয়ুবী বললেন,
‘আপনার অনেক জাহাজ সাগরের অতল তলে
আছে। আর যেগুলো ডুবে যায়নি, সেগুলোর
পুড়ে যাওয়া কাঠামো সাগর জলে ভাসছে।
আমি আপনার সৈন্যদের সমস্ত লাশ
সসম্মানে দাফনের ব্যবস্থা করেছি। আর
যারা বেঁচে আছে তারা এখনো আমার
হেফাজতেই আছে।’
সুলতান আইয়ুবীর বর্ণনা শুনে রিজনেল্টের
চোখে মুখে অবিশ্বাস ফুটে উঠলো। কারণ
এসব কথা কিছুতেই তার সঠিক মনে হচ্ছিল
না। তিনি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
‘যদি এসব সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে আপনি
নিশ্চয়ই বলতে পারবেন, কেমন করে এমন
অসম্ভব ঘটনা সম্ভব হলো?’
‘এই গোপন তথ্য সেদিন বলবো, যেদিন
ফিলিস্তিন থেকে খৃস্টানদের শেষ
সৈন্যটিও বিদায় নেবে।’ নূরুদ্দিন জঙ্গী
বললেন, ‘আপনার এই পরাজয় আপনাদের শেষ
পরাজয় নয়। কারণ আপনারা এখনো এ মাটি
থেকে বিদায় নিতে রাজি নন।’
‘আমি আপনাকে আমাদের বিশাল এলাকা
ডান করবো।’ রিজনেল্ট বললেন, ‘আমাকে
মুক্ত করে দিন। আমি যুদ্ধ নয়, চুক্তি করবো
আপনার সাথে। এতে আপনার রাজ্য আরো
প্রশস্ত হবে।’
‘আমাদের কোন রাজ্য প্রয়োজন নেই।’
সুলতান আইয়ুবী বললেন, ‘আমরা শুধু আল্লাহর
রাজ্য প্রতিষ্টা করতে চাই। যেখানে
মানুষের মৌলিক মানবীয় অধিকার
নিশ্চিত করা সম্ভব। যেখানে নিরীহ,
নিরন্ন, দুঃখী মানুষও পাবে সুন্দরভাবে
বাঁচার গ্যারান্টি। সভ্যতা পাবে
স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার নিশ্চয়তা।
লাঞ্ছিত মানবতা ও বঞ্চিত পৃথিবী
কল্যাণের স্পর্শে সজীব ও সুন্দর হিয়ে
উঠবে।
আপনাদের উদ্দেশ্য ইসলামকে নিঃশ্চিহ্ন
করা, কিন্তু তা মোটেই সম্ভব নয়। এ কাজে
আপনারা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে
দেখেছেন, নৌশক্তি পরীক্ষা করে
দেখেছেন। যুবতী কন্যাদের আমাদের
পেছনে লেলিয়া দিয়ে দেখেছেন, আমাদের
জাতিকে বিশ্বাসঘাতক গাদ্দার বানিয়ে
দেখেছেন। শত শত বছর ধরে আপনাদের এই
যে সাধনা, এর মধ্য দিয়ে আপনারা কতটুকু
সফলতা লাভ করেছেন?’
‘সুলতান, আমরা একেবারে বিফল হয়েছি এ
কথা আপনি বলতে পারেন না। স্বরণ করুন,
ইসলাম তো রোম সাগর পার হয়ে ইউরোপেও
পৌছে ছিল! কিন্তু স্পেন থেকে ইসলাম কি
পিছু সরেনি? রোম আপনাদের অধিকার
থেকে কেন মুক্ত হলো? আর সুদান আপনাদের
কেনইবা শত্রু হয়ে গেল? শুধু এই কারণে যে,
আমরা ইসলামের রক্ষকদেরকে কিনে নিতে
পেরেছি। আজও বহু মুসলিম এবং মুসলিম
শাসক আমাদের অর্থ সম্পদের কেনা
গোলাম। এসব রাজ্যে এখন শুধু মুসলমান
পাবেন, কিন্তু ইসলাম পাবেন না। এটা কি
আমাদের বিজয় নয়?’
‘আমরা সে সব জায়গায় আবার ইসলামকে
জীবিত করব বন্ধু।’ সুলতান আইয়ুবী বললেন।
‘আপনি অলীক স্বপ্ন দেখছেন
সালাহউদ্দিন!’ রিজনেল্ট বললেন, ‘আপনারা
দু’জন আর কতকাল বেঁচে থাকবেন? আর
কতকাল যুদ্ধ চালানোর যোগ্য থাকবেন?
আমি আপনাদের দু’জনকে কুর্নিশ করি এ
জন্য যে, আপনারা দু’জনই ধর্মের নিঃস্বার্থ
এবং যোগ্য খাদেম। আপনাদের মত
নিঃস্বার্থ খাদেম হয়তো খুঁজলে আরো
পাবেন আপনার জাতির মধ্যে কিন্তু যোগ্য
খাদেম তেমন পাবেন না। বরং আপনাদের
জাতির মধ্যে ধর্মকে নিলামে তোলার
লোকের সংখ্যাই এখন বেশী। আর আমরা
সেই নিলামের এক নম্বর খরিদদার।
যদি আপনি আমাদের সঙ্গে যুদ্ধ না করে
আপনার জাতিকে বিলাসিতা, লোভ ও
আনন্দ-স্ফূর্তির স্বপ্নিল নেশা থেকে রক্ষা
করতে পারতেন, তবে আমাদের সাথে
আপনার যুদ্ধ করার প্রয়োজনই পড়তো না।
আমর আপনাদের মোকাবেলায় একটি দিনও
টিকতে পারতাম না। কিন্তু বন্ধু! আপনি তা
কখনও পারবেন না। কারণ এ বিলাসিতা ও
আনন্দ-স্ফূর্তির নেশায় কেবল সাধারণ
মানুষই পড়েনি, সামর্থবান ব্যবসায়ী বা
ধনিকশ্রেণীই পড়েনি, আলেম ওলামা এবং
জাতির নেতা ও শাসক শ্রেণীও এই
বিলাসিতায় ডুবে আছে।
এই বাস্তবতা থেকে আপনি দৃষ্টি সরিয়ে
রাখতে পারেন না। দূর্নীতিপরায়ন শাসক ও
নেতৃত্বের মাধ্যমে যে পাপের সৃষ্টি হয়, সে
পাপ জাতীয় প্রথা হিসেবে গণ্য হয়ে যায়।
সমাজের মাথায় পচন ধরলে সে সমাজের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়ে পাপ। আমরা
আপনার শাসন বিভাগে এই পাপের জাল
বিস্তার করে চলেছি। আমি আপনাকে
বলতে চাই, আপনি আমাকে হত্যা করুন বা
আমার মত আরও কিছু খৃস্টান শাসককে হত্যা
করুন, তারপরও ইসলাম শেষ হবেই। আমরা যে
রোগের বিষ আপনার জাতির দেহে ঢুকিয়ে,
সে বিষের ক্রিয়া ক্রমশ বাড়তেই থাকবে,
কমবে না।’
তিনি এমন বাস্তবতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন
যার সত্যতা নূরুদ্দিন জঙ্গী ও সুলতান
আইয়ুবী অস্বীকার করতে পারছিলেন না। এ
পর্যন্ত তাঁরা খৃস্টানদের ওপর যে বিরাট
বিজয় লাভ করেছেন, যার ফলে এখন খৃস্টান
বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ড এবং বহু খৃস্টান
সৈন্য তাদের যুদ্ধবন্দী, এর সবই সম্ভব
হয়েছে মাত্র একজন গোয়েন্দার সঠিক
তথ্যের কারণে, যিনি আক্রা থেকে এই
আক্রমণের সংবাদ যথাসময়ে নিয়ে
এসেছিলেন। সুলতান ভাবছিলেন, একজন
গাদ্দারও তো মুসলমানদের জন্য এমনি বপদ ও
দুর্দশার কারণ হতে পারে!
o
রিজনেল্ট ও অন্যান্য বন্দীদের সবাইকে
নূরুদ্দিন জঙ্গী ক্রাকে নিয়ে গেলেন।
সুলতান আইয়ুবী তাঁদের বিদায় দিয়ে চলে
এলেন কায়রো। তিনি চিন্তাও করতে
পারেন নি, এরপর আর কখনও নূরুদ্দিন জঙ্গীর
সাথে তাঁর দেখা হবে না। তিনি এ
আনন্দেই বিভোর ছিলেন, নূরুদ্দিন জঙ্গী
রিজনেল্টের মত মূল্যবান কয়েদীর বিনিময়
মূল্যবান এবং উপযুক্ত শর্ত দিয়েই করবেন।
নূরুদ্দিন জঙ্গীও তাঁর চিন্তায় কিছু
পরিকল্পনা তৈরী করে রেখেছিলেন। কিন্তু
আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্য রকম। ১১৭৪
খৃস্টাব্দের মার্চের প্রথম দিকে সিরিয়ায়
কঠিন ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পে সাতটি গ্রাম
সম্পুর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। রাজধানী
দামেস্কেও অনেক ক্ষতি হয়। ঐতিহাসিকরা
এই ভুমিকম্পকে ইতিহাসের সবচে বড়
ভুমিকম্প বলে উল্লেখ করেছেন। এতে মুসলিম
সালতানাতের প্রচুর ক্ষতি সাধিত হয়।
নূরুদ্দিন জঙ্গীর অন্তরে ছিল নিজের দেশ ও
জাতির জন্য অপরিসীম ভালবাসা ও দরদ।
ভূমিকম্পের খবর পেয়েই তিনি তাদের
সাহায্যের জন্য ক্রাক থেকে দূর্গত এলাকায়
চলে এলেন। তিনি তাঁর অনুপস্থিতিতে
বন্দীদের ক্রাকে রাখা নিরাপদ মনে
করলেন না। ফলে তিনি রিজনেল্ট ও
অন্যান্য খৃস্টান বন্দীদেরকে সঙ্গে নিয়ে
রওনা দিলেন।
তিনি বন্দীদেরকে দামেস্কে রেখে দূর্গত
এলাকার দিকে নজর দিলেন। দামেস্ক ও
তার আশেপাশের অবস্থা তখন মোটেই ভাল
ছিল না। দামেস্ক পৌছেই তিনি দূর্গত
এলাকার জনগণকে দেখতে যান। তাদের
দেখে তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। দুর্দশাগ্রস্থ
লোকদের দুঃখে পীড়িত জঙ্গী রাজধানী
থেকে দূরে সে সব গ্রামে ছুটে বেড়াতে
লাগলেন। মন-প্রাণ দিয়ে লোকদের সাহায্য
ও সেবা করতে লাগলেন তিনি। যেখানে
রাত হতো সেখানেই তিনি রাত কাটাতেন।
খাবারের দিকেও কোন খেয়াল ছিল না
তাঁর। নিজের খাবার কে দিল আর কোথেকে
এলো তা নিয়েও তাঁর কোন মাথাব্যাথা
ছিল না।
এপ্রিলের শেষের দিকে তিনি দূর্গত
এলাকার পুনর্বাসনে হাত দিলেন। এই
ব্যস্ততার মাঝে হঠাত একদিন তিনি গলার
ভেতর ব্যাথা অনুভব করলেন। ব্যাথা বাড়লে
তিনি ডাক্তারকে দেখালেন। বললেন,
‘আমার গলার ভেতর কেন যেন ব্যথা
করছে।’
................চলবে.....................
বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now