বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
তারা দু’জনই সাগর তীরে গিয়ে রোম
সাগরের সূদুর বিস্তৃত জলরাশি অবলোকন
করতেন আর অনুসন্ধান করতেন কোথাও কোন
রণতরী দেখা যায় কিনা।
তারা তিন চার দিন ধরে দূর দূরান্ত পর্যন্ত
ঘুরে ফিরে বেড়ালেন। শেষে সুলতান
আইয়ুবীকে আলেকজান্দ্রিয়ায় রেখে
নূরুদ্দিন জঙ্গী ক্রাকে চলে গেলেন। সুলতান
আইয়ুবীও তার কয়েকদিন পর
সেনাবাহিনীকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে
চলে গেলেন কায়রো।
o
খৃস্টানদের নৌবহর অশেষ গোপনীয়তা রক্ষা
করে সম্পূর্ণ নিরবে এগিয়ে চললো। বায়তুল
মোকাদ্দাস থেকে স্থল বাহিনীও অনুরুপ
গোপনীয়তা রক্ষা করে সামনে বাড়লো। দুই
বাহিনীর যাত্রার সময়ের মধ্যে কিছু
হেরফের ছিল প্রয়োজনের তাগিদেই।
খৃস্টানরা সুবিধা মত তাদের জন্য অনুকুল
মৌসুম বেছে নিয়েছিল। এ মৌসুমে রোম
সাগর অপেক্ষাকৃত শান্ত থাকে, বিশেষ
করে সাগরে তুফান ও সমুদ্র ঝড়ের আশংকা
থাকে না।
খৃস্টান নৌবাহিনীর চোখের সামনে
মিশরের সমুদ্র তীর ভেসে উঠল। কিন্তু
তাদের চোখের সামনে সুলতান আইয়ুবীর
নৌবহর বা কোন প্রতিরক্ষা বাহিনী চোখে
পড়ল না। নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন সমুদ্রে
মাছ ধরা একটি জেলে নৌকা দেখতে পেল।
ক্যাপ্টেন জাহাজটি তার নিকটবর্তী করে
উপর থেকে ঝুঁকে জিজ্ঞেস করলো,
‘তোমাদের যুদ্ধ জাহাজ কোথায়? যদি
মিথ্যা বলো, তবে ডুবিয়ে মারবো।’
জেলে অবাক হয়ে বললো, ‘মিশরের জাহাজ!
নৌবাহিনীর কোন যুদ্ধ জাহাজ তো এদিকে
রাখা হয় না! সে সব থাকে এখান থেকে
অনেক দূরে, ডকে। তবে মাঝে মধ্যে
নৌবাহিনীর টহল জাহাজ এদিকে টহল
দিতে আসে।’
খৃস্টান নোবাহিনী জাহাজ থামিয়ে
সেখানেই নোঙ্গর ফেললো। ক্যাপ্টেন
তাদের ইশারা করলো জাহাজে উঠতে। দুই
জেলে নোঙ্গর করা রশি বেয়ে জাহাজে
উঠে গেল।
ক্যাপ্টেনের প্রশ্নের জবাবে তারা
মিশরের যুদ্ধ জাহাজের যে বর্ণনা
শোনালো তা হলো, ‘কয়েকটি জাহাজ এখন
মেরামত করা হচ্ছে। আর যেগুলো ভাল আছে
সেগুলো আলেকজান্দ্রিয়া থেকে অনেক
দূরে নিয়ে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে
জাহাজ আলেকজান্দ্রিয়া আসতে কম করেও
দুই দিন সময় লাগবে। কারণ সেগুলোর পাল
ছেঁড়া। দাঁড় এবং বৈঠার অবস্থাও ভাল নয়।
আর তাতে মাল্লা এত কম যে, এত কম
মাল্লা নিয়ে তাদের পক্ষে দ্রুত এগিয়ে
আসা সম্ভব নয়।’
জেলেরা যে রিপোর্ট দিলো, তাতে খুবই
মূল্যবান তথ্য পেল খৃস্টান বাহিনী।
জেলেরা আরো বললো, ‘সমুদ্র পথে আক্রান্ত
হওয়ার কোন ভয় নেই দেখে সুলতান আইয়ুবী
এদিকে কোন নজরই দেন না। তিনি নিজে
কায়রো থাকেন বলে আলেকজান্দ্রিয়ার
নিরাপত্তার দিকেও তার খেয়াল কম। যে
সামান্য ক’জন সৈন্যকে এখানে
পাঠিয়েছেন বেশ আরাম আয়েশেই দিন
কাটাচ্ছে তারা। তারা সাগর তীরের
জেলেদের গ্রামগুলোতে চলে যায় এবং
তাদের মাছ লুট করে খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর
তোলে।’
এডমিরাল জেলেদের ডেকে নিয়ে প্রচুর
বকশিশ দিয়ে বললেন, ‘শহরে কি পরিমাণ
সৈন্য আছে যদি তোমরা খোঁজখবর নিয়ে
আমাদের জানাতে পারো তবে আরো অঢেল
বকশিশ ভাগ্যে জুটবে তোমাদের। আমি
তোমাদের অপেক্ষা করবো।’
খৃস্টান নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেনের জন্য এ
তথ্য সুসসংবাদ ছাড়া আর কি হতে পারে?
ক্যাপ্টেন জাহাজ থামিয়ে একটি নৌকা
নিয়ে নৌবাহিনীর এডমিরালের কাছে
গেলেন। তিনি যে তথ্য জেলেদের কাছ
থেকে পেয়েছেন তা এডমিরালকে বললেন।
এডমিরাল বললো, ‘ভালই হলো, ময়দান
একেবারে পরিষ্কার। এমনটিই হওয়া
স্বাভাবিক। অহেতুক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কেইবা জোরদার করে।’
এডমিরাল সকল যুদ্ধ জাহাজকে সেখানেই
নোঙ্গর করতে আদেশ দিয়ে বললেন, ‘সন্ধ্যার
পর আমরা তীরে নামবো।’
সব জাহাজেই তিনি খবর পাঠালেন,
‘জাহাজ এমন জায়গায় নিয়ে তীরে
ভেড়াবে, যেখানে পানি গভীর, জাহাজ
বালিতে আটকাবে না। আর সেখানে
সৈন্যরা খুব নিরাপদে অবতরণ করতে
পারবে।’
আলেকজান্দ্রিয়া পোতাশ্রয় থেকে একটি
নৌকা মুক্ত সাগরের দিকে চলে গেল। এই
নৌকাটি দেখতে জেলেদের নৌকার মতই।
তখনও সূর্য ডুবে যায়নি। নৌকাটি খৃস্টান
নৌবহরের নিকটবর্তী হলো। কম-বেশি
প্রায় আড়াইশ যুদ্ধ জাহাজ সমুদ্রের দূর
দূরান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে নোঙ্গর করা
আছে। জেলে নৌকাটি জাহাজগুলোর
মাঝখানে গিয়ে জিজ্ঞেস করে করে
এডমিরালের জাহাজ পর্যন্ত পৌছলো।
জেলেরা এডমিরালকে বললো,
‘আলেকজান্দ্রিয়া শহরে কোন সৈন্য নেই,
শুধু শহরবাসী নাগরিকরা আছে। মিশরের
যুদ্ধ জাহাজ এখান থেকে বহু দূরে নিরাপদ
স্থানে রয়েছে।’
আসলে এই জেলে দু’জন ছিল মুসলমানদের
গোয়েন্দা বাহিনীর দুই সদস্য।
রাতের প্রথম প্রহর, খৃস্টান নৌবাহিনীর
প্রথম জাহাজটি কূলের দিকে অগ্রসর হলো
এবং কোন বাঁধা ছাড়াই আলেকজান্দ্রিয়ার
পোতাশ্রয়ে নোঙ্গর করলো। প্রথম সারির
পেছনে দ্বিতীয় সারির জাহাজগুলো
নোঙ্গর করলো। এরপর এগিয়ে এলো তৃতীয়
সারির জাহাজগুলোও। সৈন্য অবতরণের জন্য
প্রত্যেক জাহাজের কূলে ভেড়ার কোন
প্রয়োজন পড়ল না, বরং পেছনের জাহাজের
সৈন্যরা সামনের জাহাজ হয়ে তীরে নেমে
এলো।
এভাবেই আলেকজান্দ্রিয়াতে অত গোপনে
ও নীরবে নেমে এলো একদল খৃস্টান সৈন্য।
চুপিসারে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়া হলো।
তাদের কাছে যে তথ্য ও সংবাদ আছে
তাতে তারা জানে, এখানে কোন সৈন্য
নেই। ফলে বন্দর নগরী অধিকার করা তাদের
জন্য কোন ব্যাপারই না।
কমান্ডিং অফিসার সৈন্যদের সরাসরি
আলেকজান্দ্রিয়ার অভ্যন্তরে প্রবেশ করার
নির্দেশ দিয়ে বললো, ‘এ শহর এখন
আমাদের। এখানে প্রবেশ করতে এখন আর
কোন বাঁধা নেই। অতএব যাও, যার যেভাবে
খুশি প্রবেশ করো শহরে। ভোগ করো, লুট
করো। শহরবাসীকে বুঝিয়ে দাও তারা এখন
কাদের রাজত্বে বাস করছে।’
খৃস্টান সৈন্যরা আনন্দে চিৎকার করতে
করতে ছুটল শহরের দিকে। খুশি আর ধরে না
তাদের। যার ঘরে খুশি ঢুকে লুট করবে,
উপভোগ করবে নারীদের। লোভে চকচক করে
উঠল ওদের চোখগুলো।
যখন খৃস্টান সৈন্যদের ভীড় শহরের
নিকটবর্তী হলো, কেউ কেউ ঢুকে পড়ল শহরের
গলিতে, তখন সহসা তাদের ডানে ও বামে
আগুনের শিখা জ্বলে উঠলো। শুকনো ঘাস ও
খড়ের স্তুপে, কাঠ-খড়ির গাদায় তেল ঢেলে
আগুন লাগিয়ে দিল কারা যেন। সঙ্গে সঙ্গে
রাতের অন্ধকার দূর হয়ে গেল। এতে করে
খৃস্টান সৈন্যদের লোভাতুর বীভৎস
চেহারাগুলো স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠল। দেখা
গেল, পঙ্গপালের মত দল বেঁধে ওরা হুড়মুর
করে শহরে প্রবেশ করছে। এই সুযোগের জন্যই
যেন অনন্তকাল অপেক্ষা করছিল মুসলিম
ফৌজ।
শহরের অলিতে গলিতে মশালের আলো
জ্বলে উঠলো। বাড়ীর ছাদ থেকে শুরু হলো
বৃষ্টির মত তীর বর্ষণ। হতচকিত হয়ে থমকে
দাঁড়াল খৃস্টানরা। রাস্তার ওপর লুটিয়ে
পড়লো অতি উৎসাহী অগ্রগামী বাহিনী।
তাদের দিশেহারা ভাব কাটতে যে সময়টুকু
লাগলো তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করলো
তীরন্দাজরা।
খৃস্টানরা যখন বুঝতে পারলো তারা
আক্রান্ত হয়েছে তখন পালিয়ে প্রাণ
বাঁচাতে চাইল তারা। পিছন ফিরে ছুটলো
সমুদ্রের দিকে। রাস্তার দু’পাশে তখন দাউ
দাউ করে আগুন জ্বলছে। সেই আলোতে
রাস্তার ছুটন্ত অবয়বগুলো স্পষ্ট দেখা
যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তা থেকে একটু দূরে
গেলেই আবার সেই সীমাহীন অন্ধকার। সেই
অন্ধকারে কারা ওঁৎ পেতে বসে আছে কিছুই
দেখার সুযোগ পেল না তারা।
সৈন্যরা পিছন ফিরে দৌড় শুরু করতেই
রাস্তার ডান দিক থেকে তাদের ওপর তীর
বর্ষণ শুরু হলো। নিখুঁত নিশানা প্রতিটি
তীরের। রাস্তার ওপর মুখ থুবড়ে পড়ে যেতে
লাগল খৃস্টান সৈন্যরা। পেছনে সরে
যাওয়ারও এখন আর কোন উপায় রইল না
তাদের।
আহতদের চিৎকার ও আর্তনাদে রাতের
বাতাস প্রকম্পিত ও ভারী হয়ে উঠলো। নতুন
করে যারা তীরবিদ্ধ হচ্ছিল তাদের
গগনবিদারী চিৎকারে কেঁপে উঠছিল শহর।
এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল কম করেও দুই
হাজার খৃস্টান সৈন্য। তাদের খুব কমই
জীবিত ফিরে যেতে পারল। খৃস্টানদের
যেসব সৈন্য জাহাজে ছিল তাদেরকে
পাল্টা আক্রমণের হুকম দিল সেনাপতিগণ।
একদলকে নেমে সামনে অগ্রসর হওয়ার
আদেশ দেয়া হলো। জাহাজের মধ্য থেকে
খৃস্টানরা মেনজানিক দিয়ে অগ্নি গোলা ও
দুরপাল্লার তীর বর্ষণ করতে লাগলো।
হঠাৎ খৃস্টানদের সবচে পিছন সারির দু-
তিনটি জাহাজে দেখা গেল প্রজ্জ্বলিত
অগ্নিশিখা। দেখতে দেখতে আরো দু-
তিনটি জাহাজে আগুন লেগে গেল।
কিভাবে এ অসম্ভব কান্ড ঘটলো কিছুই
বুঝতে পারলো না খৃস্টানরা। তারা হতভম্ব
হয়ে তাকিয়ে রইল সেই অগ্নিশিখার
দিকে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যাপার,
দেখা গেলো, সমস্ত সাগরে দৈত্যের মত
আগুন জ্বলে উঠেছে আর সেই আগুন ছুটে এসে
আছড়ে পড়ছে এক জাহাজ থেকে আরেক
জাহাজে।
খৃস্টানরা এমন অতর্কিত ও বেপরোয়া
হামলার আশংকা করেনি। তারা তাদের
যুদ্ধ জাহাজগুলো এক জায়গায় জড়ো করে
রেখেছিল সৈনিকদের নামার সুবিধের
জন্য। এই সুবিধা যে একটু পর তাদের জন্য
ভয়ংকর বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে তা
ওরা কল্পনাও করতে পারেনি। এ ছিল
রণনিপুণ সুলতান আইয়ুবীর এক দৃষ্টান্তমূলক
রণকৌশল। সহজেই খৃস্টানরা তার পাতা
ফাঁদে পা দিল। দিনের বেলা যে জেলে
খৃস্টানদের সংবাদ পৌছিয়ে দিয়েছিল সে
জেলে ছিল আলী বিন সুফিয়ানের
গোয়েন্দা বিভাগের এক চৌকস গোয়েন্দা।
জেলে মারফত খৃস্টান নৌবাহিনীর
ক্যাপ্টেন যে তথ্য জেনেছিল, সে তথ্যগুলো
ছিল সম্পূর্ণ ভুল ও বানোয়াট। তবে জেলে
একটি তথ্য ঠিকই দিয়েছিল, মিশরের নৌবহর
সেখান থেকে আসলেই অনেক দূরে ছিল।
আশেপাশে নৌবাহিনীর অস্তিত্ব নেই
দেখেই খৃস্টান কমান্ডার জেলের বক্তব্য
বিশ্বাস করেছিল।
আইয়ুবী তার এডমিরালকে বলে
রেখেছিলো, ‘সাগরের দিকে কড়া দৃষ্টি
রেখো। যে কোন সময় খৃস্টান বাহিনী এসে
পৌছতে পারে। বিশাল বাহিনী নিয়ে
তাদের আমি আক্রমণ করতে চাই না। যত বড়
বাহিনীই আসুক, তাদের মোকাবেলা করবে
কমান্ডো বাহিনী দিয়ে।’
এডমিরাল সেই মতই সতর্ক দৃষ্টি রেখে সমস্ত
ব্যবস্থা করে রেখেছিল। যথাসময়েই তিনি
খবর পেয়েছিলেন খৃস্টান নৌবাহিনীর
আগমনের। তিনি তার মেনজানিক ও গোলা
বারুদপূর্ণ জাহাজগুলো বহু দূরে সরিয়ে নিয়ে
গিয়েছিলেন। জাহাজের পাল নামিয়ে
ফেলেছিলেন দূর থেকে যেন জাহাজগুলো
চোখে না পড়ে সে জন্য। জাহাজের প্রতি
দাঁড়ে দু’জন করে মাল্লা নিযুক্ত করে
রেখেছিলেন তিনি যাতে সময়মত
জাহাজের গতি দ্রুত করা যায়।
সন্ধ্যার পরে যখন খৃস্টানদের যুদ্ধ
জাহাজগুলো সাগরের কূলে ভিড়লো, তখন
এডমিরাল তার জাহাজগুলোতে মাস্তুল ও
পাল তুলে দিলেন। মাল্লাদের বললেন,
‘জাহাজ দ্রুত আলেকজান্দ্রিয়ার বন্দরে
নিয়ে চলো।’
মাল্লারা দ্রুত পৌছার জন্য জোরে জোরে
দাঁড় টানতে লাগলো এবং সময় মতই
খৃস্টানদের জাহাজগুলোর পিছনে এসে
পোউছল। যখন খৃস্টানরা জাহাজগুলো
একসাথে বেঁধে রেখে শহরে চড়াও হলো তখন
সন্তর্পনে আইয়ুবীর জাহাজ ভিড়ল সেই
বেঁধে রাখা জাহাজের পাশে।
এরপর আইয়ুবীর কমান্ডোরা খৃস্টানদের জন্য
কেয়ামত ডেকে আনলো। যে খৃস্টানরা
আইয়ুবীকে কৌশলে ধ্বংশ করার মতলব
এঁটেছিল, আইয়ুবীর কৌশলের কাছে মার
খেয়ে তারাই এখন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল।
জেলারা যখন খৃস্টান কমান্ডারকে রিপোর্ট
করেছিল, আলেকজান্দ্রিয়া শহরে কোন
সৈন্য মোতায়েন নেই, তখন শহরের সমদ্র
তীরবর্তী বাড়ীগুলো ছিল মুসলিম সৈন্যে
ভর্তি। নগরবাসীদেরকে আইয়ুবী আগেই
নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দিয়েছিলেন।
সুলতান আইয়ুবীর এডমিরাল অল্প ক’টি
জাহাজ নিয়ে তাদের মোকাবেলায়
গিয়েছিলেন। তিনি তাদের যথেষ্ট ক্ষতি
করলেও শত্রুদের কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ
পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জাহাজে আগুন
দেখেই ওরা বুঝে ফেলেছিল, ওরা আইয়ুবীর
ফাঁদে পড়েছে। এর পরিনতি কি হতে পারে
তা আন্দাজ করতে ওদের মোটেও বিলম্ব
হয়নি। ওরা সংগী খৃস্টান সৈন্যদের রক্ষা
করার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজেদের জান
নিয়ে তখনি সটকে পড়ে।
আগুন লাগা জাহাজগুলোর আলোতে সমদ্রের
বুক দিনের মত ফর্সা হয়ে গিয়েছিল। সেই
আলোতে সুলতান আইয়ুবীর জাহাজগুলোও
দেখতে পাচ্ছিল শত্রু বাহিনী। এক সাহসি
ক্যাপ্টেন যখন বুঝলো, তারা চরম ভাবে
আক্রান্ত হয়েছে তখন সে তার জাহাজের
মেনজানিকের নল ঘুরিয়ে দিল মুসলিম
জাহাজগুলোর দিকে। তারপর জানের
পরোয়া না করে অবিশ্রান্ত গোলা বর্ষণ
শুরু করলো।
তার দেখাদেখি আরো কয়েকটি জাহাজের
নল ঘুরে গেল মুসলিম রণতরীর দিকে। সেই
বর্ষণের প্রচণ্ডতায় আইয়ুবীর বাহিনীর
এডমিরাল তার জাহাজ সরিয়ে নিতে বাধ্য
হলেন। কারণ শত্রুসেনাদের অক্ষত
জাহাজের পরিমাণ তখনো কম নয়, তারা
মুসলমানদের জাহাজগুলো ঘিরে ফেলার
চেষ্টা করতে পারে।
তিনি যখন পিছু হটছিলেন তখনি
আলেকজান্দ্রিয়া শহরে সুলতান আইয়ুবীর
নিবেদিতপ্রাণ সৈন্যরা ভীষণ বেগে
আক্রমণ চালালো সমদ্র তীরে। তারা উপকূল
থেকে জাহাজের ওপর তীর ও অগ্নিগোলা
নিক্ষেপ করতে লাগলো। এই জানবাজ
সৈন্যদের অধিকাংশই ছিল মিশরীয়।
সুলতান আইয়ুবী এদেরকে রিজার্ভ বাহিনী
হিসেবে প্রথমিক যুদ্ধ থেকে সরিয়ে
রেখেছিলেন। এরা বেসামরিক পোষাকে
সাধারণ নাগরিকের মত আলেকজান্দ্রিয়া
শহরের বিভিন্ন বাড়িতে লুকিয়ে ছিল।
অত্যন্ত গোপনে এদেরকে শহরের এসব
বাড়িতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
সুলতান আইয়ুবীর যুদ্ধ ছিল বুদ্ধি ও কৌশলের
খেলা। তিনি যতটুকু সম্ভব কম সংখ্যক সৈন্য
ক্ষয় করে যুদ্ধে জয় লাভ করতে চাচ্ছিলেন।
তাই যথেষ্ট পরিমাণ সৈন্য তিনি আত্র
নিজ কমান্ডে রেখে দিয়েছিলেন।
সারা রাত এ যুদ্ধ চললো। রাতভর সমুদ্রের
মাঝে একের পর এক জাহাজ জ্বললো।
জাহাজগুলোতে তখন কিয়ামতের
বিভীষিকা। খৃস্টানদের জাহাজ ছিল অনেক
বেশী। তারা একাধিকবার মুসলমানদের
জাহাজ ঘিরে ফেলতে চেষ্টা করলো।
প্রতিবারই ব্যাপারটা প্রায় অবরোধের
পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার প্রাক্কালে কেমন
করে যেন ভণ্ডুল হয়ে গেল। কোন না কোন
ফাঁক-ফোকড় গলে বেরিয়ে যেতে সমর্থ
হলো আইয়ুবীর রণতরী।
সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর নিয়োজিত
সেনাপতিই তখনো পর্যন্ত যুদ্ধ পরিচালনা
করছিলেন। আইয়ুবী তার বাহিনী নিয়ে দূর
থেকে দেখছিলেন যুদ্ধের গতিবিধি।
মধ্যরাতের পর সুলতান তার জিম্মায় রাখা
জাহাজগুলোকে আদেশ দিলেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্র
থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে পুড়
এলাকা টহল দেয়া শুরু করো। নিজেদের
নিরাপদ রেখে যতদূর সম্ভব শত্রুর
জাহাজগুলোকে বিরক্ত ও ব্যতিব্যস্ত করে
রাখবে। কোথাও আমাদের কোন জাহাজ
অবরোধের মধ্যে পড়ে গেলে তাকে বেরিয়ে
আসার সুযোগ করে দেয়া তোমাদের
দায়িত্ব।’
রাতের শেষ প্রহর। খৃস্টান বাহিনী
প্রাথমিক বিহবলতা কাটিয়ে উঠে
নিজেদের বিশৃংখলা দূর করে অনেকটা
সংহত অবস্থায় লড়াই করে যাচ্ছে। অনেক
জাহাজ পুড়ে যাওয়া এবং কিছু জাহাজ
পালিয়ে যাওয়ার পরও সংখ্যায় খৃস্টান
বহরের জাহাজ মুসলিম বহরের চাইতে অনেক
বেশী। সুলতান তার সংরক্ষিত নৌবহরকে
চুড়ান্ত হামলার আদেশ দিলেন। প্রচণ্ড
বিক্রমে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ল নৌযোদ্ধারা।
তারা জাহাজ থেকে ছোট ছোট নৌকা
নিয়ে অন্ধকারে চুপিসারে পৌঁছে যেতো
শত্রু জাহাজের কাছে। তারপর তীর ধনুক ও
গোলা বারুদ নিয়ে মেতে উঠতো শত্রু
নিধনে।
এখন সকাল। টকটকে রক্তচক্ষু মেলে সূর্য উঠল
পূর্ব দিগন্তে। তার আলোয় সমদ্রের গভীর
নীল জন এখন টকটকে লাল। মনে হয় ভোরের
হাওয়ায় আদিগন্ত সমুদ্র জুড়ে বিশাল লাল
সামিয়ানা দুলছে ঢেউয়ের তালে তালে।
.............. চলবে................
(বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now