বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ইমরান যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে তিনি
বললেন, ‘সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে বলবে,
রেজাউল ও রহিমের পরিবারকে যেন
নিজের পরিবার মনে করেন। তাদের ভরণ-
পোষন ও তত্ত্বাবধান করেন। তাদের
ব্যয়ভার বহনের জন্য বায়তুলমাল থেকে
মাসোহারার ব্যবস্থা নেন।’
‘জ্বী। বলবো।’ ইমরান আদবের সাথে জওয়াব
দিল।
তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি শুধু
গোয়েন্দাগিরিই করো, না যুদ্ধ করার
ট্রেনিংও পেয়েছো?’
‘জ্বী, পেয়েছি। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও আমার
আছে। আপনার কোন আদেশ থাকলে বলুন।’
বললো ইমরান।
‘চিঠি লেখার তো সময় নেই!’ জঙ্গী বললেন,
‘সালাহউদ্দিনকে বলবে, ক্রাক দূর্গটি তার
দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে আমার তাড়াতাড়ি
দামেস্কে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
সেখান থেকে সংবাদ এসেছে, সেখানে
খ্রীস্টান দুস্কৃতকারীদের তৎপরতা বেড়ে
গেছে। আর আমাদের ছোট ছোট রাজ্যের
শাসকগণ তাদের হাতের খেলার পুতুল হয়ে
গেছে।
কিন্তু তোমার কাছে থেকে আমি যে তথ্য
পেলাম তাতে আমার সে সিদ্ধান্ত
বদলাতে বাধ্য হচ্ছি। চার-পাঁচ বছর আগে
সালাহউদ্দিন যে ক্রুসেডারদের নৌবহরকে
ফাঁদে ফেলে রোম সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিল
এবার সে ফাঁদে তারা পা দেবে না। এখন
তারা সাবধান হয়ে গেছে। সে কারণেই
তারা আলেকজান্দ্রিয়ার উত্তর সমুদ্রতীর
বেছে নিয়েছে। যদি আইয়ুবী
আলেকজান্দ্রিয়ায় সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত
হয় তবে ভুল করবে। কারণ তার কাছে
ক্রুসেডারদের মত শক্তিশালী নৌশক্তি
নেই। তাদের জাহাজ বড় আর প্রতিটি
জাহাজে পাল ছাড়াও অসংখ্য দাঁড় ও বৈঠা
আছে। সেই দাঁড় টানার মত তাদের কাছে
রয়েছে অসংখ্য গোলাম। আইয়ুবীর তা নেই।
তার জাহাজে দাঁড় টানার মত মাল্লা
আছে, সৈন্যও আছে। কিন্তু সামদ্রিক যুদ্ধে
তারা দু’দিকে সামাল দিতে পারবে না।
সে জন্য আইয়ুবীকে বলবে, খৃস্টান
বাহিনীকে তীরে নামার সুযোগ দিতে।
এতে করে আলেকজান্দ্রিয়ার জনসাধারণ
ভয় ও আতংকের মধ্যে পড়ে যাবে। কারণ
ওরা তীরে নেমেই অগ্নিগোলা ছুঁড়ে শহরে
আগুন ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করবে।
আইয়ুবীকে এ ব্যাপারেও সতর্ক করে দেবে।
যদি শত্রুরা তুমি যেমন সংবাদ নিয়ে
এসেছো সেভাবেই আক্রমন চালায় তবে
আমি শত্রু সেনাদের পাশ থেকে আক্রমন
চালাবো। তারা আমার আক্রমণের বাম
পাশে থাকবে। সালাহউদ্দিনকে বলবে ডান
পাশ থেকে আক্রমণ চালাতে। আর তার
দায়িত্ব থাকবে, যেন তাদের একটি
জাহাজও ফিরে যেতে না পারে। আগুন
লাগিয়ে পুড়ে ছাই করে দিতে হবে সব
জাহাজ। তার কাছে যে প্রশিক্ষিত
কমান্ডো বাহিনী আছে তারা ভাল করেই
জানে কিভাবে তা করতে হবে।
আরেকট কথা, তাকে সুদানীদের দিকেও
সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের সীমান্ত
যেন খোলা না থাকে। সীমান্তরক্ষী
বাহিনীকে সুসজ্জিত ও সতর্ক থাকতে
বলবে। আমি জানি, তার কাছে যে সৈন্য
আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। আমি সে
ঘাটতি পূরণ করতে চেষ্টা করব। সবচেয়ে
বেশী প্রয়োজন গোপন তথ্য জানা ও তার
আদান প্রদান। গোপনীয়তা রক্ষার
খাতিরেই লিখিত চিঠি পাঠালাম না।
বিজয় লাভের পর আমি ক্রাকের শাসন
ক্ষমতা সৈন্যদের হাতে দিয়ে দামেস্কে
চলে যাব।’
সুলতান নূরুদ্দিন জঙ্গীর প্রতিটি কথা
ভালমত অন্তরে গেঁথে নিয়ে ইমরান
কায়রোর দিকে যাত্রা করলো।
খৃস্টীয় ১১৭৩ সাল। আলী বিন সুফিয়ান
সালাহঊদ্দিন আইয়ুবীকে সংবাদ
জানালেন, ‘আক্রাতে একজন মুসলিম
গোয়েন্দা শহীদ হয়েছে, একজন ধরা পড়েছে
আর তাদের কমান্ডার ইমরান ফিরে
এসেছে।’
সুলতান আইয়ুবী এ খবর শুনে বিষণ্ণ হয়ে
গেলেন। আলী বিন সুফিয়ান তাকে
জানালেন, ‘ইমরান খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে
এসেছে।’
এতেও সুলতানের বিষণ্নতা দূর হলো না।
তিনি আলী বিন সুফিয়ানের সাথে
সংক্ষিপ্ত কথা সেরে ইমরানকে ভেতরে
ডেকে নিলেন। ইমরান ভেতরে প্রবেশ
করতেই সুলতান উঠে এগিয়ে এসে তাকে
আলিঙ্গন করলেন।
‘আগে বলো, তোমার সঙ্গী কেমন করে শহীদ
হলো, আর দ্বিতীয়জন কেমন করে ধরা
পড়লো?’
ইমরান সমস্ত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা
করলো। যখন সে আক্রার সামরিক বিভাগের
গোপন সিদ্ধান্ত ও তথ্য বর্ণনা শুরু করলো,
সুলতান আইয়ুবীর চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো।
ইমরান বললো, ‘আমি ক্রাকে নূরুদ্দিন
জঙ্গীকে এ সংবাদ জানিয়ে এসেছি।’
সুলতান বললেন, ‘তিনি কেমন আছেন?’
‘জ্বী, তিনি ভাল আছেন। আপনার জন্য
তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন।’
‘কই সে বার্তা? দাও।’ উদগ্রীব হয়ে বললেন
আইয়ুবী।
‘না, তিনি কোন লিখিত বার্তা পাঠানো
ঠিক মনে করেননি, যা বলার সব আমাকে
বলেছেন, আর বলেছেন, আমি যেন তা ঠিক
মত আপনাকে জানাই।’
ইমরান সুলতান আইয়ুবীকে নূরুদ্দিন জঙ্গীর
বার্তা শোনালো। তাতে সুলতান আইয়ুবীর
যুদ্ধ প্লানের অনেক সময় বেঁচে গেল। তিনি
প্রথমেই রহিম ও রেজাউলের পরিবারের
ভাতা নির্ধারণ করলেন। তাদের জানালেন,
তারা যেন যে কোন অভাব অভিযোগ সঙ্গে
সঙ্গে সুলতানকে জানায়। তিনি তাদের
শান্তনা দিয়ে বললেন, ‘এখন থেকে
তোমাদের অভিভাবক আমি। তোমাদের যে
কোন সুবিধা অসুবিধার কথা অন্যে জানার
আগে যেন আমি জানতে পারি।’
তিনি ইমরানকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আরো
অনেক কথা জিজ্ঞেস করলেন। সুলতানের
প্রশ্নের জবাবে ইমরান আরো বললো, ‘চার
পাঁচ বছর আগের তুলনায় ক্রুসেডারদের
নৌবহর আরো বেড়েছে। তাদের যুদ্ধ
জাহাজও এখন অনেক বেশি।’
‘আক্রমণের কোন দিন তারিখ কি তারা
নির্ধারণ করেছে?’
‘আক্রমণ এক মাসের মধ্যেই হবে। ইউরোপ
থেকে সম্পূর্ণ নতুন সৈন্য আমদানি করা
হয়েছে। ওদেরকে আলেকজান্দ্রিয়ার উত্তর
সমুদ্রতীরে নামানো হবে। দ্বিতীয়
বাহিনী বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে
মিশরের দিকে অগ্রসর হবে।
আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণকারী বাহিনী
সে স্থান দখল করে সেখানে তাদের ঘাঁটি
ও রসদপত্রের কেন্দ্র বানাবে। তারপর
তারা উত্তর দিক থেকে মিশরে আক্রমণ
চালাবে।’
ইমরানের বর্ণনা শুনে সুলতান আইয়ুবী
খৃস্টান বাহিনীর কৌশল যথার্থই আঁচ করতে
পারলেন। তারা আক্রমণের এমন পরিকল্পনা
করেছে যাতে সুলতান আইয়ুবী আক্রমণের
আগে কিছুই টের না পান। তাছাড়া
আক্রান্ত অবস্থায় নূরুদ্দিন জঙ্গী ক্রাক
থেকে তাকে যেন কোন সাহায্য পাঠাতে
না পারেন সে জন্যই বায়তুল মোকাদ্দাস
থেকে বাহিনী পাঠাচ্ছে। এ বাহিনী পথেই
জঙ্গীর বাহিনী এগিয়ে এলে বাধাঁ দিতে
পারবে। ফলে বিপুল বাহিনী ও আধুনিক
অস্ত্রের মোকাবেলায় আইয়ুবীর পতন যে
নিশ্চিত এতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়
খৃস্টানদের।
সুলতান আইয়ুবী অনুভব করলেন, এ এমন এক
তুফান, যদি তারা সুলতানের অজ্ঞাতে
এসেই যেতো, তবে মিশর খৃস্টানদের দখলে
যেতো।
সুলতান তখুনি সেনাবাহিনীর সিনিয়র
সেনাপতিদের জরুরী অধিবেশন ডাকলেন।
আলী বিন সুফিয়ানকে নির্দেশ দিলেন,
‘শত্রুর গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে সতর্ক দৃষ্টি
দাও। চারদিকে চোখ-কান খোলা রাখো।
সব ব্যাপারেই সাবধানতা অবলম্বন করবে,
সতর্ক থাকবে যেন নিজের সেনাবাহিনীর
কোন খবরই বাইরে শত্রুদের কাছে যেতে না
পারে।’
তিনি আলীকে আরো বললেন,
‘আলেকজান্দ্রিয়ার দিকেও বিশেষ নজর
রেখো।’
o
খৃস্টান মহলে যুদ্ধের জোর প্রস্তুতি চলছে।
বৃটেন এখনো এ যুদ্ধে অংশ নিতে রাজী
হয়নি। ইংরেজদের আশা, তারা কোন এক
সময় একাই মুসলমানদের পরাজিত করে
তাদের অঞ্চলগুলো অধিকার করে নেবে।
সম্মিলিত আক্রমণের ব্যাপারে তাই
তাদের কোন আগ্রহ ছিল না। কিন্তু পোপের
অনুরোধে ইংরেজরা ক্রুসেড বাহিনীতে
কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ দান করলো।
স্পেনের সমস্ত জাহাজ এ যুদ্ধে অংশ নিতে
প্রস্তুত হল। সবার আগে এগিয়ে এল ফ্রান্স,
জার্মানী ও বেলজিয়ামের যুদ্ধ জাহাজ।
এরপরই সম্মিলিত নৌবাহিনীতে শরীক
হলো গ্রীস ও সিসিলির রণতরী। রসদ ও
অস্ত্রসস্ত্র বহনের জন্য বড় বড় জেলে নৌকা
সঙ্গে নিল ওরা।
এ নৌবহরে ইউরোপের প্রতিটি দেশের
চৌকস সৈন্যদের শামিল করা হলো। যুদ্ধ
যাত্রার আগে পবিত্র ক্রুশ ছুঁয়ে শপথ
করানো হলো তাদের। সকলেই শপথ করলো,
‘বিজয় লাভ করতে না পারলে আর কোনদিন
স্বদেশে ফিরবো না। একমাত্র মরণ ছাড়া
আর কোন কিছু আমাদের অগ্রযাত্রাকে
ব্যহত করতে পারবে না। সুলতান আইয়ুবী যদি
তার যুদ্ধ জাহাজ নিয়ে আমাদের
মোকাবেলা করতে চায় তবে আমাদের
হাতে মিশর তুলে দেয়া ছাড়া তার আর
কোন উপায় থাকবে না।’
ফ্রান্সের এডমিরাল বললেন, ‘আমি জানি
তাদের নৌবহর কত ছোট আর দুর্বল।’ তিনি
ভুমধ্য সাগরের পারে দাঁড়িয়ে সম্মিলিত
বাহিনীর জওয়ানদের উদ্দেশ্যে ভাষণ
দিচ্ছিলেন, ‘সালাহউদ্দিন ও নূরুদ্দিন জঙ্গী
শুধু স্থলে যুদ্ধ করতে অভ্যস্ত। যদি আমাদের
এ আক্রমণের সংবাদ মুসলমানদের কানে
সময়ের আগে না পৌছে তবে কারো
বাপেরও সাধ্য নেই আমাদের মোকাবেলা
করে। আর সালাহউদ্দিন তখনই এ আক্রমণের
খবর পাবে, যখন আমরা তার ঘাড়ের ওপর
গযবের মত আপতিত হবো। তখন মিশর থাকবে
আমাদের অবরোধের আওতায়। আর নূরুদ্দিন
জঙ্গী শত ইচ্ছা থাকলেও তার সাহায্যে
এগিয়ে আসতে পারবে না, কারণ তাকে
পথেই বাঁধা দেয়ার জন্য বায়তুল মোকাদ্দাস
থেকে আমাদের বাহিনী রওনা হয়ে গেছে।
এবার আমাদের আক্রমণ হবে একতরফা,
বিজয়ও হবে একতরফা।’
রিনাল্ট একজন প্রসিদ্ধ খৃস্টান শাসক ও বীর
যোদ্ধা। তিনি বললেন, ‘আমি আবারও বলছি,
সুদানীদের এ লড়াইয়ে ব্যবহার করা দরকার।’
বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে স্থল পথে এগিয়ে
আসা বাহিনীর সাথে তার থাকার কথা
ছিল। কিন্তু তিনি শুরু থেকেই জিদ
ধরেছিলেন, মিশরের উত্তর-পশ্চিম দিক
থেকে আক্রমণকারী বাহিনীর সাথে
থাকার জন্য। তার কথা হলো, ‘এই সুযোগে
সুদানীরা মিশরের দক্ষিণ দিক থেকে
আক্রমণ করুক।’
‘আপনি অতীতের শিক্ষা ভুলে গেছেন।’
ইসলামের সবচে বড় শত্রু ফিলিপ আগাস্টাস
বললেন, ‘১১৬৯ সালে আমি সুদানীদের
পর্যাপ্ত সাহায্য দিয়েছিলাম। ভরসা ছিল,
আমরা যখন সাগর পথে মিশর আক্রমণ
চালাবো তখন সুদানীরা দক্ষিণ দিক থেকে
আক্রমণ চালাবে। আর সুলতান আইয়ুবীর
সৈন্যদলে যে সব সুদানী রয়েছে তারা
বিদ্রোহ করবে। কিন্তু তখন তারা কিছুই
করেনি। দু’বৎসর পর তাদের আবার সাহায্য
দেয়া হলো, তাও বিফলে গেল। এখনও তারা
আমাদের নিরাশ করবে। কেন আমরা
তাদেরকে আমাদের পরিকল্পনায় শামিল
করবো?’
‘মিশর আমরা আমাদের শক্তিতে অধিকার
করলেও, সুদানীরা আমাদের কাছে অংশ
দাবী করবে।’
‘আপনি ভুল করছেন। সুদানীদের মধ্যে
মুসলিমান কম নেই। আর মুসলমানদের উপরে
ভরসা করা মহা ভুল। আপনি যদি ইসলামের
অস্তিত্ব মিটিয়ে দিতে চান তবে কোন
মুসলমানকেই অন্তর থেকে বন্ধু মনে করবেন
না। তাদেরকে প্রলোভন দিয়ে অনুগত দাস
বানাবেন কিন্তু তাদের জন্য সারাক্ষণ
শত্রুতা পোষণ করবেন।’
‘আপনি সত্য কথাই বলেছেন।’ এক খৃষ্টান
রাজা বললেন, ‘আমরা ফাতেমীদের বন্ধু
বানিয়েছিলাম। তারা সালাহউদ্দিনের
শত্রু হয়েও তাকে হত্যা করলো না। আমরা
তাদেরকে বড় বড় গোয়েন্দা এবং সাহসী
যোদ্ধা দিয়েও সাহায্য করেছিলাম। অথচ
তারা তাদেরকে ধরিয়ে দিয়ে হত্যা
করালো। তাহলে আমরা কার উপর ভরসা
করবো?’
‘এখন আমাদের নিজস্ব সামরিক শক্তির
উপরই ভরসা করতে হবে, তা হলেই আমরা
সফল হবো।’
এ যুদ্ধে খৃস্টানদের সামরিক শক্তি
অহংকার করার মতই ছিল, এবং তাদের মধ্যে
এ অহংকার যথেষ্ট প্রকটও ছিল। সামদ্রিক
যুদ্ধে নৌ শক্তির কোন হিসাব ছিল না।
বায়তুল মোকাদ্দাসের দিক থেকে যে
সেনাবাহিনী এগিয়ে আসছিল, তারা ছিল
নৌবাহিনীর দ্বিগুনেরও বেশী।
এ নৌযুদ্ধে খৃস্টানদের ছ’জন সম্রাট সরাসরি
অংশ নিয়েছিলেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র
রাষ্টের শাসকরাও সেনাবাহিনীর সাথে
একাত্ম হয়ে চলে এসেছিলেন ময়দানে।
তাদের একটিই ত্রুটি ছিল, সম্মিলিত
বাহিনীর কোন ঐক্যবদ্ধ একক কমান্ড ছিল
না। তাদের ঐক্যবদ্ধ কমান্ড থাকলে নূরুদ্দিন
জঙ্গী ও সুলতান আইয়ুবীকে তারা সহজেই
পরাস্ত করতে পারতো বলে ঐতিহাসিকরা
মনে করেন।
সুলতান আইয়ুবীর সামনে সমস্যা ছিল
তিনটি। তার সৈন্য সংখ্যা কম। মিশরে
গাদ্দাররা অনৈক্য ও বিশৃংখলা সৃস্টি করে
রেখেছে। সুদানীরা সুযোগ পেলেই আক্রমণ
চালাতে পারে।
নূরুদ্দিন জঙ্গীরও কিছু অসুবিধা ছিল।
ইসলামী জগত ছোট ছোট রাজ্যে বিভক্ত
ছিল। এ সকল রাজ্যের আমীররা আরাম-
আয়েশ ও ভোগ-বিলাসে অভস্ত হয়ে
পড়েছিল। খৃস্টানরা তাদের ওপর প্রভাব
বিস্তার করে একরকম অধীনই বানিয়ে
রেখেছিল। খৃস্টানদের কূটচক্রান্তে পড়ে
তারা পরস্পর শত্রু হয়ে উঠেছিল এবং
নিজেদের মধ্যে সংঘাত শুরু করে
দিয়েছিল। ইসলামের গৌরব বৃদ্ধির চেষ্টা
করার অনুভূতিও তারা হারিয়ে ফেলেছিল।
এসব সমস্যা নিয়েই খৃস্টানদের সম্মিলিত
বাহিনীর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত
হচ্ছিলেন তারা।
সুলতান আইয়ুবী সেনাবাহিনীকে তিন
ভাগে বিভক্ত করলেন। এক দলকে সুদানের
সীমান্তে চলে যেতে বললেন। তার
কমান্ডারকে নির্দেশ দিলেন, ‘সীমান্ত
থেকে অস্পষ্টভাবে দেখা যায় এতটা দূরত্বে
তাবু টানিয়ে ক্যাম্প করবে। কিন্তু পুরো
সিমান্ত এলাকায় সৈন্যদেরকে এমন ভাবে
কর্মতৎপর ও ব্যতিব্যস্ত রাখবে যেন সব সময়
বাতাসে অশ্ব ক্ষুরের ধূলি উড়তে দেখা
যায়। যাতে মনে হয়, সীমান্তে অসংখ্য
সৈন্য মোতায়েন রয়েছে।’
সুলতান আইয়ুবী সৈন্যদেরকে বিশেষভাবে
সতর্ক করে দিলেন যেন তারা কোন
অবস্থাতেই অসতর্ক অবস্থায় না থাকে।
দ্বিতীয় দলকে আলেকজান্দ্রিয়ার দিকে
যাত্রা করতে আদেশ দিলেন। কিন্তু তাদের
নির্দেশ দিলেন, ‘দিনের বেলায় যুদ্ধ
যাত্রা করবে না। রাতের আধাঁরে পথ চলবে,
আর দিনে গোপন স্থানে ক্যাম্প করে
বিশ্রামে থাকবে।’
তাদের কমান্ডারকে আরো বললেন,
‘আলেকজান্দ্রিয়ায় তোমাদের শিবির ও
যুদ্ধ ক্যাম্প কোথায় হবে সে নির্দেশ পরে
জানানো হবে।’
তৃতীয় দলটিকে সুলতান আইয়ুবী নিজের
কমান্ডে রাখলেন। কিন্তু কেন এই প্রস্তুতি
ও ব্যস্ততা তা কাউকে বললেন না। উর্ধতন
অফিসারদের শুধু বললেন, ‘বিশেষ প্রয়োজনে
সেনাবাহিনীকে জরুরী কিছু কাজ দেয়া
হচ্ছে। যাকে যে দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে এবং
যেভাবে চলতে বলা হচ্ছে, আমি চাই সে
তার দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করুক।’
সুলতানের এ নির্দেশের পর সৈন্যরা এ
নিয়ে আর কোন প্রশ্ন তোলেনি। তবে সবাই
এ দেখে বেশ অবাক হলো, সমস্ত
মিনজানিক ও ভারী অস্ত্রগুলো
আলেকজান্দ্রিয়াগামী সৈন্য দলকে সাথে
নেয়ার জন্য দিয়ে দিলেন।
এ নির্দেশের সাত আট দিন পর সুলতান
আইয়ুবীকে আর কায়রোতে দেখা গেল না,
আর নূরুদ্দিন জঙ্গীও ক্রাকে ছিলেন না।
তাঁরা দু’জনই আলেকজান্দ্রিয়ার নিজ নিজ
গোপন আস্তানায় অবস্থান করছিলেন।
মাঝে মাঝে আস্তানা থেকে বেরিয়ে
তারা পুরো এলাকায় টহল দিয়ে বেড়াতেন।
কিন্তু তখন তারা থাকতেন ছদ্মবেশে। ফলে
কেউ তাদের চিনতে পারতো না। পাশ
দিয়ে যাওয়ার সময়ও কেউ বলতে পারতো
না, এ ব্যক্তিই একটি দেশের শাসক ও সেনা
বিভাগের প্রধান!
জনসাধারণ এ দুই মহান ব্যক্তিকেও তাদের
মতই সাধারণ মানুষ মনে করতো। অথচ এ দুই
ব্যক্তি ছিল ক্রুসেড ও খৃস্টান জগতের জন্য
ভয়ংকর ভয় ও আতংকের কারণ। তাঁরা দু’জনই
সাধারণ গরীব উষ্ট্র চালকের বেশে ছিলেন।
কেউ তাদের ব্যাপারে এই আগ্রহও প্রকাশ
করলো না যে, এই উষ্ট্রচালকরা কোথেকে
এসেছে আর কোথায় যাচ্ছে।ইমরান যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হলে তিনি
বললেন, ‘সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে বলবে,
রেজাউল ও রহিমের পরিবারকে যেন
নিজের পরিবার মনে করেন। তাদের ভরণ-
পোষন ও তত্ত্বাবধান করেন। তাদের
ব্যয়ভার বহনের জন্য বায়তুলমাল থেকে
মাসোহারার ব্যবস্থা নেন।’
‘জ্বী। বলবো।’ ইমরান আদবের সাথে জওয়াব
দিল।
তিনি প্রশ্ন করলেন, ‘তুমি কি শুধু
গোয়েন্দাগিরিই করো, না যুদ্ধ করার
ট্রেনিংও পেয়েছো?’
‘জ্বী, পেয়েছি। যুদ্ধের অভিজ্ঞতাও আমার
আছে। আপনার কোন আদেশ থাকলে বলুন।’
বললো ইমরান।
‘চিঠি লেখার তো সময় নেই!’ জঙ্গী বললেন,
‘সালাহউদ্দিনকে বলবে, ক্রাক দূর্গটি তার
দায়িত্বে ছেড়ে দিয়ে আমার তাড়াতাড়ি
দামেস্কে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
সেখান থেকে সংবাদ এসেছে, সেখানে
খ্রীস্টান দুস্কৃতকারীদের তৎপরতা বেড়ে
গেছে। আর আমাদের ছোট ছোট রাজ্যের
শাসকগণ তাদের হাতের খেলার পুতুল হয়ে
গেছে।
কিন্তু তোমার কাছে থেকে আমি যে তথ্য
পেলাম তাতে আমার সে সিদ্ধান্ত
বদলাতে বাধ্য হচ্ছি। চার-পাঁচ বছর আগে
সালাহউদ্দিন যে ক্রুসেডারদের নৌবহরকে
ফাঁদে ফেলে রোম সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছিল
এবার সে ফাঁদে তারা পা দেবে না। এখন
তারা সাবধান হয়ে গেছে। সে কারণেই
তারা আলেকজান্দ্রিয়ার উত্তর সমুদ্রতীর
বেছে নিয়েছে। যদি আইয়ুবী
আলেকজান্দ্রিয়ায় সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত
হয় তবে ভুল করবে। কারণ তার কাছে
ক্রুসেডারদের মত শক্তিশালী নৌশক্তি
নেই। তাদের জাহাজ বড় আর প্রতিটি
জাহাজে পাল ছাড়াও অসংখ্য দাঁড় ও বৈঠা
আছে। সেই দাঁড় টানার মত তাদের কাছে
রয়েছে অসংখ্য গোলাম। আইয়ুবীর তা নেই।
তার জাহাজে দাঁড় টানার মত মাল্লা
আছে, সৈন্যও আছে। কিন্তু সামদ্রিক যুদ্ধে
তারা দু’দিকে সামাল দিতে পারবে না।
সে জন্য আইয়ুবীকে বলবে, খৃস্টান
বাহিনীকে তীরে নামার সুযোগ দিতে।
এতে করে আলেকজান্দ্রিয়ার জনসাধারণ
ভয় ও আতংকের মধ্যে পড়ে যাবে। কারণ
ওরা তীরে নেমেই অগ্নিগোলা ছুঁড়ে শহরে
আগুন ধরিয়ে দিতে চেষ্টা করবে।
আইয়ুবীকে এ ব্যাপারেও সতর্ক করে দেবে।
যদি শত্রুরা তুমি যেমন সংবাদ নিয়ে
এসেছো সেভাবেই আক্রমন চালায় তবে
আমি শত্রু সেনাদের পাশ থেকে আক্রমন
চালাবো। তারা আমার আক্রমণের বাম
পাশে থাকবে। সালাহউদ্দিনকে বলবে ডান
পাশ থেকে আক্রমণ চালাতে। আর তার
দায়িত্ব থাকবে, যেন তাদের একটি
জাহাজও ফিরে যেতে না পারে। আগুন
লাগিয়ে পুড়ে ছাই করে দিতে হবে সব
জাহাজ। তার কাছে যে প্রশিক্ষিত
কমান্ডো বাহিনী আছে তারা ভাল করেই
জানে কিভাবে তা করতে হবে।
আরেকট কথা, তাকে সুদানীদের দিকেও
সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের সীমান্ত
যেন খোলা না থাকে। সীমান্তরক্ষী
বাহিনীকে সুসজ্জিত ও সতর্ক থাকতে
বলবে। আমি জানি, তার কাছে যে সৈন্য
আছে তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। আমি সে
ঘাটতি পূরণ করতে চেষ্টা করব। সবচেয়ে
বেশী প্রয়োজন গোপন তথ্য জানা ও তার
আদান প্রদান। গোপনীয়তা রক্ষার
খাতিরেই লিখিত চিঠি পাঠালাম না।
বিজয় লাভের পর আমি ক্রাকের শাসন
ক্ষমতা সৈন্যদের হাতে দিয়ে দামেস্কে
চলে যাব।’
সুলতান নূরুদ্দিন জঙ্গীর প্রতিটি কথা
ভালমত অন্তরে গেঁথে নিয়ে ইমরান
কায়রোর দিকে যাত্রা করলো।
খৃস্টীয় ১১৭৩ সাল। আলী বিন সুফিয়ান
সালাহঊদ্দিন আইয়ুবীকে সংবাদ
জানালেন, ‘আক্রাতে একজন মুসলিম
গোয়েন্দা শহীদ হয়েছে, একজন ধরা পড়েছে
আর তাদের কমান্ডার ইমরান ফিরে
এসেছে।’
সুলতান আইয়ুবী এ খবর শুনে বিষণ্ণ হয়ে
গেলেন। আলী বিন সুফিয়ান তাকে
জানালেন, ‘ইমরান খুবই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিয়ে
এসেছে।’
এতেও সুলতানের বিষণ্নতা দূর হলো না।
তিনি আলী বিন সুফিয়ানের সাথে
সংক্ষিপ্ত কথা সেরে ইমরানকে ভেতরে
ডেকে নিলেন। ইমরান ভেতরে প্রবেশ
করতেই সুলতান উঠে এগিয়ে এসে তাকে
আলিঙ্গন করলেন।
‘আগে বলো, তোমার সঙ্গী কেমন করে শহীদ
হলো, আর দ্বিতীয়জন কেমন করে ধরা
পড়লো?’
ইমরান সমস্ত ঘটনা সবিস্তারে বর্ণনা
করলো। যখন সে আক্রার সামরিক বিভাগের
গোপন সিদ্ধান্ত ও তথ্য বর্ণনা শুরু করলো,
সুলতান আইয়ুবীর চোখ বড় বড় হয়ে উঠলো।
ইমরান বললো, ‘আমি ক্রাকে নূরুদ্দিন
জঙ্গীকে এ সংবাদ জানিয়ে এসেছি।’
সুলতান বললেন, ‘তিনি কেমন আছেন?’
‘জ্বী, তিনি ভাল আছেন। আপনার জন্য
তিনি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছেন।’
‘কই সে বার্তা? দাও।’ উদগ্রীব হয়ে বললেন
আইয়ুবী।
‘না, তিনি কোন লিখিত বার্তা পাঠানো
ঠিক মনে করেননি, যা বলার সব আমাকে
বলেছেন, আর বলেছেন, আমি যেন তা ঠিক
মত আপনাকে জানাই।’
ইমরান সুলতান আইয়ুবীকে নূরুদ্দিন জঙ্গীর
বার্তা শোনালো। তাতে সুলতান আইয়ুবীর
যুদ্ধ প্লানের অনেক সময় বেঁচে গেল। তিনি
প্রথমেই রহিম ও রেজাউলের পরিবারের
ভাতা নির্ধারণ করলেন। তাদের জানালেন,
তারা যেন যে কোন অভাব অভিযোগ সঙ্গে
সঙ্গে সুলতানকে জানায়। তিনি তাদের
শান্তনা দিয়ে বললেন, ‘এখন থেকে
তোমাদের অভিভাবক আমি। তোমাদের যে
কোন সুবিধা অসুবিধার কথা অন্যে জানার
আগে যেন আমি জানতে পারি।’
তিনি ইমরানকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে আরো
অনেক কথা জিজ্ঞেস করলেন। সুলতানের
প্রশ্নের জবাবে ইমরান আরো বললো, ‘চার
পাঁচ বছর আগের তুলনায় ক্রুসেডারদের
নৌবহর আরো বেড়েছে। তাদের যুদ্ধ
জাহাজও এখন অনেক বেশি।’
‘আক্রমণের কোন দিন তারিখ কি তারা
নির্ধারণ করেছে?’
‘আক্রমণ এক মাসের মধ্যেই হবে। ইউরোপ
থেকে সম্পূর্ণ নতুন সৈন্য আমদানি করা
হয়েছে। ওদেরকে আলেকজান্দ্রিয়ার উত্তর
সমুদ্রতীরে নামানো হবে। দ্বিতীয়
বাহিনী বায়তুল মোকাদ্দাস থেকে
মিশরের দিকে অগ্রসর হবে।
আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণকারী বাহিনী
সে স্থান দখল করে সেখানে তাদের ঘাঁটি
ও রসদপত্রের কেন্দ্র বানাবে। তারপর
তারা উত্তর দিক থেকে মিশরে আক্রমণ
চালাবে।’
ইমরানের বর্ণনা শুনে সুলতান আইয়ুবী
খৃস্টান বাহিনীর কৌশল যথার্থই আঁচ করতে
পারলেন। তারা আক্রমণের এমন পরিকল্পনা
করেছে যাতে সুলতান আইয়ুবী আক্রমণের
আগে কিছুই টের না পান। তাছাড়া
আক্রান্ত অবস্থায় নূরুদ্দিন জঙ্গী ক্রাক
থেকে তাকে যেন কোন সাহায্য পাঠাতে
না পারেন সে জন্যই বায়তুল মোকাদ্দাস
থেকে বাহিনী পাঠাচ্ছে। এ বাহিনী পথেই
জঙ্গীর বাহিনী এগিয়ে এলে বাধাঁ দিতে
পারবে। ফলে বিপুল বাহিনী ও আধুনিক
অস্ত্রের মোকাবেলায় আইয়ুবীর পতন যে
নিশ্চিত এতে কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়
খৃস্টানদের।
সুলতান আইয়ুবী অনুভব করলেন, এ এমন এক
তুফান, যদি তারা সুলতানের অজ্ঞাতে
এসেই যেতো, তবে মিশর খৃস্টানদের দখলে
যেতো।
সুলতান তখুনি সেনাবাহিনীর সিনিয়র
সেনাপতিদের জরুরী অধিবেশন ডাকলেন।
আলী বিন সুফিয়ানকে নির্দেশ দিলেন,
‘শত্রুর গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে সতর্ক দৃষ্টি
দাও। চারদিকে চোখ-কান খোলা রাখো।
সব ব্যাপারেই সাবধানতা অবলম্বন করবে,
সতর্ক থাকবে যেন নিজের সেনাবাহিনীর
কোন খবরই বাইরে শত্রুদের কাছে যেতে না
পারে।’
তিনি আলীকে আরো বললেন,
‘আলেকজান্দ্রিয়ার দিকেও বিশেষ নজর
রেখো।’
...............চলবে..........
(বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now