বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকূলে সংঘর্ষ ৪র্থ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X দাফনের দায়িত্ব ওদের হাতে দিয়ে রেজাউল ছুটল ইমরান তার জন্য যেখানে অপেক্ষার প্রহর গুনছে সেই গীর্জার দিকে। o গভীর রাত। সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ঘুমিয়ে আছে গভীর নিদ্রায়। জাতির গাদ্দাররা শত্রুর দেয়া শরাব ও নারী নিয়ে মাতাল হয়ে পড়ে আছে। আর সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে, নির্বিকার। তাদের থেকে দূরে, অনেক দূরে, ঈমানের বলে বলীয়ান এক মুসলিম যুবক ইসলামের সম্মান ও গৌরব রক্ষার জন্য নিজের জীবন বাজী রেখে প্রতীক্ষা করছে বন্ধুদের জন্য। ওরা এলেই আক্রা থেকে গোপনে বেরিয়ে যাবে সবাই। জীবন মরণ সংগ্রাম চালিয়ে ছুটে যাবে কায়রো। তাদের এ কায়রো পৌছার ওপর নির্ভর করছে মিশরের নিরাপত্তা। নির্ভর করছে মুসলিম বিশ্বের মান-সম্মান ও ইসলামের গৌরব। তাদের কাছে রয়েছে এমন গোপন তথ্য, এমন পবিত্র আমানত, যার ওপর নির্ভর করছে সমগ্র জাতির ভাগ্য। অথচ তাদের আশেপাশে এমন কেউ নেই, যে তাদের সাহায্যকারী হতে পারে, যে তাদের ভালমন্দ দেখতে পারে। তাদের একমাত্র সহায় এখন আল্লাহ। এমন সংকটময় মূহুর্তে জাতীয় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার সাথে অপেক্ষা করছে ইমরান। তার মাথায় কিলবিল করছে নানা চিন্তা, রহিম কি মুক্তি পাবে? রেজাউল কি আসতে পারবে? কায়রোয় এ খবর আদৌ কি পৌছানো যাবে? গেলে কখন? মিশরের ওপর আঘাত হানার জন্য খৃষ্টানদের সম্মিলিত বাহিনী প্রস্তুত হচ্ছে। তাদের বিরাট নৌবহর ভূমধ্য সাগরের উত্তাল ঢেউ পাড়ি দিয়ে মিশরের উপকূলে আক্রমন করতে ছুটে যাচ্ছে। এ খবর অনতিবিলম্বে কায়রো পৌঁছানো দরকার। এ জন্যই ইমরানের এত পেরেশানী। ইমরান দ্রুত ক্রাক বা কায়রো পৌছতে চাচ্ছে, যেন এই মুহুর্তে নূরুদ্দিন জিঙ্গী ও সুলতান আইয়ুবী অন্য কোন সেক্টরে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে বসেন। যদি তাদের এমন কোন সিদ্ধান্ত থাকেও, তা থামাতে হবে। ইমরান এই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে মুক্তি জন্য সিজদায় পড়ে গেল। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে নফল নামাজ পড়তে শুরু করল সে। এ সময় শহরে হৈ চৈ শুরু হইয়ে গেলে প্রহরীদের হাকডাক কানে এল তার। সে নামাজ শেষ করে কান পাতলো। পাহারাদারদের ব্যস্ত তৎপরতা, দৌড়াদৌড়ি, সতর্কতা, এসব দেখে তার অশান্তি ও দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেল। সে আবার জায়নামাজে দাঁড়াল এবং দু’ রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বলতে লাগলো, ‘হে আল্লাহ, আমাকে আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের সুযোগ ও ক্ষমতা দান করো। আমি যেন আমার সংগৃহীত তথ্য ঠিকানা মত পৌছে দিতে পারি এ তৌফিক দাও আমায়। এর বিনিময়ে তুমি আমাকে যা দান করেছো তার সব কিছু নিয়ে নাও। প্রয়োজনে আমার পরিবার, আমার খান্দানকেও আমি তোমার হাওলা করে দিচ্ছি। বিনিময়ে শুধু একটি সুযোগ চাই, আমি যেন এ তথ্য তোমার খাদেমদের দরবারে পৌছে দিতে পারি।’ ইমরান চোখের জলে বুক ভাসিয়ে মালিকের দরবারে তার প্রার্থনা তখনো শেষ করেনি, হঠাৎ দরজার ঊপরে সাংকেতিক টোকা পড়ল, যেমন পড়েছিল রহিমের জানালায়। ইমরান তাড়াতাড়ি মোনাজাত শেষ করে দরজা খুলে দিল। রেজাউল দাঁড়িয়ে ছিল দরজার বাইরে। তাকে ভেতরে ডেকে এনে দরজা বন্ধ করে দিল ইমরান। রেজাউল তখন ভীষনভাবে হাঁপাচ্ছিল। সে ইমরানকে বললো, ‘সর্বনাশ হয়ে গেছে ইমরান। আমাদের ওপর দিয়ে মহা বিপদ বয়ে গেছে। রহিম শহীদ হয়ে গেছে।’ ইমরানের কাছে সব ঘটনা খুলে বলল রেজাউল। ইমরান যখন শুনলো রহিমের লাশ একজন মুসলমানের বাড়িতে তাদের ঘরের মেঝেতে দাফন করার জন্য রেখে এসেছে রেজাউল, তখন ভীত শংকিত কন্ঠে সে বলে উঠল, ‘একি করেছো তুমি! তাদের ওপর এখন বিপদের কি জাহান্নাম নেমে আসবে কল্পনা করতে পারো? আমরা কোনদিন আক্রার কোন মুসলমানদের বিপদের কারণ হবো, এমনটি আমি কল্পনাও করিনি রেজাউল।’ রেজাউল অভয় দিয়ে তাকে বললো, ‘ঐ পরিবারে তিনজন পুরুষ ও কয়েকজন নারী আছে। এ কাজের জন্য বাইরের কাউকে ডাকতে হবে না তাদের। তারা তখনি কামরার এক কোণে গর্ত খোড়া শুরু করে দিয়েছে। হয়তো এতক্ষণে তারা লাশ দাফনও করে ফেলেছে। নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ খবর তারা বাইরে কাউকে জানাবে না।’ ইমরান সে বাড়িতে যেতে চাইলো। বলল, ‘ তাদের গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা আছ কিনা আমি দেখতে চাই।’ রেজাউল তাকে আশ্বস্ত করলো, ‘তারা খুব সতর্ক লোক মনে হলো। আমার বিশ্বাস তারা সবকিছু গুছিয়ে নিতে পারবে।’ o আক্রা থেকে বের হওয়া খুব কঠিন ব্যাপার হয়ে গেল। সৈন্যদের অফিসার্স কোয়ার্টারে সেনাবাহিনীরই এক অফিসারের বাগদত্তা এবং শহরের নামকরা ব্যবসায়ীর একমাত্র যুবতী কন্যার খুন হয়ে যাওয়া এবং একজন গোয়েন্দার পলায়ন, কোন সাধারণ ঘটনা ছিল না। এ নিয়ে শহরে এক তুলকালাম বেঁধে গেল। সারা শহরে সাধারণ প্রহরীদের সাথে পুলিশ এবং সেনা সদস্যরাও পাহারা ও তল্লাশীতে নেমে পড়ল। ইমরান বলল, ‘পাহারা যত জোরদারই হোক, যত বড় বিপদই থাক মাথার ওপর, এরই মধ্যে রাস্তায় নামতে হবে আমাদের এবং এখনি।’ ‘তাহলে আমরা দু’জন আলাদাভাবে যাত্রা করি, যাতে একজন ধরা পড়লে আরেকজন অন্তত মুক্ত থাকতে পারি।’ ইমরান বলল, ‘না, আমরা একত্রেই বের হবো। যদি কেউ ধরা পড়ি বা দু’জনেই ধরা পড়ি, তবে কিছুতেই গোপন তথ্য প্রকাশ করবো না। রহিমের লাশ কোথায় আছে এবং সে যে মারা গেছে, এ কথাও প্রকাশ করবো না।’ ‘কিন্তু ঘোড়ার কি ব্যবস্থা করেছো?’ জানতে চাইল রেজাউল। ইমরান রেজাউলকে সেই স্থানে নিয়ে চলল, যেখানে আটটি ঘোড়া বাঁধা ছিল। কিন্তু দূর থেকেই দেখা গেল, সেখানে একজন প্রহরী পাহারা দিচ্ছে। ইমরান এজাউলকে এক জায়গায় লুকিয়ে রেখে একাই আগে বাড়ল। প্রহরীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ‘কি ব্যাপার! হঠাত করে এদিকে পাহারার ব্যবস্থা!’ প্রহরী ইমরানকে জন গিন্থার নামে চিনতো এবং বড় পাদ্রীর বিশেষ খাদেম হিসেবে তাকে যথেষ্ট সম্মান ও সমীহ করতো। সে ইমরানকে বললো, ‘আজ রাতে শহরে ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে। বিকেলে এক মুসলমান গোয়েন্দা ধরা পড়েছিল। তাকে জেরা করার জন্য রাখা হয়েছিল অফিসার্স কোয়ার্টারে। রাতে সে একটি মেয়েকে খুন করে পালিয়ে গেছে। সারা শহরে তন্ন তন্ন করে তাকে খোঁজা হচ্ছে। তাই সর্বত্র এত সতর্কতা।’ এই প্রহরীর সামনে ঘোড়া খোলা সম্ভব ছিল না। ইমরান তার সঙ্গে গল্প জুড়ে দিল। রেজাউল খুক করে একটু কাশল, প্রহরী কে কাশল দেখার জন্য যেই পিছন ফিরেছে অমনি তার গলা এমন শক্ত ভাবে চেপে ধরলো ইমরান, যে আর শব্দ করতে পারলো না। রেজাউল ছুটে এসে তার খঞ্জর প্রহরীর বুকে বসিয়ে দিল। মৃত্যু পর্যন্ত ইমরান প্রহরীর গলা শক্ত করে ধরেই রাখলো। ইমরান নিহত প্রহরীর লাশ রেখে ছুটল ঘোড়ার উদ্দেশ্যে। রেজাউলও ছুটল তার পিছু পিছু। দ্রুত দুই ঘোড়ার পিঠে জ্বীন এঁটে লাফিয়ে ঘোড়ায় চেপে বসল দু’জন। গির্জার সমস্ত লোক তখনো গভীর ঘুমে। ইমরান ও রেজাউল শহর থেকে বের হওয়ার নিরিবিলি ও নির্জন এক অন্ধকার গলি পথে টহল দেয়ার ভঙ্গিতে ঘোড়া চালিয়ে বেরিয়ে এল শহর থেকে। শহরের শেষ মাথায় এসে হঠাৎ তারা একদল পাহারাদারের সামনে পড়ে গেল। ইমরান ওদের দেখেই দূর থেকে চেঁচিয়ে বললো, ‘কোন খবর পেলে? বজ্জাতটার কোন হদিস পেলে?’ তিন-চারটি মশাল দ্রুত এগিয়ে এলো ওদের দিকে। একজন বলে উঠল, ‘তোমরা কারা?’ ‘আমরা কমান্ডো ইউনিটের। আসামী এদিকে আসেনি?’ ‘কিন্তু তোমাদের ড্রেস কোথায়?’ ‘আহাম্মক, এখন কি ড্রেস খোঁজার সময়? তোমরা এদিকে ড্রেস পরার তালে থাকো, ততক্ষণে আসামী পগাড়পার হোক উজবুক কোথাকার।’ সঙ্গীর দিকে তাকিয়ে বললো, ‘চলো।’ পাহারাদারদের মশালগুলোকে পাশ কাটিয়ে ওরা সামনে বাড়তে চাইলো। দেখলো, অদুরে একদল অশ্বারোহী দাঁড়িয়ে আছে। এদিক-ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আরো কয়েকজন। এতেই তারা বুঝতে পারলো, সারা শহরে কেমন কড়া পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইমরান তার কাপড়ের দিকে লক্ষ্য করেনি। তার কাপড়ে নিহত সেন্ট্রির রক্ত লেগে ছিল। মশালের আলোতে এক অশ্বারোহীর চোখে পড়ল সে রক্ত। সে দ্রুত তাদের পথ আগলে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমার কাপড়ে রক্ত কিসের?’ মুহূর্তে ইমরান বুঝে ফেললো তারা ধরা পড়তে যাচ্ছে। সে দ্রুত ঘোড়ার লাগাম টেনে তীর বেগে ঘোড়া ছুটালো। রেজাউলও সঙ্গে সঙ্গে তার পিছনে ঘোড়া ছুটিয়ে দিলো। কিন্তু চোখের পলকে এক অশ্বারোহী তার পথ আগলে দিল। পাশেই দাঁড়ানো অশ্বারোহীরা ছুটে এসে ঘিরে ফেলল তাকে। ইমরান বেরিয়ে যেতে পারলেও রেজাউল তাদের ঘেরাওয়ের মাঝে আটকা পড়ে গেল। সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজন অশ্বারোহী ইমরানের পিছু ধাওয়া করলো। সে রেজাউলের উচ্চ কন্ঠের চিৎকার শুনতে পেল, ‘ইমরান, তুমি পালাও। খবরদার পিছনে তাকাবে না, থামবে না কোথাও। আল্লাহ হাফেজ।’ ইমরানের কানে বহু দূর পর্যন্ত এই শব্দ বাজতে থাকল। এক সময় মনে হলো, সে অবরোধ মুক্ত হতে পেরেছে। ইমরানের ঘোড়া ছিল খুবই তাজাদম, বুদ্ধিমান এবং দ্রুতগতি সম্পন্ন। এখানকার রাস্তাঘাটও ছিল তার পূর্ণ নখদর্পনে। সে তার আরোহীর বিপদ টের পেয়ে পিছু ধাওয়াকারীদের দ্রুত পিছনে ফেলে তাদের দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল। তার ডান ও বা পাশ দিয়ে অসংখ্য তীর শাঁ শাঁ করে ছুটে গেলো, ভাগ্যগুনে তার একটিও আরোহী বা ঘোড়ার গায়ে লাগেনি। ঘোড়া ইমরানকে নিয়ে ক্রাকের দিকে ছুটে চললো। ধাওয়াকারীরা এখন কত দূরে, কোথায়, বুঝার কোন উপায় নেই। কিন্তু ঘোড়া তার গতি কমালো না। তার সারা শরীর ঘামে জবজব করছে। তারও অনেক পরে ইমরান উপলব্ধি করলো ঘোড়ার গতি আস্তে আস্তে কমে আসছে। তার মনে হলো, এবার ঘোড়া বদলানো প্রয়োজন। আর বেশিক্ষণ সে চলতে পারবে বলে মনে হয় না। ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। যখন চারদিক একদম ফকফকা ফর্সা হয়ে গেল, তখন আর ঘোড়া চলার অবস্থা রইল না। সে পানির সন্ধান করলো, কিন্তু আশেপাশে পানির কোন উৎসই তার নজরে এলো না। সামনে উঁচু বালির পাহাড়। ক্লান্ত ঘোড়া এ পাহাড় কিভাবে অতিক্রম করবে ভাবছিল ইমরান, হঠাৎ তার সামনে দুটি তীর এসে পড়লো। তাতে সংকেত ছিল, ‘থেমে যাও’। সে থেমে গেল। অল্পক্ষণের মধ্যেই তার সামনে এসে উপস্থিত হলো একদল লোক। তাদের দেখে তার বুকে জান ফিরে এলো। সে দেখলো, যারা তার গতিরোধ করেছে তারা সবাই নিজেদের লোক। তাকে সঙ্গে সঙ্গে কমান্ডারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো। কমান্ডার তার কথা শুনে বললেন, ‘এখন কি করতে চাও?’ ইমরান বললো, ‘প্রথমে ক্রাকে গিয়ে সুলতান নুরুদ্দিন জঙ্গীর সাথে দেখা করে আক্রার অবস্থা তাকে অবগত করাবো, পরে কায়রোতে গিয়ে সুলতান সালাহউদ্দিনকে জানাবো।’ তার কথা শুনে কমান্ডার তাকে সতেজ ঘোড়া এবং সঙ্গে আরও দু’জন সৈনিক দিয়ে ক্রাকের পথে যাত্রা করিয়ে দিলেন। o ইমরান যখন ক্রাকের কেল্লায় বসে সুলতান নুরুদ্দিন জঙ্গীর সামনে তাদের অভিযানের বিবরণ পেশ করছিল এবং অভিযানের শেষলগ্নের করুণ ঘটনাবলী বর্ণণা করছিল, নুরুদ্দিন জঙ্গী তন্ময় হয়ে শুনছিলেন সেই অভাবিত কাহিনী। তার চেহারায় খেলা করছিল মুগ্ধতার আবেশ। তিনি এমনভাবে তার মুখের দিকে তাকিয়েছিলেন যেন অন্তরের অন্তস্থলে খোদাই করে নিচ্ছেন এক সুন্দর যুবকের ছবি। ইমরানের বলা শেষ হলে তিনি উঠে অধীরভাবে ইমরানকে বুকে চেপে ধরলেন এবং তার দুই গালে চুমু খেলেন। তারপর নিজের তলোয়ার খাপমুক্ত করে তলোয়ারে চুম্বন করলেন। এরপর তলোয়ারটি দুই হাতে ধারণ করে ইমরানের দিকে এগিয়ে ধরে বললেন, ‘বর্তমানে ক্রুসেডাররা যখন ভয়ঙ্কর শকুনের মত চাঁদের সুষমা ঢেকে দিতে চাচ্ছে তখন এক মুসলমান ভাই অপর ভাইকে তলোয়ার ছাড়া আর কি দিতে পারে? তুমি বাগদাদে বলো, দামেস্কে বলো, আর যেখানেই বলো না কেন, তোমাকে আমি এর যে কোন স্থানে একটি মহল দিতে পারি। তুমি যে সাহসিকতা দেখিয়েছ তার বিনিময়ে তোমাকে অর্থ সম্পদের আশ্বাস দান করা যায়। কিন্তু হে বন্ধু! আমি তোমার জন্য কোন মহল তৈরী করবো না। কারণ এই অর্থই অনর্থের মূল। যে জিনিস মুসলমানকে অন্ধ ও অকর্মন্য করে দেয়। তারচে তুমি এই তলোয়ার গ্রহন করো। এটা আমার তলোয়ার। আর মনে রেখো, এই তলোয়ার খৃস্টানদের অনেক মহারথী জালিমের রক্ত পান করেছে, এই তলোয়ার খৃস্টানদের বহু কেল্লার ঊপরে ইসলামী পতাকা উড্ডিন করেছে। এই তলোয়ার ইসলামের অতন্দ্র প্রহরী। ইমরান নুরুদ্দিন জঙ্গীর সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তার হাত থেকে তলোয়ারটি গ্রহন করে চুমু খেল। তারপর তা চোখে গালে স্পর্শ করলো গভীর আবেগ ও তৃপ্তি নিয়ে। শেষে তলোয়ারটি কোমরে ধারণ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। সে ‘ধন্যবাদ’ জাতীয় কিছু বলতে চাইল কিন্তু আবেগে তার গলা রুদ্ধ হয়ে গিয়েছিল, তাই সে কিছু বলতে পারলো না। কোন রকমে হাতের পাতা দিয়ে দু’চোখের আনন্দাশ্রু মুছে চোখ তুলে তাকালো নূরুদ্দিন জঙ্গীর দিকে। ‘আর তুমি তোমার নিজের মূল্য বুঝে নাও বন্ধু।’ জঙ্গী বললেন, ‘একজন গোয়েন্দা শত্রু সেনাদের পরাজিত করতে পারে, আর একজন গাদ্দার তার জাতিকে পরাজিত ও ঘৃণিত করতে পারে। তুমি শত্রুদের পরাজিত করে এসেছো; কারণ তুমি যে সংবাদ নিয়ে এসেছো এ খবরই হবে শত্রুদের পরাজয়ের কারণ। ক্রুসেড বাহিনী ইনশাআল্লাহ ফিলিস্তিন ও মিশরের সাগর তীরে ঠাঁই করতে পারবে না। এ বিজয় তোমাদেরই বিজয়। আর তার বিনিময়ে আল্লাহ তোমাদের দুনিয়াবী কল্যাণ ও আখেরাতের সাফল্য দান করবেন।’ ‘আমার জলদি কায়রো পৌছা দরকার।’ ইমরান বললো, ‘কারণ সময় বেশী নেই। মিশরের গভর্ণরকে আরো আগেই সংবাদ জানানো উচিত ছিল।’ ‘তুমি এখনি যাত্রা করো।’ নূরুদ্দিন জঙ্গী বললেন, ‘আমি তোমাকে ভাল জাতের ঘোড়া দিচ্ছি।’ তিনি ইমরানকে কায়রো যাওয়ার নিরাপদ ও সহজ রাস্তা বাতলে দিলেন। বললেন, ‘এ রাস্তায় কয়েক জায়গায় সেনা চৌকি আছে। সেসব চৌকিতে সংবাদ বাহকদের জন্য বিশ্রাম এবং ঘোড়ার ব্যবস্থাও আছে।’ ...............চলবে.................. (বি:দ্র: কেমন লাগলো জনাবেন প্লিজ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপকূলে সংঘর্ষ ৪র্থ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now