বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকূলে সংঘর্ষ ২য় পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X ‘তুমি কি জানো, তুমি কেমন করে ধরা পড়লে?’ ‘না!’ রহিম উত্তর দিল, ‘আমি শুধু এটুকুই জানি, আমি ধরা পড়েছি।’ ‘তুমি আরও অনেক কিছুই জানো।’ এক অফিসার বললো, ‘সব কথা বলে দাও, তোমাকে কোন শাস্তি দেয়া হবে না।’ ‘আমি এটুকুই জানি, আমি আমার দায়িত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসচেতন হয়ে পড়েছিলাম। তার ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে। এখন আমি আমার পাপ ও কর্তব্যে অবহেলার শাস্তি ভোগ করবো। তোমরা আমাকে যে ধরণের কষ্ট ও শাস্তি দিতে চাও, দিতে পারো, আমি হাসি মুখেই আমার পাপের শাস্তি গ্রহন করবো।’ ‘তোমার দীলে কি এখনো আলিসার জন্য ভালবাসা আছে?’ ‘হ্যাঁ, এখনও আছে।’ রহিম বললো, ‘আর চিরকাল থাকবে। আমি তাকে সঙ্গে নিয়ে কায়রো যেতে চেয়েছিলাম, সেখানে ইসলামী বিধান মতে সংসার গড়তে চেয়েছিলাম।’ ‘আমি যদি বলি, সে তোমার সাথে প্রতারণা করেছে, তুমি তা মানবে?’ ‘না।’ রহিম বললো, ‘যে আমার জন্য তার পিতা-মাতা ও বাড়িঘর ত্যাগ করতে পারে, সে কখনও ধোঁকা দিতে পারে না। বরং তাকে অন্য কেউ ধোঁকা দিয়েছে।’ ‘যদি আমি আলিসাকে তোমার সামনে হাজির করি, তবে কি তুমি বলবে, তোমার সাথে আক্রাতে আর কতজন এসেছে? এখন তারা কোথায় আছে?’ রহিম চুপ করে রইল, এ প্রশ্নের কোন জবাব দিল না। তাকে আবার জিজ্ঞেস করা হলো, ‘তুমি কি বলবে, তুমি এখান থেকে কোন কোন গোপন তথ্য সংগ্রহ করেছে?’ এবারও রহিম নিরুত্তর। সে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। এক অফিসার এগিয়ে এসে তার মাথা উপরে তুলে ধরলো। রহিমের দুই চোখে তখন টলমল করছে অশ্রু। অফিসার বারবার একই প্রশ্ন করল, কিন্তু সে এর কোন জবাব দিল না। সে অস্বীকার করে এ কথা বলল না যে, আমার কোন সঙ্গী সাথী নেই। আবার কে কোথায় আছে সে কথাও বলল না। স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছিল, তার ভেতরে চরম টানাপোড়েন চলছে। সে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। সে এ প্রশ্নের জবাব দেবে কি দেবে না, দিলে কি দেবে ঠিক করতে পারছে না। তার চেহারা বলছিল, আলিসার জন্য এখনো সে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে। ‘তোমাকে শেষ পর্যন্ত আমাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে।’ এক অফিসার বললো, ‘আমরা চেয়েছিলাম তোমার কষ্ট কমাতে। এ জন্য তোমাকে একাধিকবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। বার বার একই প্রশ্ন করার পরও তুমি কোন জবাব দাওনি। কিন্তু কি করে একজন বেয়াড়া গোয়েন্দার কাছ থেকে কথা আদায় করতে হয় সে কথা তোমার অজানা থাকার কথা নয়। তবু যখন তুমি কথা বলছো না, বাধ্য হয়ে আমাকে সে পথই ধরতে হবে। শেষ পর্যন্ত তুমি যখন একটি হাড় ও মাংসের স্তুপ হয়ে যাবে তখন আমাকে দোষারোপ করতে পারবে না। তুমি বাঁচবে কি মরবে আমার সে চিন্তা করার দরকার নেই। তবে যদি এখনো উত্তর দিয়ে দাও, তবে অনেক কষ্টের হাত থেকে বেঁচে যাবে তুমি। আর আলিসার কথা যদি জানতে চাও তো বলি, আলিসা চায় না তুমি এত তাড়াতাড়ি দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে যাও। তোমার সাথে এই যে ভাল ব্যবহার করা হচ্ছে এটাও অনেকটা আলিসার জন্যই।’ ‘রাজ সাক্ষীকে ক্ষমা করার একটা বিধান দুনিয়া জোড়েই চালু আছে। ইচ্ছে করলে সে সুযোগ তুমি নিতে পারো। তাহলে আলিসার একটা ইচ্ছা পূরণ করার অবকাশ পাবো আমরা। তোমাকে নিয়ে ঘর বাঁধার যে স্বপ্ন আলিসা দেখছে, তার সে স্বপ্ন পূরণ হবে। আলিসাকে যদি তুমি চাও তবে সে সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ অফিসার বলে চললো, ‘এটা কয়েদখানা নয়। তুমি এখন একজন অফিসারের কামরায় আছো। যদি তুমি চিন্তা করার সময় চাও তবে আজ রাত তোমাকে ওখানেই রাখা হবে।’ রহিম নিরব, নিস্তদ্ধ। বোবা চোখ মেলে সে ফ্যালফ্যাল করে অফিসারের দিকে তাকিয়ে রইল। অফিসারদেরও তেমন ভয় ছিল না যে, সে পালিয়ে যাবে। উঠানে ও সামনে সব সময় পাহারাদার থাকে। তাছাড়া সামরিক এলাকার কড়া পাহারা থেকে পালিয়ে ও যাবেই বা কোথায়? এক অফিসার তার সঙ্গীকে বললো, ‘কেন তুমি অযথা সময় নষ্ট করছো। একে গোপন ঘরে নিয়ে যাও। লোহার উত্তপ্ত শলাকা তার গায়ে লাগাও, দেখবে সে সব কথাই গড়গড় করে বলে দিচ্ছে। যদি তাতেও কাজ না হয় তবে ক্ষুধা ও পিপাসায় ফেলে রেখো দু’একদিন।’ অন্য অফিসার তাকে ইশারায় কামরার বাহিরে আসতে বললো। দুজনই বাইরে এলে সে বললো, ‘আমার পরীক্ষা অন্য রকম বন্ধু। এ কথা ভুলে যেওনা, এরা মুসলমান। তুমি এ পর্যন্ত কতজন মুসলমানের কাছ থেকে গোপন তথ্য বের করেছ? তুমি কি জান, এই কমবখ্ত জাত একবার যদি মুখ বন্ধ করে তবে মরে যাবে, তবুও মুখ খুলবে না। এ বেটা তো বলেই দিয়েছে, সমস্ত উৎপীড়ন ও শাস্তি তার গোনাহের সাজা হিসেবে গ্রহন করে নিবে।’ ‘এ বেটা দেখছি পাকা মুসলমান!’ ‘হ্যাঁ, একে টর্চার সেলে নিলেও সে বলবে, আমি কিছু জানি না। আমার উদ্দেশ্য ওকে হত্যা করা নয়, আমার শুধু জানা দরকার, তার সাথীরা কে কোথায় আছে? আর জানা দরকার, মিশরে আমাদের আক্রমণ করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সে তথ্য সে জানে কি না।’ ‘ওর বাবারও তা জানা সম্ভব নয়।’ অন্য অফিসার বললো, ‘হাইকমান্ডের মুষ্টিমেয় অফিসার ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউই অবগত নয়। এই গোয়েন্দা বণিকের মেয়ের ভালবাসায় বন্দী হয়ে আছে, তার তো দুনিয়ার আর কোন খবরের দরকার নেই। আমার তো এ কথাও বিশ্বাস হচ্ছে না, আলিসাই তাকে গ্রেফতার করিয়েছে। কারণ, সে এখনও এই উজবুকের প্রেমে পাগল হয়ে কান্নাকাটি করছে।’ অফিসার তাকে নিয়ে কামরার বাহিরে এল। বললো, ‘বুদ্ধু, আলিসাকেই আমি এ ব্যাপারে ব্যবহার করতে চাই। আলিসাকে আজ এই কামরাতেই এনে রাখা হবে। আমি আশা করি, যে গোপন রহস্য আমরা কয়েকদিন চেষ্টা করেও স্বীকার করাতে পারবো না, আলিসার মত যুবতী মেয়ে কয়েক ঘন্টার মধ্যই সেই গোপন খবর জেনে নিতে পারবে।’ ‘একটা মেয়ের উপর এতটা ভরসা করা কি ঠিক হবে?’ সন্দেহের সুর সঙ্গী অফিসারের কন্ঠে। ‘এখনও তোমার মনে সন্দেহ কাজ করছে। শোন, তুমি তো এখনও সব কথা শোনইনি। আলিসা ফিরে এসে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা জানতে পারলে বুঝতে, আলিসা কতটা কাজের। এ বন্দীর কাছ থেকে কথা বের করার দায়িত্ব যেহেতু আমাদের দু’জনের, তাই সব কথা তোমার জানা দরকার। আলিসা ঐ লোকটাকে গভীরভাবে ভালবাসতো। একজন নির্যাতীত খৃষ্টান ও উদ্বাস্তু পরিচয়ে লোকটা তাদের কাছে আশ্রয় নেয়। পরিচয়ের সময় এ যুবক তার নাম বলে, ‘ইলিমোর’। আলিসার বাবা কমান্ডার ওয়েস্ট মেকর্ডের সাথে মেয়ের বিয়ে পাকা করলে মেয়ে এই বিয়েতে বেঁকে বসে। কমান্ডার মেকর্ডকে আলিসা ‘বুড়ো ভাম’ বলে গালি দেয় এবং অপমান করে। বাপ চাচ্ছিল কমান্ডারকে মোটা ঘুষ হিসেবে কন্যা দান করতে। কিন্তু সুদর্শন যুবক ইলিমোরের প্রেমে পড়ে মেয়ে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে বসল। মেকর্ড যুবককে খুন করার হুমকি দিলে ঘটনা জটিল আকার ধারণ করে। নিরুপায় হয়ে ওরা পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পালিয়ে যাওয়ার সময় যুবকটি যখন অনুভব করল, এখন আর ধরা পড়ার সম্ভাবনা নেই, তখন রাতে বিশ্রামের সময় সে তার আসল পরিচয় ফাঁস করে দেয় আলিসার কাছে। আলিসাকে সে বলে, ‘আমি ইলিমোর নই, আমার নাম রহিম। আমি একজন মুসলমান এবং আইয়ুবীর গোয়েন্দা।’ আলিসা মনে করেছিল, ইলিমোর তামাশা করছে। কিন্তু এ যুবক তাকে বিশ্বাস করায়, সে মোটেও হাসি তামাশা করছে না, বাস্তবিকই মুসলমান এবং তার নাম রহিম। রহিম জানতো না, আলিসার মনে মুসলমানদের প্রতি প্রচন্ড ভয় এবং ঘৃণা জমা হয়ে আছে। খুব শিশুকাল থেকেই এই ভীতি ও ঘৃণা জন্ম নিয়েছিল তার মনে। রহিমের এ কথাও জানা ছিল না, সে একজন অন্ধ খৃষ্ট ভক্ত ও খৃষ্ট ধর্মের একনিষ্ট অনুসারী। তার ধর্মপ্রীতি এত প্রবল যে, এ জন্য সে দুনিয়ার সব কিছু ত্যাগ করতে পারে।। আলিসা যখন বুঝলো, তার প্রেমিক তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে, তখন তার হৃদয়ে ভয়ের এক শিহরণ বয়ে গেল। তার মনে হলো, যে লোক ভালবাসার নামে প্রতারণা করতে পারে, সে লোক পারে না এমন কোন অপকর্ম নেই। এ ধরণের লোক কখনো বিশ্বস্ত হতে পারে না। এ লোক একবার তাকে কায়রো নিয়ে যেতে পারলে তার ভাগ্যে কি ঘটবে কল্পনা করে শিউরে উঠল আলিসা। সে শুধু নিজেই তাকে ভোগ করবে, অন্যের দ্বারা তাকে নষ্ট করবে না এর নিশ্চয়তা কি? যে লোক তাকে মিথ্যা কথা বলে ঘর থেকে বের করতে পারে সে লোক সাধ মিটে গেলে যদি তাকে অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেয় তাহলে কি করতে পারবে আলিসা? শিশুকাল থেকে মন-মগজে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ও খারাপ ধারণা জমা ছিল, সেই সব ভয়ংকর দৃশ্য আলিসার সামনে ভেসে উঠতে লাগল। প্রেমিকের বিরুদ্ধে বিষিয়ে উঠল তার মন। আলিসার মনে মুসলমান প্রেমিকের চেয়ে ধর্মের প্রতি ভালবাসা প্রবল হয়ে উঠল। রাতে তার প্রেমিক ঘুমিয়ে গেলে ঘৃণাভরে তাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে এল আলিসা। তার মনে তখন প্রতিশোধের দাউ দাউ আগুন। প্রতিশোধ স্পৃহায় তার চেহারা তখন ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। সে এ কথা একবারও ভাবল না, আক্রা ফিরে গেলে তার বাবা তার সাথে কেমন ব্যবহার করবে? ভাবল না, সেই বুড়ো অফিসার আবার হামলে পড়বে তাকে বিয়ে করার জন্য। তার মনে তখন একটাই চিন্তা, একটাই শপথ, যে করেই হোক মুসলমানদের অনিষ্ট করতে হবে। সর্বাবস্থায় তাদের শত্রু মনে করতে হবে। ইসলামকে ধ্বংস করার জন্য ক্রুশের নামে শপথ নিল সে। আলিসা ছিল খুব সাহসী ও চতুর মেয়ে। পালাবার ব্যাপারে সে এক নিখুঁত পরিকল্পনা তৈরী করল। রহিমকে তার মনোভাব কিছুই জানতে না দিয়ে সেও শুয়ে পড়ল তার সাথে। রহিম যখন গভীর ঘুমে মগ্ন তখন আলিসা ঘোড়ার ওপর আরোহন করে এমন চুপিসারে পালিয়ে আসে যে, রহিম তার কিছুই টের পায়নি। যে পথে গিয়েছিল সেই পথেই ফিরে এলো আলিসা। ভোর হওয়ার আগেই আক্রা এসে পৌঁছলো। বাবার কাছে গিয়ে সব অপরাধ স্বীকার করে রহিম সম্পর্কে সব কথা বলে দিলো তাকে। তার পিতা তখনই কমান্ডার ওয়েস্ট মেকর্ডকে এই ঘটনা জানালো। কমান্ডার তিনজন সৈন্য সাথে নিয়ে ঘোড়ার পিঠে চেপে বসল রহিমের সন্ধানে। সকালে ঘুম থেকে জেগে রহিম দেখে ঘোড়াসহ আলিসা উধাও। অগত্যা সে মরুভূমি থেকে লোকালয়ে পৌঁছার জন্য পায়ে হেঁটেই রওনা দিল। কিন্তু পায়ে হেঁটে সে আর কতদুর যাবে? মেকর্ড-এর হাতে অচিরেই ধরা পড়লো সে। এখন সেই প্রেমিক গোয়েন্দা আমাদের হাতে।’ ‘কিন্তু রহিম জানে না, আলিসা তাকে ধোঁকা দিয়েছে?’ ‘না। এ জন্যই আমি এখন আলিসাকে ব্যবহার করতে চাই। আমি রহিমকে খুব ভাল খাবার খেতে দেবো এবং আরাম আয়েসে রাখবো যাতে সে বিভ্রান্ত হয়।’ সেনানিবাসের অফিসার্স কোয়ার্টার। সকল চাকর-বাকর ও লোকজনের মুখে একই কথা, একজন মুসলিম গোয়েন্দা ধরা পড়েছে। রেজাউলও ফ্রান্সিস পরিচয়ে সেই চাকরদের সঙ্গে আছে। অন্যদের সাথে সেও সমান তালে মুসলিম গোয়েন্দাকে গালমন্দ করে যাচ্ছে। সে গালমন্দ করছে, আর জোরে জোরে চিৎকার করে বলছে, ‘এই গোয়েন্দাকে ফাঁসি দেয়া হোক। আর তা না হলে তাকে ঘোড়ার পিছনে বেঁধে ঘোড়া ছুটানো হোক।’ রেজাউল জানে রহিম এখনও সেই কামরাতেই আছে। রেজাউলের মত অন্যরাও বন্দীকে কয়েদখানায় পাঠানো হচ্ছে না দেখে আশ্চর্য হচ্ছিল। বাবুর্চীখানার এক লোক বললো, ‘কয়েদীকে আজ অফিসারের খাবার দেয়া হবে।’ যখন সে সত্যি সত্যি কয়েদীর জন্য অফিসারের খাবার নিয়ে গেলো তখন সকলেই একে অন্যের মুখের দিকে বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকাতে লাগলো। রেজাউলের বিস্ময় তখন চরমে। সে বাবুর্চীখানার লোককে এক সময় আড়ালে পেয়ে জিজ্ঞেস করে বসলো, ‘এর মানে কি? মুসলমান গোয়েন্দাকে এত জামাই আদর করা হচ্ছে কেন? যে খাবার আমাদের ভাগ্যে জুটে না সে খাবার দেয়া হচ্ছে কয়েদীকে!’ তবে কি এ লোক আসলে কোন গোয়েন্দা নয়?’ ‘কি বলছো তুমি! তুমি তো জানো না, এ বড় ভয়ংকর গোয়েন্দা!’ চাকর তার বিদ্যা জাহির করে বললো, ‘অফিসার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, আমি নিজে তার মুখ থেকে শুনেছি, এ কয়েদীকে কেবল ভাল খাবারই দেয়া হবে না, তার জন্য নাকি রুপসী কোন মেয়েও জোগাড় করা হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার পর সেই মেয়েকে তার কামরায় পাঠিয়ে দেয়া হবে।’ ‘বলো কি!’ চোখে মুখে চরম বিস্ময় ফুটিয়ে বললো রেজাউল। ‘হ্যাঁ, এই মেয়ে নাকি গোয়েন্দার পেট থেকে কথা বের করবে।’ বলল চাকর। রহিমের খাওয়া হয়ে গিয়েছিল। আলিসাকে নিয়ে তার কামরার দিকে এগিয়ে গেল অফিসার দু’জন। কামরার কাছে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল তারা। আলিসাও দাঁড়াল তাদের সাথে। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চাইল অফিসারদের দিকে। অফিসার আবারো তাকে ভাল করে বুঝিয়ে বলল, তাকে কি করতে হবে, বন্দীকে কি কি জিজ্ঞেস করতে হবে। তারপর তাকে ইশারা করল তাকে কামরায় প্রবেশ করার। আলিসা আলতো পায়ে কামরায় প্রবেশ করলো। আলিসাকে দেখেই চমকে উঠল রহিম। অধীর হয়ে উঠে দাঁড়ালো। ভাবলো, স্বপ্ন দেখছি না তো! ‘তুমি?’ সে আলিসাকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমাকেও কি গ্রেফতার করা আনা হয়েছে?’ ‘হ্যাঁ! গত রাতেই ওরা আমাকে বন্দী করে এখানে নিয়ে এসেছে।’ বললো আলিসা। ‘কিন্তু কেমন করে ওরা তোমাকে বন্দী করলো! আমি তো তোমার উধাও হওয়ার রহস্য কিছুতেই উদ্ধার করতে পারছিলাম না? তুমি পালিয়ে গেছো এটা যেমন মেনে নিতে পারছিলাম না, তেমনি তুমি গ্রেফতার হয়েছো এ কথাও কল্পনা করতে পারছিলাম না।’ ‘আমি কেমন করে পালাতে পারি!’ আলিসা বললো, ‘আমার তো বাঁচা মরা তোমার সাথে। তুমি ঘুমিয়ে যাওয়ার পরও আমার ঘুম আসছিল না তখন আমি উঠে একটু ঘুড়ে বেড়াচ্ছিলাম। জোসনা রাতে ঠান্ডা হাওয়ায় মরুভুমিতে হাঁটতে বেশ ভালই লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে একটু দূরে সরে এসেছি, হঠাৎ কে যেন পিছন থেকে আমার মুখ চেপে ধরলো। তার হাত থেকে ছুটার জন্য অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু কিছুতেই পারলাম না। চিৎকার করে তোমাকে ডাকতে চেষ্টা করলাম, কিন্তু তাও পারলাম না। .................. চলবে................. (বি:দ্র: কেমন লাগছে জানাবেন প্লিজ)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ক্রুসেড-০৯: উপকূলে সংঘর্ষ - আসাদ বিন হাফিজ
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৮ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৭ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৬ষ্ঠ পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৫ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৯ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১০ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১১শ পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৪র্থ পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ৩য় পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ২য় পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১ম পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১২শ পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১৩শ পর্ব
→ উপকূলে সংঘর্ষ ১৪শ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now