বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আল্লাহর গোলামীর চাইতে নিজের খাহেশ যাদের কাছে অধিক গুরুত্ব পায়, সে সুলতান হোক আর সেনাপতি, তারা সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর মত মর্দে মুজাহিদকে পছন্দ করবে না। এখানে এখন এই মানসিকতারই চাষ শুরু হয়েছে। আমাদের কয়েকজন সম্মানিত সামরিক অফিসার তাদের ঈমানী জযবা ও প্রেরণার জন্য বরখাস্ত হয়েছেন। আমার মত সেনাপতি, যারা খৃস্টানদের কখনও বন্ধু বলবে না, যারা মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত নূরুদ্দিন জঙ্গীর জ্বালিয়ে দেয়া জিহাদী আগুন বুকে ধরে রাখবে, বেশী দিন তারা এখানে টিকতে পারবে না।’
‘তবে কি আমি সুলতান আইয়ুবীকে গিয়ে বলবো, এখানকার সৈন্যরা আপনার সহযোগিতা করবে?’ আলী বিন সুফিয়ান প্রশ্ন করলেন।
‘অবশ্যই বলবে।’ তাওফিক জাওয়াদ উত্তর দিলেন, কিন্তু খলিফার গার্ড রেজিমেন্ট ও আমীরদের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত রক্ষীরা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে পারে। এই গ্রুপেও সৈন্য সংখ্যা কম নয়। জঙ্গীর ইন্তেকালের পর এই বাহিনীকে গৃহযুদ্ধের মোকাবেলা করার জন্য নানাভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
‘এখানে জনগণের মধ্যে জাতীয় চেতনাবোধ আশাব্যঞ্জক। আমরা এখানে এলে জনগণ আমাদের পক্ষে থাকবে বলেই আমার ধারণা।’ আলী বিন সুফিয়ান বললেন।
‘জাতি এত তাড়াতাড়ি অনুভূতিহীন হতে পারে না।’ তাওফিক জাওয়াদ বললো, ‘যে জাতি তার জোয়ান সন্তানকে শহীদ হতে দেখেছে, তারা শত্রুকে কখনও ক্ষমা করবে না। আর যে সৈন্যরা শত্রুর সাথে শক্তি পরীক্ষা করেছে তাদেরকে এত তাড়াতাড়ি ঠান্ডাও করা যাবে না।’
‘কিন্তু প্রশাসনের কাছে এমন লোভনীয় বস্তু আছে, যা জাতি ও সেনাবাহিনীকে নিস্প্রাণ এবং অনুভূতিহীন করে দিতে পারে।’ বললেন আলী।
‘ঠিকই বলেছেন আপনি। প্রশাসন এখন জাতি ও সৈন্য বাহিনীর মধ্যে ফাটল সৃষ্টি করছে। জাতির কাছে সামরিক বাহিনীকে খাটো করা হচ্ছে।’
‘আমি মুহতারাম নূরুদ্দিন জঙ্গীর বিধবা স্ত্রীর সাথে দেখা করতে চাই।’ আলী বিন সুফিয়ান বললেন। ‘তিনি খলিফার মাতাও। তিনি সুলতান আইয়ুবীকে দূত মারফত চিঠি পাঠিয়েছিলেন এই কথা লিখে যে, তিনি যেন ইসলামের সম্মান রক্ষা করেন। তাঁকে এখানে ডাকা কি সম্ভব?’
‘গতকালই তার সঙ্গে কথা হয়েছে।’ তাওফিক জাওয়াদ বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি এখানে ডেকে আনতে পারি, তোমার নাম শুনলে জলদি চলে আসবেন।’
তাওফিক জাওয়াদ তার চাকরানীকে ডেকে বললেন, ‘এখনি খলিফার মাতার কাছে যাও, তাকে আমাদের সালাম দিয়ে চুপি চুপি বলবে, কায়রো থেকে মেহমান এসেছেন। ওনার জন্য তিনি আমার এখানে অপেক্ষা করছেন।’
o
যখন আলী বিন সুফিয়ান তাওফিক জাওয়াদের সাথে আলাপ করছিলেন, তখনো তার তাবুতে আলো জ্বলছিল। অনেক রাত। খরিদ্দারের ভীড় কমতেই অনেক দেরী হয়েছিল। আলী বিন সুফিয়ানের সঙ্গীরা দীর্ঘ সফর শেষে ছিল ক্লান্ত। তারা বাজার থেকে দুম্বা ও বকরী কিনে এনে সেগুলো ভুনা করে খাচ্ছিল।
মেয়েরা ছিল আলাদা তাবুতে। খৃস্টান পাঁচ গোয়েন্দা আলী বিন সুফিয়ানের সঙ্গীদের সাথেই একত্রে খানা খাচ্ছিল। তারা তাদের শরাবের পাত্র বের করলো যাতে আহারের মজলিশ আলোকিত হয়ে উঠে। তারা যখন শরাবের পিয়ালা সবার সামনে রাখলো, সবাই তা গ্রহন করতে অস্বীকার করলো। তাতে খৃস্টানরা খুবই অবাক হলো। আলী বিন সুফিয়ান তাদের বলেছিলেন, তাঁর সাথীদের মধ্যে মুসলমানও আছে, খৃস্টানও আছে। যারা মুসলমান তারা আবার ফেদাইন গ্রুপের গুপ্তঘাতক। ফেদাইন মানে, হাসান বিন সাব্বাহর দলের লোক, এরাতো শরাবকে হারাম জানে না।
খৃস্টানদের মনে প্রবল সন্দেহ দানা বেঁধে উঠলো, কারণ তারাও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গোয়েন্দা। তারা দু’চারটি এমন নমুনা দেখতে পেলো, যার দরুণ তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলো। তারা একে একে সেখান থেকে এমনভাবে উঠে যেতে লাগলো, যেন তাদের তাবুতে শুতে যাচ্ছে।
তারা মেয়েদের তাবুতে ঢুকে তাদের সন্দেহের কথা বললো। বললো, ‘এদের আসল পরিচয় বের করতে হবে। এরা কেউ খৃস্টান নয়। কিন্তু কারা এরা?’
মেয়েরা তাদের শান্তনা দিয়ে বললো, ‘ঠিক আছে, এ দায়িত্ব আমাদের ওপর ছেড়ে দাও। পুরুষের পেট থেকে কথা বের করার যে ট্রেনিং এতদিন পেয়েছি, দেখি তা কতটুকু কাজ দেয়। কৌশলে কথা আদায় করা কোন ব্যাপারই না। একটু অপেক্ষা করো, কিছুক্ষণের মধ্যেই জানতে পারবে, এরা আসলে কারা?’
খৃস্টান গোয়েন্দারা চলে গেল নিজ নিজ তাবুতে। এক মেয়ে বেরিয়ে এলো তাবু থেকে। সে মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে লাগল। কমান্ডোদের কেউ কেউ তাকে দেখেই অন্য দিকে সরে গেল। অনেকক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরে ফিরে মেয়েটি এমন জায়গায় গিয়ে বসলো, যে জায়গাটা নির্জন কিন্তু তাবু থেকে কেউ বাইরে এলে ঠিকই তাকে দেখতে পায়।
অনেক রাত পর্যন্ত মেয়েটি একাকী সেখানে বসে রইল। গভীর রাত। আলী বিন সুফিয়ানের এক পাহারাদার তার কাছে গিয়ে বললো, ‘এতো রাতে আপনার একাকী বাইরে থাকা ঠিক না। তাবুতে গিয়ে শুয়ে পড়ুন।’
মেয়েটি উঠে আড়মোড় ভেঙে বললো, ‘কিছুতেই ঘুম আসছে না। তাবুতে থাকতে থাকতে মনটা অস্থির হয়ে গেছে। বার বার কেবল তার কথাই মনে পড়ছে। আপনার অসুবিধা হলে আমি দূরে গিয়ে বসি।’
‘না, না, আমার কোন অসুবিধা হচ্ছে না।’
‘না, দূরে গিয়ে বসাই ভালো, নইলে আবার কার না কার নজরে পড়ে যাই।’ মেয়েটি এই বলে হেঁটে তাবু থেকে দূরে সরে যেতে লাগলো।
পুরুষ মানুষকে আঙ্গুলের ওপর নাচাতে পারে এমন ট্রেনিং দিয়েই পাঠানো হয়েছিল তাদের। মেয়েটি একাকী হেঁটে দূরে চলে যাচ্ছে দেখে পাহারাদার প্রথমে একটু ইতস্তত করলো, তারপর তার কন বিপদ হতে পারে ভেবে তার পিছু নিল। হাঁটতে হাঁটতে তাবু থেকে বেশ দূরে চলে এলো তারা। মেয়েটি পেছন ফিরে পাহারাদারকে বললো, ‘আপনি আবার কোথায় যাচ্ছেন?’
‘না, মানে, আপনার কোন বিপদ হয় কিনা ভেবে আপনার পিছু নিয়েছি।’
‘বিপদের কথা বলছো! বিপদ তো আমাদের তাবুর ভেতর। আমাদের সঙ্গী পুরুষগুলো একেকটা বদের হাড্ডি। ওদের খাই খাই আর মেটে না। ওদের জ্বালা সইতে না পেরেই তো তাবু থেকে বেরিয়ে এসেছি।’
‘এ কথা আগে বলোনি কেন? চলো, এখন থেকে আমরা দৃষ্টি রাখবো যেন ওরা তোমাদের আর জ্বালাতন করতে না পারে।’
মেয়েটি তার সাথে ফিরে চললো। হাঁটতে হাঁটতে বললো, ‘আজ বুঝি রাত জাগার ডিউটি পড়েছে তোমার?’
‘হ্যাঁ।’ বললো পাহারাদার।
‘এক কাজ করো, আমার তাবুতে চলে এসো তুমি। তাহলে ঐ শয়তানরাও আসার সাহস পাবে না, আবার তোমারও ঘুমিয়ে পড়ার ভয় থাকবে না। গল্প করে বেশ সময় কাটিয়ে দেয়া যাবে।’
পাহারাদার এ কথার কোন জবাব দিল না।
চুপচাপ আরো কিছু পথ এগিয়ে এলো ওরা। মেয়েটি পাহারাদারের একদম পাশ ঘেঁষে চলতে চলতে বললো, ‘কি ব্যাপার, আমার কথায় মন খারাপ করলে? জবাব দিলে না যে।’
মেয়েটি এমন অভিনয় শুরু করলো, লোকটি শেষ পর্যন্ত তার অভিনয়ে গলে গেল। তাবুর কাছে এসে মেয়েটি আবার বললো, ‘এসো, ভেতরে এসো।’
মেয়েটির পীড়াপীড়িতে অনেকটা ভদ্রতার খাতিরে সে মেয়েটির তাবুতে প্রবেশ করলো।
তাবুতে ছোট একটি প্রদীপ জ্বলছিল। সেই আলোতে ওরা পরস্পরকে ভাল করে দেখলো। মেয়েটি আবেগমাখা কন্ঠে আকর্ষনীয় হাসি হেসে বললো, ‘বাহ! তুমি তো বেশ সুপুরুষ হে! আমাকে তুমি সয়তানের হাত থেকে আগলে রাখতে পারবে বলেই মনে হয়। কি বলো, পারবে না?’
মেয়েটির অনিন্দ্য রূপের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো পাহারাদার। মেয়েটি শরাবের ছোট একটি পাত্র উঠিয়ে বললো, সামান্য একটু পান করবে?’
‘না!’
‘কেন?’
‘আমি মুসলমান!’
‘যদি এত জোরের মুসলমান হও তবে খৃস্টানদের পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করতে এসেছো কেন?’
লোকটি চমকে উঠলো। সতর্ক হয়ে বললো, ‘তার মূল্য আমরা পেয়ে থাকি।’
মেয়েটি যেমন সুন্দরী তেমনি চতুর। তার মদির কটাক্ষ আর চটুল বাক্যবাণে লোকটি ক্রমেই বশিভূত হতে লাগলো। মেয়েটি তাকে বললো, ‘আচ্ছা, শরাব পান না করো, শরবত তো পান করবে?’
সে পাশের তাবু থেকে এক গ্লাস শরবত নিয়ে এলো। লোকটি গ্লাস হাতে নিয়ে মুখে লাগালো, কিন্তু চুমুক না দিয়েই গ্লাসটি আবার নিচে নামিয়ে হেসে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলো, ‘এতে কি পরিমাণ হাশিশ মিশিয়েছো?’
মেয়েটিও চমকে উঠলো এবার। তবে কি ও বুঝে ফেলেছে তার চালাকি? দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে সংযত কন্ঠে বললো, ‘বেশি না, সামান্যই।’ তারপর একটু বিরতি দিয়ে তার দিকে কটাক্ষ হেনে চটুল কন্ঠে বললো, ‘যতটুকু দিলে তুমি কিছুক্ষণ আত্মহারা হয়ে থাকবে।’
‘কেন?’
‘কারণ আমি তোমাকে পেতে চাই। তুমি কি বুঝো না কতটা উতলা হলে কোন যুবতী তাবু ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে?’
‘তবে যে বললে তোমার সঙ্গীরা তোমাকে বিরক্ত করছে?’
‘ও কথা না বললে তুমি কি আসতে আমার তাবুতে? প্লিজ, হয় আমাকে গ্রহন করো, নইলে তোমার খঞ্জর আমার বুকে আমূল বসিয়ে দাও।’ মেয়েটি আবেগভরা কন্ঠে বলতে লাগলো, ‘আমি দিনের বেলাতেই তোমাকে দেখে অভিভূত হয়েছিলাম। মনে মনে ভাবছিলাম, কি করে তোমাকে পাওয়া যায়। রাতে তোমার ডিউটি পড়ায় আমার মনে হলো, আল্লাহ আমার গোপন ইচ্ছা সফল করার জন্যই এ ব্যবস্থা করেছে। আমি তোয়াকে ডিউটিতে দেখেই তাবু থেকে বের হয়ে তোমার চোখের সামনে দিয়ে ঘোরাফিরা করতে লাগলাম। তুমি যখন আমার সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলে তখন গভীর দৃষ্টিতে আমি দেখছিলাম তোমাকে। মনে হচ্ছিল, যুগ যুগ ধরে আমরা পরিচিত। আমরা দু’জন বহু কাল ধরে একে অপরের ঘনিষ্ট হয়ে বেঁচে আছি। তোমাকে আমি ভালবেসে ফেলেছি প্রাণ। তুমি তো দেখেছো, আমি তোমাকে শরাব সাধলেও নিজের জন্য নেইনি। কারণ শরাব আমি পান করি না, আমি যে মুসলমান।’
পাহারাদার অবাক হয়ে বললো, ‘তুমি এই কাফেরদের খপ্পরে কেমন করে পড়লে?’
‘বারো বছর ধরে আমি এদের সাথে আছি।’ মেয়েটি উত্তর দিল। ‘আমি জেরুসালেমের বাসিন্দা! সে সময় আমার বয়স বারো বছর। বাবা আমাকে এদের কাছে বেঁচে দিলেন। আমার জানা ছিল না আমার ক্রেতা খৃস্টান। তারাই আমাকে এ পথে নামিয়েছে। কোন উপায় নেই বলেই আমি এদের সাথে এখানে এসেছি।
দামেস্ক ও বাগদাদ আমার স্বপ্নের শহর। জীবনে বহু বার নাম শুনেছি এসব শহরের, শুনেছি এর শানশওকতের কথা। মুসলিম রাজত্বের প্রাণকেন্দ্র এ শহর! কত আশা ছিল তা দেখার! এখানে আসার পর মনে হচ্ছে আমি বারবার আমার ভাই-বোন আত্মীয়দের মাঝে ফিরে এসেছি। এ মাটিতে পা দিতেই এর আকাশ, বাতাস, মাটি আমার মনে জাগিয়ে দিল ধর্মের সেই পুণ্য স্মৃতি, আমি এক মুসললমান। মুসলমান হয়ে মুসলমানের ধ্বংশের জন্য আমি কি করে কাজ করি বলতো!’
আবেগে কেঁদে ফেললো মেয়েটি। গাঢ় স্বরে বললো, ‘আমার মন কাঁদছে! প্রাণ কাঁদছে!’
হঠাৎ সে যুবকের হাত চেপে ধরে বললো, ‘তুমি না মুসলমান! এ কাজ করতে তোমার বিবেকে বাঁধে না?’ তারপর গলার স্বর নামিয়ে বললো, ‘চলো আমরা দু’জন পালিয়ে যাই। তুমি আমাকে যেখানে নিয়ে যাও, আমি সেখানেই যাবো। যদি মরুভূমিতেও নিয়ে বেড়াও, আমি খুশি মনেই তোমার সাথে থাকবো। নিজের জাতিকে এভাবে ধোকা দেয়ার পাপ থেকে তুমিও বাঁচো, আমাকেও বাঁচাও। আমার কাছে সোনার অনেক মোহর আছে, সে মোহর ভেঙে খেলেও আমাদের চলে যাবে বহুদিন।’
আলী বিন সুফিয়ানের এই কমান্ডো খুবই হুশিয়ার ছিল। সে হুশিয়ার ছিল বলেই হাশিশ মেশানো শরবত পান করেনী, হাশিশের গন্ধ সে ভালমতই চিনতে পেরেছিল। কিন্তু তারপরও সে মেয়েটির ছলাকলার প্রভাব এড়াতে পারলো না।
সে মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমরা এখানে কি করতে এসেছো?’
এ প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি যখন কথা বলা শুরু করলো, তখন দেখা গেলো আলীর লোকটির চেহারা বার বার পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। মেয়েটির কথার বিষ মেশানো যাদু ততক্ষণে ঘায়েল করে ফেলেছে যুবককে। কিন্তু অনড় বিশ্বাস ও প্রবল দায়িত্ববোধ থাকায় সে বললো, ‘আমি তোমাকে আশ্বাস দিচ্ছি, তোমরা এখানে মুসলমানদের ধোকা দিতে পারবে না। আর যদি তুমি মনেপ্রাণে সততা নিয়ে এই অপকর্ম থেকে বিরত হও, তবে তুমি সৌভাগ্যবতী। আমি কথা দিচ্ছি, সত্য ও সুন্দরের পথে ফিরে এলে তুমি আমার সাথেই থাকবে।’
মেয়েটি আবেগ ও আনন্দের আতিশয্যে তাকে জড়িয়ে ধরলো। লোকটি বললো, ‘আমি আমার কমান্ডারকে বলবো, তোমাকে যেন অন্য মেয়েদের থেকে পৃথক রাখেন আর কোন আমীরের হাতে তুলে না দেন।’
মেয়েটি আনন্দে অধীর হয়ে তার হাতে চুমো খেলো। এ আনন্দ যেমন তার অভিনয় ছিল, তেমনি আলী বিন সুফিয়ানের এত সতর্ক গোয়েন্দাকে এমন চমৎকারভাবে ধোকা দিতে পারার সাফল্যের জন্যও তার আনন্দ হচ্ছিল।
‘একটু থামো।’ মেয়েটি তাকে বললো, ‘আমি দেখে আসি আমার সঙ্গীরা শুয়ে পড়লো কিনা!’
সে তাবু থেকে বের হয়ে গেল।
o
আলী বিন সুফিয়ান সেনাপতি তাওফীক জাওয়াদের কামরায় বসে নূরুদ্দিন জঙ্গীর বিধবা স্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
ইসলামের মহান মুজাহিদের বিধবা স্ত্রী দূত মারফত তার মনের কথা সমস্তই সুলতান আইয়ুবীর কাছে লিখে জানিয়েছিলেন। তবুও তাঁর সঙ্গে দেখা করে চিঠিতে লেখা যায়না এমন কোন উপদেশ ও তথ্য থাকলে তা জেনে নেয়া প্রয়োজন।
একটু পরেই সেই সম্মানিতা মহিলা সেখানে এলেন। কিন্তু ছদ্মবেশের কারণে আলী বিন সুফিয়ানকে চিনতে পারলেন না। তাওফীক জাওয়াদ পরিচয় করিয়ে দিতেই অশ্রুতে দু’চোখে ভাসিয়ে তিনি বললেন, ‘হায়! এও আমার ভাগ্যে লিখা ছিল, আপন লোকেরা আজ গোপনে ও ছদ্মবেশে দেখা
..............চলবে............
(বি:দ্র: কেমন লাগলো জানাবেন প্লিজ)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now