বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
‘আপনি কি খেলাফতের বিরুদ্ধে অভিযান
চালাতে চান?’ এক সেনাপতি প্রশ্ন করলো ।
‘এখনও সে সিদ্ধান্ত নেয়নি ।’ সুলতান
আইয়ুবী বললেন, ‘আগামী দু’এক দিনের
মধ্যেই আমার দূত বিভিন্ন রাজ্যগুলো থেকে
ঘুরে আসবে । সালতানাতের অধীন সব
আমীরের কাছেই দূত পাঠিয়েছি আমি ।
ওরা এলেই বুঝবো, আমাদের যুদ্ধের ঝুঁকি
নিতে হবে কিনা ।’
‘আপনি মিশরকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা
করুন ।’ এক অফিসার বললো, ‘আমরা এগারো
বছরের শিশুকে খলিফা মেনে নিতে পারি
না ।’
‘তবে কি তোমরা আমাকে আমাকে
মিশরের সুলতান মেনে নিচ্ছো?’ আইয়ুবী
জিজ্ঞেস করলেন ।
উপস্থিত সকলে সমস্বরে বলে উঠলো, ‘আমরা
আপনাকে মিশরের সুলতান মেনে নিলাম।
আপনার প্রতিটি সিদ্ধান্তে আপনার পাশে
থাকার ওয়াদা করলাম ।’
সে অনুষ্ঠানেই সালাহউদ্দিন আইয়ুবী
মিশরকে স্বাধীন রাষ্ট্র এবং নিজেকে
সুলতান বলে ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন,
‘আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আমি ওয়াদা
করছি, যতদিন মিশরের জনগণ আমাকে
ইসলামের খাদেম মনে করে কেবল
ইসলামের জন্যই আমার আনুগত্য করবে
ততদিন আমি তাদেরকে আল্লাহর দ্বীন ও
রাসূলের সুন্নাহ অনুযায়ী পরিচালনা করে
যাবো। আমি কোনদিন নিজেকে বাদশাহ
মনে করিনি, এখনো করি না, আর কোনদিন
যেন ক্ষমতার মোহ আমাকে পেয়ে না বসে
সে জন্য আল্লাহর কাছে মদদ চাই । আমার
প্রতিটি পদক্ষেপ যেন ইসলামের মঙ্গলের
জন্য হয় এ ব্যাপারে আমি আপনাদের
সার্বিক সহযোগিতা চাই ।’
সুলতান আইয়ুবী আরো বললেন, ‘আমি খৃস্টান
বাহিনীর বিশালতা দেখে ভয় পাই না।
দশজন জানবাজ মুজাহিদ নিয়ে দশ হাজার
শত্রুর মোকাবেলা করতে আমার বুকে
বিন্দুমাত্র কাপন জাগবে না । কিন্তু আমার
ভাইদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কথা যখন চিন্তা
করি তখন যুদ্ধের সমস্ত কৌশল আমার মাথা
থেকে হারিয়ে যায়। আমার তলোয়ার খাপ
খাপ থেকে মুক্ত হতে চায় না। আফসোস!
আমাদেরকে আজ ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই
করার কথা চিন্তা করতে হচ্ছে। আমরা
নিজেদের মধ্যে যুদ্ধে লিপ্ত থাকবো আর
খৃস্টানরা তামাশা দেখবে, এরচে বদনসীব
আমাদের জন্য আর কি হতে পারে !’
‘যতই দুঃসহ হোক, এ পথে আমাদের পা
বাড়াতেই হবে সুলতান ।’ একজন সেনাপতি
বললেন, ‘যখন কথার প্রভাব বা উপদেশে
কাজ হয় না, তখন শক্তি প্রয়োগ করতেই হয়।
ইসলামের ঘরে যদি আপন ভাইও আগুন দিতে
আসে, তাকে প্রতিহত না করলে সে ঘর
তেমনি পুড়বে, যেমন পুড়তো শত্রু আগুন
দিলে। আপনি জানেন, আমাদের মধ্যে কেউ
খেলাফতের গদীর লালসা করে না। আমরা
যা কিছু করবো তা ইসলামের জন্যই করবো,
নিজের স্বার্থে নয় ।’
o
সুলতান আইয়ুবী দামেস্ক, হলব, মুসালে এবং
আরো যে সব জায়গায় দূত পাঠিয়েছিলেন,
সকলেই ফিরে এলো। সুলতানের
সতর্কবানীকে কোন আমীরই আমল দেয়নি,
কেউ গ্রহন করেনি তাঁর পয়গাম । কেউ কেউ
তামাশা করেছে, কেউবা করেছে উপহাস ।
দামেস্কের দূত জানালো, খলিফা আপনার
পয়গাম পড়েও দেখেননি । যাদের হাতের
তিনি পুতুলমাত্র, যারা তাকে খলিফা
নিযুক্ত করেছে এবং গদীতে বসিয়েছে, সেই
আমীররা আপনার পয়গাম পড়ে হাসাহাসি
করেছে, কানাঘুষা করেছে ।
একজন বলেছে, সালাহউদ্দিন আইয়ুবী
খৃস্টানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বাহানা করে
সমস্ত মুসলিম রাজ্যগুলোকে নিয়ে অখণ্ড
সাম্রাজ্য গড়ার স্বপ্ন দেখছে। আর তা সফল
হলে তিনিই হবেন সেই বিশাল
সাম্রাজ্যের অধিপতি।
অন্য এক আমীর এগারো বছরের খলিফাকে
আপনার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য
বলেন, ‘আপনি আইয়ুবীকে জানিয়ে দিন, যুদ্ধ
করা ও না করার এখতিয়ার শুধু খলিফার
উপরই ন্যাস্ত। যদি আইয়ুবী আপনার আদেশ
অমান্য করে, তবে আপনি তাকে বরখাস্ত
করে মিশরের শাসনভার অন্য কারো হাতে
অর্পণ করুন ।’
বালক খলিফা দূতকে এই আদেশই দিলেন আর
বললেন, ‘সালাহউদ্দিন আইয়ুবীকে বলবেন,
তিনি যেন আমার পরবর্তী আদেশের
অপেক্ষা করেন। ইসলামী ঐক্যের প্রয়োজন
আছে কি নেই এবং সালতানাতের
প্রয়োজনে এখন কি করা দরকার সে চিন্তা
আমি করবো ।’
সালাহউদ্দিন আইয়ুবীর সেনাবাহিনীতে
মরহুম জঙ্গীর প্রেরিত অনেক সৈন্য ছিল ।
এক আমীর সে কথা স্মরণ করিয়ে খলিফাকে
বললো, ‘তাঁকে আদেশ করুন, তিনি যেন
আমাদের সব সৈন্য পাঠিয়ে দেন । খলিফার
হুকুম ছাড়া ইচ্ছামত সেনাবাহিনী ব্যবহার
করার অনুমতি নেই কোন রাজয়ের ।’
খলিফা দূতকে বললো, ‘খেলাফতের তরফ
থেকে যে সব সৈন্য আইয়ুবীর কাছে
পাঠানো হয়েছিল সেগুলো তাকে ফেরত
পাঠিয়ে দিতে বলবে ।’
দূত খলিফার দরবার থেকে বেরিয়ে আসতে
যাবে এমন সময় অন্য এক আমীর বললো, ‘আর
শোন, আইয়ুবীকে বলবে, আগামীতে
খলিফার কাছে এ ধরণের কোন প্রস্তাব
পাঠানোর যেন সাহস না করে ।’
দূতরা নিরাশ হয়ে ফিরে এসেছে, তাতে
সুলতান আইয়ুবীর চেহারায় কোনই ভাবান্তর
দেখা গেল না । তিনি আলী বিন
সুফিয়ানের ফিরে আসার অপেক্ষা করতে
লাগলেন। আলীকে তিনি গোপনে দামেস্ক
পাঠিয়েছিলেন।
সুলতানের গোয়েন্দারা বণিকের বেশে
কাফেলা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল বিভিন্ন
রাজ্যে । আলীর মতো তারাও অনেকে
ফিরে আসেনি । সুলতান তাদেরও ফিরে
আসার প্রতীক্ষা করছিলেন।
সুলতান আইয়ুবীর বিস্বয়কর সাফল্যের গোপন
রহস্য ছিল, তিনি কখনো অন্ধকারে পথ
চলতেন না। কোথাও যাওয়ার দরকার হলে
গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে সেখানকার
অবস্থা ও পরিস্থিতি, অসুবিধা ও ভীতির
কারণগুলো আগেই জেনে নিতেন । তার
গোয়েন্দা বিভাগও ছিল একটু
ব্যতিক্রমধর্মী । তারা যেমন ছিল বিশ্বস্ত
তেমনি ছিল চৌকস । তাদের কেবল
গোয়েন্দাগিরিই শেখানো হতো না, বরং
ছদ্মবেশ ও অভিনয়ে তারা যেমন নিপূণ হতো
তেমনি গেরিলা যুদ্ধ বা কমান্ডো
লড়াইয়েও হতো অসম্ভব পারদর্শী । এ জন্য
তাদেরকে বলা হতো লড়াকু গোয়েন্দা ।
খালি হাতের যুদ্ধেও তারা ছিল খুবই দক্ষ ।
আলী বিন সুফিয়ানকে আল্লাহ
গোয়েন্দাগিরি ও তথ্য অনুসন্ধানের নৈপূণ্য
দিয়েই সৃষ্টি করেছিলেন । সুলতানের
নির্দেশে তিনি যখন তার বাহিনী নিয়ে
বেরিয়ে পড়েন তখন বাহিনীকে তিনি
বললেন, ‘অন্যান্য বারের চাইতেও এবার
তোমাদের বেশী সতর্ক থাকতে হবে,
নির্ভুল তথ্য আনতে হবে । তোমাদের দেয়া
রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এবার সুলতান
যে পদক্ষেপ নেবেন তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
ইসলামের স্থায়িত্বের জন্য এই অভিযানের
সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভর করবে তোমাদের
সঠিক তথ্যের ওপর ।’
o
আলী বিন সুফিয়ান কায়রো থেকে রওনা
হচ্ছেন । যাওয়ার সময় কমান্ডো অভিযানে
দক্ষ একশো লোককে বাছাই করলেন তিনি ।
তাদের বললেন, ‘ইসলামের সম্মান রক্ষার্থে
নিজেদের জান কোরবান করার জন্য বাছাই
করা হয়েছে তোমাদের ।’
তিনি সেই একশো গোয়েন্দাকে ব্যবসায়ীর
পোষাকে সজ্জিত করলেন । আলী বিন
সুফিয়ান নিজে এক বুড়ো ব্যবসায়ীর
ছদ্মবেশে কাফেলার সরদার সাজলেন ।
এই বানিজ্য মিশন উটের ওপর বিভিন্ন
প্রকার পণ্য ও সরঞ্জাম বোঝাই করলো ।
এসব পণ্যসামগ্রী দামেস্ক ও অন্যান্য
বাজারে বিক্রি করে তার পরিবর্তে
সেখান থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয়
করবে । মাল সামান নেয়ার জন্য সঙ্গে নিল
অনেক উট ও ঘোড়া । এসব সরঞ্জামের মধ্যে
গোপনে লুকিয়ে রাখলো অস্ত্রশস্ত্র,
তলোয়ার, বর্শা ইত্যাদি । এমনকি বারুদ
এবং আগুন ধরানোর যন্ত্রও । এই কাফেলা
গভীর রাতে কায়রো থেকে রওনা হলো এবং
সূর্য উঠার আগেই কায়রো থেকে বহু দূরে
চলে গেল ।
পথে একবার সামান্য বিশ্রাম নিয়েই
কাফেলা আবার রওনা হলো । আলী বিন
সুফিয়ানের ইচ্ছা খুব তাড়াতাড়ি মঞ্জিলে
পৌছা । সারাদিন একটানা পথ চললো
কাফেলা । সূর্য ডুবে গেল, তবুও তিনি
থামলেন না । ক্রমে রাত বাড়তে লাগল,
কাফেলা তবু এগিয়েই চলেছে । শেষে অনেক
রাতে কাফেলাকে থামতে বললেন তিনি ।
জায়গাটি চমৎকার । শস্য-শ্যামল অঞ্চল ।
বুঝা যায়, এখানে পানির কোন অভাব নেই ।
একটু দূর থেকে শুরু হয়েছে উঁচু নিচু পাহাড় ও
পার্বত্য এলাকা । কাফেলা বিশ্রামের
জন্য এখানেই অবস্থান নিলো ।
কাফেলার সবাই বণিকের বেশে থাকলেও
আসলে তো সকলেই সৈনিক । তাই তাদের
চলাফেরায় ছিল ডিসিপ্লিন । ছিল
সৈনিকসুলভ সাবধানতাও । উট এবং
ঘোড়াগুলোও ছিল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত । মনে
হলো তারাও সজাগ, সতর্ক ।
আলী বিন সুফিয়ান পাহাড়ের কোল বা
টিলার দিকে না গিয়ে বাইরে খোলা
মাঠেই ক্যাম্প করলেন । সামরিক কৌশল ও
নিয়ম অনুসারে দু’জনকে পাঠানো হলো
পানির অনুসন্ধানে । বিশ্রামের জন্য
থামলেও কেউ অস্ত্র ত্যাগ করলো না, কারণ
সে সময় সফরে দু’ধরনের ভয় দেখা দিত ।
একদিকে মরুভূমির বেদুঈন ডাকাতদের ভয়,
অন্যদিকে খৃস্টান লুটেরা বাহিনীর
আক্রমণের ভয় । মোটের ওপর এরাও ডাকাতই
ছিল, তবে তারা শুধু মুসলমান কাফেলায়
ডাকাতি করতো ।
দুই সঙ্গী পানির উৎস খুঁজতে খুঁজতে বেশ দূরে
চলে গেল । এক টিলার ওপর দাঁড়িয়ে সামনে
তাকাতেই তাদের নজরে পড়লো মশালের
আলো । দূর থেকে আলো লক্ষ্য করে তাঁরা
সেদিকে আরও একটু এগিয়ে গেল । শেষে
কাছাকাছি এক টিলার ওপর দাঁড়িয়ে দৃষ্টি
ফেললো নিচে । জায়গাটি খুবই সুন্দর, দৃষ্টি
নন্দন । সমতল ভূমিতে শস্য ক্ষেত ও খেজুরের
বাগান । সেখানে পানিও আছে ।
পানির কুপ থেকে সামান্য দূরে দু’টি মশাল
আলো ছড়াচ্ছে । সেই আলোতে দেখা গেল,
সাতজন পুরুষ ও চারজন মেয়ে আগুন জ্বালিয়ে
বসে বসে সে আগুনে মাংস ঝলসে খাচ্ছে ।
মাঝে মাঝে পাশ থেকে পেয়ালা তুলে চুমুক
দিচ্ছে তাতে, মনে হয়, শরাব পান করছে ।
একটু দূরে ঘোড়া ও তিন চারটি উট বাঁধা ।
তাদের পাশে স্তুপ হয়ে আছে জিনিসপত্র ।
আলী বিন সুফিয়ানের দুই সঙ্গী অতি
সংগোপনে পা টিপে টিপে চলে এলো
তাদের কাছাকাছি । অন্ধকারে গা ঢাকা
দিয়ে শুনতে লাগলো ওদের কথাবার্তা ।
রাতের নিস্তদ্ধতার কারণে ওদের
কথাবার্তা স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল এবং
বুঝাও যাচ্ছিল।
মেয়েদের নির্লিজ্জ হাসি ঠাট্টাই বলে
দিল, তারা মুসলমান নয় । তাদের সব কথাই
ছিল রঙ্গ তামাশা ও হাসি ঠাট্টার । লোক
দু’জন আর দাঁড়ালো না, ফিরে এসে আলী
বিন সুফিয়ানকে খুলে বললো সব কথা ।
আলী বিন সুফিয়ান কালবিলম্ব না করে
সেখানে ছুটে গেলেন এবং খুব কাছ থেকে
তাদের দেখলেন । লোকগুলোর ভাষা
স্থানীয় আরবদের মত ছিল না । তাদের
ভাষার টান থেকেই আলী বুঝতে পারলেন,
এরা খৃস্টান।
আলী বিন সুফিয়ান একবার চিন্তা করলেন
এদের সামনে গিয়ে হাজির হবেন কিনা,
জিজ্ঞেস করবেন কিনা ওরা কারা,
কোথেকে এসেছে এবং কোথায় যাচ্ছে?
তার সাথে আছে একশো লড়াকু সৈনিক, ওরা
মাত্র এগারোজন, অতএব ভয়ের কোন
আশংকা নেই।
তিনি টিলার উপর এক ঝোপের আড়ালে বসে
তাদের গতিবিধি গভীরভাবে লক্ষ্য করতে
লাগলেন। হঠাৎ তাঁর সন্দেহ হলো, এরা
খৃস্টান গোয়েন্দা নয়তো! কোন মুসলিম
রাষ্ট্রে নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে
যাচ্ছে নাতো এরা?
তিনি লোকগুলোর আরও কাছে যাওয়ার জন্য
বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন, হঠাত নিচের
দিকে টিলার গোড়ায় দু’জন লোককে দেখে
ভূত দেখার মত চমকে উঠলেন তিনি। লোক
দু’জন তাঁর ঠিক বরাবর নিচে দাঁড়িয়ে আছে।
তাদের মাথা ও মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা।
টিলার গোড়ায় ওরা মেয়েদের দিকে
গভীরভাবে তাকিয়ে আছে।
মুখোশধারী লোক দু’জন ছিল মরুভূমির
ডাকাত। তাদের দৃষ্টি মেয়েদের দিকে।
আলীর কাছ থেকে খুব বেশী দূরে নয় ওরা।
ফিসফিস করে কথে বলছে নিজেদের মধ্যে।
আলী কান পাতলো।
‘তাদের কাছে অস্ত্রশস্ত্র আছে মনে হয়।’
‘হ্যাঁ!’ অন্যজন বললো, ‘আমি তাদের
তলোয়ার দেখেছি। মনে হয় এরা সবাই
খৃস্টান।’
‘খৃস্টান হোক আর যে-ই হোক, এরা কোন
সাধারণ অভিযাত্রী নয়।’
‘ঠিক আছে, আগে ওদের শুয়ে পড়তে দাও।
পরে দেখবো এরা কতটা অসাধারণ।’
‘তা ঠিক, শুয়ে পড়ার পর এদের পাকড়াও করা
কোন ব্যাপারই না।’
‘আরে! পাকড়াও করার দরকার কি? ঘুমানোর
প ওদের শেষ করে মেয়েদের ঘোড়ার পিঠে
উঠিয়ে নেবো।’
‘ঠিক আছে, চলো সবাইকে ডেকে নিয়ে
আসি।’
‘চলো।’
ডাকাত দু’জন সঙ্গীদের ডাকতে চলে গেল।
আলী বিন সুফিয়ান চুপিসারে তাদের পিছু
নিল। কিছু দূর গিয়ে তারা উল্টো দিকের পথ
ধরলো। দু’তিনটি টিলা পার হয়ে আলী
দেখলো সামনে ডাকাতদের ঘোড়া
দাঁড়িয়ে। ওরা ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করে
অন্ধকারে হারিয়ে গেল।
আলী বিন সুফিয়ানের কাফেলা ছিল
বিপরীত দিকে। তিনি ভাবনায় পড়ে
গেলেন, এখন তিনি কি করবেন? তিনি কি
ক্ষুদ্র কাফেলাটিকে সতর্ক করবেন আগে,
নাকি নিজের কাফেলায় ফিরে যাবেন?
গভীর চিন্তা-ভাবনার পর তিনি নিজের
কাফেলায় ফিরে এলেন। বিশজন
কমান্ডোকে অস্ত্রসজ্জিত করে সঙ্গে নিয়ে
ফিরে এলেন আগের জায়গায়। তাদেরকে
বিভিন্ন পজিশনে দাঁড় করিয়ে ভালমত
বুঝিয়ে বললেন, ওদের কি করতে হবে। এরপর
ডাকাতদের ফিরে আসার অপেক্ষা করতে
লাগলেন।
তার জানা ছিল না ডাকাত দল কখন আসবে।
তিনি তাকিয়ে দেখলেন, তাদের সবাই
শুয়ে পড়েছে। শুধু এক লোক বর্শা হাতে
পাহারা দিয়ে বেড়াচ্ছে। তার পাহারার
ধরণ দেখেই বুঝা গেল, এরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্
ত। তখনও মশালও জ্বলছে। আলী তাকিয়ে
রইলেন মশালের আলোর দিকে।
o
অপেক্ষা করতে করতে আলীর লোকজন
অস্থির হয়ে পড়ল। ডাকাতদের আসার কোন
নাম নেই। চিন্তায় পড়ে গেল আলী, তবে কি
ডাকাতরা আসবে না? শুধু শুধু রাতভর
কমান্ডোদের কষ্ট দিলেন তিনি! নাকি এটা
কোন ফাঁদ!
ভোর হয়ে এসেছে প্রায়। টিলার ভেতর
দিয়ে ঘোড়ার ঘুরের শব্দ ভেসে এলো।
আলস্য ঝেড়ে টানটান হয়ে গেল
কমান্ডোদের পঞ্চেন্দ্রিয়। সতর্ক ভাবে
নিজ নিজ অবস্থানে পজিশন নিল তারা।
মেয়ে এবং লোকগুলো তখনো ঘুমিয়ে। শুধু
পাহারাদারের পরিবর্তন ঘটেছে সেখানে।
দ্বিতীয় জনের হাতে দায়িত্ব দিয়ে প্রথম
জনও ঘুমিয়ে পড়েছে। এসে পড়েছে ডাকাত
দল।
টিলার ওপর থেকে আলী ও তাঁর সঙ্গীরা
তাকিয়ে আছে তাদের দিকে। কিছুক্ষণের
মধ্যেই আট-নয়জন ডাকাত টিলার কাছে
পৌছে গেল। ডাকাতদের দেখেই ভয় পেয়ে
প্রহরী চিৎকার করে সঙ্গীদের ডাকতে
লাগলো। ধরমড়িয়ে ইয়ঠে বসলো ঘুমন্ত
লোকগুলো। ডাকাত দল তাদের ঘিরে
দাঁড়ালো। কয়েকজন ঘোড়া থেকে লাফিয়ে
নেমে পড়লো নিচে।
.................চলবে.............
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now