বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

উপকারীর ক্ষতি করার ফল-(৪)শেষ পর্ব

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (০ পয়েন্ট)

X একটু ধৈর্য রাখ না বাপু। আরও একজন তো বাকি আছে, সে কি বলে সেটা আগে জেনে নেয়। বাঘ বলল- এটাই যদি তোমার শেষ ইচ্ছা হয়ে থাকে তাহলে ঠিক আছে, আমি তোমার এই শেষ ইচ্ছাটাও পূরণ করতে রাজি। আর সেও যদি আমার পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমি তোমার ঘাড় মটকে তোমার মাংস আমি আমার দাঁতে চিবিয়ে চিবিয়ে খাব(হাহাহাহা)। আর ঐ দিকে বাঘের এই প্রকান্ড অট্টহাঁসির ফলে পথিকের মনের ভিতরে ভিতরে মৃত্যুর আশংকা আরও প্রবল ভাবে বাড়তে লাগল। সে ভাবতে লাগল এই বুঝি শেষ ব্যক্তি বাঘের পক্ষে রায় দিয়ে দিল আর বাঘটা তাকে ঘাড় মটকে খেয়ে ফেলছে। আর ঐ দিকে বাঘ পথিককে অন্যমনষ্ক দেখে পথিককে বলতে লাগল- কি হে পথিক এত কি ভাবছ, তুমি এটা ভাবছো না তো এই বুঝি শেষ ব্যক্তি আমার পক্ষে রায় দিয়ে দিল এরপরেই আমি তোমার ঘাড় মটকে তোমাকে খেয়ে ফেলছি আর তুমি ব্যথার কারণে আর্তনাদে করে মারা যাচ্ছ আর এই জঙ্গলের ভিতরে কেউ তোমাকে সাহায্য করতে এগিয়েে আসছে না, এটাই যদি তুমি ভেবে থাক তাহলে তুমি ঠিক ভাবনাটাই ভাবতেছ কারণ একটু পরেই এটাই তোমার সাথে সত্যি সত্যি ঘটতে চলেছে(হাহাহাহা)। পথিক আর কিছু বলল না, তারা দু'জনে আবার জঙ্গলের ভিতরে হাটতে লাগল শেষ ব্যক্তিকে খোঁজার জন্য। তারা জঙ্গলের পথে কিছুক্ষণ হাটার পর তারা একটা শিয়ালকে জঙ্গলের পথ দিয়ে তাড়াতাড়ি করে হেটে যেতে দেখল। পথিক তৎক্ষণাৎ শিয়ালকে ডাক দিয়ে বলল- ওওও শিয়াল ভায়া এদিকে একটু দাড়াও না, আমি শুধু এতক্ষণ জঙ্গলের সব মূর্খদের কাছে সমস্যার সমাধান চাই ছিলাম, তুমি তো শিয়াল পন্ডিত, তোমার তো মাথায় অনেক জ্ঞান আছে, আমাদের সমস্যার সমাধান করে দাও না ভায়া। শিয়াল পন্ডিত বলল- আরে দেখছ তো আমার তাড়া আছে,যা বলার আছে তাড়াতাড়ি বলে ফেল। পথিক বলল- আমি এই বাঘটার প্রাণ বাচিয়েছি আর প্রাণ বাচানো আগে সে আমায় কথা দিয়েছিল যে, সে আমার কোন ক্ষতি করবে না, কিন্তু প্রাণ বাচানোর পর সে আমাকে এখন খেতে চাচ্ছে, এখন আমাকে খাওয়া তো বাঘের উচিত নয়? কারণ আমি তো তার প্রাণ বাচিয়েছি। এখন তুমি এই সমস্যার সমাধান করে দাও শিয়াল ভায়া। শিয়াল বলল- দেখ বাপু আমি শুধু মুখের কথায় কারও পক্ষে রায় দিতে পারব না(এই কথা শোনার পর পথিকের চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেল),তার আগে আমাকে বল তুমি কোথায় এবং কিভাবে বাঘটার প্রাণ বাচিয়েছ। তখন পথিক বলল- ঐ যে জঙ্গলের ভেতরে একটা পঁচা ডোবা আছে, সেই পঁচা ডোবায় পড়ে বাঘটা হাবুডুবু খাচ্ছিল, তখন আমি তাকে একটা গাছের শক্ত ডাল দিয়ে অনেক কষ্টে তাকে পাড়ে টেনে তুলি। শিয়াল পন্ডিত বলল- তাহলে তোমরা দু'জনে আমাকে ঐ পঁচা ডোবার কাছে নিয়ে যাও, তাহলেই আমি তোমাদের দু'জনেরেই সমস্যার সমাধান করে দিব। তখন বাঘ আর পথিক, শিয়াল পন্ডিতকে নিয়ে ঐ ঘটনাস্থলে গেল অর্থাৎ ঐ পঁচা ডোবার কাছে গেল। তখন শিয়াল পন্ডিত বলে উঠল- আচ্ছা পথিক এই বাঘটা পঁচা ডোবার কোথায় পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল। পথিক তখন তার ডান হাতের একটা আঙুল দিয়ে ইশারা করে বলল- ওই যে ঐ পঁচা ডোবার মাঝখানটাতে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিল। শিয়াল পন্ডিত বলল- হুমমমম, আরে বুঝতে পারছি না তো কোথায় পড়েছিল, আরেকটু স্পষ্ট করে দেখাও না বাপু? পথিক বলল- আরে ঐ যে ডোবার মাখখানটায়। শিয়াল পন্ডিত বলল- আরে আমি তো ঠিক মতো বুঝতেই পারছি না বাঘটা কোথায় পড়েছিল, আমার মনে হয় তুমি মৃত্যুর ভয়ে আমাকে ঠিক মতো দেখাতেই পারছ না। বাঘ মামা তুমি ডোবায় নেমে দেখিয়ে দাও তো তুমি কোথায় পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছিলে। বাঘ তৎক্ষণাৎ শিয়ালের কথা অনুযায়ী ডোবায় নামল। আর শিয়াল পন্ডিত পথিককে বলল- দেখতো ভায়া এখানেই কি বাঘটা পড়ে ছিল। পথিক বলল- না, এখানে নয়, আরেকটু সামনে। বাঘটু আরেকটু এগোল(অগ্রসর হল)। শিয়াল পন্ডিত বলল- এখানে কি পড়েছিল? পথিক বলল- না, আরেকটু সামনে। এভাবেই এগোতে এগোতে বাঘ একদম ঠিক পঁচা ডোবার মাঝখানে এসে পড়ল আর সাথে সাথেই বাঘটা হাবুডুবু খেতে লাগল আর বলতে লাগল- ওহে শিয়াল পন্ডিত আমি তো ডুবে যাচ্ছি আমাকে টেনে উপরে তুল। শিয়া পন্ডিত একটু হেসে(হেহেহেহে) বলল- কি তুমি ডুবে যাচ্ছ? তা তো ভালোই হয়েছে বাঘ মামা। তুমি ডুবে মরে গেলে আমাদের তো ভালোই হবে। বাঘ তখন হাবুডুবু খেয়ে বলতে লাগল- ওহে শিয়াল পন্ডিত তুমি এ কি কথা বলছো? ওহে পথিক আমাকে বাঁচাও, আমি এখন তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি তোমাকে খাব না, আমাকে বাঁচাও। শিয়াল পন্ডিত বলল- খবরদার, পথিক ভায়া তুমি এই বাঘটার কথা একদম কানে নিবে না অর্থাৎ শুনবে না। পথিক বলল- আরে শিয়াল ভায়া আমার মাথা খারাপ না পেঠ খারাপ যে আবার আমি এই বাঘটাকে বাঁচাতে যাব। আমার ঢেড় শিক্ষে হয়েছে। আর শিয়াল ভায়া তুমি যে জঙ্গলের মস্ত বড় জ্ঞানী আজ আমি যথাযথ প্রমাণ পেলাম। এই কথা বলেই পথিক শিয়ালের কাছ থেকে বিদায় নিল। শিয়ালও তখন সেখান থেকে চলে গেল। আর ঐ দিকে দুষ্টু বাঘ কিছুক্ষণ হাবুডুবু খাওয়ার পর পঁচা ডোবায় ডুবে মারা গেল। [বিঃদ্রঃ- উপরের গল্প থেকে আপনারা এটা নিশ্চয় বুঝেছেন যে, যারা উপকারীর ক্ষতি করার চেষ্টা করে তারাই নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যা উপরে উল্লেখিত অকৃতজ্ঞ বাঘের সাথে যে ঘটনাটা ঘটেছে।]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ উপকারীর ক্ষতি করার ফল-(৪)শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now