বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

untold story

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান RASHIDUL HASAN (০ পয়েন্ট)

X -মা,মা? -কি হয়েছে,এইভাবে চিৎকার করতেছিস কেন? -আমার টাই টা কয়? -তোর টাই দেখার দায়িত্ব কি আমার?কত করে বলি যে একটা বিয়ে করে ফেল, কিন্তু কে শোনে কার কথা. -মা তুমিও না,আবার শুরু করেছো,তোমাকে বলেছিলাম না,আমি এখন এসব নিয়ে ভাবি না, -তা কখন তোর ভাবনা হবে শুনি,আমি মরার পর বুঝি,আমার কি নাতি নাতনীর মুখ দেখার শখ নেই -আমার দেড়ি হয়ে যাচ্ছে আমি যাই আমার মা টা ও না,এখনো বিয়ে হয়নি আর উনি বিয়ে নিয়ে আছেন নাতি নাতনির মুখ নিয়ে। আসলে তাতে মায়ের কোনো দোষ নেই,আমিই এখন বিয়ে করতে চাইনা,কারন ফারিহা, ফারিহা আমার কাছে না থাকলেও ও সব সময়য় আমার ভাবনায় থাকে,জুড়ে থাকে আমার সব অনুভুতিতে, সবাই বলে সে আমার অতীত,সে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না, কিন্তু আমার তো তা মনে হয় না, কারন সে সব সময় আমার সাথে থাকে,আমার সাথে কথা বলে। কিন্তু ইদানীং মায়ের জন্য বাসায় ঠিকে থাকা যাচ্ছে না,তাই অন্য চিন্তা মাথায় ঘুরতেছে, কিন্তু আমি তো যাকে বিয়ে করবো তাকে কখনো ফারিহার স্থান দিতে পারবো না, আজ তাড়াতাড়ি অফিস ছুটি হয়ে গেছে,তাই বাসায় ফিরে এসেছি, -তুই চলে এসেছিস বাবা,আমি এখনি তোকে ফোন করতাম ছুটি নেওয়ার জন্য -কেন? -না,আমার এক বান্দবীর বাসায় যাওয়ার জন্য,আমিতো একা যেতে পারবো না, -ও আচ্ছা তুমি রেডি হও,আমি ফ্রেস হয়ে আসছি, মাকে নিয়ে তার বান্দবীর বাসায় আসলাম, এখন বসে আছি তাদের বাসার ছাদে,মা আর তার বান্দবী তাদের পুরনো গল্প শুরু করে দিয়েছেন,মা যখন দেখলেন আমি তাদের মাঝে বিরক্ত হতে দেখলেন তখন মায়ের বান্দবীর ছেলের সাথে আমাকে ছাদে পাঠালেন, --তোমার নাম কি? -নাহিদ,আপনার নাম আকাশ তাই না, -হুম -আচ্ছা আপনি এতো গম্ভীর কেন? -কেমন? -এই যে খুব চুপ-চাপ? -তাতে তোর কোনো সমস্যা, (অচেনা একটি মেয়ে ছাদে আসলো) -না(নাহিদ) -তুই নিচে যা,মা তোকে ডাকছে(নাহিদ চলে গেছে,আমি একলা দাড়িয়ে আছি ও মেয়ের সাথে) -আকাশ কেমন আছো(অচেনা) -ভালো,আপনি(আমি) -এইতো ভালো,নাহিদ কিন্তু কথা টা ঠিকি বলেছে,তুমি এতো গম্ভীর কেনো,আমার কিন্তু গম্ভীর ছেলে একদম পছন্দ না.. -তাতে মনে হয় আমার পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা হবে না,কারন আমি তো আর পছন্দের কেউ হওয়ার সম্ভাবনা নেই..আর আপনি আমাকে তুমি কি করে বলতেছেন কেনো, -মানে..তোমার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করা আছে আর তুমি কিনা ম,হবু স্বামীকে কেউ আপনি করে বলে -বিয়ে মানে, কে বলেছে? -কেন আন্টিতো বলেছে, আর উনি নিজেই ২ মাস আগে আমার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করে রেখেছে -ও মাই গড, -কেন,কি হলো,বিয়ে করবে না,নাকি অন্য কোনো সমস্যা আছে, -আপনার নাম টা কি? -নাহিদা তাবাস্সুম নীরা, -বাই -এই যে কয় যাও..... আর কোনো কথা শুনিনি,সোজা নিচে চলে আসলাম, মাকে আমার খারাপ লাগছে বলে মাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম, -মা এসব কি শুনছি -কি? -তুমি নাকি নীরার সাথে আমার বিয়ে ঠিক করেছো -হ্যা,তুইতো আমার কথা শুনতেছিস না,তাই তোর মতামত ছাড়াই বিয়ে ফাইনাল, -মানে? -আগামী মাসেই তোর বিয়ে.. -আমি কখনো বিয়ে করবো না -তাহলে তুই আমার মরা মুখ দেখবি এটা বলে মা চলো গেলো - - -ফারিহা তুমি কয়? -এইতো আমি? -আচ্ছা তুমি কি কখনো আমার কাছে ফিরে আসবে না -তা সম্ভব না,আর তুমি তোমার মাকে কষ্ট দিও না,উনি যা বলেছেন তা মেনে নাও, -কিন্তু তোমাকে ছাড়া আমি আমার জীবনে আর কাউকে মেনে নিতে পারবো, -তাহলে তুমি আমাকে আর কখনো দেখতে পারবে না, এই বলে ফারিহার অবয়ব টা শুন্যে মিলিয়ে গেলো, রাতে শুয়ে শুয়ে ফারিহার কথা চিন্তা করতে ছিলাম এমন সময় ফোন টা বেজে উঠলো, -হ্যালো, -কেমন আছো -ভালো,আপনি কে? -হায় আল্লাহ এ কোন ছেলেকে বিয়ে করবো আমি,যে আমাকে চিনে না, -ও আপনি, -হুম আমি নীরা,আর আপনি করে বলছো কেনো,? -তা কি তুমি করে বলবো? -হ্যা, -আপনার কথা শুনার কোনো সম্ভাবনা নেই, -তা সেই সম্ভাবনা টা যদি জোর করে নেয়, -মেয়ে হলে বলতাম,আপনি জোর করে আমার দেহ পাবেন কিন্তু আমার মন পাবেন,কিন্তু আমি মেয়ে নয় বলে তাও বলতে পারবো না.. -তুমি তো খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারো, -তাই, কিন্তু আপনার দুর্ভাগ্য তার জন্য একটা ধন্যবাদ ও দিতে পারতেছি না, -তোমার কাছ থেকে আমি ধন্যবাদ শুনতে চেয়েছি, --তা কি শুনতে চাও, -I Love You, -Sorry -কেন? -তা আপনাকে বলতে বাধ্য নয়, -তুমি বাধ্য, -কোন অধিকারে, -তোমার হবু স্ত্রীর অধিকারে -এখনো হবু, স্ত্রী না, -একবার হবু টা কেটে নিই,তারপর তোমাকে দেখাবো, -আশা ছেড়ে দিন, টুট,টুট,টুট এ মেয়ের জালায় বাচি না, সারাদিন কল দেয়,আমার কেয়ার করে,ঠিক ফারিহার মতো,কিন্তু আমি না পছন্দ করি না,কারন আমার কেয়ার করার অধিকার একমাত্র ফারিহার ছিলো,আছে, আজ বন্ধের দিন তাই শান্তিতে ঘুমাচ্ছিলাম কিন্তু আম্মুর মনে হয় আমার শান্তি পছন্দ নয়,তাই কম্বল নিয়ে টানছে, -মা,এতো সকাল সকাল আমাকে ডাকছো কেন? আমার তো আজ অফিস নেই -আমি মা না,আর অফিস না থাকলে কি হবে অন্য কাজ আছে, -তুমি? হুম, -এখানে আমার রুমে কেন? -আমাদের রুম -কি বুঝাতে চাইতেছো, -কিছুনা, -উঠো, -না, -আন্টিইই -মা কে ডাকছো কেন, -আমি আন্টিকে বলবো তুমি আমাকে জোর করে, -ওই কি ফালতু বকছো -তাড়াতাড়ি উঠো না হলে আমি আন্টি কে ডাকছি. -আচ্ছা তুমি যাও আমি উঠছি -গুড ভয়,ঊম্মাহ.. -এইটা কি হলো..... দোড়ে চলে গেছে.... আমি উঠে ফ্রেস হয়ে এলাম, -আকাশ বাবা,নীরা কে নিয়ে শপিংয়ে যা, (মা) -কিসের শপিংয়ে? -তোদের বিয়ের -আমি.. -তোর কাছে কি আমার কথা কোনো মুল্য নেই,নাকি আমার কোনো মুল্য নেই তোর কাছে -আচ্ছা যাচ্ছি, এখন নীরাকে নিয়ে রিক্সায় বসে আছি, গাড়িতে করেই যেতাম,কিন্তু উনার ইচ্ছা আমার সাথে রিক্সায় যাবেন, এটা কি হলো মেয়েটা আমার হাত টাচ করতেছে কেনো,ওমা এতো দেখি কাধে মাথাও রাখে, -এই কি করছো,বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু, -বেশি হলে বেশি,চুপচাপ বসে থাকো, পাবলিক প্লেস বলে কিছু বললাম না,এ মেয়েকে আমার কিছুতেই সহ্য ' হয় না,কিন্তু মায়ের কারনে, আজ অনেকদিন ফারিহার সাথে কথা বলি না,সে যে বলেছে আমি যদি মায়ের কথা না শুনি তাহলে সে আর আসবে না,কিন্তু আমি যে তার সাথে কথা না বলে থাকতে পারিনা, # আজ আমার বিয়ে হয়েছে,কিন্তু আমি ছাদে দাড়িয়ে আছি,তখনি ছাদে মা এলো, -আকাশ -জি মা, -তোর সাথে কিছু কথা ছিলো, -হ্যা মা বলো, -দেখ নীরা তোকে খুব ভালোবাসে,মেয়েটা তোকে পাওয়ার জন্য কিনা করেছে মেয়েটা,তুই শত বার অপমান করার পরও ও তোর কাছে ছুটে এসেছে,মেয়েটার কোনো দোষ নেই,ওকে কখনো কষ্ট দিস না, এ বলে মা চলে গেলো, ভয়ে ভয়ে রুমে প্রবেশ করলাম,দেখি নীরা বসে আছে, আমি ওর পাশে গিয়ে বসে যখনি কিছু বলতে যাবো তখনি ও বলে উঠলো -আকাশ আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো না,কিন্তু আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,আমি জানিনা তুমি আমাকে কি জন্য মেনে নিচ্ছো না,কিন্তু আমি তোমাকে এতোটাই ভালীবাসি যে তোমাকে রেখে মরতেও পারবো না,তাই বিয়েটা করলাম,আমি তোমার কাছ থেকে কোনো অধিকার চাইবো না,শুধু তোমার কাছে থাকতে দিও,(এটা বলে নীরা কান্না করতে করতে শুয়ে গেলো) আমি ও এখনো দেখতে পাচ্ছি, মেয়েটা এখনো কান্না করতেছে,হাঠাৎ মায়ের কথা গুলো মনে পড়লো,কেন জানি নীরার জন্য খারাপ লাগতেছে... -নীরা ছাদে যাবে.... -কি(অবাক হয়ে) -হুম -চলো -জানো নীরা একটা মেয়েকে ভালোবাসতাম, কিন্তু আজ সে নেই আমার দোষে, -মানে? -তখন আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পড়ি, তখন আমি খুব খারাপ ছিলাম,অনেকগুলো মেয়ের সাথে আমার রিলেশন ছিলো,আমি অনেকের সাথে ফিজিক্যাল রিলেশন ও করেছি,সে সময় ফাস্ট ইয়ারে একটি মেয়ে আসে,মেয়েটা কারো সাথে কথা বলতো না,মেয়েটি অন্য কারনে কারো সাথে কথা না বললেও আমার মনে হয় সে ভাব দেখায়,তাই আমি তার সাথে ও রিলেশন করার জন্য পাগল হয়ে যাই, তার নাম ছিলো ফারিহাতুল জান্নাত। প্রতিদিন তাকে ফলো করি,তার চারপাশে গুরাগুরি করি,কিন্তু সে কোনো রকম রিয়েক্ট করে না,তাকে অনেকবার প্রপোজ করি, কিন্তু সে আমাকে ফিরেয়ে দেয়,একদিন বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে তার পিছু নিয়,কিছুদিন পর সে আমাকে একটা পার্কে দেখা করতে বলে--- -আকাশ আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো,আমিও তোমাকে ভালোবাসি,কিন্তু আমি ছেলেদের একদমম believe করি না, -কেনো, -আমি আরেক জন কে ভালোবাসি,কিন্তু সে আমাকে ভালোবাসে না,ভালোবাসত আমার দেহ কে,একদিন আমি তার প্রতি weekness এর কারনে নিজের সব কিছু উজাড় করে দিয়,কিন্তু তার কিছুদিন পর সে আমাকে ছেড়ে চলে যাই, নিজেকে অনেক বার শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম,কিন্তু অনেকবার ব্যার্থ হয়েছি...অনেকবার মৃত্যু যন্ত্রনা সহ্য করেছি,কিন্তু যে ব্যাথা সে দিয়েছিলো তার থেকে বেশি না,তোমাকে দেখে বুঝেছি তুমি সেইরকম না,আমি তোমাকে ভালোবাসি,প্লিজ তুমি আমার সাথে ওর মতো করো না,তাহলে আমি বাঁচবো না, (কেদে কেদে) সেইদিন ওর চোখে জল দেখ নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিলো,খুব ইচ্ছে হচ্ছিলো ফারিহাকে সব সত্যি বলে দেব,কিন্তু এক অজানা জড়াতার কারনে তা পারিনি,সেইদিন থেকে নিজেকে পাল্টাতে চেষ্টা করি,ফারিহার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো,আমাকে তার জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতো.. একদিন ঠিক করি ফারিহা কে সব বলে দিব... তাকে একটি পার্কে ডাকি.. কিন্তু আসার পর সে যেটা বলল তার জন্য আমি প্রস্তুত ছিলাম না, সে আমাকে থাপ্প্র দিয়ে, -তোমাকে আমি অনেক ভালোবেসেছিলাম,জ ীবনের সার্থকতা তোমার মাঝে দেখেছিলাম,তুমি যে এরকম আমি নিজেও জানতাম না,আজ থেকে আমি তোমার থেকে অনেক দুরে চলে যাবো,তুমি আর কখনো আমাকে খুজে পাবো না, এই বলে ছুটে চলে যাই,কিন্তু সে যখন রাস্তায় নামে তখন আমার দিকে পিছনে ফিরে থাকায়, ঠিক সে সময় একটি ট্রাক এসে ফারিহাকে ধাক্কা দেয়,পাগলের মতো ছূটে যাই, -জানো আকাশ আমার ইচ্ছে ছিলো আমি তোমার কোলে মাথা রেখে মরবো,আমাকে একটু কোলে নিবে,আর আমাকে কথা দাও আর কোনো মেয়ের জীবন নষ্ট করো না, সেইদিন আমি পারিনি ফারিহাকে বাচাতে,কিন্তু আমার ফারিহা বেচে আছে,সে আমার সাথে কথা বলে, -তুমি আমাকে এতোদিন বলোনি কেন? -জানিনা,তবে কেন জানি আজ আবার তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে বলে ফেল্লাম,যদি ফারিহার মতো সময় না পাই, -না,আকাশ আমি তোমাকে কখনো আমার জীবন থেকে হারাতে দেবো না, -আমি তোমাকে ভালোবাসি নীরা, -Tnq আকাশ আমার কথা রাখার জন্য.আজ থেকে আমি তোমার থেকে আমি চলে যাচ্ছি তোমার থেকে দুরে,এতোদিনে আমি তোমাকে আমার মনের মত করতে পেরেছি।আমার কাজ শেষ,তোমরা সুখি হও। (ফারিহা) ধীরে ফারিহার অবয়ব মুছে যাচ্ছে.... আর আমি আর নীরা সেই দৃশ্য দেখছি। নীরা অশ্রু ঝরাচ্ছে তার চোখ থেকে...সুখের অশ্রু


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১৩২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Mash Rafe the untold story❤
→ untold story

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now