বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিয়েটা বাবা মায়ের ইচ্ছেতেই করেছি। মেয়েকেও একবারের জন্যও দেখতে যায় নি। শুধু বিশ্বাস রেখেছি বাবা মায়ের উপর।
.
মেয়ে পক্ষ আমাকে কম হলেও শতবারের উপরে দেখা হয়েছে। আমার উনার নাম নীলা। নামটা ভিতরে একটা বিশালতা কাজ করে। হয়ত তিনিও বিশাল মনের অধিকারীনি..
!
.
বাসর রাত নিয়ে প্রায় ছোট থেকেই চিন্তা ভাবনা আর লজ্জা মিশ্রণ ছিল। আর সেই জলপনা কল্পনা চোখের সামনে..
.
- নাম কী তোমার?
.
-- নীলা।
.
- তুমি কী এখনও লজ্জা পাচ্ছ? যদি না পাও তবে মুখখানা একবার দেখতে চাই..
.
--
.
- বাহ! সত্যিই আমি অনেক লাকি..
..
নীলার সাথে কথা বেশ কতক্ষন গড়ায় নি। অল্পতেই স্টেট শট কাট কথা, 'আমার পাস্ট আছে..'
.
- এটা স্বাভাবিক..
!
.
-- স্যরি। আপনাকে আমি মেনে নিতে পারব না..
.
- ঠিক আছে। তবে এটা আজ কেন? আগে অনেক সময় ছিল?
.
-- বাবা কষ্ট পাবে ভেবে..
..
বেলকুনিতে গিয়ে দাড়ালাম। দরজা ওপাশ থেকে আটকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জানালা আটকাতে ভুলে গেছে। সেই সুযোগে একটু নীলাকে একটু উকি মেরে দেখে নিলাম। কোলবালিশ ধরে ঘাপটি মেরে শুয়ে আছে।
.
সারারাত বেলকুনিতে কাটালাম। স্বরণীয় একটি রাত কাটালাম বটে। সকালে নীলাকে ডেকে বললাম, এখন একটু দরজাটা খোলেন। নয়ত সবাই টেড় পেয়ে যাবে..
.
হা করে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। আমি কোনো কথা না বলে বিছানায় পড়ে রইলাম..
.
দুপুরে ঘুম ঘুম চোখে বললাম, মা, একটু চা করে দাও তো!
.
- তোর বউকে পাঠিয়ে দে..
.
দ্রুত উঠে গিয়ে বাড়ির নিচের দোকান থেকে চা খেয়ে আসলাম।
..
বিয়ের প্রায় এক সপ্তাহ চলে গিয়েছে। অফিস থেকে এসে রুম ঢুকলাম। ঢুকেই দেখি নীলা কার সাথে যেন কথা বলছে.. কিছু বলতে যাব। ঠিক তখনই বিবেগ মাঝখানে দেয়াল হয়ে দাড়ালো..
.
সবাই বলা বলি করছিল, বিয়ে করেছিস কতদিন হলো! হানিমুনে না যাস। কিন্তু ঢাকার ভিতরে কোথাও ঘুরে আসতে পারিস তো?
.
ইচ্ছের বিরোধ্যে লড়াই করলাম। কোন এক রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলাম। দুজনই খুব চুপচাপ। আমি কফি অর্ডার করে ফেবুতে লগইন করলাম। আর নীলা কানে ফোনটা তুলে নিলো।
.
যদিও মন খারাপ তারপরও স্ট্যাটাস দিলাম, ফিলিং হ্যাপী ..
.
- উনার নাম কী?
.
-- কার?
.
- আপনার বয়ফ্রেন্ডের?
.
-- সায়েম..
.
- নাম্বারটা দেওয়া যাবে?
.
-- ০১.......
.
- কোন পিক আছে আপনার কাছে?
.
-- হ্যা
..
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে গেলাম। রাত গভীর হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে শীতটাও জোড়ালো ভাবে পড়ছে। ফ্লোর খুব ঠান্ডা হয়েছিল। তাই ঘুম পাচ্ছিলো না। কনকনে শীতে কাপতেছিলাম। মধ্যরাতে নীলা ডাকে, উপরে এসে ঘুমান। নয়ত অসুখ করবে..
.
এই প্রথম এক বিছানায় দুজন। তবে মাঝখানে দুটো কোলবালিশ..
.
সন্ধ্যায় বাসায় এসে নীলাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখে অবাক হলাম। এই টাইমে কেউ ঘুমায় নাকি?
.
- কোন প্রবলেম?
.
হতচকিয়ে গিয়ে ও উওর দিল, না।
.
- এ টাইমে কেউ শুয়ে থাকে?
.
-- একটু মাথা ব্যাথা করছে..
.
- আদা চা করে দিই?
.
কোন উওর এলো না ওপাশ থেকে। বুঝতে পারলাম সম্মতি আছে..
.
- এই নেন। চা টা গরম গরম খেয়ে নিন..
.
নীলা একবার আমার দিকে তাকায় আর একবার চায়ের মগ এর দিকে। ওর চোখগুলো লাল হয়ে আছে। চা'টা ওর হাতে দিয়েই ফ্রেশ হতে গেলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, এখন কী অবস্থা?
.
- ভাল..
.
চলে আসব ঠিক তখনই ও বলল, একটা নাপা এক্সট্রা হবে?
.
- দেখছি..
.
হাজার খুজাখুজি করেও পেলাম না। তাই এলাকার ফার্মেসিতে থেকে নিয়ে আসলাম। রুম এসে যখন ওকে ঔষুধ দিতে যাব তখনই দেখলাম ও শীতে কাপাচ্ছে..
.
অনিচ্ছা সত্যেও কপালে হাত রাখলাম। গরমে শরীর একদম পুড়ে যাচ্ছে..
.
মধ্যরাত পর্যন্ত ওর মাথায় পানি দিয়ে শুয়ে পড়লাম। সকালে ওঠে দেখি অফিস টাইম লেট হয়ে গেছে। তাই তাড়াহুড়ু করে বের হলাম। গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ নীলার নাম্বার থেকে কল পেয়ে বিস্মিত হলাম.. 'আপনার টাইটা রেখে গিয়েছেন.!
'
.
অফিস শেষে বাসায় যাব ঠিক তখনই কেমন যেন একটি পরিচিত মুখ দেখতে পেলাম। অনেক চেষ্টার পর চিনতে পারালাম এটা নীলার বয়ফ্রেন্ড। কিন্তু ওর হাত ধরে রাখা মেয়েটা কে?
.
নিশ্চত হতে নীলাকে ফোন দিয়ে বললাম, বিএফ এর পিক ইমেল করেন!
.
মিলিয়ে দেখলাম আসলেই মিলে গেছে। বুঝার চেষ্টা করলাম ভাই বোন নাকি! কিন্তু আচরনে অন্যরকম বুঝাচ্ছে.. কাপলটা রিক্সায় উঠে গেলো। আমিও পিছু নিলাম। একটা রেস্টুরেন্টের সামনে গিয়ে রিক্সাটা থামলো..
.
ওরা রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসলো। আমি নীলাকে ফোন দিয়ে ঐ রেস্টুরেন্টে আসতে বললাম। প্রায় আধা ঘন্টা পর নীলা আসলো..
.
এমন ঘটনা দেখার পর নীলা বেশ কিছুক্ষন বাকরুদ্ধ ছিল। রিক্সায় বাসায় আসলাম। দুজনের মুখে কোনো কথা নেই..
.
অল্প কিছু খেয়েই বিছানায় শুয়ে পড়লাম। এমনিতেই আজ অফিসে লেট হয়ে গিয়েছিল। আগামীকাল লেট হলে বস বকাবকি তো করবেই..
.
সকালে কফি'র ঘ্রানে আর মিষ্টি ডাকে ঘুম ভাঙে আমার.. 'এই যে! উঠুন! আজ অফিসে যাবেন না নাকি?'
.
আমি নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছিলাম না.. হা করে ছিলাম বেশ কতক্ষন..
.
- এমন হা করে থাকলে চা একদম ঢেলে দিব.. হিহি..
.
সেই হাসি! যেই হাসিটা দেখার জন্য দিন রাত অপেক্ষা করতাম। অনাকাঙ্খিত সুখ এখন আমার হাতে.. আজ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী আমিই..
.
- আজ অফিসে না গেলে হয় না?
.
-- কেন?
.
- শহড়টাকে ঘুরে দেখতাম। অনেকদিন দেখা হয় না..
.
-- আজ থেকে আর চাকরিটাই করছি না..
.
- জ্বি না। তা হবে না। আমাদের ভবিষ্যৎ আছে না?
.
.
[] Hossain Muhammad Palash []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now