বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
উম্মতের আমানতদার ☼
.
.
.
আজ এমন একজন সাহাবীর ঘটনা উল্লেখ করতে
চাই যাঁর সম্পর্কে স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
'প্রত্যেক জাতির একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি আছেন,
আমার উম্মতের বিশ্বস্ত ব্যক্তি হচ্ছেন আবু
উবাইদা ইবনুল জাররাহ'। তাঁর দৃষ্টান্তপূর্ণ
জীবনের মধ্য হতে আমানতদারীর একটি উদাহরণ
তুলে ধরতে চাই।
হযরত উমর (রা) এর খিলাফতের প্রথম দিকে
হযরত আবু উবাইদা বায়তুলমাল দেখাশুনা করতেন।
ঈদের আগের দিন খলীফার স্ত্রী বললেন, 'আমাদের
জন্য ঈদের নতুন কাপড় না হলেও চলবে কিন্তু ছোট
বাচ্চাটি ঈদের নতুন কাপড়ের জন্য কাঁদছে'। খলীফা
বললেন, 'আমার নতুন কাপড় কেনার সামর্থ্য
নেই'। খলীফা পত্নী উম্মে কুলসুম খলীফার আগামী
মাসের বেতন থেকে অগ্রিম নেয়ার জন্য তাঁকে
অনুরোধ করলেন। খলীফা উমর (রা) হযরত আবু
উবাইদাকে খলীফার এক মাসের অগ্রিম বেতন
দেয়ার জন্য চিঠি পাঠালেন।
সমগ্র মুসলিম জাহানের খলীফা যিনি, যিনি
অর্ধপৃথিবী শাসন করছেন, তাঁর এ ধরণের চিঠি পাঠ
করে হযরত আবু উবাইদার চোখে পানি এসে গেল।
উম্মতের আমীন হযরত আবু উবাইদা (রা) বাহককে
টাকা না দিয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে চিঠি লিখলেন,
'আমীরুল মুমিনীন! অগ্রিম বেতন বরাদ্দের জন্য
দুটি বিষয়ে আপনাকে ফয়সালা দিতে হবে।
প্রথমত আগামী মাস পর্যন্ত আপনি বেঁচে থাকবেন
কিনা?
দ্বিতীয়ত বেঁচে থাকলেও মুসলমানেরা আপনাকে
খিলাফতের দায়িত্বে বহাল রাখবে কিনা?'
চিঠি পাঠ করে হযরত উমর এত কেঁদেছেন যে তাঁর
চোখের পানিতে দাঁড়ি ভিজে গেলো। আর হাত তুলে
হযরত আবু উবাইদার জন্য দোয়া করলেন,
'আল্লাহ আবু উবাইদার উপর রহম কর, তাঁকে
হায়াত দাও'।
হযরত আবু উবাইদা (রা) ছিলেন বায়তুলমালের
আমানতের ব্যাপারে এক অটল হিমালয়। তাঁর
আমানতদারীর চেতনা গোটা উম্মতে মোহাম্মদীর
জন্য অনুসরণীয় আদর্শ। আমাদের চলার প্রতিটি
পদক্ষেপে, দায়িত্বের প্রতিটি মুহুর্তে
আমানতদারীর অনুভূতি আমাদের শিরায় শিরায়
উজ্জীবিত হোক, এটাই আজকের প্রত্যাশা।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now