বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
পেছন ফিরে তাকাতেই রীতিমত চমকে উঠলাম।
“তুমি এখানে!”চৈতী আবার একই প্রশ্ন করে।
আমি হেসে উঠি।“অফিসিয়াল কাজে এসেছি,তোমায় দেখতে আসি নি।”
চোখ বড় বড় করে তাকায় চৈতী। “তা কি আমি একবারও বলেছি?”
মাথা চুলকাই আমি।“তা ঠিক বটে…,বলোনি।”
“ভালো আর হবে না?”
আমি হেসে উঠি।“তা বোধহয় পারব না।”
মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে অনেকটা সময়। “বেয়াদব কোথাকার।”
“ধন্যবাদ।”
“গাধা…”
“অসংখ্য ধন্যবাদ।”
মেয়েটা অনেকটা সময় আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে থাকে।আমি মুখটা হাসি হাসি করে তাকে আরো রাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করি।সময় চলে যায়,বয়স বাড়ে।পরিবর্তন হয় আচরণে,দেহের গঠনে।কিন্তু কিছু অভ্যাস আজীবনই থেকে যায় একই রকম,মনে করিয়ে দেয় হাজার স্মৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া কিছু গল্প।
দু সপ্তাহ আগের কথা।পুরোটা জীবন শর্টকাট ওয়েতে কাটানো ছেলেগুলা যখন ভালো হবার চেষ্টা করে,তখন তারা পুরো পাপমোচন করে লাভের আশায় অতিরিক্ত ভালো বনে যায়।আমার অবস্থাটা ঠিক তেমনই,তবে ভালো হবার পেছনের কারণটা পরে বলছি। কঠোর পরিশ্রম কিংবা তীব্র জেদ আমাকে এমন একটা পজিশনে নিয়ে যাচ্ছে যা দেখে কলিগদের মাঝে হিংসা জেগে ওঠা দোষের কিছু না।বস আমার পিঠ চাপড়ে দেন।
“মাই বয়,ইউ ক্যান শাইন ইন ফিউচার।আই ফিল প্রাউড টু হ্যাভ ইউ।”
আমি কেবল হাসি,উদ্দেশ্যহীন হাসি।
দু সপ্তাহ আগের সে রাতেও আমি কাজ শেষে বাড়ি ফিরব,এমন সময় পিয়ন এসে হাজির।
“কি?”আমি জিজ্ঞেস করি।
“বড় সাহেব আফনেরে ডাকসে।”
আমি ঢোক গিলি।চাকরিটা কি গেলো বলে?
আলতো করে দরজাটা খুলে একবার পুরো রুমটায় চোখ বুলাই।বস গ্লাস হাতে কি যেন ভাবছেন,দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
“আসবো?” মিন মিন করে বলে উঠি।
উনি আমার দিকে ফিরে তাকান।“প্লিজ কাম ইন।”
আমি চেয়ার টেনে বসি।
“খাবে?” গ্লাস দেখিয়ে বলে ওঠেন তিনি।
“স্যার আমি মদ খাই না।”
আমার দিকে ফিরে তাকান তিনি।“আজকের ইয়াং জেনারেশন মদ খায় না!রিয়েললি স্ট্রেইঞ্জ।”
আমি ভদ্রতার হাসি দিই।
“সে যাই হোক,মেয়ে পটাতে পারো?”
আমি ঢ্যাব ঢ্যাব করে তার দিকে তাকাই।“ঠিক বুঝলাম না।”
“প্রেম করেছো কখনো?”
“জি স্যার।”চুলগুলো হাত দিয়ে সোজা করার চেষ্টা করি।“অভিজ্ঞতা ভালো না।”
লোকটা ফিক ফিক করে হাসেন।“তাতেই চলবে।”উঠে দাঁড়ান তিনি।“একটা সমস্যায় পড়েছি।”
“ফিল ফ্রি টু শেয়ার,স্যার।”
“তুমি তো জানো আমি কি পরিমাণ ব্যস্ত।অফিস আর কাজের মাঝেই আমার জীবন।স্ত্রী,সংসার ব্যাপারটা মাইনর।কিন্তু এমন একটা সংবাদ শুনলাম যার পর থেকে সংসারের ব্যাপারটাকে আমি আরো সিরিয়াসলি নিতে চাচ্ছি।”ফিরে তাকান তিনি।“তোমার ম্যাডাম প্রেগনেন্ট।”
আমি হেসে উঠি।“অভিনন্দন স্যার,এ তো খুশির খবর।”
“হ্যাঁ খুশির খবর।তাই তাকে আর আমার ব্যাপারে অভিযোগের সুযোগ দিতে চাই না।আমি তাকে নিয়ে কক্সবাজারে একটা লম্বা ট্যুরে যেতে চাচ্ছি।”
আমি মাথা নাড়ি।“ভালো বুদ্ধি স্যার।”
“তুমি সাথে যাবে।”
আমি চোখ বড় বড় করি।“আমি কেন!”
“তুমি মেয়ে ব্যাপারে অভিজ্ঞ।আমার অভিজ্ঞতা শূন্য।এডভাইসার হিসেবে তুমি সাথে সাথেই থাকবে।কেবল তোমার ম্যাডাম ব্যাপারটা জানবে না।”
আমি ঢোক গিলি।
“সমস্যা?”
“না স্যার।”
“তাহলে তৈরী হয়ে নাও।কাল সকালেই আমরা রউনা হচ্ছি।”
যেই আদেশ সেই কাজ,বসের আদেশ বলে কথা।আমি তৈরী হয়ে নিই।
“কোথায় যাচ্ছিস?”মা জিজ্ঞেস করেন।
“মেয়ে পটাতে...”
“মানে!”
“ইয়ে মানে অফিসিয়াল কাজে।”
“ওহ,”মা কি যেন ভাবেন।“ফিরবি কবে?”
“তা জানি না।”
“ঠিক আছে।”মা হেসে ওঠেন,আমিও।
“বদ অভ্যাসটা আবার শুরু হলো কবে থেকে?”
লাইটার দিয়ে আগুন ধরাতে ধরাতে চৈতীর দিকে তাকাই।“নীল রঙয়ের প্রতি বিতৃষ্ণা শুরু হলো যবে থেকে...”
“মানে কি?”
“বোঝা লাগবে না,বয়স হয় নি।”
আমার দিকে রাগ রাগ চোখে তাকায় মেয়েটা।আমি লম্বা করে সিগারেটে একটা টান মারি।
“এই সিগারেট ফেলো,নাহলে কষে একটা চড় দিব।”
আমি সিগারেটটা ফেলে পা দিয়ে পিষে দিই।মেয়েটাকে বিশ্বাস নেই,চড় বসিয়ে দেয়া তার জন্যে দুধভাত।
চৈতীর সাথে আমার পরিচয় এ সিগারেট নিয়ে বিবাদ থেকেই শুরু।তিন বছর আগের কথা, দু বন্ধু ভার্সিটির ক্যাম্পাসের মাঠে বসে আছি।হাতে সিগারেট,তাতে লম্বা সুখটান।এমন সময় পেছন থেকে মেয়েলী কন্ঠের আবির্ভাব।
“এক্সকিউজ মি।”
আমি পেছন ফিরে তাকাই।অসম্ভব সুন্দরী একজন মেয়ে।আমার মত ছেলের কাছে আসার কারণটা ঠিক বুঝে উঠলাম না।
“জি বলুন।”আমি হাসি হাসি মুখ করি।
“আমরা যে আপনাদের ঠিক পেছনে বসে আছি খেয়াল করেছেন?”
আমি পেছন ফিরে তাকাই,দশ বারোজন মেয়ে ঠিক পেছনেই বসে আছে।“দুঃখিত,খেয়াল করি নি।খেয়াল করলে অবশ্যই পেছন এসে গল্প করতাম।যদিও আমি অনভিজ্ঞ।”
মেয়েটা আমার দিকে অবাক চোখে চেয়ে থাকে।“সিগারেটের কথা বলছিলাম।”
“খাবেন নাকি?”এগিয়ে দিই হাতের সিগারেটটা।
“ধোঁয়ায় সমস্যা হচ্ছে।”
“এখানে ফেললে তো মাঠে আগুন ছড়িয়ে যেতে পারে,দেখেন কত ঘাস।”
“এখানে ফেলবেন কেন!ডাস্টবিনে ফেলবেন।”
আমি মাথা নাড়ি।“আচ্ছা।”
“আর যদি না করেন...”
আমি মাথা এগিয়ে আনি।“যদি না করি?”
পাশেরজনকে একটা কষে চড় বসিয়ে দিল মেয়েটা,হতভাগা গালে হাত দিয়ে হতভম্বের মত বসে রইলো।তারপর হেলেদুলে আগের জায়গায় ফিরে যেতে লাগলো মেয়েটা।আমি দৌড় দিলাম ডাস্টবিনের দিকে,মেয়েটাকে বিশ্বাস করা কঠিন।
“সময় কত হলো?”
আমি ঘড়ির দিকে তাকাই।“রাত এগারোটা।”
“আর একটা ঘন্টা...”
মাথা নাড়ি।“নতুন আরেকটা শুরু...”
“নতুন শুরু?”
“হয়তো।”
মুচকি হেসে ওঠে চৈতী।
আতশ বাজিতে আলোকিত আকাশ,তার মাঝে সমুদ্রটাকে একবার দেখে নিই।চৈতীর চেহারায় তখন আলোছায়ার খেলা।অন্যরকম সুন্দর লাগে মেয়েটাকে।আমি চোখ সরিয়ে নিই,আকৃষ্ট হওয়া যাবে না।
চৈতীর সাথে আমার আবার দেখা হয় ঠিক তিনদিন পর।
“দিনে কত সিগারেট খান?”
আমি পেছন ফিরে তাকাই,সেই মেয়েটা।পা দিয়ে পিষে ফেলি সিগারেটটা।
“মরবেন তো কষ্ট পেয়ে,এটা বুঝেন না?”
মাথা নাড়ি।“বুঝি।”
“সরি।”
“কেন?”অবাক হই আমি।
“চড় মারাটা ঠিক হয়নি।”
“নাহ ঠিকই আছে।সুন্দরীদের হাতে চড় খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো,ঐ ব্যাটা খুশিই হয়েছে।”
মেয়েটা আমার দিকে ভালো করে তাকান।“বোঝা যাচ্ছে অভিজ্ঞতা কম।ফ্লারট করার লেভেল যথেষ্ট বাজে।”
মেয়েটা হেসে ওঠে,সঙ্গে আমিও।
একটা সময় আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসি আমরা।সেদিনটা ছিল পহেলা জানুয়ারি।আমি এক গুচ্ছ গোলাপ হাতে হাটু গেড়ে বসে পড়ি তার সামনে।
“নববর্ষের শুভেচ্ছা যে এভাবে জানাতে হয় জানতাম না।”চৈতী বলে ওঠে।
আমি থতমত খেয়ে যাই।“এটা নববর্ষের শুভেচ্ছা না...”
চৈতী মিটিমিটি হাসে।“তবে?”
মাথা চুলকাই আমি।“কিছু একটা...”
“মুখ দিয়ে বলতে পারো না?”
মাথা নাড়ি আমি।“না।”
“লজ্জা পাও নাকি?”
আমি কঠিন চোখে তার দিকে তাকানোর চেষ্টা করি।মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হেসে যায়।আমিও হেসে উঠি।হাসি একটা সংক্রামক রোগ।
গ্রাজুয়েশন কমপ্লিটের পর চৈতীর বাবার সাথে দেখা করি।
“চাকরী করো?”
আমি মাথা নাড়ি।“করবো।”
লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে হাসেন।হাসি না বলে ভেটকি বললেই ভালো হয়।“আগে চাকরী পাও,ভেবে দেখব।ঘরজামাই পালতে পারব না।”
“কিন্তু যদি দেরী হয়ে যায়?”
“তাহলে মুভ অন করো।অযথা আমার সময় নষ্ট করো না।”
আমি বেরিয়ে আসি,ডাস্টবিনে মোবাইলটা ফেলে দিই।শুরু করি একটা নতুন জীবন।যেখানে চৈতী নেই,ভালোবাসা নেই-কেবলই দায়িত্ব।প্রতিটা রাতে কেঁদে উঠি,কেউ দেখে না,কেউ জানে না।সকালবেলা যাত্রা শুরু করি নতুন জীবনের কিংবা অভিনয়ের।আমি অভিনেতা,বাস্তব জীবনের অভিনেতা।
“বাবা মা বিয়ের জন্যে জোর করে যাচ্ছে।কতদিন আটকাতে পারব জানি না।”চৈতী বলে ওঠে।
ঘোর ভাঙ্গে আমার।“তো করে ফেলো।”
সে আমার দিকে অবাক চোখে তাকায়,আমি হাসি হাসি মুখে তার দিকে তাকাই।
“মুভ অন করা সবারই দরকার।”
“তুমি পেরেছো?”
“হ্যাঁ।”
চৈতী আমার চোখের দিকে তাকায়।“সত্যি পেরেছো?আমায় ছাড়া পারবে?”
আমি চোখ সরিয়ে নিই।
“সত্যি বলবে কি?”
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি আমি।“মুভ অন শব্দটা ক্ষণস্থায়ী সান্ত্বনা।কতদিন পারব জানি না।একদিন হয়তো মরে যাব,ছটফট করতে করতে সেদিন হয়তো আমার হাতটা তোমার হাতের খোঁজে আফসোস করে মরবে।চোখজোড়া হয়তো তোমায় একবার দেখার জন্য ছটফট করে কেঁদে উঠবে।বেঁচে থাকব পশুত্বে,মনুষ্যত্বে না।ভালোবাসা মানেই বিশ্বাস,যাকে যত বিশ্বাস করা যায় তাকে ততটাই ভালোবাসা যায়।তুমি হারিয়ে গেলে ভালোবাসা হারিয়ে যাবে,সঙ্গে বিশ্বাসটাও।”চৈতীর দিকে ফিরি আমি।“শেক্সপিয়ারের মতে ভালোবাসা এক নেশা,ভেক্টর হুগোর মতে জীবন নামক ফুলে ভালোবাসা একটুখানি মধু,লেননের কাছে ভালোবাসা এক প্রতিজ্ঞা,যা একবার করলে আর ভুলবার উপায় নেই।আমি সাহিত্য বুঝি না,বুঝি না ব্যাকরণ।আমার কাছে ভালোবাসার মানে তুমি।তুমিত্বে লুকানো ভালোবাসার সংজ্ঞা।”
চৈতী কি যেন ভাবে,উঠে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকায়।“প্রপোজ করো।”
“কেন!”
“বিয়ে করবে না?”
“তোমার বাবা আমাকে জবাই করে ফেলবে।”
“আর না করলে আমি জবাই করে ফেলব।”
মেয়েটাকে বিশ্বাস নেই,করলেও করতে পারে।জীবনের ভয় তো সবারই আছে।হাটু গেড়ে বসে পড়ি।
“চৈতী?”
“হুম?”
“উইল ইউ ম্যারি মি?”
“সন্দেহ?”
পেছন থেকে একজোড়া হাততালির শব্দ।পেছন ফিরে তাকাই,বস সস্ত্রীক দাঁড়িয়ে আছেন।
“উনি আমার ...”
“আমার ভাইয়া।”চৈতী মুচকি হেসে বলে ওঠে।
আমি বড় বড় চোখে তার দিকে তাকাই।“মানে!”
“মানে ভাই আমার।”
আমি ঢ্যাব ঢ্যাব চোখে বসের দিকে তাকাই।ততক্ষণে বারোটা বেজে এক মিনিট। নতুন বছরের শুরুতে এতগুলো বিস্ময় একসাথে পাব ভাবি নি।পুরো বছরের চমকের ব্যাপারটা নিয়ে আপাতত আতঙ্কিত হতে চাই না,তুমিত্বে মজে থাকাই শ্রেয়...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now